somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তবে হিজাব পড়াই কি ওদের অপরাধ

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রী তনয় জয় যুক্তরাষ্ট্রের এক ম্যাগাজিনে লিখেছিলেন, বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ৪০০ গুণ বোরকার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। যা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগ্নের।” বিদেশী একজন ব্যাক্তির সাথে তার যৌথ প্রবন্ধ নিয়ে সেই সময় অনেক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। আসলে ইসলামের ব্যাপারে এটাই ছিল আওয়ামীলীগের আসল রূপ। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আওয়ামীলীগ সব প্রতিশ্রƒতিই দিতে পারে। মজার ব্যাপার হচ্ছে আওয়ামীলীগ অনেক দলের বিরুদ্ধে ধর্মনিয়ে রাজনীতির করার অভিযোগ করলেও, ধর্মনিয়ে রাজনীতি সবচেয়ে বেশী আওয়ামীলীগ-ই করছে। এটাই আওয়ামীলীগের স্বভাব। তার প্রমান নির্বাচনের সময় আমাদের প্রধানমন্ত্রী মাথায় হিজাব, হাতে তসবিহ ্আর কাবায় মুনাজাতরত ছবি ছাপিয়ে ভোটারদের মনজয় করতে যা করেছেন তা কি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নয় কি? নির্বাচনের পাক্কালে মরহুম আল্লামা আজিজুল হকের সাথে চুক্তি কি ধর্ম নিয়ে রাজনীতির মধ্যে পড়ে কি? প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গোলাম আযমের সমর্থন চাওয়া আর জামায়াত কে নিয়ে-৯৬ সালে কেয়ারটেকার আন্দোলন করা যেমনি যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সম্পর্কের কোন মাপকাঠি বলা যায়না। এক সময়ের সেই মিত্রদের নিষিদ্ধ করতে এখন আবার গৃহপালিত বামদের প্রযোজনা আর পুলিশী হরতাল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ তার রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমান করলো কি? তেমনি একসময়ের বিশ্ববেহায়া, সামরিক শাসক স্বৈরাচার এরশাদের সাথে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক জোট ও মিত্রতা তাদের গনতান্ত্রিকতার পথে কোন বাধা নয়। এমনি এক দ্বৈতনীতি সম্পন্ন দলের নাম আওয়ামীলীগ। যারা ক্ষমতায় যাওয়া আর ক্ষমতায় থাকার জন্য সবই করতে পারে।

বাংলাদেশে ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতিহারে কুরআন-হাদিস বিরোধি কোন আইন পাস না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়মী লীগ। কিন্তু কেন এবার নির্বাচনী ইসতিহারে আওয়ামীলীগকে এমন কথা লিখতে হলো? তার কারণ আওয়ামীলীগ ৯৬-২০০১ পর্যন্ত এদেশের আলেম-ওলামা, মসজিদ মাদ্রাসা, বোরকা,দাড়ি-টুপি এবং মুসলমানদের ধর্মীয় অনূভুতিতে আঘাত হানার মত হেন কাজ নেই যা আওয়ামীলীগ করেনি।
কিন্তু এবার ক্ষমতায় এসেই সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম উঠিয়ে দেয়ার জন্য চক্রান্ত শুরু করে আওয়ামীলীগ। অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ার নামে সংবিধান থেকে বিসসিল্লাহ উঠিয়ে দেয়া, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের জন্য জোর প্রচার প্রচারনা চালায়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করার মাধ্যমে সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়ে যুক্ত করা হয় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ। আর দেশ কে একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র প্রমান করতে সরকার আলেম-ওলামা, মসজিদের ইমাম,মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক,বোরকা পরা পরহেজগার মহিলাদের উপর চালায় অমানবিক দমন-নিপিড়ন। এর মাধ্যমে সরকারের আসল চেহারাই ফুটে উঠেছে।
