somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাই সেকেন্ড ম্যারেজ

১১ ই আগস্ট, ২০১৭ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

— একটা ছোট নিতে পারি?

নিবেদিতার ইশারা বারের দিকে। এবার আর ধাক্কা খেলাম না। ওকে বোধহয় বুঝতে শুরু করেছি। সবকিছুই চেখে দেখা টাইপ। ধর্মীয় কিংবা সামাজিক, কোন ধরনের গোঁড়ামিই নেই। একটু চাইল্ডিস ভাব আছে, বাট একেবারে ছেলেমানুষ না। তবে ওর ক্যারেক্টারের সবচেয়ে লাভেবল অংশ হচ্ছে ওর অনেস্টি। সেদিনের সেই ‘ভার্জিন স্টেটমেন্ট’ একটা ব্যাপার স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয়, নো ম্যাটার হোয়াট হ্যাপেনস, ও সত্য বলতে হেজিটেট করবে না। অ্যান্ড শি ইজ রেডি ফর এনি কনসিকোয়েনসেস। ডিভোর্স করলেও সে মেনে নেবে, আর রিলেশানটা কন্টিনিউ করলেও ওর আপত্তি নেই। কিন্তু সম্পর্ক কন্টিনিউ করব কি না, এই সিদ্ধান্ত এখন আমাকে নিতে হবে। এবং ভেবে চিন্তেই নিতে হবে। কারণ একবার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলে আর ফেরবার উপায় থাকবে না।
আমাদের রিলেশানের কি হবে সেব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিতে পারলেও অন্য একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেপারেশানে যদি যাইও, এটাকে কারণ হিসেবে দেখাব না। কি দেখাব, সেটা নিয়ে পরে ভাবা যাবে। আপাততঃ প্রথম কাজ সিদ্ধান্ত নেয়া।
নিজের বউ সম্পর্কে এমন একটা তথ্য জানবার পরে কোনো বাঙ্গালি নিজেকে ঠিক রাখতে পারবে? ভেতরের বাঙ্গালি মন জানতে চাইছে, এমন একটা মেয়ের সাথে সারা জীবন কাটানো পসিবল? ওদিকে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হচ্ছে, এর ব্যাকল্যাশ।
এমনিতেই একবার ডিভোর্স হয়েছে। আবার যদি হয়, তৃতীয় পাত্রী পাওয়া রীতিমত দুঃসাধ্য হয়ে যাবে। শুধু তা ই না, সমস্যা আরও একটা আছে। আগেই তো বলেছি, হাতে আর সময় নেই। সো ডিভোর্স করলে আরেকটা বিয়ে করবার এখন আর সুযোগ নেই। ওখানকার চাকরিতে লম্বা ছুটির বেশ আকাল। যেহেতু এবার নিয়েছি, তাই আগামী বছর দুয়েকের ভেতর আর এতো বড় ছুটি চাওয়া যাবে না। হয় চাকরি ছেড়ে আসতে হবে আর নয়তো ওখানেই কিছু ট্রাই করতে হবে।ওদিকে তিন বছরের একাকী জীবনে রীতিমত অতিস্ট হয়ে গেছি। একজন সঙ্গী না পেলে পাগল হতে সময় লাগবে না।
সবকিছু মিলিয়ে তাই বেশ কনফিউশানে আছি। পরিস্থিতি বলছে, এই বিয়ে কন্টিনিউ করতে। আর টিপিক্যাল বাঙ্গালি মানসিকতা বলছে, কুইট।
আপাততঃ একটা কাজই করছি। বিয়ে পরবর্তী যে কাজগুলো করবার কথা, নিয়ম মাফিক বিভিন্ন দাওয়াত টাওয়াতে যাওয়া, সেগুলো অ্যাটেন্ড করছি। ওয়াইফকে আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার জন্য যেসব অফিশিয়াল কাজকর্ম আছে, সেসবও শুরু করে দিয়েছি। আজকে সকাল থেকে ছিলাম এমব্যাসিতে। বেশ কিছু ফর্ম টর্ম ফিলআপ করার ব্যাপার ছিল। সবকিছু ঠিক থাকলে হয়তো আগামী তিনমাসের ভেতরই ভিসা হয়ে যাবে।
একটু আগে ওখান থেকেই রওয়ানা দিয়েছিলাম। রাস্তায় যথারীতি জ্যামের খপ্পরে। যখন বুঝতে পারলাম এই জ্যাম টপকে দুপুরের আগে বাড়ি ফিরতে পারছি না, তখন এই সিদ্ধান নিই। ড্রাইভারকে বললাম গাড়ি নিয়ে গুলশানে চাচার বাসায় চলে যেতে। আর আমরা রিক্সা নিয়ে অলি গলি পথে এই রেস্টুরেন্টে চলে আসলাম। বুদ্ধিটা অবশ্য আমার না, নিবেদিতার। এটা ওরই পরিচিত রেস্টুরেন্ট। সাথে বারও আছে। আর একটু আগে যে ছোট একটা চাইল, সেটা ঐ বার থেকেই অর্ডার করতে হবে। আমার নিজেরও খানিকটা ইচ্ছে করছে। সকাল থেকে সময়টা বেশ হেক্টিক গেছে। অর্ডার দিলাম। এরপরে জানতে চাইলাম
— এখানে প্রায়ই আসতে?
বেশ সাবলীল ভাবেই উত্তর দিল

