
সেদিন ইউনিভার্সিটিতে টানা দুটো ক্লাস নেয়া শেষ করে আপন মন শিস দিতে দিতে হাঁটছিলাম অফিস রুমের পথে। ইউনিভার্সিটিতে ছেলেপেলের মিড এক্সাম চলছে বলে এই ভর রোজায় গলা ফাটিয়ে লেকচার দেয়া লাগে নি। কিন্তু, এক্সাম নেয়ার কাজটাও একধরণের পুলিশিং। পোলাপাইন প্রচুর দেখাদেখি করে। সিটের ওপর, পাশের দেয়ালে প্রায়ই মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক্সের মতো হস্তাক্ষর উদ্ধার করি। বাংলাদেশের সব ইউনিভার্সিটিতেই তো অবস্থা কমবেশি একই। তক্কে তক্কে থাকা ছাড়া উপায় নেই। দু' বান্ডেল ভর্তি খাতা বগলের নীচে চেপে হাঁটছি, আর আনমনে গাইছি - এই জাহাজ মাস্তুল ছারখার, তবু গল্প লিখছি বাঁচবার, আমি রাখতে চাই না আর তার, কোনো রাত-দুপুরের আবদার, তাই চেষ্টা করছি বারবার, সাঁতরে পাড় খোঁজার - ইত্যাদি।
আচমকা থেমে গেলাম গ্রাউন্ডে। মাথার ওপর কাঠফাটা রোদ ( এই ফেব্রুয়ারির শেষেই যে রোদ পড়েছে মাইরি, ভরা গ্রীষ্মে যে কি হবে!), চারপাশে ছায়ার মাঝে সিঁড়িতে, লাউঞ্জে এখানে সেখানে অনেক স্টুডেন্ট বসা। আড্ডাবাজিতে রত। অথবা পড়ছে বসে। অথবা ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ানো বিড়ালগুলোকে নিয়ে আহ্লাদ করছে। হয়তো সেলফি তুলছে। এদিকে সেদিকে কেউ হয়তো টিকটক ভিডিও বানাচ্ছে। ক্লাবের ছেলেপেলেগুলো টেবিল চেয়ার নিয়ে বসে পড়েছে নতুন মেম্বার সাইন আপ করাতে। সচরাচর যা হয় আর কি ক্যাম্পাসগুলোতে, ফ্রি টাইমে।
খেয়াল করে দেখলাম, আসেপাশের কোনকিছুর সাথেই আমি অ্যাসোসিয়েট করতে পারছি না। টিচার বার্নআউট বলে একটা কথা আছে। ২০২৬ আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় ১০ বছর মার্ক করে। ১০ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে স্টুডেন্টদের দিয়ে যাওয়া, ওদের নিয়ে কাজ করা, ক্লাসের বাইরেও ওদের ভালোমন্দের খোঁজ নেয়ার পর এক ধরণের অবসাদ আমাকে গ্রাস করেছে। আমার নিজের অ্যাকাডেমিক জীবনেও কিছু আপলিফট দরকার। বাইরে পড়তে যাওয়া দরকার। পিএইচডিটা করা দরকার। মধ্য ত্রিশে আছি। এখনই উপযুক্ত সময়।
কিন্তু এসব চিন্তা তো প্রতিদিনের। আজকের পা থেমে যাওয়া এক ভিন্নতর কষ্টে। কষ্টটা - অনুপম রয়ের গান নিজের অজান্তে আমার জীবনের অনুষঙ্গ হয়ে যাওয়ার।
হুট করে ফিরে যাই ২০১১ - ১২ সালের ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে। দিনে ক্লাস, প্রেমিকার সঙ্গে সময় কাটানো, বিকাল ৩টার পর ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটির রুমে একঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণের সঙ্গে আড্ডা। আমি তখন পিয়ানো শিখছি ওয়ারফেইজের কিবোর্ডিস্ট শামস মনসুর গনি ভাইয়ের কাছে। গিটার, সেই উত্তরায় গিয়ে, ওয়ারফেইজেরই (তখন বোধয় তিনি ওয়ারফেইজে না, খালি অর্থহীনে বাজাচ্ছিলেন) - ইব্রাহীম আহমেদ কমল ভাইয়ের কাছে। কবিতা লিখি, কবিতার ওপর সুর বসাই। এমন সময় ঢাকা ইউনিভার্সিটির কালচারাল ল্যান্ডস্কেপের ওপর দিয়ে বয়ে গেলো দুটো ঝড়। এক - সৃজিত মুখারজির সিনেমা, দুই - গান্ডু। সৃজিতের সিনেমা কোলকাতার ফিল্মে গল্প বলার এক নতুন ধারা নিয়ে এসেছিল। বাইরের বিশ্বে ক্রিস্টোফার নোলান আর আমাদের বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে সৃজিত। গান্ডু হচ্ছে আরেক কাল্ট ফিল্মমেকার কিউ, তথা কৌশিকের সিনেমা। সে আরেক জিনিস।
