সম্ভাব্য সুপথ
লেখক: Srabon Ahmed (অদৃশ্য ছায়া)
.
ছেলেটি এমন করে গুছিয়ে মিথ্যা বলে, যা কোনো স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে বুঝা সম্ভব নয়। কর্মক্ষেত্রে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে অন্যের পকেট থেকে নিজের পকেটে অর্থ আনায়নের কার্যটাও বেশ ভালোই পারে। আবার সে মানুষের বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিও বটে।
একটি অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির ফোন চুরি গেল। অনুষ্ঠান শেষ হতেই ভীড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন ব্যক্তি বলে উঠলেন, তাদের ফোন চুরি গেছে। সঙ্গে সঙ্গে কনভেনশন সেন্টারের সদর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো।
সকলে একে অপরের দিকে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলো। মোটামোটি স্বল্প আকারের একটা শোরগোল তৈরি হয়ে গেল সেন্টার জুড়ে। ঠিক তখনই ঐ ছেলেটি সকলের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো, "আপনাদের যাদের ফোন চুরি গেছে। তারা একদম চিন্তা করবেন না। আপনারা আপনাদের ফোন ফেরত পাবেন। ফোন কে চুরি করেছে, সেটা আমি দেখেছি। কিন্তু আমি চাই না এই ভরা মজলিশে তার সম্মানহানী ঘটুক। সেজন্য চুরিকৃত ব্যক্তির নিকট আমি অনুরোধ জানাচ্ছি, লোকচক্ষুর আড়ালে যেন সে ঐ স্থানটাতে ফোন গুলো রেখে দেয় (একটি টেবিল দেখিয়ে বলে)। কিংবা আগামীকাল কারো মাধ্যমে সে যেন এই কনভেনশন সেন্টারের রিসিপশনে ফোনগুলো রেখে যায়। নচেৎ তাকে সকলের সামনে অপমান অপদস্ত করা হবে।
.
কিছুক্ষণের মধ্যে সেন্টারটি ফাঁকা হয়ে গেল। যে যার যার মতো বাসায় ফিরে যেত লাগলো। ছেলেটিও ইতোমধ্যে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে কেটে পড়লো।
ছেলেটি উক্ত অনুষ্ঠানে গেস্ট হয়ে এসেছিল। তার একজন রিলেটিভ তাকে আপ্যায়ন করেছিলেন সেখানে। বাড়ি ফেরার পথে ছেলেটির রিলেটিভ ছেলেটিকে বললেন, "নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাগিদ করে সত্যের এবং তাগিদ করে সবরের।" (সুরা আছর, আয়াত- ২,৩)
ছেলেটি সচকিত হয়ে রিলেটিভের দিকে তাকালে তিনি বললেন, বিশ্বাস বড় ভয়ংকর জিনিস। একবার যার উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যায়, তাকে পুনরায় কদাচিৎ বিশ্বাস করা দায়।
এটুকু বলে ব্যক্তিটি উল্টো পথে হাঁটা ধরলেন। আর এদিকে ছেলেটি নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলো। বড্ড ভুল করে ফেলেছে সে। এ ভুলের ক্ষমা হয়তো সে পাবে। কিন্তু?
কিন্তু তার প্রতি সকলের যে বিশ্বাসটা ছিল, সেটা হয়তো আর থাকবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



