somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- (চার)

০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৩:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সময়ঃ দুপুর দুইটা।
স্থানঃ রমনা পার্ক। মধ্যদুপুরে পার্কে লোকজন কম থাকে। আমাদের শাহেদ জামাল বসে আছে রমনা পার্কে। আসলে সে বসে না শুয়ে আছে। শাহেদ জামালের মন মেজাজ আজ খুব ভালো আছে। দুপুরে খাওয়ার চিন্তা নেই। শফিক হয়তো কিছুক্ষনের মধ্যেই হাজীর বিরানী নিয়ে এসে হাজির হবে। শাহেদ সকালে যখন রমনা পার্কের দিকে হাটা দেয় তখন শফিক ফোন করে জানালো তার দরকারী কথা আছে। শাহেদ বলেছে দুপুর দুইটায় বিরানী নিয়ে রমনা পার্কে আসতে। শফিক খুব ভালো ছেলে। ভদ্র। শিক্ষিত। অমায়িক। মোটামোটি গোছের একটা চাকরি করে। শফিক প্রেম করে বিয়ে করেছে সুবর্নাকে। সুবর্না খুব ভালো মেয়ে। সহজ সরল বলা যায়। শফিক-সুবর্নার এখনও কোনো ছেলেমেয়ে হয়নি। কোনো এক বিচিত্র কারনে শফিক শাহেদকে খুব পছন্দ করে। শাহেদও শফিককে পছন্দ করে। স্কুল কলেজে তারা একসাথে লেখাপড়া করেছে।

শফিক বিরানী নিয়ে এসেছে।
সাথে পানির বোতল এনেছে। একটা স্প্রাইট এবং এক পেকেট বেনসন সিগারেট। বেশ গোছানো ছেলে। শাহেদ জামাল আরাম করে খেল। খাবার এখনও গরম আছে। দুই পেকেট এনেছে। শফিক খেলো না। অন্য পেকেট ফুল বিক্রেতা মেয়েটাকে দিয়ে দেওয়া হলো। শাহেদ বোতলের অর্ধেক পানি খেয়ে নিলো। স্প্রাইটের বোতলে একটা চুমুক দিয়ে, একটা সিগারেট ধরালো। শাহেদের অনেক ক্ষুধা পেয়েছিলো। সকালে বাসা থেকে নাস্তা করে বের হয়নি। বেকার ছেলে সকালে নাস্তা খেলো কি খেলো না সেটা নিয়ে কারো ভাবার সময় কারো নেই। এখন বেশ শাহেদের নিজেকে সুখী মানুষ বলে মনে হচ্ছে। পেট ভরা থাকলে দুনিয়ার সব শান্তি শান্তি লাগে। শফিক চুপ করে বসে আছে। তাকে দেখে মায়া লাগছে। শাহেদ শফিকের দিকে তাকিয়ে বলল, ঘটনা কি বল? তোকে দেখে মনে হচ্ছে তোর মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে! মুখ চোখ এরকম কালো করে রেখেছিস কেন বন্ধু? সমস্যা থাকলে সমাধানও আছে। এত চিন্তা করিস না। যা হবার হবে। কথায় আছে- ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন।

শফিক বলা শুরু করলো।
সুবর্নাকে আমি আর সহ্য করতে পারছি না। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে ছাদ থেকে লাথথি মেরে নিচে ফেলে দেই। ওর কোনো কিছুই আমার ভালো লাগে না। ওর রান্না, ওর কথা। ওর খাওয়া বা শোয়ার স্টাইল কিচ্ছু ভালো লাগে না। যখন ঘুমিয়ে থাকে তখনও ওর দিকে তাকালে মায়া লাগে না। সারাদিন খাচ্ছে আর মোটা হচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনবার মিসক্যারেজ হয়েছে। এখন আবার প্রেগন্যাট হয়েছে। আমি সিউর এবারও মিসক্যারেজ হবে। দুই মাস চলছে। তিন মাসের বেলায় মিসক্যারেজ হবে। আগেও এমনটা হয়েছে। একটু পরপর বমি করছে। মাথা ঘুরায়, দুর্বল লাগে নাকি। মানে নানান সমস্যা। বললাম, তোমার বাপের বাড়ি চলে যাও। সে তার বাপের বাড়িও যাবে না। আসলে সুবর্নার বাপ মেয়ে বিয়ে দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেছে। এদিকে ওর দেখভাল করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি এসব পারি না। যতক্ষন ঘরে থাকি ততক্ষন দম বন্ধ লাগে আমার। আমি আর পারছি না। এত কিছুর মাঝেও আমি সুর্বনাকে ভালোবাসতে চাই। অথচ বুকের ভেতর থেকে কিছুতেই ভালোবাসা আসে না।

