somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আঁধারের ছায়াসঙ্গীরা............(শেষ পর্ব)

১৬ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আঁধারের ছায়াসঙ্গীরা............(১)
আঁধারের ছায়াসঙ্গীরা............(২)
আঁধারের ছায়াসঙ্গীরা............(৩)

আজকাল ক্লাসে এসে স্যাররা অবাক হয়ে যান। ক্লাসের প্রায় অর্ধেক ছেলেই ন্যাড়া। কারন জানতে চাইলেই সবাই 'স্যার অনেক গরম পড়ছে.....' টাইপ উত্তর দেয়। শুধু শারমিন আপা জানেন আসল ঘটনা। উনি প্রথমে রাগের ভান করলেও পরে এটা নিয়ে অনেক হাসাহাসি করেছেন। কিন্তু বিপত্তিটা বাঁধাল সায়ান গাধাটা............


ভুলের শুরু....


প্রত্যেক ক্লাসের একটা অলিখিত নিয়ম আছে,ক্লাসের ফার্স্টবয় যাই বলুক না কেন;তোমার তা মেনে নিতে হবে। নইলে স্যারের হাতের বিনা কারনে শাস্তি পেতে হবে। রাজিব সাধারনত আমাদের সাথে কম কথাই বলে....(ফার্স্ট বেন্ঞ্চ আর লাস্ট বেন্ঞ্চের দূরত্ব একটু বেশীই হয়... ;) )

আজ হঠাৎ টিফিন পিরিয়ডে বাইরে বেরোনোর সময় সায়ানকে, 'এই টাকলু, একটু এদিকে আয় তো....' অন্যসময় হলে হয়ত সায়ান এত গায়ে মাখাতো না, কিন্তু আজ ফোর্থ পিরিয়ডের সময় রাহাত স্যার ওর কান মলে দিয়েছেন ক্লাসে কথা বলার অপরাধে। 'দেখ, আমারে টাকলু বলবি না...' 'বললে কি করবি রে টাকলু...' সায়ান তখন কিছুই না বলেই চলে আসল। কিন্তু এরপর যা ঘটল..!!! ক্লাস শেষে দেখি সায়ান হাসিমুখে বের হওয়ার একটু পরেই রাজিব মাথার চুলে হাত রেখে দৌড়ে স্যারদের রুমের দিকে গেল। আমদের আর কিছুই বুঝতে বাকি রইল না.... আজ একটু তাড়াতাড়িই বাসায় ফেরার তাগিদ অনুভব করলাম.... :|


পরিনতি.......


পরদিন স্কুলে আসার ইচ্ছা না থাকা স্বত্বেও এলাম.... ক্লাসে ঢুকেই দেখি রাজিব ন্যাড়া হয়ে বসে আছে..... দেখে মনে হচ্ছে কোন সাধুপুরুষ ভুল করে আমাদের ক্লাসে চলে এসেছে.....(আমাদের এতজন ন্যাড়া হলাম সবাইকে নাকি এক একটা জেল খাটা কয়েদির মত লাগে। কথাটা নাঈমা বলার পর বিশ্বাস না হওয়ায় আয়নায় অনেকবার দেখেছি......আসলেই লাগে...... :-* )
অবশ্য সাধুপুরুষের প্রতি মুগ্ধতা কাটতে বেশীক্ষন লাগল না....পাশ দিয়ে আসার সময় রাজিব বলল, 'কাল তো আমার চুল কাটি অনেক লাফাইছস....আজকে বুঝবি মজা....' কি জানি হল বলে ফেললাম, 'যা ব্যাটা টাকলা....বেশী কথা বলিস না....তুই কচু করবি.....' কথাটা শুনার সাথে সাথে পেছনের কয়েকজন হেসে উঠল। কিছু হয়নি এমন একটা ভাব করে পেছনের দিকে রওনা দিলাম। তাকিয়ে দেখি রাজিব অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে....(পেছনের সারির একজন তাকে এমন একটা কথা বলতে পারে এটাই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে মনে হয়.....) মনে একটু আমোদবোধ বাসা বাঁধার আগেই দেখি রিফাত স্যার, রাহাত স্যার আর আমাদের হেডস্যারও এসে ঢুকলেন.....বুঝলাম, আজ আর রক্ষা নাই.......... :(