— নট প্রায়, সুযোগ পেলে।

— সুযোগ মিনস

— সুযোগ মিনস সামর্থ্য। লাইক, বেতন পেয়ে…

— অ্যান্ড

— অ্যান্ড কেউ অফার করলে।

— অ্যান্ড হু আর দোজ কেউ?
নিবেদিতা চোখ তুলে তাকাল। আমার চোখের ভাষা পড়তে চাইছে। স্মিত হেসে জানতে চাইল
— ইজ দ্যাট ইম্পরট্যান্ট এনিমোর?
অর্থাৎ শি ইজ সিওর, সম্পর্ক আর রাখছি না। সো, এতো জেনে আর কি করব?
শিট। এব্যাপারটা মাথায় কেন আসেনি? শার্লক হোমস তো শুধু আমার ভেতরে নেই, নিবেদিতার ভেতরেও তো একজন আছে। সেই গোয়েন্দাও তো আমাকে অ্যানালাইজ করছে। এই মুহূর্তে আমারও তো পরীক্ষা চলছে। আমার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ আর কথা বার্তা থেকে নিবেদিতাও তো বোঝার চেষ্টা করছে, আমি কি সিদ্ধান্ত নিব। যদিও মুখে বলেছিলাম, ‘ইটস ওকে’ বাট আমার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলে দিয়েছে, সেই ‘ভারর্জিটি স্টেটমেন্ট’ আমাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
ভেবেছিলাম, আমি অ্যাক্টিং বেশ ভালোই করছি। কিন্তু এখন বুঝলাম, তা না। এই প্রশ্ন আরও স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছি, ওর অতীত আমাকে ভোগাচ্ছে। হু ইজ দ্যাট গাই। প্রশ্নটা করে ভুল করে ফেলেছি। যেভাবে গল্প চলছিল, একটু পরে হয়তো ও নিজেই বলতো, বাট আমার প্রশ্ন ব্যাপারটাকে একটু কমপ্লিকেটেড করে দিল। সামাল দেয়ার চেষ্টা করলাম। বললাম
— আই ডিডন্ট মিন দ্যাট। জাস্ট জানতে চাওয়া।

নিবেদিতার চেহারা ঠিক স্বাভাবিক হল না। কথাটা বিশ্বাস করল বলেও মনে হল না। কিছুটা চিন্তিত মুখে গ্লাসে চুমুক দিল। আমি নিজেও কথা খুঁজছি। কিছু একটা বলে সিচুয়েশান স্বাভাবিক করা দরকার। আরেক পেগের অফার করব?

— একটা কথা বলব?

পরিস্থিতি সিরিয়াস হতে যাচ্ছে। আটকানো দরকার। আর মাত্র তিনদিন আছি বাংলাদেশে। কি দরকার এই কটা দিনে সিচুয়েশান আরও ডিটোরিওরেট করার। বললাম

— আলাপটা বাসায় গিয়ে করি?

নিবেদিতা স্মিত হাসল। হাসিটা ম্লান হলেও সেটায় একটা মিষ্টি ভাব ছিল। হাসিটার মানে 'হ্যাঁ' ও হতে পারে আবার 'না' ও। উত্তর কিছু একটা বললে তখন বুঝতে পারব। সেটা শোনার জন্য ওর দিকে যে তাকিয়ে আছি। বেশ সুন্দর লাগছে ওকে। চোখ ফেরাতে পারছি না? অবশেষে ঠোঁট নড়ে উঠল। বেশ সুন্দর করে চোখে চোখ রেখে বলল

— উই আর রানিং আউট অফ টাইম।

না মিসেস শার্লক হোমস, ইউ আর রং। আমি যে কিছু সিদ্ধান্ত জানাইনি, তার কারণ, আমি সিদ্ধান্ত এখনও নিইনি। আমার মনের ভেতর এখনও ঝড় চলছে। তবে এই তাগাদায়, একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে দিল, শি ইজ ওয়েটিং টু হিয়ার দ্যা ডিশিশান। ডিভোর্স যদি করিই, সেটা যেন জানিয়ে দিই।
প্রশ্নগুলো আবার কিলবিল শুরু করল। যদি ডিভোর্স করি, সেটা কখন? এখন? না আমেরিকা গিয়ে? আর যদি না করি, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কতদিন টিকবে এই বিয়ে?
আরও একটা ব্যাপার আছে। টপিকটা এমনই যে কারো সাথে এটা নিয়ে ডিসকাস করতে পারছি না। বাবা মাকে যে ইনভলভ করব না, সে সিদ্ধান্ত তো আগেই নিয়েছি। ফ্রেন্ডদের সাথেও এনিয়ে আলাপ করতে রুচিতে বাধছে। এমন সময় নিবেদিতা ওর একটা হাত আমার হাতের ওপর রাখল। চোখের ইশারায় বোঝাল, ‘কাম ডাউন’। প্রথমবারের মত মনে হল, ওর কাছে সব খুলে বলা যায়। নিজের অজান্তেই মন খুলে কথা বলা শুরু করলাম

— তুমি আমার সম্পর্কে কতটা জানো?

চলবে
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৭ রাত ১২:৫৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×