somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামাজিক আন্দোলন ও রাজনীতি; সংকট কিসের?

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে কোন অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুরক্ষা ,সচেতনতা কিংবা সামাজিক পরিবর্তনের তাগিদে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনের উপস্থিতি আবশ্যক। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে সুশীল সমাজ এবং স্বেচ্ছাসেবী-সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়ে কার্যকর আন্দোলনের উপস্থিতি লক্ষণীয়। বিভিন্ন নামে,বিভিন্ন রুপে ,স্ব স্ব সুনির্দির্ষ্ট উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের তাগিদে তারা যুগের পর যুগ,শতকের পর শতক কাজ করে যাচ্ছে। সফল হচ্ছে। টিকে আছে।

পক্ষান্তরে, আমাদের দেশে সামাজিক আন্দোলন একটা সময় প্রবল জনপ্রিয়তা লাভ করলেও পর্যায়ক্রমে নানা ধরনের সংগঠনের বিস্তৃতি লাভ করলেও কমেছে গ্রহণযোগ্যতা। সামাজিক সংগঠনগুলো কোন সুনির্দির্ষ্ট সামাজিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেয়ে যখন রাজনৈতিক আনুগত্য কিংবা নেতৃত্ব দানকারীদের রাজনৈতিক উচ্চ বিলাসিতা প্রাধান্য পেয়ে যায় কিংবা রাজনৈতিক বিতর্কের লেবাস জড়িয়ে দেওয়া গেলে তখন তারুণ্য বিদ্রোহ করে । সরে যায়। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সচেতন তরুণ সমাজের বৃহৎ একটি অংশ চরমভাবে রাজনীতি বিমুখ। তারা রাজনৈতির বাহিরে কোন প্লার্টফর্মে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে,সুযোগ খুঁজে বেড়ায়। এটাই তারুণ্যের চাহিদা।

তাই কোন সামাজিক, মানবাধিকার কিংবা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শুরুতে ব্যাপক সাড়া কিংবা জাগরণ সৃষ্টি করতে পারলেও তা ধরে রাখতে না পারার কারণে অগ্রণযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলাফল হিতে বিপরীত হয়। আমাদের জাতীয় পর্যায়ে কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠনের অঙ্গসংগঠন থাকলেও , ব্যক্তিগতভাবে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেও দেখেছি এমনটা। নেতেৃত্ব দানকারীদের অসৎ কিংবা রাজনৈকতক উচ্চবিলাসিতার চিত্র যখন সামনে চলে আসে কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি/সংগঠনের আনুগত্যের আধিক্যতার চিত্র অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এমন সংগঠনগুলোর ভূমিকা অনেকাংশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। যার ফলে , কেউ এটার সাথে খাপ খেয়ে যায় এবং এ পথেই এগিয়ে চলতে থাকে কেউবা বরং সরাসরি রাজনীতি করাটাকেই উত্তম মনে করে আর বিশাল অংশ বিরক্ত হয়ে সরে দাঁড়ায় এবং তাদের মনে চিরস্হায়ী ঘৃণা তৈরী করে।

যার একটি উদাহরণ এমন “একদিন একটি গ্রামে একটি বিমান আছড়ে পড়ল। গ্রামবাসী বিমানের সকল যাত্রীকে মৃত ভেবে কবর দিয়ে দিল। সেই বিমানে বাংলাদেশের এক সুশীলও ছিল। এখন এই খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেই গ্রামে গেল খবর সংগ্রহ করতে। ওই গ্রামের সবচেয়ে গন্য-মান্য ব্যক্তি কে প্রশ্ন করল, “সকল যাত্রীই মারা গেছে, এই ব্যাপারে কি আপনারা নিশ্চিত?”
লোকটি বলল,“কবর দেওয়ার সময় যদিও সুশীল শ্রেণীর দাবি করে একজন বলছিলেন যে উনি জীবিত। কিন্তু সুশীল বলায় তাকে বিশ্বাস করি নাই। কবর দিয়া দিছি!

ঘটনার গভীরে গিয়ে যদি আমরা দেখি এমনটা কেন হচ্ছে? সামাজিক সংগঠনের আদলে কাজ করার কিংবা সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করার দৃঢ়তা কেন ঠিকে থাকতে পারছে না? যারা সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেয় তারা কেনই বা রাজনৈতিক আনুগত্যের পিছনে ছুটে? নাকি রাজনীতিই এসবকে গ্রাস করে? প্রভাবিত করে? কিংবা তারুণ্যের রাজনৈতিক বিমুখতার কারণ কি? রাজনীতি কি যে কোন সামজিক আন্দোলনের/পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ নিতে পারে না? সমাজের মেধাবীরা কি রাজনীতিক করার চ্যালেঞ্জ নিতে পারে না? রাষ্ট্রবহির্ভূত সংগঠন, রাজনৈতিক দলের বাইরে অবস্থান এবং ঘোষিত কর্মসূচির পক্ষে প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেই বা সামাজিক/সুশীলরা সাহস পান না? সুশীল সমাজ তার মেধা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও শক্তি কেন অদৃশ্যে রাজনীতির পিছনে ব্যবহার করবে? রাজনৈতিক আদর্শের চর্চার সংকটের সুযোগটা তারা নিচ্ছেন না তো? সুরক্ষিত ক্ষমতাবানদের পক্ষে তদবির করা কিংবা ক্ষমতাহীন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্যও লড়াই করা ভিন্ন জিনিস।

তাই সামাজিক গণমাধ্যম ছাড়া তারুণ্যের আস্হার জায়গা আর নেই বললেও চলে। সুর্নিদির্ষ্ট প্লাট ফরমের (সামাজিক/রাজনৈতিক) সংকট বিদ্যমান থাকায় সামাজিক মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সংগঠিত এ দশকের আন্দোলনের চিত্র তাই বলে।

সামাজিক সংগঠনের স্হায়ী সামাজিক সংকট সমাধানে সচেষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করা উচিত। তাতেই চেঞ্জ আসবে। কারণ দিনশেষে চেঞ্জ এর চাবিকাঠি রাজনীতির হাতেই। আর আমাদের নেতৃত্ব যেন নিম্নে কৌতুকের মতো না হয় এ কামনাই শেষ করছি “সংসদের গেটের সামনে ভাঙাচোরা একটা সাইকেলে তালা মেরে রেখে যাচ্ছিল এক লোক। তা দেখে হুট হাট করে ছুটে আসে সংসদের দারোয়ান। সরকারি কর্মচারী বলে কথা। সেই একটা ভাব নিয়ে ধমকের সুরে লোকটিকে বলল, ‘ওই ব্যাটা, এখানে সাইকেল রাখছিস কী বুঝে? জানিস না, এ পথ দিয়ে মন্ত্রী-মিনিস্টাররা যান??’
লোকটা একগাল হেসে জবাব দিল, ‘কোনো সমস্যা নাই ভাইজান, সাইকেলে তালা মাইরা দিছি!”

মোহাম্মদ তরিক উল্যাহ (MT Ullah)
আইনজীবী ও লেখক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×