somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

শেফালী, মকবুল এবং আমি

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





ঘটনা শুরু এইভাবে-
আব্বা বললেন, গাড়ি যাচ্ছে ঢাকার বাইরে। তুমি সাথে যাও। কোথায় যাচ্ছি সেটা আপনাদের বললাম না। বললে সমস্যা আছে। তবে আমি কিছুটা হিন্টস দিচ্ছি। খুলনা-রায়েন্দা-টেকের হাঁট এলাকার মধ্যে কোনো এক জায়গা। ঢাকা থেকে সন্ধ্যায় রওনা দিলাম। আমি ড্রাইভারের পাশের সিটে বসেছি। ড্রাইভার মগবুল বয়স্ক। তবে স্বাস্থ্য ভালো। তবে কথা একেবারেই বলেন না। মগবুল ঢাকা থেকে বের হবার পর তুফানের মতো গাড়ি চালাচ্ছে। যেন তার খুব তাড়া। আমি বেশ কয়েকবার বললাম, আপনার এত তাড়া কিসের? আস্তে চালান। মগবুল আমার কথার পাত্তা দিলো না। অথবা সে আমার কথা শুনেই নাই। বুঝে গেলাম ড্রাইভার ব্যাটা বদ।

রাত তখন দুইটা।
আমাদের গাড়ি শা শা করে যাচ্ছে। আমি বললাম, আমার ক্ষুধা পেয়েছে। গাড়ি কোথাও থামাও। খেয়ে নিই। তোমারও নিশ্চই ক্ষুধা পেয়েছে? মগবুল কোনো কথা বলল না। সে সমানে গাড়ি চালিয়েই যাচ্ছে। শীতের রাত। চারপাশ গাঢ অন্ধকার। জানালা দিয়ে তাকালেও ডানে-বামে কিছু দেখা যায় না। আমি ড্রাইভারকে কঠিন গলায় বললাম, গাড়ি থামায়। আমি পিসাব করবো। ড্রাইভার কঠিন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, এখানে গাড়ি থামানো যাবে না। জায়গাটা খারাপ। বিরাট বিপদ হবে। আমি বললাম, পিসাবে আমার পেট ফেটে যাচ্ছে। প্লীজ তুমি গাড়ি থামায়। ড্রাইভার মগবুল খুব তেজ দেখিয়ে হঠাত গাড়ি ব্রেক করলো। আমি হুমড়ি খেয়ে বললাম। প্রচন্ড রাগ হলো আমার। মনে মনে বললাম, ঢাকা ফিরলে তোমার খবর আছে।

গাড়ী থেকে নামলাম।
অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে। স্পষ্ট শিয়ালের ডাক শুনলাম। রাস্তার পাশে দাড়ালাম। পিসাব ঠিকভাবে হচ্ছে না। থেমে থেমে যাচ্ছে। অনেকক্ষন পিসাব আটকে রাখলে এরকমটা হয়। যাই হোক, হঠাত দেখলাম ঝোপের আড়ালে কেউ একজন বসে আছে। ভালো করে তাকিয়ে দেখি। একটা মেয়ে। বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ হবে। হাতে একটা লম্বা লাঠি। মাথার চুল এলোমেলো। পাগল পাগল চেহারা। মেয়েটা আমার দিকে তাকালো। আমি প্রচন্ড ভয় পেলাম। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো। বিকট হাসি। এমন ভয়ানক হাসি আমি জীবনে দেখি নাই। মেয়েটা আমার দিকে তার হাতের লাঠিটা উঁচু করে ধরলো। আমার পুরো শরীর শক্ত হয়ে গেলো। পা নাড়াতে পারছি না। গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছিলো না।

সব মিলিয়ে দুই মিনিট সময়।
অথচ আমার কাছে মনে হচ্ছে অনন্ত সময় ধরে আমি দাঁড়িয়ে আছি। মেয়েটা এখনও লাঠি উঁচু করে রেখেছে আমার দিকে। এমন সময় ড্রাইভার মকবুল এসে আমার হাত ধরে। আমি সাহস ফিরে পেলাম। মকবুল মেয়েটাকে দেখলো। সে-ও মারাত্মক ভয় পেয়েছে। মেয়েটা মকবুলকে দেখে আবার সেই বিকট হাসি দিলো। মকবুল টেনে আমাকে গাড়িতে নিয়ে গেলো। বলল, আমি বলেছিলাম জায়গাটা ভালো না। নামার দরকার নাই। মকবুল গাড়ি স্টার্ট দিলো। গাড়ি আবার তুফানের মতো চলছে। রাত তখন তিনটা। আচমকা ভয়ে আমি ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত। তবে ভয় অনেকটা কেটে গেছে। ভয় কেটে গেলে সাহস বাড়তে থাকে। মকবুল বলল, আল্লাহ আল্লাহ করতে থাকেন। আল্লাহ ছাড়া বাচাবার কেউ নেই। আমি বললাম, হুম।

