somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

===এক প্রবাসী আলমগীর ভাইয়ের জীবনের কাহিনী শুনুন====

১৮ ই মার্চ, ২০১৪ বিকাল ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


//===এক প্রবাসী আলমগীর ভাইয়ের জীবন সংগ্রামের কাহিনী===//

গতকাল রাতে দুবাইতে এক বাংলাদেশী ভাইয়ের সাথে দেখা হয়। ওনি ট্রলি গাড়ী মেরামত করতে একটি দোকানে এসেছিলেন। ওনার নাম আলমগীর। বাড়ী ফেনী জেলায়। দোকানের মেকানিক বাইরে ছিল বলে আলমগীর ভাইয়ের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করি। তিনি আমাকে নিজের জীবন সংগ্রামের কথা শুনাতে গিয়ে বারবার চোখের পানি মুছছিলেন। এবার শুনুন তার কাহিনীঃ

মামু, দেশে থাকতে আমি বাবুর্চীর কাজ করতাম। আমার তিন ভাই সৌদী আরবে থাকে। ওরা সবাই বিবাহিত। বাবা মারা যাবার পর ওরা আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। ঘর থেকে বের করে দেবার পর আমি মসজিদের বারান্দায় রাত কাটাতাম। এই কষ্টের কথা হাজারী ভাই জানতে পেরে আমাকে পনের হাজার টাকা খরচ করে একটি ঘর বানিয়ে দিয়েছিলেন। তখন আমি অবিবাহিত ছিলাম। হাজারী ভাই বলেছিলেন তোর যাকে ভাল লাগে আমাকে বলবি আমি তোকে বিয়ে করাব।

একদিন দুর সম্পর্কের এক বাড়ীতে রান্না করতে গিয়ে একটি মেয়েকে দেখে আমার ভাল লেগেছিল। সেই ভাল লাগার কথা হাজারী ভাইকে বললে ওনি বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে করেছিলাম। বিয়েতে ভাইয়েরা না আসলেও বোনেরা এসেছিল। বিয়ের দিন শাশুরবাড়ী যাবার আগে বাবার কবরে গিয়ে অনেকক্ষণ কেঁদেছিলাম।

বিয়ের আগে আমি নিজেই ঘরের সব কাজ করতাম। বিয়ের পরে শশুর বাড়ী থেকে মেহমান আসলে তাদেরকেও নিজ হাতে রান্না করে পরিবেশন করেছিলাম। আমার এই কর্ম দেখে বউ বলেছিল, "আমি আপনার পাশেই আছি। ইনশাআল্লাহহ আপনার কোন অভাব থাকবে না। কারো কাছে কোন দিন আপনাকে ছোট হতে হবে না।"

বিয়েতে উপহার পাওয়া সিকো ফাইভ ঘড়ি আমার হাতে দেখে একজন বলেছিল “কিরে আলমগীর তুইতো অশিক্ষিত। তোর হাতে সিকো ফাইভ ঘড়ি কেন? ঘড়ি শিক্ষিত মানুষ ব্যবহার করে।" তার কথায় রাগ করে সেদিন থেকে আর ঘড়ি ব্যবহার করিনি।

বিয়ের পর থেকে আমার আরেক জীবন শুরু হয় । একদিন বউকে না বলে মোশারফ হোসেনের ছেলের বিয়েতে রান্না করতে গিয়ে সাত দিন ঘরের বাইরে ছিলাম। আমার হাতের মজাদার রান্না খেয়ে মোশারফ হোসেন অনেক প্রশংসা করেছিলেন। বাড়ীতে নিয়ে যাবার জন্য আমাকে কিছু খাবারও দিয়েছিলেন।

সাতদিন পর বাড়ীতে এসে এসে দেখি বউ নাই। বউ বাপের বাড়ীতে চলে গেছে। আমিও আর দেরী না করে শশুর বাড়ীতে গিয়ে হাজির হই। বউকে নিজের বাড়ীতে নিয়ে আসি। মোশারফ হোসেনের দেয়া খাবারগুলোর অর্ধেক শাশুরবাড়ীতে বাকী অর্ধেক মাকে দিই।

আমার ভাইয়েরা আমাকে ঘর থেকে বের করে দিলেও মাকে আমি কোনদিন অবহেলা করিনি। মা আমাকে বলতেন, আলমগীর, একদিন তোর ভাত মাইনসে খাবে। আমি মাকে বলতাম, মা আমি ভিক্ষা করে খাব তারপরেও তোমার সন্তানদের সামনে আসব না।

আরো বেশী টাকা উপার্জনের আশায় একদিন দুবাইতে চলে আসি। দুবাইতে যখন যে কাজ পাই তাই করি। সারাদিন বাইরে কাজ করি বলে আগের চাইতে আরো বেশী কালো হয়ে গেছি। আমার উপার্জনের সমস্ত টাকা দুই মেয়ের পেছনে খরচ করেছি। নিজে পড়ালেখা করতে পারিনি বলে মেয়েদেরকে পড়ালেখা শিখিয়েছি। তাদেরকে ভাল ঘরে বিয়েও দিয়েছি। আল্লাহর রহমতে তারা সুখেই আছে।

আলমগীর ভাই আরো অনেক কথায় বলতে চেয়েছিলেন। বাসায় যেতে দেরী হবে বলে আমাকে সালাম দিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন। তার কথা শুনে আমার মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।

(আলগমীর ভাই নিজেকে হাজারীর খালাত ভাই বলে পরিচয় দেন। আমাদের দেশে বিভিন্ন দলের সন্ত্রাসীরা কেউ সন্ত্রাসী হয়ে জন্মায়নি। আর কোন বাবা-মা ও চাননা যে তাদের ছেলে সন্ত্রাসী হোক। রাজনৈতিক দলের এক শ্রেনীর দুষ্ট নেতাদের খপ্পরে পড়ে ওরা সন্ত্রাসী হয়। এই সন্ত্রাসীরা এক সময় ধরা পড়লে নেতারা নিজেদেরকে বাঁচাতে মামলা দিয়ে তাদেরকে জেলে ঢুকিয়ে রাখে। অনেক সময় হত্যা ও করে ফেলে। এই সন্ত্রাসীরা খারাপ কাজের পাশাপাশি ভাল কাজও করে থাকে। গরীব ও অসহায়দেরকে তারা সাহায্যও করে থাকে।)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৪ সকাল ১১:৪০
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×