somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিনোকিও

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৩:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এই গল্পটা ১৫ বা ১৭ বছর আগে অনুবাদ করেছিলাম। ২০১৪ সালে বের করার জন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিলো। কিন্ত শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে আর বের করা হয়নি। তাই এই লেখাটা এখনো কোনো পাঠক পড়েননি।

ব্লগে বেশীরভাগ সময়ই দেশ-বিদেশের জটিল সমস্য নিয়ে আলোচনা হয়। যারা করে তাদের মধ্যে আমিও একজন।
মাঝে মাঝে আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষামূলক কিছু প্রকাশিত হওয়াও দরকার।

তাছাড়া এখানে বিয়ে বা জন্মদিনের মতো অনেকের নিজের বা পরিবারের সদস্যদের জীবনের বিশেষ দিন থাকে, যাদের সাথে দেখা না হওয়ায় বা ব্যাক্তিগত পরিচয় না থাকায় কোনো বিশেষ দিনে উপহার দেয়াও সম্ভব হয় না।

আমার মনে হয়, আমরা সবাই জীবনের কোনো না কোনো সময় পিনোকিও-র মতো দুষ্ট ছিলাম।

বিভিন্নভাবে শিক্ষা পেয়ে নিজেকে উন্নত করে গড়ে তুলেছি।

এই শিক্ষামুলক বক্তব্যের জন্যই ইটালিয়ান লেখক কার্লো কলোডি-র লেখা এই গল্পটা অমর সাহিত্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ।

পিনোকিও
- কার্লো কলোডি


জেপেটো নামে এক কাঠমিস্ত্রি একদিন এমন একটা পুতুল বানাতে শুরু করলো যেটা নাচতে, দাড়াতে এবং লাফাতে পারবে। সে পুতুলটার নাম দিলো পিনোকিও। সে ভাবলো, নামটা তার জন্য সৌভাগ্য বয়ে নিয়ে আসবে। পুতুলটাকে কথা বলতে এবং নড়াচড়া করতে দেখে জেপেটা খুবই অবাক হলো। একটা দুষ্টু ছেলের মতো সে দৌড়ে পালিয়েও যাচ্ছিলো।
একদিন জেপেটোর ঘরে একটা বড় ঝিঝিপোকা দেখা গেলো। সে পিনোকিওর কাছে নিজেকে কথা বলা ঝিঝিপোকা বলে পরিচয় দিলো। কাঠের পুতুলটাকে ভালো হয়ে চলতে এবং ভালো আচরণ করতে বললো। তার উপদেশ না শুনলে সে বড়ো বিপদে পড়বে বলে তাকে সতর্ক করে দিলো।

কিন্তু পিনোকিও তার কথায় কান দিলো না। সে দুষ্টুমি করেই আনন্দ পেতো এবং সবসময় হাসি-ঠাট্টা করতে চাইতো। এমনকি একসময় সে একটা কাঠের হাতুড়ি নিয়ে ঝিঝিপোকাটাকে ধাওয়া করলো। কারণ সে আর তার উপদেশ শুনতে চাচ্ছিলো না।


একদিন পিনোকিও সত্যিকারের ছেলেদের মতো পাঠশালায় পড়তে যেতে চাইলো। জেপেটো নিজের কোট বিক্রি করে তার জন্য একটা পড়ার বই কিনে দিলো। পিনোকিও বই হাতে নিয়ে পাঠশালার দিকে রওনা দিলো। মাত্র কিছুদূর যাওয়া পরই পিনোকিও অনেকের হৈচৈয়ের শব্দ শুনে একটা পুতুলনাচের আসরে এসে উপস্থিত হলো। পুতুল নাচ দেখার প্রবেশপত্র কেনার জন্য সে এক ব্যবসায়ীর কাছে তার বই বিক্রি করে দিলো।
পুতুলনাচের পুতুলগুলো বুঝতে পারলো, পিনোকিও সত্যিকারের কোনো ছেলে না, সে আসলে একটা পুতুল। তারা চিৎকার করে তাকে মঞ্চে এসে তাদের সাথে যোগ দিতে বললো। তারা খুব হৈচৈ শুরু করে দিলো। পুতুল নাচের আসরের পরিচালক খুব রেগে গেলো এবং এখানে এসে গোলমাল সৃষ্টি করার জন্য পিনোকিওকে কেটে আগুনের কুন্ডলীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দিলো।

