somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ৩৬

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি বাইরে বেশ ব্যস্ততার মধ্যে আছি।
অনেক গুলো জরুরী কাজ আছে আমার। অথচ সুরভি বারবার ফোন দিয়েই যাচ্ছে। আমি ফোন কেটে দিচ্ছি। সুরভি আবার ফোন দিচ্ছে। আমি সুরভিকে আগেই হাজার বার বলে রেখেছে আমি ফোন কেটে দিলে আমাকে আর ফোন দিবে না। আমি নিজেই তোমাকে কিছুক্ষন পর ফোন দিবো। যদি এক ঘন্টার মধ্যে তোমাকে ফোন না দেই তাহলে তুমি আবার ফোন করতে পারো। দশ মিনিটে সে তিনবার ফোন দিয়ে দিলো। মনে মনে ভাবছি- খুব জরুরী কিছু? কোনো দুঃসংবাদ? কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে? কেউ মারা গেছে? নানান আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসছে। আমি সুরভিকে ফোনও করতে পারছি না। এক বড় কোম্পানীর চেয়ারম্যানের সামনে আমি বসে আছি। তার সাথে দেখা করাও অনেক দিকদারি। এর আগে দুইবার এসে ফিরে গেছি, দেখা হয়নি। আজ ভাগ্য ভালো দেখা হয়েছে। কিন্তু সুরভি কি শুরু করলো!

সবার আগে তো পরিবার।
আমি চেয়ারম্যানের সাথে কথা শেষ না করেই তার রুম থেকে বের হলাম। সুরভিকে তাড়াতাড়ি ফোন দিলাম। বললাম, কি হয়েছে?
সুরভি বলল, তুমি কি পালং শাক দিয়ে রুই মাছ রান্না কখনও খেয়েছো?
আমি বললাম, মানে কি?
সুরভি বলল, আজ আমি পালং শাক দিয়ে রুই মাছ রান্না করবো।
আমার প্রচন্ড রাগ লাগলো। ইচ্ছা করলো দুইটা কঠিন কথা সুরভিকে বলি। কিন্তু আমি ভদ্র মানুষ। কঠিন কথা বলতে পারি না। তাই সুরভিকে বললাম, তোমাকে হাজার বার বলেছি, আমি ফোন কেটে দিলে আমাকে ফোন করবে না। আমি ফ্রি হয়ে তোমাকে ফোন দিবো। তবু কেন বারবার ফালতু কারনে ফোন দিয়েই যাচ্ছো?
সুরভি বলল, তুমি কি মন্ত্রী নাকি! যে খুব ব্যস্ত। কেবিনেট মিটিং এ আছো, ফোন দেওয়া যাবে না!
আমার প্রচন্ড রাগ হলো। আমি ফোন কেটে দিলাম। দ্রুত চেয়ারম্যানের রুমে গিয়ে দেখি চেয়ারম্যান বের হয়ে গেছেন।

দেড়-দুই মাস হয়ে গেলো- পেঁয়াজের দাম কমছে না।
সাধারন আমি সব সময় মাসের শুরুতেই পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনে ফেলি। গত দুই মাস ধরে আধা কেজি করে পেঁয়াজ কিনছি। সুরভি রান্নায় প্রচুর পেঁয়াজ ব্যবহার করে। দুই দিনেই আধা কেজি পেঁয়াজ শেষ। আধা কেজি পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা। সুরভি দুই দিন পর-পর'ই বলে, পেঁয়াজ শেষ। আজও বলল। আমি বললাম, পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করো। এত দাম দিয়ে পেঁয়াজ কেনা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি দরিদ্র মানুষ। সুরভি পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করলো। খেতে বসে দেখি, রান্না একেবারেই স্বাদ হয়নি। খাবার মুখেই দেওয়া যাচ্ছে না। নিজে মনে মনে ঠিক করে রেখেছি, পেঁয়াজের দাম না কমা পর্যন্ত, পেঁয়াজ কিনবো না। শেষে উপায় না দেখে ভাবীর কাছ থেকে কিছু পেঁয়াজ লোন নিলাম। বেশ কয়েকদিন চলে গেলো। এরপর আরিশের মা'র কাছ থেকে কিছু পেঁয়াজ লোন নিলাম। সামনে আরো কয়েকদিন চলে যাবে। আশা করি এর মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। তাদের পেঁয়াজ পরিশোধ করে দিবো।

সুরভিকে ঘরের কাজে সহযোগিতা করে সেলিনা।
সেলিনা প্রতিমাসে ১০/১৫ দিন আসে না। সেলিনা গতমাসে ২৩ দিন আসে নি। সুরভি সেলিনাকে ফোন দিয়েছে। সেলিনা বলেছে, সে ভীষন অসুস্থ। সুরভি ঘরের সমস্ত কাজ একাই করে গেছে। কথা সত্য আমি সুরভিকে ঘরের কাজে কোনো সহযোগিতা করি নি। সুরভি সেলিনাকে তার বাসায় দেখতে গেলো। গিয়ে দেখে সেলিনা হিন্দি মুভি দেখছে। মুভির নাম দাবাং। সেলিনা মোটেও অসুস্থ নয়। সুরভিকে দেখে সেলিনা খুব খুশি। সুরভিকে চা বানিয়ে খাওয়ালো। বলল, বাসা বাড়ির কামে তার পোষায় না। সে এখন ব্যবসা করবে। আইডিয়াল স্কুলের সামনে চটপটি আর ফুচকা বিক্রি করছে। খুব লাভ জনক ব্যবসা। ব্যবসা শুরু করতে অনেক টাকা লাগবে। কিছু টাকা সুরভিকে অবশ্যই দিতে হবে। চটপটির দোকান উদ্বোধন করতে আমাকে যেতে হবে। অবশ্যই যেতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৫৬
১৮টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×