somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরয়ার, কী সান্ত্বনা দেব তোকে?'

২৮ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে-তো ছিল রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে একাকার দিন, অামরা ঘুরে বেড়াতাম। সে-সময় অামরা উদ্যানে থাকতাম সারাদুপুর, চারুকলায় থাকতাম যেহেতু পড়তাম ওখানে, ধানমণ্ডি বত্রিশ এর একদম শেষে, লেকের ধারের বরইগাছতলায় বসে গল্প করতাম। কী সব গল্প অামাদের! কী সেই তুমুল প্রহরের জীবনচারণা। হয়তো দুজনে নির্জন অাবাহনী মাঠের ঠিক মাঝখানে, ঘাসে শুয়েই সারারাত নক্ষত্রের অাগুন অামরা ঠোঁটে চেখেছি, কয়েকবছর অামরা দুজন হয়তো প্রতিদিনই দিনের কোনো-না-কোনো সময় মিলিত হতাম। তারপর পেটে অাগুন জ্বলে উঠলেও অনেক পরে হয় অাজিজ মার্কেটে গিয়ে 'অন্তরে' খেয়েছি, নয় খেয়েছি নীলক্ষেতের তেহারি। তারপর অাবার অামরা বেরিয়ে পড়েছি, রাস্তায় রাস্তায়, মাঠ কিম্বা চিপা-চাপা গলির দিকে। অামি অার সরয়ার। কখনো অামাদের পুলিশ ধরেছে, ধরেছে কবিতা, সিনেমা, ধরেছে স্বপ্নকল্পের নারী।

অামার মা ঝিনাইদহ থেকে যখনই ঢাকায় অাসেন, সঙ্গে অানেন অনেক খাবার। অামার সব বন্ধুরাই সেই খাবার খেয়ে যায়। এখনও মা ঢাকায় অাসার সময় প্রচুর খাবার অানবে তার একমাত্র ছেলেটির জন্যে। সেই খাবার অামি একা খাই না, অামার বন্ধুরাও খায়। এ-এক জীবন, ভালোলাগা, বেঁচে থাকা।

অামার সম্পর্কে যত অভিযোগ অামার মায়ের, বন্ধুদেরই তা শুনতে হয়, এখনও। সরয়ারকেও সেই অভিযোগ শুনতে হয়।
নাখালপাড়ায় সরয়ারদের বাসায়ও গিয়েছি, সরয়ারের মায়ের রান্না খেয়েছি, তারপর হয়তো অামরা ফের বেরিয়ে পড়েছি। ঢাকায় যে দুএকজন বন্ধুর মায়ের হাতের রান্না খেয়েছি, সরয়ারের মা তাঁদেরই একজন।

তারপর ধীরে ধীরে অামরা অাগের তুলনায় সত্যিই অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। সরয়ার ব্যস্ত ওর বিজ্ঞাপন ও সিনেমা বানানো নিয়ে, অামি ব্যস্ত অামার লেখায়, ছবিতে। এখন অামাদের দেখা হয় নানান অনুষ্ঠানে। অনেকদিন পর দেখা হলেও কোনো গ্যাপ থাকে না, ভালো লাগে। এই হচ্ছে উঠতি বয়সের বন্ধুত্বের সম্পর্ক-তরঙ্গ। ফোনে কথা হলো, সকালে দেখা হবে সরয়ারের সঙ্গে। বললাম, 'খালাম্মাকে কখন কোথায় কি?'
সরয়ার বলল, 'জুমার নামাজের সময় জানাজা হবে, তুই এক ঘণ্টা অাগেই চলে অাসিস।'
'হুম'
মা হারানো কেমন লাগে, অামি জানি না। সরয়ারের গলা শোকার্ত, স্বাভাবিক। বলল, 'শোন, তোর মাকে ফোন করে বলিস...'
'বলব'
অাবার দুএকটি কথা। ফোন রাখার অাগে বললাম, 'অাচ্ছা, সকালে অাসছি অামি'--সরয়ার অাবার বলল, 'তোর মাকে বলিস ...বর্ষাকে বলিস।'
অামার মা-বর্ষা এখন ঝিনাইদহে। গতকাল অামার বন্ধু মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মা চিরকালের মতো চলে গেলেন চির-অজানায়। মানুষের মৃত্যু অবধারিত। তবু খারাপ লাগে, কষ্ট হয়। চিরকাল।
'সরয়ার...কী সান্ত্বনা দেব তোকে?'
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ১২:৪০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×