somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প বটে!

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমানে যে অবস্থায় আছি তাতে আমার আর এই ঢাকা শহর একদম ভাল লাগছে না! বলা চলে প্রবাস থেকে ফিরে প্রায় টানা ২২ বছর এই শহরেই কাটিয়ে দিলাম! আর বাঁচবো কয় বছর? ফলে মন আর এক জায়গাতে স্থির হতে চাইছে না, এই দেশের কত কিছুই তো দেখা হল না এখনো! এতকিছু না দেখেই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাব এটাও ভাবতে ইচ্ছা হচ্ছে না, অন্যদিকে কত কাজ এখনো বাকী, মানুষের সামান্য উপকারও তো এখনো করিনি!

কয়দিন ধরে ভাবছি বিষয়টা নিয়ে স্ত্রীর সাথে কথা বলবো, সাধারণ কোন উপজেলা শহরে নদীর কাছে কিংবা ধানের মাঠের পাশে বা গাছ গাছালির পাশে ছোট এক চিলতে জমি কিনে ছোট একটা ঘর বানাবো, নিজের ইচ্ছা মত ক্ষেতে খামারে কাজ করবো, পুকুরে মাছ ধরবো, নিজের হাতে গাছ গাছালির যত্ন নিবো, সন্ধ্যায় কিছু সময় সেই গ্রামের দরিদ্র পিতাদের সন্তানদের বিজ্ঞান কিংবা অংক পড়াবো, রাতে চাঁদের আলোয় বসে থাকবো, খড়ের চুলায় চা বানাবো, অন্ধকারে একা বাইরে সারা গ্রাম হেঁটে আসবো! কত কি!

আমি মনে মনে স্থান নির্বাচন করেও রেখেছি! কক্সবাজারের কোন গ্রামে, বা আরো ভিতরে মহেশখালীর বাঁকে কিংবা এদিকটায় ময়মনসিঙ্ঘের জয়নুল সংগ্রহ শালার পিছনে কিংবা শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে প্রবেশের আশে পাশে কোন গ্রামে, নড়াইলের চিত্রানদীর ধারের কথাও মনে পড়ে! এভাবে কত কি স্থানের চিন্তা আমার!

সারাদিন ভাবি, চিন্তা করি, আজ বাসায় ফিরে এই আলোচনা করবো, আমাকে এই শহর থেকে মুক্ত করতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। বিশ্বাস করুন যতই সাহস করি না কেন, স্ত্রীর সামনে গিয়ে আমি আর কোন কথাই বলতে পারি না! তিনি আবার কি মনে করে কি উত্তর দেন!

বহু বছর আগে আপনাদের এই শহরে একবার প্রায় বছর খানেক বেকার ছিলাম, উপার্জন ছিল না! জমানো সঞ্চয় প্রায় শেষ করে, চাকুরী বানিজ্য কিছুই না পেয়ে শেষের দিকে খুব হতাশায় পড়ে যাচ্ছিলাম। ভাবছিলাম আমাদের গ্রামের বাড়ী ফিরে যাব, পৈত্রিক ভিটেমাটিতে আবার নুতন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছিলাম! একদিন রাতে প্রিয়তমা স্ত্রীকে বললাম, চলো গ্রামে ফিরে যাই! প্রিয়তমা স্ত্রী এর উত্তর দিতে তেমন সময় নেন নাই, সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি বলে দিলেন, "আমার বাবা কি তোমার কাছে তার মেয়ে বিয়ে দিয়েছিলেন গ্রামে নিয়ে রাখার জন্য"!

বিশ্বাস করুন, আমি আর কথা বাড়াই নাই তবে পরদিন থেকে আমি প্রায় দেড় মাস পাগল ছিলাম! :D
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মধুরিমাঃ তোমাকেই খুঁজছি

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৫


মধুরিমা,
নীল আকাশে মাঝে আমি তোমায় খুঁজি ,
খোলা দিগন্তের শেষে আমি চোখ মেলি......
যে পথে তুমি চলে গেছো একদিন
বিষন্ন মন নিয়ে আমার ই ভুলে !!
একই পৃথিবী একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ৩৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫১



গতকালের ঘটনা। তখন সকাল সাড়ে দশটা।
ব্যাক্তিগত কাজে এক সরকারী অফিসে গিয়েছি। গিয়ে দেখি পিয়ন ছাড়া অফিসে কেউ আসে নি। পিয়ন পত্রিকা পড়েছে। ১১টা বাজলো তবু কেউ অফিসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভাবে স্বভাব নষ্ট.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫২

অভাবে কক্ষনো স্বভাব নষ্ট হয় না, নষ্টের বীজ ভিতরেই পোঁতা থাকে। অভাবেই যদি স্বভাব নষ্ট হতো, তাহলেতো লক্ষ লক্ষ টাকার বেতনভুক অফিসাররা কোনোদিন চুরিই করত না, ক্যাপিটালিস্টরা ট্যাক্স ফাঁকি দিতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পকে ইমপিচ করার পদ্ধতি শূরু করতে বললেন স্পীকার নেনসী পলোসী

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৪



গতকাল আমােরিকান রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সুচনা হয়েছে: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইমপিচ করার পদ্ধতি শূরু করতে বললেন স্পীকার নেনসী পলোসী। স্পীকারের অনুরোধে কংগ্রেসের জুডিসিয়ারি কমিটি আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্টে (ইমপিচ প্রস্তাব)... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প: অপরিচিতা

লিখেছেন ফয়সাল রকি, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:০৫



সামনের চেয়ারে বসা সদ্যপরিচিতা মহিলাটি বললেন, আসলে আমার স্বামী পরকীয়া করে। প্রেমিকারে লইয়া এইহানে আসার কথা তার।

মিনিট দশেক আগে এখানে এসেছে মীরা। লাঞ্চ আওয়ারে মতিঝিল পাড়ার এই ক্যাফেটা একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×