
অনুভূতির ধারালো ছুরিটা মরচে পরে ভোতা হয়ে গেছে, জমে গেছে,
জমে বরফ হয়ে গেছে বুকের মাঝে জমানো একমাত্র কান্নার সমুদ্রটা,
নিতান্ত ঊনমানুষ বলে নিজের কাছেই নিজে বড় বেশি বিব্রত হই আজকাল,
কী দরকার ছিলো এই পৃথিবীর বুকে হেটেচলে বেড়ানোর, হাসার, কাদার, কষ্ট পাবার?
কি দরকারটা ছিলো!
নিতান্ত ঊনমানুষ বলে বড় বেশিই বিব্রত হই আজকাল, বড় বেশিই বিব্রত,
কী দরকার ছিলো কারো মায়ায় জড়াবার, মায়ার বাধন যে শক্ত বেশি!
আমার মত উদাসীন ঊনমানুষের সে শক্ত বাধন গায়ে কেটে বসতেই পারে!
কি দরকার ছিলো এ বৃথা মানব জন্মের!
গাছ হলেই ভালো হত বোধ করি, গাছের মত ধ্যানী কিন্তু যদি পাখির হৈচৈ ভালোই লাগে!
অবসন্ন, অলস অনুভূতিরাই যদি আমার মগজ জুড়ে থাকবে তবে মানুষ হয়ে,
মানুষের মত এ পৃথিবীর বিরাট জঞ্জালের মত একখানা বিরাট মস্তিষ্কের বোঝা
মাথায় চাপিয়ে ছুটে চলছি কেন এই জীবনের ক্লান্তিকর পথে!
এরকম নিতান্ত অলস মানুষ হিসেবে এ বোঝা ফেলে মৃত্যুর মুক্তিপণ যোগানোই কি পরম আরাধ্য নয়!
পৃথিবীর বিশাল পিঠের উপর ঘাসের বুকে জমা একফোটা স্ফটিক্স্বচ্ছ শিশিরেরও আমার চেয়ে
ঢের বেশি স্বার্থকতা এই জগতের কাছে।
আমার হৃদয় তবে কেন এন্টার্কটিকার বরফের মত কঠিন - শীতল!
অথচ ঢের বেশি জীবনের ঐকতান বাজে জরাজীর্ণ বৃদ্ধের অবয়বজুড়ে,
মগজে শব্দের কারফিউ আর হৃদয়ের ধুলোজমা বাড়িতে নির্বাক শ্মশান স্তব্ধতা!
তাতে দমবন্ধ হয়ে যায় মন ও মননের,
শৈল্পিক খেলাঘর;
অবাধ্য অসুখের যেথা অবাধ বিচরণক্ষেত্র!
হায়, অচ্ছুৎ ঊনমানুষ না হয়ে যদি মানুষ হতে পারতাম!
১৮ এপ্রিল, ২০২০
হবিগঞ্জ
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০২০ রাত ১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