যাক, সৃজিতের সিনেমা ধরেই অনুপম রয়ের গানগুলো আমাদের ঢাবির ক্যাম্পাসেও প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠলো - আমাকে আমার মতো থাকতে দাও, বেঁচে থাকার গান, তুমি যাকে ভালবাসো - স্নানের ঘরে বাস্পে ভাসো ইত্যাদি সবার মুখে মুখে। টিএসসিতে বিকেলে চায়ের আড্ডায় দাঁড়ালেই দেখা যেতো গিটার বাজিয়ে একটা গ্রুপ এসব গানের একটা না একটা গাইছে।
আমি তখন আমার ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটির ফ্রেন্ডদের সঙ্গে এই প্রমিজ করেছিলাম যে, শালার আমি অনুপম রয়ের চেয়ে মিউজিক্যালি অনেক বেশি মেধাবী, অনেক বেশি ট্যালেন্টেড। আমার গানও শালা একদিন এই ক্যাম্পাসে ছেলেপেলের মুখে মুখে ফিরবে। সেই সূত্রে প্রায় ত্রিশখানা গান আমি আমার ইউনিভার্সিটি লাইফে লিখে ফেলি। পরে টাকা পয়সা যখন হয়, তখন তার অনেকগুলো রেকর্ডও করে ফেলি ( এই লিঙ্কে খোঁচা দিলে আমার কিছু অরিজিন্যাল গানের স্টুডিও রেকর্ডেড ভার্শন শুনতে পাবেন) । কিন্তু গান নিয়ে আমার আর বেশিদুর এগোনো হয় নি। অনেক কারণ আছে। কনসার্টে গান গাইতে হলে অরগানাইজারদের পেছনে ঘুরতে হতো। সিনেমায় বা নাটকে গান দিতে হলে যারা সিনেমা নাটকের গানে সুর করেন, তাদের নিকেতনের স্টুডিওতে গিয়ে সন্ধ্যা - রাত কাবার করা লাগতো আড্ডা দিয়ে। একবার ইউনিভার্সিটিতে পড়ানো শুরু করবার পর, তার একটাও আর করা হয়ে ওঠে নি। ছায়ানটে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বিভাগে নতুন করে ভর্তি হয়েছিলাম, ২০১৭ - ১৮ দু বছর কন্টিনিউ করার পর ১৯ এ বিয়ে করলে সেটাও আর ধরে রাখতে পারি নি।
গতদিন দুপুরে, স্টুডেন্টদের পরীক্ষা শেষে ক্যাম্পাসের রাস্তা ধরে হাঁটতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম, আমি আসলেই হেরে গেছি অনুপম রয়ের সঙ্গে লড়াইয়ে। শুধু হার না, গো হারা হার। ব্রাজিলের ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে সাতখানা গোল খাওয়ার মতো হার। গানের লাইনে কিছু যে করতে পারলাম না শুধু তাই না, অনুপম রয়ের গান আমার যাপিত জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। ভাঙ্গা মন নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমি অনুপম রয়ের গানই গাইছি - বলছি, আমার জীবনের জাহাজ মাস্তুল সব ছারখার, তবুও স্বপ্ন দেখছি বাঁচবার, আর কারো রাত দুপুরের আবদার রাখার মতো শক্তি আমার মনে নেই, সেই তেলও নেই, এখন কেবল সাঁতরে ভেসে থাকা। জীবনের সীমানা আমি টের পেয়ে গেছি।
