somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার ঘুম

২৮ শে জুন, ২০২৩ সকাল ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। একটা মেয়ের সাথে প্রেম করি।
মেয়েটার নাম নীলা। সহজ সরল সুন্দর মেয়ে নীলা। একদিন নীলাকে অবাক করে দিয়ে দুপুরবেলা তার বাসায় চলে গেলাম। আমি জানি, দুপুরবেলা নীলার বাসায় কেউ থাকে না। নীলা বলল, এসেছো যখন দুপুরে খেয়ে যাও। টেবিলে নানান রকম খাবার সাজানো। আমি ইচ্ছা মতো খেলাম। খুব বেশি খেয়ে ফেলেছিলাম। হাঁসফাঁস লাগছিলো। দশ মিনিট ভাতঘুম দিতে পারলে ভালো লাগতো। আমি নীলাকে বললাম, দশ মিনিট বিশ্রাম নিয়েই চলে যাবো। নীলা বলল, আল্লাহর দোহাই লাগে তুমি যাও। কেউ চলে আসবে। আমি বললাম, এত ভয় পেও না। কেউ আসবে না। আমি বিছানায় বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। এবং অনুভব করলাম কেউ একজন আমার পাছায় লাথথি দিচ্ছে। তাকিয়ে দেখি নীলার বড় ভাই। শুনেছি সে অনেক রাগী। ভয়ে আমার কলিজা উড়ে গেলো।

২। ট্রেনে করে চিটাগাং যাচ্ছি।
তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস। ট্রেন যথাসময়ে ছাড়েনি। এক ঘণ্টা দেরী করেছে। যাইহোক, ট্রেন চলছে তুফানের গতিতে। সিটে বসে আরাম পাচ্ছি না। খুব অস্বস্তি হচ্ছে। কারন মায়ের বয়সী একজন মহিলা আমার সামনে অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। উনি শেষ সময়ে ট্রেনে উঠেছেন। টিকিট পাননি। সারারাত মহিলাকে ট্রেনে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। কোনো কোনো ষ্টেশনে ট্রেন থামলে তিন জন নামলে ত্রিশ জন উঠে। ট্রেনে গজব অবস্থা। দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। রাত দুটায় আমি মহিলাকে বললাম, আপনি অনেকক্ষন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন, আমার সিটে বসুন। মহিলা বসলেন। আমি ছেলে মানুষ দাঁড়িয়ে চলে যাবো। ব্যাপার না। ট্রেনে প্রচুর ভিড়। আরাম করে কোথাও দাড়াতে পারছি না। এদিকে পেলেও ঘুম। ওরে ঘুম। কিছুতেই তাকিয়ে থাকতে পারছি না। ভিড়ের কারনে আমি আশ্রয় নিয়েছি ট্রেনের ইঞ্জিন ঘরে। বিকট শব্দ। আর অনেক গরম। সেই গরম আর বিকট শব্দে আমি ঘুমিয়ে গেলাম।

৩। অফিসের কাজে ঢাকা থেকে ফরিদপুর যাচ্ছি হেলিকাপ্টারে করে।
আমার সাথে বস আছেন। সব অফিসেই বসকে সবাই ভয় পায়। সমীহ করে। হেলিকাপ্টার আকাশে উড়তেই হঠাত আমার ঘুম এলো। আমি কিছুতেই চোখ মেলে তাকিয়ে থাকতে পারছি না। পাশে বস বসা। এদিকে ঘুমে চোখ ভেঙ্গে আসছে। অথচ বাসায় ঘুম আসে না। বলতে গেলে প্রায় সারারাত জেগেই থাকি। সত্যি সত্যি ঘুমিয়ে পড়লাম হেলিকাপ্টারে। ২০/২৫ মিনিটের ঘুম। ঘুম ভাঙ্গল বসের ডাকে। দেখি বসের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেছি আমার মুখের লালা কিছুটা বসের কোটে লেগে আছে। অথচ আমার চিরকালের ঘুমের সমস্যা। বিছানায় শুয়ে ছটফট করি ঘুম আসে না। ১০০ থেকে ১ পর্যন্ত গুনি তবু ঘুম আসে না। মৃত্যু যেমন বলে কয়ে আসে না। ঘুমও বলে কয়ে আসে না।