মুলত আওয়ামীলীগ সরকারের সকল কর্তা ব্যক্তিরা বোরকা বিরোধী অভিযান নেমেছে অনেক আগ থেকেই। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয় এর উদ্ভেগের সাথে বোরকা বিরোধী এই অপারেশনে সরাসরি মাঠে আছে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা। বোরকার প্রতি অনীহা প্রকাশ করে বর্তমান সরকারের ডেপুটি স্পিকার বললেন- ”কুৎসিত চেহারা ঢাকতেই মহিলারা বোরকা পরে। বর্তমানে বোরকার অধিক ব্যবহারে তিনি কষ্ট পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন। আওয়ামী ঘরানার কলামিষ্ট হিসেবে সুপরিচিত ড. জাফর ইকবাল তার এক কলামে বোরকাকে নারীদের বন্দীশালা উল্লেখ করে লিখেন “মেয়েদের ঘরের ভিতর আটকে রাখতে পারলে সবচেয়ে ভাল। একান্তই যদি ঘরের ভেতর আটকে রাখা না যায় অন্তত বোরকার ভেতর আটকে রাখা যাক”। এছাড়াও পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ নিজেই বোরকা বিরোধী আন্দোলনের ডাক দেন। সরকারের সেই কমূসূচীর অংশহিসেবে এবার বোরখা পরা ছাত্রীদের আটক অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

সরকারের বোরকা বিরোধী অভিযানের কয়েকটি -
১-গত ১৭ ডিসেম্ভর-২০১২ সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০ শিক্ষার্থীসহ ২১ জনকে পুলিশ আটক করেছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রীও রয়েছেন। বাকি ২০ শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সদস্য। তবে কি অপরাধে তাদের আটক করা হয়েছে এ বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেনি।
রমনা মডেল থানার ওসি শাহআলম জানান, ”গতকাল বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ ছাত্রী সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয় বড় মগবাজার ৪৯৩ নম্বর গ্রিনভ্যালি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালায়। সেখান থেকে কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ার জাহান (৫৫) সহ ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ ইসলামিক বই, কোরআন শরীফ ও চারটি কম্পিউটার জব্দ করেছে পুলিশ”। পত্রিকার রিপোট অনুযাযী-পুলিশ যখন ওই অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকে তখন জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার স্ত্রী সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিলেন। পুলিশ প্রথমে তাকে আটক করে। তাকে নিয়ে পুলিশ ভবনের দোতলায় ছাত্রীসংস্থার মেসে প্রবেশ করে। পুলিশের এই অভিযানে কোনো মহিলা পুলিশ ছিল না। এ সময় পুলিশ কাউকে ওই ফ্যাটে প্রবেশ করতে দেয়নি। এমনকি সাংবাদিকেরাও চেষ্টা করে সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি। পুলিশ ওই ফ্যাটের প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালায় এবং মালামাল তছনছ করে। সেখান থেকে কিছু বইপত্র ও কম্পিউটার জব্দ করে পুলিশ। পুলিশ ছাত্রীসংস্থার নেতাকর্মীদের মোবাইল ফোন জব্দ করে। বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত কোনো মহিলা পুলিশ ছাড়াই ছাত্রীসংস্থার মেসে অভিযান চালায় পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ছাত্রীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বলে জানা যায়। (নয়া দিগন্ত-১৮-১২-১২) এক বিবৃতিতে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কেন্দ্রীয় সভানেত্রী জান্নাতুল কারীম সুইটী মগবাজারের ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাসির নামে অফিসের তালা ভেঙে ভাঙচুর, নিরীহ ছাত্রীদের হয়রানি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা সুলতানাসহ ১৯ জন মেধাবী ছাত্রীসহ ২১ জনকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে মহিলা পুলিশের সহায়তা নেয়া হয়নি। সরকার পরিকল্পিতভাবে ইসলামী ছাত্রীসংস্থার পর্দানসীন ছাত্রীদের হেনস্তা ও নাজেহাল করার জন্যই এ ঘটনা ঘটিয়েছে, যা সরকারের ফ্যাসিবাদী ও বাকশালী মানসিকতার পরিচয় বহন করে। কিন্তু সরকার জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে শেষ রক্ষা করতে পারবে না। তিনি অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত ছাত্রীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। (প্রেসবিজ্ঞপ্তি)

