পরীক্ষার উদ্দেশ্য মেধা যাচাই করা। কিন্তু আমাদের দেশের এসএসসি এবং এইচএসসি মোটেও মেধা যাচাই করার অবস্থায় নেই। কারণ-
১। একই প্রশ্ন ঘুরেফিরে বারবার আসে। কিছু কমন প্রশ্ন আছে যেগুলো ১ বছর পরপর রিপিট হয়। আবার আগের বছরের প্রশ্ন এই বছর আসবে না ধরে নিয়ে বেশির ভাগ ছাত্র সেগুলো বাদ দেয়। টেস্ট পেপারে বিগত বছরগুলোর বিভিন্ন বোর্ডের প্রশ্ন ঘেঁটে সাজেশন বানিয়ে A+ পাওয়া কোন ব্যাপার-ই নয়। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় এই ফাঁকিঝুকির কোন সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ সিলেবাস নখদর্পণে না থাকলে বাঁশ নিশ্চিত।যেই কারণে যারা পুরো সিলেবাস ভালোভাবে পড়ে এসেছে তারাই ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পায় আর যারা ফাঁকি দিয়ে A+ পায় তারা ধরা খায়।
২।বোর্ড পরীক্ষার খাতা দেখায় অনিয়মের শেষ নেই। স্যারদের উপর সরাসরি নির্দেশ থাকে 'উদারভাবে' খাতা দেখবেন। এমনি এমনি তো আর 'সোনার' বাম্পার ফলন হচ্ছে না। এখন ধরুন একটা ছেলে ৮০ নাম্বার পেল। আরেকটা ছেলের নাম্বার যোগ করে স্যার দেখলেন ৭৮। এখন স্যার করবেন কি জানেন ৭৮ পাওয়া ছেলের মার্কস ৮০ করে দেবেন। উনি যদি নাও দেন ৭৮ পাওয়া খাতা বোর্ডে গিয়ে আবার উনার কাছে ফিরত আসবে ৮০ করে দেয়ার জন্য। আর না হলে নিরীক্ষক ৮০ করে দিবেন। ৮০ পাওয়া ছেলে টা অবশ্যই ৭৮ পাওয়া ছেলের চেয়ে অধিকতর যোগ্য কিন্তু তার এই যোগ্যতা রেজাল্টে প্রকাশ পাবে না।কারণ স্যার তো আর ৮০ পাওয়া ছেলের মার্কস ২ বাড়িয়ে ৮২ করে দেবেন না। আরেকটি বিষয়, খাতা দেখার সময় এত কম দেয়া হয় যে কেউ চাইলেও মান সম্পন্নভাবে খাতা দেখে শেষ করতে পারবেন না।খাতা প্রতি যে সম্মানী দেয়া হয় সেটা হাস্যকর।
৩। impractical 'Practical Marks': এসএসসিতে ৪সাবজেক্ট আর এইচএসসিতে ৮ সাবজেক্ট এ ১২*২৫= ৩০০ মার্কস প্র্যাক্টিকালে আছে।
এটা অনেক বড় একটা মার্কস।৩০০ মার্কস নিয়ে যা হয় তা ফাইজলামি ছাড়া আর কিছুই না। বেশিরভাগ জায়গায় টাকার বিনিময়ে মার্কস দেয়া হয়। প্র্যাক্টিকালের প ও হয় না।আর এক্সটারনাল যদি রাইভাল প্রতিষ্ঠানের হয় তাহলে বাঁশ খাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
৪।এই সিস্টেমের বড় ত্রুটি এটা সবার জন্য এক স্ট্যান্ডার্ড করতে পারবে না। কারণ একেক বোর্ডে একেক প্রশ্নে পরীক্ষা হয়। খাতা দেখায়ও ঘাপলা আছে।বাংলায় কোন স্যার হয়ত টেনেটুনে highest ৮০-৮২ দিবে আবার কোন স্যার ৯০-৯২ দিবে। আমার নিজের কলেজেই এরকম স্যার পেয়েছি।
৫। মেডিকেল ভর্তির জন্য বাংলায় পারদর্শিতা কি জরুরি?নতুন সিস্টেমে কিন্তু বাংলা অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর হতে যাচ্ছে।বেশিরভাগ গোল্ডেন মিস করে বাংলায় A+ না পেয়ে।এই নতুন সিস্টেমে হাতের লেখা সুন্দর না হওয়ার কারণে জীববিজ্ঞান, জৈব রসায়নে ভালো একজন ছাত্রেরও ডাক্তার হবার স্বপ্ন ভেঙ্গে যেতে পারে।
এবার বলি যা করা যেতে পারে-
১। আইন করে সকল ভর্তি কোচিং বন্ধ করে দেয়া হোক। প্রশ্ন ফাঁস ৯৯% বন্ধ হয়ে যাবে। আর সরকার যদি ইচ্ছা করে বাকি ১% লিকেজ বন্ধ করা ব্যাপার না।
২। ভর্তি পরীক্ষার আধুনিকায়ন করা যেতে পারে।
৩। বোর্ড পরীক্ষার ভিত্তিতেই যদি ভর্তি করতে হয় তা হলে উপরোক্ত সমস্যামুক্ত বোর্ড পরীক্ষার ব্যাবস্থা করতে হবে- যেটা কিনা অনেক দূরের ব্যাপার। সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে সেই উদ্যোগ শুরু হয়েছে। কিন্তু এবার যারা ভর্তি হবে তাদের শুধু বাংলা ১ম পত্র সৃজনশীল হয়েছে। সুতরাং তাদের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার দোহাই দিয়ে এই সিস্টেম চালু করার কোন মানে হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



