somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

গ্রামের গল্প

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সময়টা তখন ১৯৬২ সাল।
বিক্রমপুর অঞ্চলের কামারগাও গ্রামের ঘটনা। গ্রামে এক লোকের নাম বসির উল্লাহ। পাগল শ্রেনীর মানুষ। তার মুখের কোনো লাগাম নেই। গ্রামের সম্মানিত লোককেও যা খুশি বলে দেয়। মুখে কোনো লাগাম নেই। একলোক বাজারে যাচ্ছিলো। তখন বসির উল্লাহ বলল, কিরে এমন তাড়াহুড়া করে কোথায় যাচ্ছিস। লোকটা বলল, পাগলের কথার জবাব আমি দেই না। তখন বসির উল্লাহ বলল, বাজার থেকে ফেরার সময় তুই হেঁটে বাড়ি ফিরতে পারবি নারে। কারো কাঁধে করে ফিরতে হবে। বসির উদ্দিনের কথা ফলে গেলো। বাজারে ঢুকতেই লোকটাকে এক পাগলা গরু এমন ধাক্কা দিলো, সাথে সাথে ধাক্কা খেয়ে অজ্ঞান। দুইজন লোক ধরাধরি করে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিলো।

চৌধুরী সাহেব তার জমির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
এবার ফসল খুব ভালো হয়েছে। মুগ্ধ হয়ে চৌধুরী সাহেব তার জমির দিকে তাকিয়ে আছেন। বসির উদ্দিন হেঁটে যাচ্ছিলো। চৌধুরী সাহেবকে দেখে, সে থামলো। বলল, এমনভাবে ফসলের দিকে তাকিয়ে লাভ নাই। এই ফসল আপনি ঘরে তুলতে পারবেন। চৌধুরী বললেন, হারামজাদা যা ভাগ এখান থেকে। পন্ডিত এসেছে। তোকে আমি গ্রাম ছাড়া করবো- এই আমি বলে রাখলাম।। সেই রাতেই ব্যাপক ঝড় হলো। বৃষ্টি হলো। পানিতে সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে গেলো। বসির উদ্দিনের কথা ফলে যায়। এখন গ্রামের মানুষ বসির উদ্দিনকে অবহেলা করে না। তাকে সমাদর করে। খাতির করে।

বসির উদ্দিন শ্রীনগর পোষ্ট অফিসের সামনে বসে আছে।
নতুন পোষ্ট মাস্টার জয়েন করেছেন। সে বলল, কিরে ছাগলা এখানে বসে আছিস যে বড়। আমার পোষ্ট অফিসে কোনো পাগলের জায়গা হবে না। বসির বলল, হুজুর আমি পাগল নই। আর এটা গভমেন্টের জায়গা। এখানে যে কেউ আসতে পারেই। পোষ্ট মাস্টার রেগে বলল, হারামির পুত দেখি চ্যাটাং চ্যাটাং কথা কয়। বসির বলল, মাস্টার সাহেব আপনার এখানে আর কাজ করা হবে না। আপনার ট্রন্সাফার হয়ে যাবে। আগামীকাল আপনাকে নাইক্ষং ছড়ি চলিয়া যাইতে হবে। পোষ্ট মাস্টার বলল, আমি যেন তোকে আর এখানে না দেখি। দেখলে হাড় ভেঙ্গে দিবো। ফাজিলের ফাজিল। সত্যি সত্যি পোষ্ট মাস্টারের পোস্টিং হলো খাগড়াছড়ি।

লতিফার বাবা একজন কৃষক।
নিজের জমি নেই। অন্যের জমিতে কাজ করেন। লতিফার বয়স সতের। সে মনে মনে বসির কে পছন্দ করে। একদিন লতিফা সাহস করে বলেই ফেলল, আমাকে বিয়ে করো। তাতে তোমার ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। বসির বলল, আমার চাল চুলা নেই। থাকার জায়গা নেই। লতিফা বলল, সব হয়ে যাবে। সত্যি সত্যি বসির লতিফা কে বিয়ে করলো। এবং দেখা গেলো বিয়ের পর সে তিন বিঘা জমির মালিক হয়ে গেলো। গ্রামের স্কুল শিক্ষক নারায়ন কর্মকার কলিকাতা চলে যাবার আগে তার জমি বসিরকে দিয়ে যায়। বসির অনেক পরিশ্রম করতে পারে। সে জমিতে সারাদিন খাটে। সাথে লতিফাও খাটে। দারুন ফসল হয়। বসিরের জীবন বদলে গেলো।

সেই সময় গ্রাম দেশে চাপকল ছিলো না।
একমাত্র ভরসা নদী, পুকুর আর কুয়োর পানি। নদী অনেক দূরে। কুয়োর পানি ছিলো একদম স্বচ্ছ। অতি মিষ্ট স্বাদ। গ্রামের সবাই এই কুয়ার পানি খায়। কথিত আছে, এই কুয়োর পানি খেলে যেকোনো রোগ ভালো হয়ে যায়। গ্রামের লোকজন অসুস্থ হয় না- কারন তাঁরা এই কুয়োর পানি পান করে। আশেপাশের কেউ অসুস্থ হলে- এই কুয়ো থেকে পানি নিয়ে যেতো। একদিন কুয়োতে সমস্যা দেখা দিলো। পানি তুলতে গেলে, বালতি কুয়োয় পড়ে যায়। শুধু দড়ি উঠে আসে। অথচ কুয়োয় পানি আছে। সবাই বসির উল্লাহ কে বলল, ভাই কি সমস্যা? পানি না খেয়ে মরতে হবে নাকি আমাদের? সবাই অনুরোধ করলো- বসির তুমি কুয়োতে নামো। দেখ ঘটনা কি? এদিকে লতিফা সাত মাসের গর্ভবতী।

বসিরের ধারনা কুয়োয় নামলে সে আর উপরে উঠতে পারবে না।
এই কুয়ো তাকে শেষ করে দিবে। অথচ গ্রামের লোকজন তাকে ধরেছে। তার স্ত্রীর বাচ্চা হবে। গর্ভবতী অবস্থায় এই কুয়োর পানি খেলে বাচ্চা প্রসবকালে কোনো ব্যথা হয় না। লতিফাকে এই পানি খাওয়াতে হবে। খান সাহেবকে বসির বলল, দাদা মনে হয় আমি কুয়োতে নামলে আর বেঁচে ফিরতে পারবো না। যদি না ফিরি আমার স্ত্রী আর সন্তানকে আপনি দেখবেন। এই খান সাহেব হচ্ছেন আমার দাদা। যার ভালো নাম মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। যাইহোক, বসির স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কুয়োতে নামলো। কুয়ো থেকে সে আর ফিরে আসেনি।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:৩৮
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×