somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যাপক শিল্পায়ন ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অসম্ভব

১৮ ই নভেম্বর, ২০২০ ভোর ৫:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পৃথিবীর প্রতিটা স্বাধীন দেশ ব্যাপক শিল্পায়নের মাধ্যমে নিজেদের দেশকে উন্নত করার নীতি গ্রহণ করেছে। চীন.জাপান ,কোরিয়া , সিঙ্গাপুর এবং মালয়শিয়ার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে শুধু শিল্পায়নের মাধ্যমেই এবং এর ফলে তারা মাত্র ১০-১৫ বছরের মধ্যেই নিজেদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলতে পেরেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৫০ বছর আগে। অথচ স্বাধীনতার এতোবছর পরও এই দেশটা শিল্পে উন্নত হতে পারেনি। যদিও দেশে জাহাজের মতো ভারী শিল্প কারখানাও উৎপাদন এবং বিদেশে রপ্তানী করছে , তারপরও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্প পণ্যের চাহিদা পূরণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো যথেষ্ট শিল্প কারখানা দেশে গড়ে ওঠেনি।

অথচ ৮০’র দশক থেকে সরকারীভাবে এ উদ্দেশ্যে যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে। শিল্প ব্যাংক নামে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং অন্যান্য ব্যাংক থেকেও শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য ঋণ দেয়া হয়েছে। কিন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিল্পের নামে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের কাজে লাগিয়েছে। সেইসময় থেকেই দেশে শিল্প ঋণ নিয়ে কারখানা না করে গাড়ি-বাড়ি করার সংস্কৃতি চালু হয়। একইসাথে শুরু হয় ঋণখোপি হওয়ার রীতি, যা এখনো চালু আছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী,এখন পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। বিগত ১৯৯১-৯৫ সালে বিভিন্ন আলোচনা ও বক্তৃতায় বক্তারা বলতেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে যে পরিমাণ টাকা শিল্প ঋণ দেয়া হয়েছে, সেই পরিমাণ শিল্প কারখানা স্থাপন করা হলে দেশ কল-কারখানায় ধোয়ায় ভরে যেতো।

তবে গত প্রায় এক দশক ধরে ভূয়া শিল্প মালিক এবং পুরানো খেলাপিদের ঋণ দেয়া হলেও প্রকৃত শিল্প উদোক্তা বা জরুরী প্রয়োজনের ঋণ প্রত্যাশী বেশীরভাগ ব্যাক্তিই ব্যাংক থেকে ঋণ লাভে ব্যা্র্থ হন।মাত্র ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিতে গেলেও ব্যাংক বাড়ি বন্ধক দিতে বলে। আবার অধিক পরিমাণ ঋণের ক্ষেত্রে বন্ধক দেয়ার মতো নিজেদের নিজেদের যথেষ্ট পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি থাকার পরও লাভজনক ব্যবসা এবং ব্যাংক হিসাব বিবরণী দিতে বলা হয়। ঋণ প্রদানে এধরনের বৈষম্যমূলক নীতির কারণেও দেশে শিল্প উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বেশীরভাগ শিল্পপণ্যই এবং কাচামালের জন্যই বাংলাদেশ আমদানী নির্ভর। দেশে ক্ষেত্রভেদে ৯০-৯৯ % শিল্পের কাচামাল, চিকিৎসা, প্রকৌশল, কম্পিউটার সামগ্রী ও যন্ত্রাংশ যানবাহন,মোবাইল, বহুতল ভবনের জন্য বৃহৎ জেনারেটর ও লিফটসহ বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক, সামগ্রী বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়।

দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার বাংলাদেশের একটা মৌলিক চাহিদায় পরিণত হয়েছে। ব্যাক্তিগত, বানিজ্যিক বা রাষ্ট্রীয় এমন কাজ কমই আছে যা কম্পিউটার ছাড়া সম্পন্ন করা সম্ভব। অথচ বাংলাদেশ জাহাজ বানালেও সামান্য একটা কম্পিউটার মাউসও বানায় না। একমাত্র ইউপিএস ছাড়া কেসিং,কি-বোর্ড, হার্ডডিস্ক, মাদার বোর্ড, র‌্যাম,প্রসেসর, স্পিকার, মাইক, পেন ড্রাইভ, এ্যান্টি ভাইরাস সহ এমন কোনো কম্পিউটার সামগ্রী নাই, যেটা বাংলাদেশে উৎপাদন করে। প্রতি বছর এই খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানী করতে হয়। শুধু ধোলাইখাল ও জিঞ্জিরার অবহেলিত প্রতিষ্ঠানগুলিকে পৃষ্ঠপেোষকতা করে এসব উৎপাদনের দায়িত্ব দায়িত্ব দিলে বছরে হাজার কোটি টাকা আয় এবং প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা করা সম্ভব।

দেশে ল্যাপটপ ও ট্যাবের চাহিদাও প্রচুর। প্রায় ১ যুগ আগে বাংলাদেশে ল্যাপটপ উৎপাদনের ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো। কিন্ত টেশিশ এর ১০ হাজার টাকার দোয়েল ল্যাপটপ মানহীনতার কারণে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ব্যার্থ হয়েছে। এক পর্যায়ে এর উৎপাদনই বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে বছরে শতকোটি টাকার ল্যাপটপ বাজার চলে গেছে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে।

