somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্ঞানের পাঠ-একটি জর্জিয়ান রুপকথা

০৩ রা অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শীত কাল,অনবরত বরফ পড়ছে । কখনো পেঁজা তুলোর মত ,কখনো কুচি কুচি,কখনো তারার মত খাঁচকাটা। এর মধ্যে বাইরে বেরিয়ে শিকার ধরা মহা ঝামেলা! তাছাড়া শিকার পাওয়াও মুশকিল ।
বন টা ছোট;এখানে হিংস্র প্রানী বলতে ওরা তিনজন,প্রথম জন বিশাল দেহী এক বুড়ো ভল্লূক,অন্য দু’জন নিজ নিজ দল থেকে বিতাড়িত একটা নেকড়ে ও শেয়াল । এরা সবাই বয়স ভারে ক্লান্ত । শিকার ধরার মত গায়ের জোড় বা আগের সেই ক্ষিপ্রতা এখন আর নেই । এভাবে আর কিছুদিন চললে নির্ঘাৎ মারা পড়বে সবাই । ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে অবশেষে একদিন বুড়ো ভল্লূক সবাইকে তার গুহায় ডেকে বলল,
-আর যে পারি না ভাই,ক্ষুধার জ্বালায় নাড়ি ভুড়ি হজম হওয়ার জোগার হল! এভাবেতো চলতে পারেনা,একটা কিছুতো করতে হবে নাকি?
তার কথায় নেকড়ে আর শিয়ালও সায় দিল।’ উপায় নেই তাদের যে একই দশা। তারা সবকিছূর ভার ভল্লূকের উপর ছেড়ে দিয়ে বলল,-কি করা যায়? আপনি মুরুব্বি আপনিই বলুন?
তাকে এতটা গুরুত্ব দেয়ায় ভল্লূক বেশ খুশি হয়েই বলল,
-আমাদের মধ্যে আজ থেকে আর কোন রেষারেষি থাকবে না। এখন থেকে আমরা সবাই আপন ভায়ের মত। আমরা একসাথে শিকার খুজব আর শিকার খুজে পেলে সবাই মিলে ভাগ করে খাব। কি রাজি তোমরা?
শিয়াল আর নেকড়ে সম্মিলিত কন্ঠে বলল‘ জ্বী মহারাজ রাজী।
-‘তাহলে আস আমরা প্রতিজ্ঞা করি।’
প্রতিজ্ঞা শেষে তিনজনে মিলে বের হল শিকার করতে। ভাগ্য সুপ্রসন্নই বলতে হবে। কিছুদুর যেতেই তাদের সামনে এসে আছড়ে পড়ল তীরবিদ্ধ এক আহত হরিন।
ওরা তিন ভাইতো (!)মহাখুশি,এত সহজেই যে শিকার মিলবে তা তারা সপ্নেও ভাবেনি!
হরিনটাকে খুন করে তিনজনে মিলে টেনে নিয়ে এল বুড়ো ভল্লুকের গুহায়। এবার ওরা সবাই মিটিং এ বসল,লুটের মাল ভাগ করার জন্য।
বুড়ো ভল্লূক,দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
-আমার মনে হয় নেকড়েকেই ভাগ করতে দেয়া উচিত। ওই সঠিক ভাগ করবে।’
শিয়াল সম্মতি দিলে সে নেকড়েকে ডেকে বলল ,
-আসো দেখি তুমি হরিনটা ভাগ কর আমাদের তিনজনের মধ্যে।
নেকড়ে এমন একটা গুরু দায়িত্ব পেয়ে বেশ উৎফুল্ল­ হয়ে বলল,
-বেশ করছি তাহলে - তোমরা যখন বলছ,‘মাথাটা পাবে তুমি মহারাজ,কেননা তুমি আমাদের সবার মুরুব্বি আর জ্ঞানী । দেহটা আমার আর ঠ্যাংগুলো পাবে পিচ্চি শেয়াল।’
তার কথা শেষ হওয়ার আগেই বুড়ো ভল্লুক এমন ভীষণ জোড়ে এক লাথি কষাল যে বিকট চিৎকার দিয়ে নেকড়ে গিয়ে আছড়ে গুহার শক্ত পাথুরে দেয়ালে।
ভয়ঙ্কর ক্রুর দৃষ্টি নিয়ে এবার সে তাকাল শিয়ালের দিকে , এবার তুমি ভাগ কর দেখি ।
চতুর শেয়াল ধীরে ধীরে দাড়িয়ে বেশ ভয়ে ভয়ে তোষামদের স্বরে বলল,
‘নেকড়ে ঠিকই বলেছিল,এই হরিনটার মাথা তুমিই পাবে,কেননা তুমি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক আর বুদ্ধিমান। হরিনের পুরো দেহটাও তোমাকে দেয়া উচিত কেননা তুমি আমাদের দেখভাল করছ ঠিক বাবার মত করে। ঠ্যাং গুলোও তোমারই যাবে ; কেননা সব সময় তুমিই শুধু চেষ্টা করেছ আমাদের জন্য কিছু একটা করতে তাই এটা আমাদের তরফ থেকে উপহার বা প্রতিদান।
‘তুম দেখি সাংঘাতিক বুদ্ধিমান হে শেয়াল।’ বুড়ো ভল্লূক হেসে বলল।
‘এমন করে বুদ্ধিমত্তার সাথে হরিন ভাগ করা তুমি শিখলে কোত্থেকে?’
শিয়াল বেশ বিনয়ের সাথে বলল,
‘মহরাজ,তোমার কাছ থেকে। আমাকে দু’বার চোখে আঙ্গুল দিয়ে শিখিয়ে দিতে হয়না। নেকড়ের ভুলের শাস্তিতো আমি চোখের সামনেই দেখলাম।’

অনুবাদ ও রুপান্তরঃ শেরজা তপন
আগের রুপকথা গুলোঃ
নেকড়ে,কুকুর আর বেড়াল-(একটি ইউক্রাইনান মজার রূপকথা) Click This Link
কে সবচেয়ে বড় ছিল ? (একটি কিরিগিজ রুপকথা) Click This Link
লোভী কাজী – একটি তাজিক রুপকথা Click This Link

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৬
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×