এরপরের ঘটনা সংক্ষিপ্ত..... আমাদের বিরুদ্ধে বিশাল অভিযোগ..!!! ছাত্রদের হয়রানি (এটা কখন করলাম তা অবশ্য বুঝি নাই....) এবং ক্লাসে ভয়ংকর অস্ত্র (কাঁচি যে অতি ভয়ংকর তা এই প্রথম জানলাম.....) আনার অভিযোগে তার চেয়েও অতি ভয়ংকরভাবে রামধোলাই দেওয়া হল। আমার অবশ্য নিজের চেয়ে সায়ানের জন্য বেশী খারাপ লাগল। রাজিবের চুল কাটার অপরাধই মনে হয় স্যাররা ওর উপরই ঝালটা বেশী ঝারলেন.....(ভাবটা এমন....কত্তবড় সাহস..!!! ফার্স্টবয়ের চুলে হাত..... X(( )

এরপরও স্যারদের মনে হল, শাস্থি একটু কমই হয়েছে........(এটা অবশ্য উনাদের প্রায়ই মনে হয়......) তাই আমাদের বাসার জীবনও অতিষ্ট করার জন্য স্যাররা কিছু চিঠি-পত্র পাঠালেন এবং........


অতঃপর তাহারা......


এতকিছুর মাঝেও কিন্তু কিছু ভাল ঘটনা ঘটল। যেমন; পুরো স্কুলে আমরা মোটামোটি বিখ্যাত হয়ে গেলাম....(ব্যাপারটা কুখ্যাতও হইতে পারে....) আজকাল সবাই কেমন যেন সীমিহের চোখে দেখে।মনে হয় মাঝে মাঝে স্যারদের ধোলাই খাওয়াও খারাপ না.... এই যেমন এই ধোলাই এর কারনে কবিরের (ওকে এখন আর আমরা গ্রীলা বলি না....) সাথে ভালই খাতির জমে গেল। ওর সাথে খাতিরের জন্যই হোক আর যাই হোক রাজিব আজকাল আমাদের নাম বোর্ডে তুলে রাখে না..... :P

তবে সবচেয়ে মজার ঘটনা ঘটল তখন যখন আমরা নিজেদের মাঝ একজন মহিলা ন্যাড়াকে (ন্যাড়ার স্ত্রীলিঙ্গ জানা নাই) পেলাম..!!! আমাদের যতই টিটকারি মারুক না কেন, আমাদের দলে যোগ দেওয়ায় নাঈমার সকল অপরাধ আমরা ক্ষমা করে দিলাম....(শত হোক....ন্যাড়ত্বের মাহ্যত্ব বলে কথা..... ;) ) যদিও শেষ পর্যন্ত আমরা সিদ্ধান্তে এসেছিলাম মহিলা ন্যাড়া হওয়া খুব একটা সুখকর বিষয় না। এটা মোটামোটি ভয়ংকর একটা ব্যাপার.....কেন এসেছিলাম সেটা অবশ্য অনেক লম্বা কাহিনী......

কিন্তু আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে সায়ান আর সাদিবকে নিয়ে..... সায়ান আজকাল মিটিমিটি হাসলেই আমাদের সবার বুক দূরু দূরু করে.... না জানি কি ঘটাই বসল.... ঐ ঘটনার পর থেকে ওর এই মিটিমিটি হাসিটাও দেখি বেড়ে গেছে....(এটা ছাড়া অবশ্য গাধাটা আগের মতই গাধাই আছে। আমার তো মাঝে মাঝে মনে হয় দিন দিন আরও গাধা হচ্ছে...... B:-) )

আর সাদিব তার প্ল্যানিং এর এই অভূতপূর্ব সাফল্যে (!!!!!) উৎসাহিত হয়ে একের পর এক উদ্ভট উদ্ভট প্ল্যানিং করেই যাচ্ছে..... যদিও আমরা তেমন পাত্তা দেই না; কিন্তু ও হতাশ হয় না.... নতুন কোন আইডিয়া নিয়ে হাজির হয়। কি আর করা....উদ্ভটরা মনে হয় একটু পাগলাই হয়...... :-B





(সমাপ্ত.....)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১১:৩৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×