বাংলাদেশ নিজস্ব ব্র্যান্ডের মানসম্মত কম্পিউটার বা আইটি সামগ্রী উৎপাদন করতে না পারলে যেকোনো বিদেশী ব্র্যান্ডের সাথে যৌথ উদ্যোগে এসব বানানোর শুরু করা এজন্য সরকারী-বেসরকারী যৌথ মালিকানায় কারখানা স্থাপন করে উৎপাদন করা হলে লোকসানের কোনো সুযোগ নাই, কারণ এসব এখন দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা।

একইভাবে বাংলাদেশের গাড়ি উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি দীর্র্ঘদিন ধরে দেশে মানসম্মত যানবাহন তৈরী করে আসছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরণের যানবাহনের চাহিদা প্রচুর। সরকারী সব প্রতিষ্ঠান, কর্মচারী এবং সরকারী ব্যাংকগুলির ঋণে বাধ্যমুলকভাবে প্রগতির তৈরী যানবাহন কেনার নির্দেশনা দেয়া হলে এবং এর শেয়ার বাজারে ছাড়া হলে এই প্রতিষ্ঠানটাকে আরো লাভজনক এবং মিৎশুবিশি,ভলভো, টয়োটা,হিউন্দাই ও টাটার মতো বিশ্বসেরা যানবাহন প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।

সস্প্রতি ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত নিয়ে চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে ভারতে। এই দ্বন্দ্বের জেরে চীনের পণ্য বয়কট করা শুরু করেছে দেশটি। আর এটি ভারতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে এবং বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য কলকারখানা তৈরির প্রতি জোর দিয়েছে ভারত। পাশাপাশি দেশটির যে সব কলকারখানা চীনা পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল সেগুলোও এখন বিকল্প দেশ থেকে প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছে।বাংলাদেশে ব্যাপক শিল্পায়ন করা হলেও একই ঘটনা ঘটবে। ১৭ কোটির বেশী জনসংখ্যার বাংলাদেশ নিজেই বিভিন্ন শিল্প পণের বড় বাজার। সুতরাং উল্লেখিত কারাখানাগুলি দেশেই স্থাপন ও পণ্য উৎপাদন শুরু করলে দেশ ও জাতি সবদিক দিয়েই লাভবান হবে।

বাংলাদেশের উন্নয়ণ নিয়ে বিভিন্ন রকম প্রচারণা চালানো হলেও বাস্তবে পত্রিকায় প্রকশিত তথ্য অনুযায়ী এখনো বাংলাদেশের প্রায় ৯ কোটি লোক ভূমিহীন এবং ৫ কোটি লোক বেকার। দারিদ্রের কারণে কাজের সন্ধানে বাংলাদেশের মানুষ বিপদজনভাবে জীবনের ঝুকি নিয়ে সমুদ্রপথে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়ে চরম দূর্দশায় পড়ছে।দেশে আগামী ১০০ বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে যথেষ্ট পরিমাণ কৃষিজমি সংরক্ষিত রেখে প্রতিটা এলাকার অবশিষ্ট অনুর্বর ও পতিত জমিতে ব্যাপকভাবে শিল্প কারখানা স্থাপন করা না হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা বেকারত্ব নির্মূল করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।




সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ২:৫৫
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জন্ম থেকেই আমরা ৩য় বিশ্বে আছি, আর কত সময় থাকতে হবে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:১৪



পাকিস্তান আমলে আমরা ৩য় বিশ্বে ছিলাম; বাংলাদেশ জন্ম নিয়ে নিজকে আবিস্কার করেছে ৩য় বিশ্বে; ৫০ বছর পরেও সেই ৩য় বিশ্বে আছে; আরো কত বছর থাকবে, কোন ধারণা?

আমরা ৩য়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শীত বিলাস ২০২০

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৩৬



শীত আসে শীত যায়, আমরা শহুরে মানুষেরা টেরই পাই না। গ্রামীণ শীত উপভোগ করার জন্য আমরা গত কয়েক বছর যাবত ঢাকার খুব কাছেই নাগরীতে ধানি জমির মাঝে আমাদের আশ্রমের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়ের চরণ

লিখেছেন বিএম বরকতউল্লাহ, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৫৫


একলা ঘরে আপন মনে কেঁদে ভাসায় বুক
খুঁজে বেড়ায় শূন্য ঘরে হারিয়ে যাওয়া সুখ
সুখ আসে না দুঃখ এসে নিত্য করে খেলা
কী অপরাধ কেন যে তাঁর এমন অবহেলা!


মা...
জগতের যতো সুখটুকু আছে
এনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাভ জিহাদ

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৪


‘লাভ জিহাদ’ সংক্রান্ত এক মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। ২০ বছরের এক মহিলাকে তাঁর স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আদালত জানিয়েছে, এক জন সাবালক মহিলা যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যারাডোনার জন্য কেহই বেহেশত চাচ্ছেেন না আল্লাহের কাছে!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২১



আজকের এই মহুর্তে, বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ হচ্ছেন, দিয়েগো ম্যারাডোনা; আমি নিজেও উনার খেলার ভক্ত; উনার অকাল মৃত্যুতে মনটা খারাপ হয়েছে। উনার মৃত্যু সংবাদ আমি অনেকটা সাথে সাথেই পেয়েছি;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×