তবুও, এখনও যে জিনিসটা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে, তা হল আমার সৃজনশীল লেখালিখির প্রয়াস। বড় ঔপন্যাসিক হবার স্বপ্ন। যদি এই লেখালিখিটা ধরে না রাখতে পারতাম, জীবনের হতাশা আমাকে ঠেলতে ঠেলতে কই নিয়ে যেতো, আমার আইডিয়া নেই। একজন মানুষ একজীবনে ঠিকঠাক মতো পরিশ্রম করতে পারলে যে কতো বড়, কতো মহৎ হতে পারে - সেটা যে টের পেয়েছে, মহাজীবনের হাতছানি পেয়েছে যে মানুষ, তার জন্য সাধারণ জীবন নয়, তা সে যত সাধারণ পরিপ্রেক্ষিতেই বসবাস করুক না কেন। আমি শৈশব থেকে মহাজীবনের নিশিতে পাওয়া। যখন স্কুলের গণ্ডিও পেরোই নি, তখন জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল সূফী হবো। আমার যিনি পীর ছিলেন, তিনি বলতেন, এই মাটির শরীরে যখন আল্লাহর নূর প্রবেশ করে, তখন সে আর সাধারণ মানুষ থাকে না, সে অনন্তের পথের পথিকে পরিণত হয়। সেই আমার পীরের হাত ধরে অনন্তের পথে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখন আমি সদ্য টিনএজে পা দিয়েছি। দিন যত গেছে, ততো বেশি পঙ্কিলতায় ডুবেছি, আমার অন্তর তার মাসুমিয়ত হারিয়েছে, কিন্তু একটা জিনিস দপ দপ করে জ্বলতে থেকেছে সর্বদা, মহাজীবনের ডাক। এসেছি দুনিয়ায়, একটা আঁচড় কেটে না গেলে তা আর মানুষের জীবন কিসের?
কিন্তু মধ্য ত্রিশে এসে বাস্তবতার বাড়ি খেয়ে খেয়ে, জীবনের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করে করে, খুব ক্লান্ত এখন। আমাকে একমাত্র স্বস্তি দেয়, বেঁচে থাকার রসদ যোগায় দিনে যে কিছুক্ষণ সময় পড়তে পারি, আর লিখতে পারি - ঐ সময়টুকু।
এই করে করে, চার বছর সময় নিয়ে লিখেছি আমার দ্বিতীয় উপন্যাস (যেটা বই হিসেবে আমার ১১তম বই), সরীসৃপতন্ত্র। এটার প্রায় ১৩টা ভার্শন আছে। চার বছরে সম্পাদনা করেছি সবমিলিয়ে ১৩ বার। বইটার সম্পাদকীয় সাহায্য নিয়েছি বাংলা একাডেমি পুরষ্কার বিজয়ী আলম খোরশেদ ভাইয়ের কাছ থেকে, প্রুফ রিড করেছেন দেশের সেরা প্রুফরিডার শতাব্দী কাদের ভাই। বাংলা ট্রিবিউন ধারাবাহিকভাবে ৩ মাস ধরে এই উপন্যাসের প্রথম ১২ চ্যাপ্টার প্রকাশ করেছে গত বছরের নভেম্বর থেকে এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত। গতবছর বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মর্যাদাপূর্ণ কালি ও কলম তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরষ্কার জেতার পর এটা আমার প্রথম বই।
কাজেই, ব্লগের আমার দীর্ঘদিনের সুহৃদবৃন্দ, যারা এখনও লেখালিখির সঙ্গে সংযুক্ত আছেন, লিখছেন, কিংবা পড়ছেন, যারা প্রবাসী ব্লগার, যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্লগীয় মিথস্ক্রিয়া, আপনাদের শুভেচ্ছা আশা করি, একই সঙ্গে আশা করি এবারের মেলায় যদি আপনার যান, তবে আমার এই দীর্ঘ সময় নিয়ে, অতিযত্নে লেখা উপন্যাসটি আপনারা আপনাদের ক্রয়ের লিস্টে রাখবেন।
উপন্যাস সরীসৃপতন্ত্র
প্রকাশক - ঐতিহ্য
স্টল নং ৫৮০ - ৫৮৬
বইয়ের বাম ফ্ল্যাপে লেখা উপন্যাসের পরিচিতি তুলে দিচ্ছি এখানে -
