গত ছয় বছর ধরে ইকোপার্ককে ঘিরে তিলে তিলে আমার যে একটা প্রচণ্ড আবেগ গড়ে উঠেছিল সেটি না বলে না কয়ে হঠাৎ করে অতীতের মাঝে মিলিয়ে গেছে। এখন থেকে সেখানে পাখির ডাক শোনার জন্যে আর যাবো না। যখন তখন গিয়ে আর নির্জনতার ছবি তুলবো না। রাহিম এলে দুই ভাইয়ে মিলে গল্প করতে করতে আর ভেতরে গিয়ে বসবো না। ইকোপার্কের ভিতরে একটা শর্ট ফিল্মের শুটিং যে শুরু করেছিলাম সেটি আর শেষ করবো না। আর কাউকে সিলেটের ইকোপার্কে এসে বেড়িয়ে যাবার জন্যে নিমন্ত্রণও জানাবো না।
কিছুদিন আগে মায়ার ইকোপার্কটিকে মানুষেরা দখল করে বিনোদন কেন্দ্র বানিয়েছে। তার উপকরণ হিসেবে খাঁচায় বন্দী করে কিছু বুনো প্রাণী এনেও ছেড়েছে তারা। ইকোপার্কের সামনে আর পেছনের গেইটে গার্ড বসিয়েছে। টিকিট কেটে নাকি পার্কে ঢুকতে হবে। এই খবর টিভি আর পত্রিকায় ছড়িয়েও দেওয়া হয়েছে। খাঁচায় বন্দী পশু দেখার জন্যে হাজার হাজার মানুষ ইকোপার্কে আসতেছে। গত ছয় বছর ধরে আমার একাকীত্বরে সঙ্গ দিয়ে আসা চিরপরিচিত নির্জন যৌবনা ইকোপার্কটি হঠাৎ করে অচেনা বুড়ো হয়ে গিয়েছে। আমাদের হয়ত সেভাবে আর নির্জনে আলাপ হবে না কোনদিন। অচেনা ইকোপার্কে যেতে ইচ্ছে করছে না আর। প্রিয় কোন কিছু হঠাৎ অচেনা আচরণ করলে তার সাথে বিচ্ছেদ করাই উচিত হয়ত। এই পার্ককে ঘিরে আমার যে ভাল লাগা গুলো ছিল তা সুখস্মৃতি হিসেবে বুক পকেটে যত্ন করে রেখে দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



