somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফায়েজুর রহমান সৈকত
কোন এক সময় লেখালেখি শুরু করবো। এখন যা লিখছি তা সেই সময়ের জন্যে প্রস্তুতি আসলে। আর লেখার জন্যে নতুন নতুন তথ্য যোগাড় করছি আপাতত।

রেগ কাহিনী

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজের কাহিনী কই। তখন সদ্য সিনিয়র হয়েছি। একরাতে দল বাইন্ধা ক্যাম্পাসে ঘুরতেছি এমন সময় রেগ দেওনের দাওয়াত পাইলাম। রেগ কী এইসব আমি শিখছি ভর্তি পরীক্ষা দেওনের কালে। পরীক্ষা দেওনের আগের রাতে চাটগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন এক হলে যেন উঠছিলাম। সেইখানে চারিপাশে শুধু একটা গুঞ্জনই আমারে ডর দেখাইছিল। সেইটা হইল রেগ। এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু তার লজ্জাকর অভিজ্ঞতা কইল, তারে নাকি উদাম কইরা নাচাইছিল। সে আমারে এই কথা কয় আর হাসে। আমি কইলাম, হাসস ক্যা? সে কয়, উদাম করাইয়া নাকি তারে হাসতে কইছিল! আমি ভাবি উদাম করাইয়া হাসাইলে কী হয়?

যাই হোক, দাওয়াত পাইয়া আমিও রেগ দিতে গেলাম। গিয়া দেখি চাইর পাঁচটা নতুন ভর্তি হওয়া পোলারে ডাকায়া টিলার পিছে নিয়া আসা হইছে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে টিলা খুব সেফ জায়গা। তাই যেকোন কিছু হইলেই আমরা টিলায় চলে যাইতাম। তারপর কে কারে রেগ দিমু তার সিলেকশন হইল। আমি স্বাস্থ্যবান দেখে একটা পোলারে রেগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলাম। তারে আমার আন্ডারে দেওয়া হইল। আমি রেগ দেওনের প্রস্তুতি নিলাম। প্রথমেই আমি তার নাম ঠিকানা ভাই বইনের কথা জিগাইলাম। সে কাচুমাচু হইয়া উত্তর দিল। পরিবারের কথা জিজ্ঞাস কইরা তারপরে কী জিগাইতে হইব আমি ভুলে গেলাম। আসলে আমি আগে কখনো রেগ দিই নাই এমনকি দেখিও নাই তো তাই কী জিগামু। কিন্তু এইটা তো আর তারে বুঝান যাইব না তাই আমি এমন একটা হাসি দিলাম যেন সে বুঝতে পারে তারে আমি আরো কঠিন কিছু জিগামু।

তখন পানু সিনেমার কথা জিগানি একটা বহুল প্রচলিত রেগ ছিল। আমি সেইটা জানতাম কিন্তু নতুন বলে ভুলে গেছিলাম। পাশ থেকে আমার এক সহরেগী আইসা তারে গার্লফ্রেন্ড আছে কিনা জিগাইল। সে জানাইল আছে। আমি বুঝতে পারলাম এখন বিব্রতকর প্রশ্ন আসবে। তাই হলো। সহরেগী তারে পানু দেখে কিনা জিগাইল। এই কথা শুনে আমি নিজেই শরম পায়া গেলাম কিন্তু তারে ত বুঝতে দেওন যাইব না তাই মুচকি হাসলাম। বিবাহে কবুল কইবার আগে পাত্রী যেভাবে চুপচাপ থাকে সেও তেমন চুপচাপ থাকলো। কিন্তু একসময় পাত্রীকে যেহেতু কবুল করতেই হয় তাই তাকেও কবুল করতে হলো।

তারপরে আমি তারে গান গাইতে কইলাম। সে গাইলো। তারে নাচতে কইলাম। সে নেচেও দেখাইলো। যদিও আগে কখনো সে নাচে নাই বুঝতে পারলাম হিহিহি। আমার রেগ দেওন শেষ দিকে ছিল। কিন্তু হঠাৎ কইরা এক সহরেগী আইসা চিত্রপট পাল্টাই দিল। সে রেগকৃত পোলাটারে উপর্যুপরি ধমকাইতে লাগলো। মহররমে যেমন রক্ত না ঝরাইলে তা পূর্ণ হয় না, রেগেও যেন মানসিক কিম্বা শারীরিক আঘাত না দিলে পূর্ণ হয়না। আঘাত না পাইলে যেন নবীনরা ডরায় না। যেন নবীনদের ডর দেখাইতেই হইব।

না তেমন সিরিয়াস কিছু হয় নাই কিন্তু পোলাটারে এমন সব উদ্ভট প্রশ্ন আর শারীরিক কসরত দেখাইতে হইছিল যে সে একসময় ডরাই গেল। এইটাই হয়ত মানসিক নির্যাতন ছিল। এক সময় পোলাটা কাইন্দা দিল। আমি অপ্রস্তুত হইয়া গেলাম। নিজেরে এত ছোট মনে হইল যে তাড়াতাড়ি তারে জড়ায়ে ধরলাম। তারে অভয় দিয়া কইলাম কান্দিস না ভাই। সে চুপ হইল।

সে রাতের পরে আমার এত অনুতাপ লাগলো যে আর রেগের নাম নিলাম না। জীবনের প্রথম রেগরে শেষ রেগ বানায়ে মাটিচাপা দিলাম। তারপরে ছেলেটারে দেখলেই আমার লজ্জা লাগতো। তক্ষুণি সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছিল, সে হাসছিলও কিন্তু আমি একটা অনুতাপ বয়ে বেড়াতে থাকলাম। আজ চার বছর শেষ। ছেলেটার সাথে আর কখনো কথা হয়নি । তবে মনে মনে আমি তার খোঁজ রেখেছি। অনেকদিন সে তাবলীগের সাথে জড়িত ছিল। আজকাল দেখি পাঞ্জাবী আর দাড়ি ছেড়ে প্যান্ট শার্ট পরা শুরু করেছে, হিহিহি। কিছুদিন পরে সে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে বের হয়ে যাবে। তার সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

(৩১/১০/২০১৬)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১০:৫৯
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ন্যায়ের আন্দোলন হোক নিয়মতান্ত্রিক ভাবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের সাথে ভুয়া আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে অরাজকতা প্রিয় অ ছাত্রদের বিরাট একটা অংশ অশ্লীল ভাষায় অশোভন উক্তি করে চলছে। একশ্রেণীর মেয়েরা এহেন অশ্লীল নোংরামির হোতা-... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাজারের আগুন নিভবে পে-স্কেলে, প্রবৃদ্ধি ছুঁয়ে যাবে দশ শতাংশ ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৮


কেরামত মওলা সাহেবকে চেনেন না এমন মানুষ সচিবালয়ে কমই আছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদের একজন সিনিয়র সচিব। আজ নতুন পে স্কেল নিয়ে গঠিত সচিবদের কমিটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×