
চড়ুই পাখির প্রতি আমার দুর্বলতা আছে।
একদিন অফিসের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে লুকিয়ে সিগারেট খাচ্ছিলাম। অফিসের বেলকনিতে অনেক চড়ুই আসতো। তখন অফিসের পিয়ন আক্কাস বলল, স্যার একটা খেলা দেখবেন? আমি বললাম, কি খেলা? আক্কাস নিজের পায়ের স্যান্ডেল খুলে চড়ুই গুলোর দিকে উড়িয়ে মারলো। মুহুর্তের মধ্যে একটা চড়ুই মরে গেল। আমি প্রচিন্ড অবাক! প্রচন্ড মর্মাহত! আমি কোনো দিন কাউকে মারি নি। সেদিন পিয়ন আক্কাস আলীকে একটা চড় দিয়েছিলাম। এই জন্য আমার একটুও অপরাধবোধ হয়নি। চড়ুই পাখি ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। বরং পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে।

একসময় ক্যামেরা কাঁধে নিয়ে সারাদিন ঘুরে বেড়াতাম।
ছবি তুলতে কখনও গ্রুপ বেঁধে যেতাম, কখনও একা একা যেতাম। ভালো কোনো সাবজেক্ট পেলেই সাথে সাথে ছবি তুলে নিতাম। আর এখন আগের মতো ছবিই তোলা হয় না! কিছুদিন আগে কোলকাতা গেলাম, সেখানেও ক্যামেরা নিয়ে যাই নি। তবে মোবাইল দিয়ে কিছু ছবি তুলেছি। যাই হোক, একদিন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছি। সেখানে গিয়ে দেখি অনেক চড়ুই পাখি! কম পক্ষে ৪/৫ শ' চড়ুই হবে। একসাথে এত চড়ুই আমি আগে কখনও দেখিনি। ঝটপট ক্যামেরা বের করে বেশ কিছু ছবি তুলে নিলাম। কৃষক জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করে তাতে নিরিহ চড়ুই গুলো মারা পড়ে।

সামনে পরীক্ষা। পড়তে বসেছি।
বাইরে তখন তুমুল ঝড় তুফান হচ্ছে। আমি ঝড় তুফান উপেক্ষা করে একমনে পড়ে চলেছি। সারা বছর না পড়লে পরীক্ষার আগে পড়তে বসতে হয়'ই। ঠিক তখন একটা চড়ুই পাখি কোথা থেকে এসে আমার পড়ার টেবিলে পড়লো। ঝড় তুফানে চড়ুইটা বেশ আহত হয়েছে। পাখিটাকে দেখে বেশ মায়া লাগলো। সারারাত পাখিটার সেবা যত্ন করলাম। আমার সেবাতে কাজ হলো। আল্লাহর রহমতে পাখিটা এক রাতেই সুস্থ হয়ে উঠলো। সকালবেলা পাখিটা খোলা আকাশে ছেড়ে দেই। চড়ুই মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু মানুষ প্রতিনিয়ত চড়ুই এর ক্ষতি করে যাচ্ছে।

আমি তখন অনেক ছোট।
আমাদের বাসায় চড়ুই পাখির বাসা বেঁধে ছিল। ভেন্টিলেটরের ভেতর খুব সুন্দর করে বাসা বানিয়েছিল। পুরো একটা পরিবার থাকতো। প্রতিদিন ভোরে সব গুলো চড়ুই একসাথে কিচির মিচির করতো। ঘুম ভাঙতো আমাদের ওদের কিচির মিচিরের শব্দে। আমি নিয়মিত চড়ুই গুলোর উপরে খেয়াল রাখতাম। ভেন্টিলেটর অনেক উঁচুতে ছিল। আমি নাগাল পেতাম না। মই বেয়ে উপরে উঠতাম। ওরা সকালে বাসা থেকে বের হলে, ওদের বাসায় চাল, ডাল এবং আটা রুটি টুকরো টুকরো করে রেখে আসতাম। আপনাদের সবার কাছে আমার অনুরোধ, প্রতিদিন ঘরের বারান্দায়, জানালায় ছোট পাত্রে সামান্য চাল, ভাত, পানি রাখুন চড়ুই এর জন্য।
একবার দলবেধে ফোটোওয়ার্কে গিয়েছিলাম।
ঢাকার কাছে এক গ্রামে। সেখানে ঝোপঝাড়ে ছবি তুলতে গিয়ে এক গাছে উঠি। গাছ থেকে লাফিয়ে নামার সময় অসাবধানবশত পড়ে যাই। আত্মরক্ষার জন্য গাছের ঢাল ধরতে গিয়ে একটা চড়ুই পাখির বাসা ভেঙ্গে ফেলি। চড়ুইয়ের বাসায় ছিল হালকা সবুজ চারটা ডিম। চড়ুই পাখির চারটা ডিম ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে ভেঙ্গে গিয়েছিল। ডিম গুলো ভেঙ্গে যাওয়াতে আমার ভীষন মন খারাপ হয়। নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছিল। চড়ুই পাখি সর্ব্বোচ চারটা ডিম দেয়। বাচ্চা ফুটানোর জন্য দুই সপ্তাহ ডিমে তা দিতে হয়। এ পৃথিবী শুধু মানুষের জন্য নয়, চড়ুইয়েরও, তা মানুষ বুঝে উঠবে কবে!
চড়ুই পাখি সম্পর্কে কিছু তথ্য
১। চড়ুই পাখি মানুষের আশে পাশে থাকতে পছন্দ করে।
২। পৃথিবীতে মোট ৪৮ প্রজাতির চড়ুই দেখতে পাওয়া যায়।
৩। একটা চড়ুই পাখির দেহের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ২০ থেকে ২৫ গ্রাম।
৪। প্রতিবছর ২০ মার্চ পৃথিবীব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব চড়ুই পাখি দিবস।
৫। এক শ্রেণির নির্বোধ মানুষ মনে করে, চড়ুই পাখির মাংস খেলে যৌনক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটে।
৬। সারা দিনে একটি চড়ুই পাখি মাত্র পাঁচ থেকে সাত গ্রাম খাবার খায়।
ছবি গুলো আমার তোলা।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