কিন্তু পিনোকিও তার কাছে ক্ষমা চাইলো। সে আর গোলমাল না করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলো। তারপর সে বললো জেপেটো কিভাবে তার বই কেনার জন্য নিজের কোট বিক্রি করে দিয়েছিলো। সে স্বীকার করলো যে, পুতুলনাচ দেখার টিকেট দেখার জন্য বই বিক্রি করে সে খুবই বোকামি করেছে। বাড়ি ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেলে সে বুদ্ধিমানের মতো চলতে চেষ্টা করবে বলে জানালো।

পুতুলনাচের আসরের পরিচালক পিনোকিওর কথা শুনে তার জন্য দুঃখিত হলো। তারপর সে বই এবং কোট আবার কিনে নেয়ার জন্য তাকে পাঁচটা সোনার খন্ড দিলো। পিনোকিও তাকে ধন্যবাদ দিয়ে সোজা বাড়ি ফিরে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করলো।

কিছুদূর যাওয়ার পর তার সাথে একটা খোড়া শিয়াল এবং একটা অন্ধ বিড়ালের দেখা হলো। পিনোকিওর কাছে মূল্যবান জিনিস আছে জেনে তারা তার সাথে বন্ধুত্বের অভিনয় করলো এবং কাছের সরাইখানায় বসে তাদের সাথে রাতের খাবার খেতে আমন্ত্রণ জানালো। খাওয়া শেষে তারা ঘুমাতে গেলো।

শিয়াল এবং বিড়ালটা আসলে খাড়া এবং অন্ধ ছিলো না। পিনোকিও ঘুমিয়ে পড়ার পর তারা তার সোনার খন্ডগুলো কেড়ে নেয়ার একটা ফন্দি আটলো। তারা ডাকাতদের মতো কালো পোশাক পরে বনের ভিতরে লুকিয়ে থাকলো। পিনোকিও যখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলো, সেইসময় শিয়াল এবং বিড়ালটা তাকে একটা গাছের সাথে বেধে ফেললো। তারা সোনার খন্ডগুলো তার কাছ থেকে কেড়ে নিতে চাইলো। কিন্তু পিনোকিও সেগুলো তার হাতের ভেতরে শক্ত করে ধরে রাখলো।



কাছেই একটা পরী বাস করতো। পিনোকিওর দুর্দশা দেখে সে শিয়াল ও বিড়ালকে তাড়িয়ে তাকে উদ্ধার করে তার প্রাসাদে নিয়ে আসার জন্য তার কুকুরটাকে সেখানে পাঠালো। পিনোকিও প্রাসাদে আসার পর পরী তাকে জিজ্ঞেস করলো, সে কিভাবে এই বিপদে পড়লো। পিনোকিও সত্য বলতে লজ্জা পাচ্ছিলো। কিন্তু সে প্রতিবার মিথ্যা বলার সাথে সাথে তার নাকটা বড়ো হতে শুরু করলো। সে খুবই ভয় পেলো। কিন্ত সত্য কথা বলা মাত্র তার নাকটা আবার স্বাভাবিক হয়ে আসলো। পিনোকিও বুঝতে পারলো যে, মিথ্যা বললে ধরা পড়তেই হয়।
সবসময় সত্য কথা বলার প্রতিজ্ঞা করে সেবাড়ির পথে হাটতে শুরু করলো।