রাত তিনটা। আমি ভোরের অপেক্ষায় আছি।
মকবুল হঠাত গাড়ি থামালো। আমি বললাম কি হয়েছে? মকবুল বলল, সামনে দেখেন। সামনে তাকিয়ে দেখি- বড় বড় দুটা গাছ রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে। গাছ না সরালে গাড়ী সামনে যাবে না। এই গাছ সরাতে কমপক্ষে দশজন লোক লাগবে। আমাদের দুজনের পক্ষে সম্ভব না। মকবুল বলল, আজ বিরাট বিপদ। বাঁচবো কিনা সন্দেহ। এই কথা বলেই মকবুল গাড়ি থেকে নেমে কোথাও দৌড়ে চলে গেলো। চলে গেলো বলা ঠিক হয় নাই। সে পালিয়ে গেলো। আমি একা। তবে আমার ভয় লাগছে না। যা ভয় পাওয়ার পেয়ে গেছি। আমি গাড়ি থেকে নামলাম। আশেপাশে কোনো বাড়ি ঘর দেখা যাচ্ছে না। একবার কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুনলাম। শিয়ালের ডাক শুনলাম। কিন্তু তাদের দেখা পেলাম না। দেখলাম একটা গাছে দুটা প্যাঁচা বসে আছে।

আমি একাএকা হাঁটতে শুরু করলাম।
আমি প্রচণ্ড ক্ষুধার্থ ও ক্লান্ত। রাস্তার পাশে বড় আম গাছের নীচে বসে পড়লাম। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। এমন সময় দেখি সেই পাগল মেয়েটা আমার সামনে। তার হাতে লাঠি। আমি ভালো করে মেয়েটার দিকে তাকালাম। বললাম, ঘটনা কি? তুমি কি আমাকে ভয় দেখাতে চাও? মেয়েটা বলল, না তোমাকে ভয় দেখাতে চাই। তুমি ভয় পেও না। আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না। তবে আমি মকবুলকে খুন করবো। আমি বললাম, কেন? সে তোমার কি ক্ষতি করেছে? মেয়েটা বলল, মকবুল আমার প্রেমিক ছিলো। আমাকে নদীতে ফেলে হত্যা করে। আমি সাঁতার জানি না। নদীতে ডুবে আমার মৃত্যু হয়। প্রেমিকার চেয়ে তার কাছে একশ' ভরি স্বর্নের মূল্য বেশি। আমি ভুল মানুষের প্রেমে পড়েছিলাম।

আমি মেয়েটাকে বললাম, ঘটনা কি খুলে বলো।
মেয়েটা বলল, আমার নাম শেফালী। আজ থেকে পয়ত্রিশ বছর আগে মকবুলের সাথে আমার প্রেম হয়। কিন্তু আমাদের প্রেম মেনে নেয় না আমার পরিবার। তাই মকবুল আর আমি সিদ্ধান্ত নেই আমরা পালিয়ে যাবো। একদিন মকবুলের হাত ধরে আমি সত্যি সত্যি পালিয়ে গেলাম রাতের অন্ধকারে। আমার সাথে ছিলো আমার মায়ের দেওয়া একশ' ভরি স্বর্ন। আমরা নৌকায় করে নদী পার হচ্ছিলাম। তখন অনেক রাত। হঠাত মকবুল আমাকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। আমি ডুবে মরে যাই। মকবুল একশ' ভরি স্বর্নের লোভে আমাকে মেরে ফেলে। যে মাঝি আমাদের নৌকা করে নিয়ে যাচ্ছিলো। তাকে মকবুল দশ ভরি স্বর্ন দিয়ে ম্যানেজ করেছিলো। শেফালী বলল, তুমি চলে যাও। তবে আমি মকবুলকে ছাড়বো না। এই বলে মেয়েটা ভেনিস হয়ে গেলো।

