somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফুলেল শুভেচ্ছা দেয়ার বদলে দুআর অনুষ্ঠান করা উচিৎ

৩১ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি গতবার পাথুরে স্তম্ভে ফুল দেয়া নিয়ে পোষ্টানোর পর, সচরাচর 'মুক্তমনা'রা যা করেন, 'এইসব ব্ল্লগারদের মনমানসিকতা' নিয়ে আলোচনা শুরু হয় আর হাসি-জোকস বলা চলতে থাকে। আমার (অন্য সবার ক্ষেত্রেও তাই হয়) মুল বিষয়ের যুক্তির খন্ডন, যেহেতু নেই, তাই আমার বয়স কত, 71 সালে আমি জন্মেছিলাম কিনা, সাধারনত 'আমরা' কি করি তা লেখালেখি হয়, সেটা হাস্যোদ্দিপক বটে।

আমার কথাগুলোকে তাই আবার গুছিয়ে বলছি। কোন একটি কাজ, যা আমরা স্বেচছায় করছি, তা করার আগে এর কারন জানা আমাদের প্রয়োজন। কোন কিছু 'আবহমান' কাল থেকেই হচ্ছে মানেই এই নয় যে তা আমাদের কনটিনিউ করতে হবে। আমরা যদি যুক্তি দিয়ে বুঝতে পারি যে দীর্ঘদিন যা করা হচিছল তা মূর্খতা, তাহলে আমাদের তাৎনিক তা বন্ধ করা উচিৎ।

আমরা জাতীয় দিবসগুলোতে বিভিন্ন কনক্রিটের স্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু দেখা যায়, ঢা.বি. তে শহীদ মিনার ছাড়া অন্য কোন স্থানের কোন ঐতিহাসিক মূল্যও নেই। সাভারের স্মৃতিসেীধটি শুধূ ফুল দেয়ার জন্যই বানানো হয়েছে, এতে শহীদের কবর রয়েছে বা সেরকম কিছুও না। দেশের বিভিন্ন কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে।

আমরা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরন করতে চাই, তা তো নিজে নিজেই করা যেতে পারে, তার জন্য ইটপাথর দিয়ে স্তম্ভ বানিয়ে তাতে ফুল দিতে হবে এটা এক অদ্ভুত কথা। এই ফুল দেয়ার মাধ্যমে কি শহীদ পরিবারের, তাদের সমপত্তির , শহীদি চেতনার এক আনাও লাভ হচ্ছে? তাতে কি আমাদের সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা হচেছ?

এই ফুল দেয়ার পুরো ব্যাপারটি মিডিয়ার কভারেজ পাওয়ার প্রানানত প্রচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। কতগুলো মুখচেনা দল-সংগঠন প্রতি বছরই ফুল দিতে গিয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়ে অপো করে, আর পত্রিকায় তাদরে নাম লিষ্ট ধরে ছাপানো হয়। ঢাকা শহরের এক পার্সেন্ট লোকও যদি শহীদ মিনারে ফুল দিতে যেত, তবে ক্যামপাসে হাটার জায়গা থাকত না। এই পুষ্পস্তবক অর্পনের প্রথাটি এসেছে হিন্দু ধর্ম থেকে, যেখানে চিতা পোড়ানোর সময় তার ওপর ফুলের মালা দেয়া হয়। হিন্দু ধর্মের প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই, আমি শুধু বলছি এটি যে তাদের নিজেস্ব সংস্কৃতি।

ইসলামের ইতিহাসে বহু যুদ্ধ বিগ্রহে বহুজন শহীদ হয়েছেন, কই হাদিসে তো কখনো এভাবে প্রয়াত দের মনে করতে দেখা যায় না। ইসলামের মতে বিগত মানুষদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিৎ। 'রাবি্বর হাম হুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগীর' বলে নিজের বাবা-মার জন্য দুআ করা যায়, দুআার বইগুলোতে আরও অনেক সুন্দর দুআ আছে, বাংলায় আমরা ইচছা মত দুআ করতে পারি।

'মুসলমানদের বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসরন করা উচিৎ নয়' এরকম স্পষ্ট হাদিস আছে। তাই আমরা জাতিয় দিবস গুলোতে দুআ মাহফিলের আয়োজন করতে পারি। ব্যক্তিগত ভাবে সালাতের পর বা সিজদার সময়ও দুআ করা যায়। এছাড়া জাতিয় ভাবে সেমিনার, আলোচনা সভা, বই প্রকাশনি, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দান্তএসব কাজ যেগুলোতে নতুন কিছু অর্জন হয় সেসবের মাধ্যমে 21শে ফেব্রুয়ারি বা 26শে মার্চ পালন করা উচিৎ। শহীদ মিনারের স্থানটি, যেহেতু স্মৃতিবিজরিত, তাই সরকার একটা জাদুঘর বানাতে পারে। শহীদদের স্মৃতি আমাদের চিরনতন প্রেরনা।

শুধু কংক্রীটের সতম্ভে ফুল দিয়ে কাজ শেষ করার মাধ্যমে আমরা একে লোকদেখানো ও নোংরা রাজনীতিতে আবদ্ধ করে ফেলেছি। আমরা বাংলাদেশী, কিনতু মুসলমানদের প্রথম পরিচয় তারা মুসলমান। ইসলামের বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক সব কিছুই পরিত্যাজ্য, তা আমার যত নিকটবর্তি হোক না কেন। কোন পাথরের স্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা দিলে তা প্রথমে সেই স্তম্ভে দেয়া হয় যা, মুর্তিপূজার কাছাকাছি। অনেক জায়গায় তো শহীদদের মুর্তিও বানানো হয়েছে, কিন্তু ইসলামে মানুষের মূর্তি ও চিত্রাংকন নাজায়েজ। আল্লাহ হাশরের মাঠে যারা মানুষের ছবি আকে তাদের বলবেন তোমরা যা একেছ (বা বানিয়েছ) তাতে প্রান সঞ্চার কর।


এই সন্দেহজনক গুনাহ থেকে বিরত না থাকলেই কি নয়?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×