আশির দশকের শেষভাগ। নভেম্বর মাস। বাহিরে হাড়কাঁপানো শীত, এরই মাঝে গোটা ঢাকা উন্মাতাল এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে। এ আখ্যানের নায়ক(?) মোকাম মাহমুদ তখন বড় চাচার মেয়ে মৌলীর প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে কবিতা লিখছে একের পর এক। একদা মুসলিম লীগার বড় চাচা দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই ব্যস্ত বাড়ির উঠোনে নিয়মিত জলপাইয়ের চাষ নিয়ে। এদিকে বাড়ির এক নির্জন কোনায় পড়ে থাকা ছোট চাচা রমিজের পুরনো সাইকেলের চাকা একা একাই ঘুরে চলেছে একযুগ ধরে। বুড়িগঙ্গার তীরঘেঁষা টাইগারপাড়া নামক এ মহল্লার মানুষ অবশ্য কোন বিপদই গায়ে লাগায় না, কেননা মহল্লার জিন্দাপীর রমিজের নজর এখনো তাদের ওপর আছে।
এমন এক দিন, মোকামের ঘরের দেয়ালে ঝুলন্ত টিকটিকি নেমে আসে মাটিতে। মোকামের মুখোমুখি দাঁড়ায়। এক মানুষ সমান উঁচু সে টিকটিকি পরিষ্কার বাংলায় মোকামকে বলে – বাঙ্গালীর ইতিহাসের চাকা আবারো ঘোরা আরম্ভ করেছে। বাইরে জনতা উত্তাল এক স্বৈরাচারী সরকারকে ঠেলে ফেলে দিতে। চিরকাল নিজের পীঠ বাঁচিয়ে চলা বাঙ্গালী মধ্যবিত্তের প্রতিভূ মোকামের হাতে সুযোগ এসেছে ইতিহাস নির্মাণের। রাস্তায় আন্দোলনরত কূলনামহীন মানুষদের মসিহা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার। সামনে দাঁড়িয়ে তাদের নেতৃত্ব দেয়ার। জলপাইচাষি বড়চাচার চোখে চোখ রেখে তার মেয়ে মৌলীকে ছিনিয়ে নেয়ার।
মোকাম মাহমুদ কি সাড়া দেবে টিকটিকির উদাত্ত আহ্বানে? সে কি প্রতিভাত হবে, বাঙ্গালী মধ্যবিত্তের ত্রাতারূপে?
লেখক পরিচিতিঃ সাজিদ উল হক আবিরের জন্ম ১৯৯০ সালের অগাস্ট মাসে, পুরান ঢাকার আইজিগেট ফরিদাবাদে। মূলত কথাসাহিত্যের চর্চা করেন। উপন্যাস ও ছোটগল্পই তার আরাধ্য শিল্পমাধ্যম। বিদেশী ভাষায় রচিত কোন বই পাঠের সময় প্রবলভাবে নাড়া দিয়ে গেলে তা হুট করে অনুবাদ করে ফেলারও নজির আছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১০। একটি উপন্যাস, পাঁচটি ছোটগল্পের সংকলন, একটি কাব্যগ্রন্থ, এবং তিনটি অনুবাদ গ্রন্থ। অনুবাদ করেছেন মিলান কুন্ডেরা, প্যাট্রিক মোদিয়ানো, হারুকি মুরাকামি, এলিফ শাফাক ও বেন ওকরির উপন্যাস ও গল্প। থিয়েটার গ্রুপ ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে কর্মী হিসেবে যুক্ত।
আবিরের পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে। খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগে পড়িয়েছেন বাংলার শিল্পকলার ইতিহাস, এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন অনুষদে পড়িয়েছেন ফ্রাঞ্জ ফানো, এডওয়ার্ড সাইদ, এনগুগি ওয়া থিওঙ্গো, এবং গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের উত্তর ঔপনিবেশিক লেখাপত্র।
২০২৫ সালে তার গল্পগ্রন্থ নির্বাচিত দেবদূতের জন্য ভূষিত হয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ কালি ও কলম তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরষ্কারে।
আবিরের লেখা, সুর করা, ও গাওয়া মৌলিক গানগুলি পাওয়া যাবে তার ইউটিউব চ্যানেলেঃ Shazed Ul Hoq Aabir
ইমেইলঃ [email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