৪। গাজীপুরের শিমুলতলী এলাকাতে এক বাসায় দাওয়াতে গিয়েছি।
ঠিক দাওয়াত নয়। আমার এক বন্ধু সৌদি থাকে। ফোনে এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছে। বন্ধু ,মেয়েটাকে বিয়ে করতে চাইছে। আমি খোজ খবর নিতে এসেছি। সুন্দর গ্রাম। বাড়ির পিছনে বিশাল ধানক্ষেত। কিছুক্ষন আগে বৃষ্টি হয়ে গেছে। ধানগাছ গুলো বৃষ্টির পানি পেয়ে সতেজ হয়ে উঠেছে। যাইহোক, মেয়েটা এসে বলল, বৃষ্টির জন্য রান্না করতে দেরী হয়ে গেছে। আপনাকে এক ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। আমি বললাম, সমস্যা নেই। আচ্ছা, কি রান্না হচ্ছে? মেয়েটা বলল, দেশী মূরগীর ঝোল, গরুর মাংস আর পোলাউ। আমি বললাম, গ্রেট। মেয়েটা আমাকে চা দিলো। আমি চা খেয়ে বিছানায় বসলাম। এবং কখন জানি ঘুমিয়ে পড়লাম। সেই ঘুম ভাঙ্গল সন্ধ্যায়। মেয়েটা বলল, আপনি আরাম করে ঘুমাচ্ছিলেন, দেখে মায়া লাগলো। তাই ডাক দেইনি।

৫। অফিসে মিটিং। মিটিংটা গুরুত্বপূর্ন ছিলো।
দুজন বিদেশী লোক ছিলেন। আমরা বিদেশীর সাথে বুদ্ধিতে না পারতে পারি, তাই নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে একজন প্রফেসরকে ভাড়া করে নিয়ে এসেছিলাম। মিটিং এ আমাদের বস উপস্থিত ছিলেন। বাইরে প্রচুর গরম। কিন্তু কনফারেন্স রুমে ঠান্ডা। দুটা এসি চলছে। হঠাত আমার ঘুম পেলো। প্রচুর ঘুম। আমি চোখ মেলে তাকাতে পারছি না। অথচ একটু আগে কফি খেয়েছি। ঘুমের চোটে আমি গাঁড় হেলিয়ে বারবার পড়ে যাচ্ছি। খুব চেষ্টা করছি জেগে থাকতে। পারলাম না। ঘুম জয়ী হলো। আমি ঘুমিয়ে গেলাম। মিটিং শেষ তখন আমার ঘুম ভাঙ্গল।

আমার আরো কিছু ঘুমের ঘটনা আছে। সেগুলো অন্য কোনো সময়ে বলব।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০২৩ বিকাল ৩:৩৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সবার আগে মাতৃভূমি

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:১৩



প্রভাতের আলোতে যে রূপ আমি দেখি
সে যে চেনাজানা চির জন্মভূমিখানি,
পাখির মুগ্ধ সুরেলা কন্ঠে জোড় জাদু
আহা মন ভালো করে দেয় প্রতিদিনি।

পাহাড় নদী মাঠের সবুজ গালিচা
নারীর রূপ লাবণ্য নজর... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মাঠে নামছে জামায়াত-এনসিপি।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:১৭


বাংলাদেশে এই প্রথম একটা অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। সরকার টেকানোর জন্য মাঠে নামছে বিরোধী দল! জ্বী, আপনি ঠিকই পড়েছেন। আগামীকাল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ওহ সরি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×