কিন্তু বোকা পিনোকিওর সাথে আবারো শিয়াল এবং বিড়ালটার দেখা হলো। এবার তারা তার সোনার খনন্ডগুলো মাটিতে রোপণ করার উপদেশ দিলো যেনো রাতের শেষে সেগুলো সোনার গাছে পরিণত হয়। কিন্তু পিনোকিও ঘুমিয়ে পড়া মাত্র তারা মাটি খুড়ে †সোনার খন্ডগুলো নিয়ে পালিয়ে গেলো।
মন খারাপ করে পিনোকিও বাড়ির পথে রওনা দিলো। এবার তার সাথে একদল পাজি ছেলের দেখা হলো। তারা তাকে এমন একটা সুন্দর জায়গার কথা বললো যেখানে তারা ইচ্ছামতো আনন্দ করতে পারে। জায়গাটা ছিলো বিভিন্ন রকম খেলনা এবং খাবারে পূর্ণ।


কিন্তু তারা পিনোকিওকে একটা কথা বললো না। যে ছেলেরা সেখানে দুষ্টমি করে তারা গাধায় পরিণত হয় এবং তাদের সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়। সুতরাং কিছু সময়ের মধ্যেই পিনোকিও একটা গাধায় পরিণত হলো এবং তাকে একটা সার্কাসের দলের কাছে বিক্রি করে দেয়া হলো।



তাকে নাচতে এবং একটা গোল চাকতির মধ্যে দিয়ে লাফাতে শেখানো হতে থাকলো। কিন্তু সে এগুলো ভালোভাবে পারতো না। সে আঘাত পেয়ে খাড়া হয়ে গেলো। খাড়া গাধা খেলা দেখাতে পারে না। তাই তাকে ডুুবে যাওয়ার জন্য সমুদ্রে ফেলে দেয়া হলো। সে পানিতে পড়ামাত্র হঠাৎ যেনো যাদুমন্ত্রের ফলে আবার পুতুলে পরিণত হলো এবং একটা বিশাল তিমি তাকে গিলে ফেললো।

মাছের পেটের ভিতরটা ছিলো অন্ধকারময়।

পিনোকিও ভয় করতে থাকলো। সে চারিদিকে তাকালো। তার মনে হলো মাছের পেটের ভিতর থেকে তার দিকে একটা আলো আসছে।
একটা সবুজ বোতলের ভিতরে জ্বলতে থাকা মোমবাতি হাতে জেপেটোকে সেখানে দেখে সে তার নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলো না।
সে দৌড়ে তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলো। জেপেটো পিনোকিওর জন্য খুব দুশ্চিন্তায় ছিলো। তাই সে একটা ছোটো নৌকায় চড়ে তাকে খুজতে বের হয়েছিলো। কিন্তু নৌকাটা ঝড়ের মধ্যে পড়েছিলো। সমুদ্র তার নৌকাটা এক ঢোকে গিলে ফেলেছিলো।
অবশেষে পিনোকিও বুদ্ধিমান এবং বিবেচক হলো। সে তার জন্য জেপেটোকে চিন্তায় এবং বিপদ ফেলার প্রতিদান দিতে চাইলো।

তিমিটা যখন সমুদ্রের তীরের কাছাকাছি তার মুখ খোলা রেখে ঘুমিয়ে ছিলো তখন পিনোকিও জেপেটোকে নিয়ে তার খোলা মুখ দিয়ে বের হয়ে পড়লো। তারা সাতার কেটে তীরে পৌছালো এবং তার সাথে শিয়াল এবং বিড়ালটার দেখা হলো। তখন তারা সত্যিকারেই খোড়া এবং অন্ধে পরিণত হয়েছিলো। কিন্তু পুরানো ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পিনোকিও তাদের এড়িয়ে চললো