২-গত ২৭ নভেম্বর দিবাগত রাত ৩টায় বিনা কারনে "শেরপুর পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারী আয়শা আক্তারকে তার বাসা থেকে পুলিশের গ্রেফতার করে। পর্দানসীন একজন মহিলা নেত্রীকে গভীররাতে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে সরকার তার উপর জুলুম করেছে। এই সরকারের জুলুম থেকে আজ ও রেহায় পাচ্ছে পর্দানসীন পরহেজগার মহিলারাও। সরকারের এ ধরনের জুলুম অন্যায়, অনাকাংখিত ও দুঃখজনক।

৩-গত ২৩-মে ২০১২ ”ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে তল্লাশি করে বিভিন্ন বিভাগের নয় মেধাবী ছাত্রীকে আটক করেছে ছাত্রলীগ ও প্রশাসন। হলের মাঠ, রুমে রুমে তল্লাশি চালিয়ে গতরাত পৌনে দশটার দিকে তাদের আটক করা হয়। তাদের আটকের পর তথ্য-প্রমাণ খুঁজতে রাত ১২টা পর্যন্ত রুমে রুমে এ তল্লাশি চলে। আটককৃতরা বিভিন্ন ইসলামী ও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছে প্রশাসন ও ছাত্রলীগ। তাছাড়া আটককৃতদের সম্পর্কে ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ছাত্রলীগ দাবি করেছে, আটককৃতরা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কর্মী। প্রক্টর বলেছেন, তারা কোনো অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত কিনা খতিয়ে দেখছি। আর ভিসি বলেছেন, হরকাতুল জিহাদের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা তথ্য প্রমাণ রাত ১টা পর্যন্ত পায়নি প্রশাসন। আমরা যদি ধরেও নেই আটককৃতরা ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কর্মী। তাহলে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা কি কোন নিষিদ্ধ সংগঠন? আইনগত অধিকার হলো সেই স্বার্থ যা আইনের নীতি সমূহ দ্বারা স্বীকৃত ও সংরক্ষিত। ঢাবি প্রশাসন কি এই অধিকার স্বীকার করেন কি?
৪-গত ২রা জুলাই-১২- চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের ছাত্রীরা হিজাব পরতে দেয়ার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে । হিজাব পরা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষিকাদের নির্যাতনের পর থেকে তারা আন্দোলনে নেমেছে। এদিকে ছাত্রীদের নামাজ পড়তে বাধা দেয়াসহ কর্তৃপক্ষ গতকাল নামাজকক্ষ তালাবদ্ধ করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্রেস কোডের বাইরে তাদের কিছুই করার নেই। যদিও সরেজমিন দেখা গেছে, হিজাব ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে ড্রেস কোড মানা হচ্ছে না। কলেজে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক ছাত্রী হিজাব পরে কলেজ হোস্টেলের সামনে অবস্থান নেয়। উপস্থিত ভীতসনন্ত্র ছাত্রীরা সাংবাদিকদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছাত্রীরা তাদের ওপর চলমান বিভিন্ন নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তারা অভিযোগ করেন, হিজাব এবং নামাজ পড়ার কারণে তাদের ক্লাস, পরীক্ষা এবং ওয়ার্ডে ডিউটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাধা দেয়া হচ্ছে। ছাত্রীদের দাবি, মুসলমান হিসেবে তাদের হিজাব পরার অধিকার রয়েছে, কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের হিজাব পরতে দিচ্ছে না। নামাজ পড়া নিয়েও কর্তৃপক্ষ ঝামেলা করছে। তারা জানান, গতকাল সকালে অধ্যক্ষের নেতৃত্বে কয়েক জন শিক্ষিকা তাদের নামাজঘর তালাবদ্ধ করে রাখে। এ সময় শিক্ষিকারা সেখানে রাখা বিভিন্ন ধর্মীয় বই, হিজাব পরা ও নামাজ পড়া নিয়ে কটূক্তি করেন। অঞ্জলী দেবী নামে এক শিক্ষিকা জুতা পরা অবস্থায় নামাজঘরে প্রবেশ করে তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘নামাজঘরে জুতা নিয়ে ঢুকেছি, কই আল্লাহ আমাকে কী করেছে?’ ছাত্রীরা আরও অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ তাদের বলেছেন নার্সিং করলে নামাজ পড়তে হয় না। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ফোন করে তাদের সন্তানদের বহিষ্কারের হুমকি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে অনেক অভিভাবক তাদের মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকটা বাধ্য হয়ে হিজাব ছাড়া ক্লাস করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজের নোটিশ বোর্ডে, নীতিমালা অনুযায়ী হিজাব পরা ছাত্রীদের ক্লাস এবং ওয়ার্ড ডিউটি থেকে একরকম নিষিদ্ধ করেছে। হিজাব পরা ছাত্রীদের ক্লাস এবং পরীক্ষা হল থেকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শীর্ষ আলেমরা ইসলামের ফরজ বিধান হিজাব তথা বোরকা পরতে বাধাদানকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন হিজাব পরতে বাধা দেয়া সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। (আমার দেশ-০৩-১২-১২)

৫- বাদ যায়নি বিদেশী পর্যটকও। গত ১ লা অক্টোবর ২০১০ সাইপ্রাসের এক পর্যটক নারী জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ছবি তুলতে গেলে তাকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
৬- গত ৩ জুলাই ২০০৯ সালে বোরকা পরার অপরাধে বরিশালের পিরোজপুরের তিন ছাত্রীকে নির্যাতনের পর পুলিশের হাতে তুলে দেয় ছাত্রলীগ। তাদের কাছে অবৈধ কোন কিছু না পেলেও তাদের বিরোদ্ধ মামলা দেয় থানা পুলিশ। ৯ জুলাই কোন প্রকার অভিযোগ ছাড়াই তাদের বিরোদ্ধে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ওই তরুণীদের বোরকা খুলতে বাধ্য করে আদালতে সোপর্দ করে।
৭- এদিকে বোরকা পরে ক্লাসে আসার অপরাধে এক ছাত্রীকে কলেজে ঢুকতে দেননি উত্তরা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ বিগ্রেডিয়ার গোলাম হোসেন। আরো পাঁচ ছাত্রীকে গেটে দাঁড় করিয়ে রাখেন। অধ্যক্ষ বোরকাকে ‘অড’ বা দৃষ্টি কটু ড্রেস উল্লেখ করে বলেন “একটা মেয়ে পায়ের নখ পর্যন্ত বোরকা পরে এসেছে এটা দৃষ্টি কটু। আমরা এটা এলাউ করতে পারি না। তাই তাকে ক্লাসে ঢুকতে দেয়া হয়নি”।
৮- পর্দা বিরোধী সক্রিয় চক্রের কাছ থেকে রেহাই পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও। নামাজ আর পর্দা করার অপরাধে ৮ ছাত্রীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে বের করে দেয়া হয়। ইডেন কলেজের ছাত্রীদের করা হয় নির্যাতন। দেয়া হয় পুলিশে।
৯. ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল বরিশালের নিউ সার্কুলার রোডের এক বাড়িতে র‌্যাব হানা দিয়ে বোরকা পরে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য জড়ো হওয়ার অপরাধে ২১ নারীকে গ্রেফতার করে। র‌্যাব সাংবাদিকদের কাছে তাদের অভিযানের সংবাদ জানালে তা ফলাও করে ছাপা হয়। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জঙ্গিসংশি¬ষ্টতার কোনো তথ্য না পেয়ে ২১ পরহেজগার নারীকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে চালান দেয়া হয়। ঘটনার দীর্ঘ ২ মাস পর ২৩ জুন আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।
১০. ২০০৯ সালের ১৯ জুন রাজশাহীতে জঙ্গি সন্দেহে ১৫ নারী ও শিশুকে গ্রেফতার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওইদিন বিকালেই মুচলেকা দিয়ে তাদের মুক্ত ঘোষণার পর আবার ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের সম্পর্কে ব্যাপক তদন্ত করেও জঙ্গিসংশি¬ষ্টতার কোনো তথ্য পায়নি। শেষ পর্যন্ত আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিলে জুলাই মাসের ১ তারিখে ১১ দিন কারাবাস শেষে ১৫ জন নিরপরাধ নাগরিক মুক্তি পান।