শফিকের কথা শেষ হয় নাই।
সে বলল, দোস্ত আমার বাপ মানুষটা ভালো না। তিনটা বিয়ে করেছে। অনেক গুলো তার ছেলে মেয়ে। শেষ বয়সে তৃতীয় বিয়েটা করেছে। সেখানেও তার দুইটা ছেলে হয়েছে। বড় ছেলেটার বয়স এখন আট। আমার বাপ শালা সারাটা জীবন ভন্ডামি করেছে। ছোটবেলা খেয়ে না খেয়ে অভাবে অভাবে বড় হয়েছি। তুই চিন্তা করে দেখ বন্ধু, সে আমার পরীক্ষার ফিস না দিয়ে রাতে মদ খেয়ে বাসায় ফিরতো। আমার জুতো নেই আমি খালি পায় থাকি। অথচ সে জমিদারি স্টাইলে জীবনযাপন করে। দামী মদ খায়। এটা কেমন বাপ? দিনের পর দিন তার কোনো খোজ পাওয়া যেত না। আমরা খেয়ে আছি না মরে গেছি তার খোজ নিতো না। এখন আমার বাপের পরিস্থিতি অনেক খারাপ। অনেক অসুস্থ। তার দেখভাল করছে তার ভাইয়েরা। অবশ্য আমি মাঝে মাঝে তাকে দেখতে যাই। তখন যা পারি তার হাতে গুজে দেই। অথচ তার কাছ থেকে দু শ' টাকা চেয়েও কখনও পেয়েছি বলে মনে পড়ে না।

শাহেদ জামাল মন দিয়ে শফিকের কথা শুনে যাচ্ছে।
মানুষের সুখ দুঃখের কথা শুনতে তার বড় ভালো লাগে। শফিক বলল, আমার মা খুব উন্নত মনের মানুষ না। তার মধ্যেও সমস্যা আছে। আমরা অনেক গুলো ভাইবোন। মা তার সব সন্তানকে সমান চোখে দেখেন না। তার যে ছেলে বেশি ইনকাম করে এবং তাকে বেশি টাকা হাত খরচ দেয় সে তাকেই বেশি ভালোবাসে। অথচ আমার ধারনা ছিলো মায়ের কাছে তার সব সন্তান সমান। আমার মা আমার কোনো খোজ খবর নেয় না। আমি নিজে থেকেই তার কাছে যাই সে টিভি দেখায় ব্যস্ত থাকে। দূরের আত্মীয়র মতোন মাঝে মাঝে ফোন দিয়ে খোজ খবর নেয় আমাদের। আমার মনে হয়, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু তিনজন। আমার মা, আমার বাবা আর আমার স্ত্রী। অথচ এই তিন জনই আমার সবচেয়ে আপন হওয়ার কথা ছিলো। এখন আমি নামাজে দাড়িয়ে বলি- হে আল্লাহ আমার মায়ের মতো মা, আমার বাবার মতো বাবা আর আমার স্ত্রীর মতো স্ত্রী তুমি কাউকে দিও না। এরা আমার জীবনে যেন অভিশাপ হয়ে এসেছে।

দীর্ঘ একটা শ্বাস নিয়ে শফিক থামলো।
এখন চুপ করে বসে আছে। তার কথা শেষ হয়েছে। বাতাসে তার মাথার সুন্দর চুল উড়ছে। শাহেদ জামালকে শফিক তার বুকের জমানো দঃখ কষ্টের সব কথাগুলো বলার পরেই যেন তার মুখের কালো মেঘ কেটে গেছে। এখন তার বেশ ভালো লাগছে। দীর্ঘদিন ধরে শফিক তার গোপন কথা গুলো বলার মানুষ খুজছিলো। মানুষ বলতে চায়। মানুষের অনেক কথা জমানো আছে। বলতে পারলেই তার শান্তি-শান্তি লাগে। তবে কথা বলতে হয় ভালো মানুষদের। যে মানুষ কখনও হঠাত করে সাপ হয়ে যাবে না। এরকম মানুষ দুনিয়াতে খুব অল্প আছে। এই অল্প মানুষদের একজন শাহেদ জামাল। শাহেদ জামাল হলো গাছের মতোন। যে গাছ কোনো দিন কারো ক্ষতি করে না।
বিকেল হয়ে গেছে। পার্কে লোকজনের সংখ্যা বাড়ছে। শাহেদ একটা সিগারেট ধরিয়ে আকাশের দিকে তাকালো। না, আকাশে কোনো মেঘ নেই। আজ বৃষ্টি হবার সম্ভবনা নেই। বৃষ্টি হলে আজ সে নীলার কাছে যেত।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৩:১৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×