অবশেষে পিনোকিও এবং জেপেটো বাড়ি পৌছালো পিনোকিও জেপেটোর দেখাশোনা করতো, তার জন্য রান্না করতো, কাজ করে আয় করতো এবং পড়াশোনাও করতো। তার যত্নে জেপেটো আবারো শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠলো। এক রাতে পিনোকিও স্বপ্নে দেখলো যে, সাদা পোশাক পরা পরী এবং কথা বলা ঝিঝিপোকাটা তার সাথে দেখা করতে এসেছে। তারা তাকে মনে করিয়ে দিলো, যে ছেলেরা ভালো আচরণ করে, সত্য কথা বলে এবং পড়াশোনা করে, তারা সবসময় পৃথিবীতে সফল এবং সুখী হয়। অবশেষে পিনোকিও এর প্রমাণ পেলো।

স্বপ্ন দেখা শেষে পিনোকিও তার চোখ খুললো। সে চারিদিকে তাকালো। তখন সে আর কোনো কাঠের পুতুল ছিলো না। অন্যান্য ছেলেদের মতো একটা সত্যিকারের ছেলেতে পরিণত হয়েছিলো। তার আগের কাঠের শরীরটা স্থিরভাবে একটা চেয়ারের উপর পড়ে ছিলো।
সে দৌড়ে জেপেটোর কাছে গেলো। জেপেটো তখন কাঠেরর কাজ করছিলো। তাকে সত্যিকারের ছেলেতে পরিণত হতে দেখে সেও খুব খুশি হলো। পিনোকিও অন্যান্য ছেলেদের মতোই পাঠশালায় যেতো এবং বিভিন্ন কাজে জেপেটোকে সাহায্য করতো।

পিনোকিও এবং জেপেটো আনন্দের সাথেই তাদের বাকী জীবনটা কাটিয়ে দিলো।

‘‘ শেষ ’’

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৫৮
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন ডোডো পাখি

লিখেছেন জাহিদ হাসান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৩৮


পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া পাখির একটি প্রজাতি হচ্ছে ডোডো । এটি ওশেনিয়া বা অষ্ট্রেলিয়া মহাদেশের অধিবাসী ছিলো। বর্তমানে তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু আজকে আমি সেই ডোডো পাখি নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাখো তৌহিদী জনতার কান্না আহাজারিতে চির বিদায় আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:০৬

হাটহাজারি মাদরাসা প্রাঙ্গন। ছবিঃ অন্তর্জাল।

লাখো তৌহিদী জনতার কান্না আহাজারিতে চির বিদায় আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.

লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে স্মরণকালের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ নামাজে জানাজা শেষে হেফাজতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকাইয়া কুট্টিঃ 'চান্নিপশর রাইতের লৌড়' ও কবি জুয়েল মাজহার

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৫


ঢাকার নামকরন নিয়ে দ্বীতিয় কিংবদন্তীঃ
৭৫০ সাল থেকে ১১৬০ সাল পর্যন্ত ‘ঢাবাকা’ নামের ৪১০ বছরের সমৃদ্ধশালী বৌদ্ধ জনপদই আজকের ঢাকা মহানগরী। ১১৬০ থেকে ১২২৯ সাল পর্যন্ত মাত্র ৬৯ বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে এই শাহ আহমদ শফী?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৩২



শাহ আহমদ শফী ১৯২০ কারও মতে ১৯৩০ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়াটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করে। কারও মতে ১০৩ বছর বয়সী এই আহমদ শফী ১০ বছর বয়সে হাটহাজারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতাব্দীকালব্যাপী বর্ণাঢ্য জীবনের সফল মহানায়কের মহাপ্রয়াণঃ

লিখেছেন কসমিক রোহান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৩৭



জীবদ্দশায় যেখানেই তিনি গিয়েছেন মুহুর্তেই জনসমূদ্র হয়ে গেছে, ইন্তিকালের পরেও ঘটেছে একই ঘটনা।
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগে স্বাক্ষি হওয়া হাসপাতাল জুড়ে ছিলো বাঁধভাঙা জনস্রোত, লাশ মুবারাক ফরিদাবাদ আনা হলে বিশাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×