১১. বোরকা পরার অপরাধে ২০০৯ সালের ৩ জুলাই পিরোজপুর জেলার জিয়ানগরে ছাত্রলীগের বখাটে কর্মীদের প্ররোচনায় পুলিশ জঙ্গি সন্দেহে তিন তরুণীকে গ্রেফতার করে। তারপর পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তিন তরুণীকে ঢাকায় টিএফআই সেলে নিয়ে আসা হয়। ৫৪ ধারায় গ্রেফতারকৃত তরুণীদের বিরুদ্ধে মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন অমর সিংহ। এ সময় তাদের বোরকা খুলতে বাধ্য করে মহাজোট সরকারের দিনবদলের পুলিশ। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদেও কোনো জঙ্গি সংযোগের কাহিনী বানাতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফাইনাল রিপোর্ট দিতে বাধ্য হয়। দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি থেকে অবশেষে তিন অসহায়, নিরপরাধ তরুণী মুক্তি পান।
১২. ২০১০ সালের ৩ এপ্রিল সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয় যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. একেএম শফিউল ইসলাম তার ক্লাসে ছাত্রীদের বোরকা পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তিনি ক্লাসে ‘মধ্যযুগীয় পোশাক বোরকা’ পরা যাবে না এবং এটি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কোনো পোশাক হতে পারে না বলে ফতোয়া জারি করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি বিভাগীয় কোনো সিদ্ধান্ত নয়, তবে আমার ক্লাসে কোনো ছাত্রীকে আমি বোরকা পরতে দেব না।
১৩. বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের দ্বৈত বেঞ্চ ২০১০ সালের ২২ আগস্ট স্বপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) আদেশ প্রদান করেন যে, দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসে বোরকা পরতে বাধ্য করা যাবে না। ‘নাটোরের সরকারী রাণী ভবানী মহিলা কলেজে বোরকা না পরলে আসতে মানা’ শিরোনামে ২২ আগস্ট একটি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতিদ্বয় বোরকা পরিধানের বিরুদ্ধে সুয়োমোটো এই রায় দেন।
উপরিক্ত ঘটনার গুলোকে পূজিকরে আওয়ামীলীগ বাংলাদেশকে কল্পিত ইসলামী জঙ্গিতত্ত্ব বিদেশে ফেরি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। ইসলামী দল, মাদ্রাসা,দাড়ি-টুপি আর বোরকার বিরুদ্ধে তাদের এই আভিযান। এই জন্যই আওয়ামীলীগ এবার সরকারী তত্বাবধানে রামুর ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষ ভালো করেই জানে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা লেখা থাকলেই অসাম্প্রদায়িক হওয়া যায় না তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ প্রতিবেশী ভারত আর মায়ারমা। আর সংবিধানে বিসমিল¬াহ এবং আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস লেখা থাকলেই সাম্প্রদায়িক হয়ে পড়েন না, তার উজ্জ্বল উদাহরণ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। আমাদের সেই হাজার বছরের উজ্জল ইতিহাস কে আওয়ামীলীগ ক্ষমতার মোহে কলংকিত করতে চায়। তাই দেশের আমজনতাকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। মানুষের প্রত্যাশ্যা ছিল এই সরকারের প্রায় ক্ষমতাধর সকল ব্যক্তিরাই নারী। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ও সংসদ উপনেতা, কৃষিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র,মন্ত্রী মহিলা হওয়ায় নারীদের অধিকার অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায বেশী নিশ্চিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তা না হয়ে পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত। অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় নারী সমাজ বেশী নির্যাতিত,অপমানিত,অধিকার বন্চিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুখে নারীনীতির কথা বলেন, আর নিরাপরাধ,পরহেজগার,বোরকাপরা মেধাবী ছাত্রীদের প্রেপ্তার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এমন নাটক বন্ধ হবে কবে?
