
আমি বাইরে বেশ ব্যস্ততার মধ্যে আছি।
অনেক গুলো জরুরী কাজ আছে আমার। অথচ সুরভি বারবার ফোন দিয়েই যাচ্ছে। আমি ফোন কেটে দিচ্ছি। সুরভি আবার ফোন দিচ্ছে। আমি সুরভিকে আগেই হাজার বার বলে রেখেছে আমি ফোন কেটে দিলে আমাকে আর ফোন দিবে না। আমি নিজেই তোমাকে কিছুক্ষন পর ফোন দিবো। যদি এক ঘন্টার মধ্যে তোমাকে ফোন না দেই তাহলে তুমি আবার ফোন করতে পারো। দশ মিনিটে সে তিনবার ফোন দিয়ে দিলো। মনে মনে ভাবছি- খুব জরুরী কিছু? কোনো দুঃসংবাদ? কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে? কেউ মারা গেছে? নানান আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসছে। আমি সুরভিকে ফোনও করতে পারছি না। এক বড় কোম্পানীর চেয়ারম্যানের সামনে আমি বসে আছি। তার সাথে দেখা করাও অনেক দিকদারি। এর আগে দুইবার এসে ফিরে গেছি, দেখা হয়নি। আজ ভাগ্য ভালো দেখা হয়েছে। কিন্তু সুরভি কি শুরু করলো!
সবার আগে তো পরিবার।
আমি চেয়ারম্যানের সাথে কথা শেষ না করেই তার রুম থেকে বের হলাম। সুরভিকে তাড়াতাড়ি ফোন দিলাম। বললাম, কি হয়েছে?
সুরভি বলল, তুমি কি পালং শাক দিয়ে রুই মাছ রান্না কখনও খেয়েছো?
আমি বললাম, মানে কি?
সুরভি বলল, আজ আমি পালং শাক দিয়ে রুই মাছ রান্না করবো।
আমার প্রচন্ড রাগ লাগলো। ইচ্ছা করলো দুইটা কঠিন কথা সুরভিকে বলি। কিন্তু আমি ভদ্র মানুষ। কঠিন কথা বলতে পারি না। তাই সুরভিকে বললাম, তোমাকে হাজার বার বলেছি, আমি ফোন কেটে দিলে আমাকে ফোন করবে না। আমি ফ্রি হয়ে তোমাকে ফোন দিবো। তবু কেন বারবার ফালতু কারনে ফোন দিয়েই যাচ্ছো?
সুরভি বলল, তুমি কি মন্ত্রী নাকি! যে খুব ব্যস্ত। কেবিনেট মিটিং এ আছো, ফোন দেওয়া যাবে না!
আমার প্রচন্ড রাগ হলো। আমি ফোন কেটে দিলাম। দ্রুত চেয়ারম্যানের রুমে গিয়ে দেখি চেয়ারম্যান বের হয়ে গেছেন।
দেড়-দুই মাস হয়ে গেলো- পেঁয়াজের দাম কমছে না।
সাধারন আমি সব সময় মাসের শুরুতেই পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনে ফেলি। গত দুই মাস ধরে আধা কেজি করে পেঁয়াজ কিনছি। সুরভি রান্নায় প্রচুর পেঁয়াজ ব্যবহার করে। দুই দিনেই আধা কেজি পেঁয়াজ শেষ। আধা কেজি পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা। সুরভি দুই দিন পর-পর'ই বলে, পেঁয়াজ শেষ। আজও বলল। আমি বললাম, পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করো। এত দাম দিয়ে পেঁয়াজ কেনা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি দরিদ্র মানুষ। সুরভি পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করলো। খেতে বসে দেখি, রান্না একেবারেই স্বাদ হয়নি। খাবার মুখেই দেওয়া যাচ্ছে না। নিজে মনে মনে ঠিক করে রেখেছি, পেঁয়াজের দাম না কমা পর্যন্ত, পেঁয়াজ কিনবো না। শেষে উপায় না দেখে ভাবীর কাছ থেকে কিছু পেঁয়াজ লোন নিলাম। বেশ কয়েকদিন চলে গেলো। এরপর আরিশের মা'র কাছ থেকে কিছু পেঁয়াজ লোন নিলাম। সামনে আরো কয়েকদিন চলে যাবে। আশা করি এর মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। তাদের পেঁয়াজ পরিশোধ করে দিবো।
সুরভিকে ঘরের কাজে সহযোগিতা করে সেলিনা।
সেলিনা প্রতিমাসে ১০/১৫ দিন আসে না। সেলিনা গতমাসে ২৩ দিন আসে নি। সুরভি সেলিনাকে ফোন দিয়েছে। সেলিনা বলেছে, সে ভীষন অসুস্থ। সুরভি ঘরের সমস্ত কাজ একাই করে গেছে। কথা সত্য আমি সুরভিকে ঘরের কাজে কোনো সহযোগিতা করি নি। সুরভি সেলিনাকে তার বাসায় দেখতে গেলো। গিয়ে দেখে সেলিনা হিন্দি মুভি দেখছে। মুভির নাম দাবাং। সেলিনা মোটেও অসুস্থ নয়। সুরভিকে দেখে সেলিনা খুব খুশি। সুরভিকে চা বানিয়ে খাওয়ালো। বলল, বাসা বাড়ির কামে তার পোষায় না। সে এখন ব্যবসা করবে। আইডিয়াল স্কুলের সামনে চটপটি আর ফুচকা বিক্রি করছে। খুব লাভ জনক ব্যবসা। ব্যবসা শুরু করতে অনেক টাকা লাগবে। কিছু টাকা সুরভিকে অবশ্যই দিতে হবে। চটপটির দোকান উদ্বোধন করতে আমাকে যেতে হবে। অবশ্যই যেতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



