শোয়াইব জিবরান
শুয়ে ছিলাম সন্ধ্যায়। আমার ৬ বছরের ছেলে খেলা করছিল পাশে। হঠাৎ মনে হল সে কী যেন আমার গায়ে ঘসছে। ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলি কী করছ বাবা? তোমাকে মুছে ফেলছি। ভয়ে আমি অস্থির। না না আমাকে মুছে ফেল না, আমাকে মুছে ফেল না বলে ধড়মড় করে ঊঠে বসি। ছেলেটি আরো উৎসাহ পায়। আমার ডান হাতে ইরেজার চালাতে থাকে। আমি ওয়াদা করতে থাকি- ঠিক আছে আমি আর কখনও তোমার আম্মুর পাশে যাবো না। আমার ছেলেটি তার মায়ের পাশে আমাকে একদম সহ্য করতে পারে না। আমার ওয়াদাতে কাজ হয় না। সে আমার মুখে হাতে এখানে ওখানে ইরেজার চালাতেই থাকে। দেখি সে আমার ডান হাত পুরোটাই মুছে ফেলেছে। আমি আর্তনাদ করে উঠি। বাবা এখন আমার কী হবে? আমি কী করে কবিতা লিখব? আমার তো হাতই নেই! তার মাকে ডাকি। মা বলে ছি বাবা আব্বুকে বিপদে ফেলে না । তাড়াতাড়ি হাত এঁকে দাও। তার একটু মতি হয়। সে কাঠ পেন্সিল নিয়ে আসে। দ্রুত হাত এঁকে দিতে থাকে। সবকিছু ঈশ্বরের মতো যত্ন করে আঁকার সময় নেই তার। হয়ত আঁকলো না সবগুলো আঙ্গুল। দিল না হাতের রঙ। তবু হাতখানা তো ফেরৎ পাওয়া গেল। বলি, বাবা আরো কী কী যেন মুছে ফেলেছিলে, এঁকে দাও প্লিজ। তার কি আর হয় সময়। ততোক্ষণে অন্য খেলায় মগ্ন। কিন্তু আমার তো মনে হয় সে আমার মুখের কী কী যেন মুছে ফেলেছিল। হয়ত ভ্রু, কপাল। কাল সকালে আয়নায় দেখতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