কোরআন শরীফ, ইসলামিক বই আর বোরকা পরার অপরাধে পুলিশ এই নিরীহ,নিরাপরাধ,পরহেজগার মেধাবী ছাত্রীদের ২ দিনের রিমান্ড ও নিয়েছে। এটা এ জাতির জন্য কলঙ্কের, বেদনার ও লজ্জার। এই সৎ চরিত্রবান মেয়ে গুলোকে কনকনে শীতের মধ্যে সারা রাত আটক করে থানায় রেখেছে পুলিশ। জানা গেছে ঐ মেয়েগুলোর প্রত্যেকেই তাদের ডিপার্টমেন্টে ভালো রেজাল্টের অধিকারী। তাহলে ৯০% মুসলমানের দেশেও এই মেয়েগুলোর নামাজ পড়া, ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা আর বোরকা পরা-ই কি একমাত্র অপরাধ? ধর্ম-কর্ম পালনে এটাই কি শেখ হাসিনার ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের উত্তম নমুনা। অথচ আওয়ামীলীগ বার বার বলছে তারা কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী ইসলাম বিরোধী কোন আইন করবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাহলে নামাজ পড়া ও বোরকা পরা নামীজী মেয়েদের হল থেকে বের করে দেয়া, রিমান্ডে নেয়া,শারিরিক মানুর্ষিক নির্যাতন চালানো কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী নয় কি? এটি মানবাধিকারের লঈন নয় কি? একজন মেয়ের মা হিসেবে কিছুসময়ের জন্য ভাবনু তো?। গভীর রাতে আমাদের মেয়েকে এভাবে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি করলে কেমন লাগতো? আমরা আসলেই কি বুঝতে পারছি!!এই মেয়েগুলোর বাবা-–মা কত উদ্বিগ্ন সময় কাটাচ্ছে!!। অনবরত চোখের পানি ঝরছে তাদের পরিবারের। কিন্তু মজলুমের চোখের পানি কি বৃথা যায়!! মজলুমের ফরিয়াদ আর আল্লাহর আরশের মাঝখানে কোন কিছুই থাকেনা। সবচেয়ে মর্মান্তিক হলো এই মেয়ে গুলোর মধ্যে একজন কয়েক মাসের অন্তসত্বাও রয়েছে। আইনজীবিদের অনেক আকুতি-মিনতির পরও তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। রেহাই পায়নি আব্দুল কাদের মোল্লা যিনি দীর্ঘ আড়াই বছর জালেমের কারাগারে আবদ্ধ তার ৫৫ বছর বয়সী স্ত্রী কেও। কত অমানবিক,জঘন্য আর কত ভয়ংকর রুপ ধারণ করেছে এই সরকার!! আমার মনে হয় আওয়ামীলীগ জিহাদী বই, গোপন বেঠক আর নাশকতার ধুয়া তুলে আর বেশীদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেনা। আমরা জানি কুরআনে-ই হচ্ছে জিহাদের সবচেয়ে বড় গ্রন্থ। মুসলমানদের জিহাদের নির্দেশতো এখানেই দেয়া আছে। তাহলে সেটি নিষিদ্ধ করুন। আমার বিশ্বাস কয়েক ঘন্টাও ক্ষমতার মসনতে টিক থাকতে পারবেন না। দেশের ধর্মপ্রান জনগন আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এসব ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডের সমূচীত জবাব দেবে।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×