আমি শেফালীর ঘটনা শুনে প্রচন্ড অবাক!
আমি হাঁটা শুরু করলাম। এখানে বসে থাকার কোনো মানে হয় না। হাঁটতে হাঁটতে একটা ভাঙ্গা মন্দিরের সামনে চলে এলাম। এখানে এসে মকবুলের দেখা পেলাম। সে লুকিয়ে আছে। আমি বললাম, মকবুল তুমি লুকিয়ে বাঁচতে পারবে না। ঘটনা কি আমাকে খুলে বলো। মকবুল কাঁদতে কাঁদতে বলল- মেয়েটাকে আমি চিনি। ওর নাম শেফালী। ওর সাথে আমার বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু আমি লোভী। আমি পাপী। একশ' ভরি স্বর্নের লোভে আমি শেফালীকে নদীতে ফেলে দেই। অথচ সেই একশ' ভরি স্বর্ন আমি পাই নি। মাঝি ব্যাটা আমাকে লাথথি দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। তারপর স্বর্ন নিয়ে পালিয়ে যায়। অথচ আমি তাকে দশ ভরি দিতে চেয়েছিলাম। আমি সাঁতার জানি। পাড়ে চলে আসি। কিন্তু মাঝি ব্যাটাকে অনেক খুজেও আর পাইনি।

ভাঙ্গা মন্দের দেয়ালে হেলান দিয়ে মকবুল কাঁদছে।
আমি তার পাশে বসে আছি। কিছুক্ষন পর আকাশ ফর্সা হবে। এমন সময় আমাদের সামনে শেফালী এসে হাজির হয়। শেফালীকে দেখে মকবুল ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে মন্দিরের ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। আর চিৎকার করতে থাকে আমাকে বাঁচাও বাঁচাও। আমি তাকিয়ে দেখি আমার পাশে শেফালী নেই। কোনো একফাকে শেফালী মন্দিরের ভিরত ঢুকে গেছে। মকবুল এঁর বিকট চিৎকার শোনা যাচ্ছে। মেরে ফেলল, আমাকে বাঁচাও। বাঁচাও। আমি মন্দিরের দরজা ভাঙতে চেস্টা করে ব্যর্থ হলাম। একটু পর শেফালী মন্দিরের দরজা খুলে বের হলো। তাকিয়ে দেখি মকবুলের শরীর ক্ষতবিক্ষত। রক্তে ভেসে যাচ্ছে। মকবুল মারা গেছে।

আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে।
শেফালী চলে যাচ্ছে। আমি বললাম, ভালো থেকো শেফালী। শেফালী বলল, আজ আমি মুক্ত। এখন আমার আর কোনো কষ্ট নেই। শেফালীকে স্পষ্ট দেখতে পারছি এখন। বেশ মিষ্টি চেহারা। মাথা ভর্তি চুল। রাতের অন্ধকারে শুধু শুধু ভয় পেয়েছি। শেফালী বলল, তুমি ভালো ছেলে। তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে। তোমার যদি কখনও বিপদ আসে। তখন আমি আসবো। যে কোনো বিপদ থেকে আমি তোমাকে রক্ষা করবো। তোমার কোনো ভয় নেই। আমি অদৃশ্য ভাবে তোমার সাথে আছি। এই বলে শেফালী চলে গেলো। আকাশ পুরোপুরি ফর্সা হলো। কি সুন্দর সকাল! চারিদিকে সুন্দর একটা গন্ধ! তাকিয়ে দেখলাম আমি একটা শেফালী গাছের নীচে দাঁড়িয়ে আছি। অসংখ্য শেফালী ফুল নীচে পড়ে আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:২২
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ কোরআন সহজ করে দিলেও মুসলমান মতভেদে লিপ্ত হয় কোন কারণে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:৫২



সূরাঃ ৫৪, কামার ১৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৭। কোরআন আমরা সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বড় এবং দৃশ্যমান বিপর্যয় শুরু খালেদা জিয়ার হাত ধরে

লিখেছেন মিশু মিলন, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:৪৯



একটা সময় লোকশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল যাত্রাপালা। পালাকাররা সামাজিক, ঐতিহাসিক, পৌরাণিক যাত্রাপালা লিখতেন। বাংলাদেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জে মঞ্চস্থ হতো সেইসব যাত্রাপালা, মানুষ সারারাত জেগে দেখতেন। ফলে যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমরত্বের মহাকাব্যে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৪


এই বাংলার আপসহীন মা কে
হারিয়ে ফেলাম শুধু মহাকাব্যে;
ধ্বনিত হবে এতটুকু আকাশ মাটিতে
আর অশ্রুসিক্ত শস্য শ্যামল মাঠে-
চোখ পুড়া সোনালি স্মৃতির পটে অপূর্ণ
গলাশূন্য হাহাকার পূর্ণিমায় চাঁদের ঘরে;
তবু আপসহীন মাকে খুঁজে পাবো?
সমস্ত কর্মের... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা - নৃতত্ত্ব এবং বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৭


সাধারণ মানুষকে আমরা তার ব্যক্তি চরিত্র দিয়ে বিচার করি, কিন্তু একজন ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনীতিবিদকে ব্যক্তিজীবন দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×