somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেয়েদের এতো ছেলে বন্ধুর দরকার কেনো ?

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাজধানীর কলাবাগান থানা এলাকায় ধর্ষণের ফলে ‘ও’ লেভেল পড়ুয়া এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। ভিকটিমের নাম আনুশকাহ নূর আমিন (১৮)। সে মাস্টার মাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের ছাত্রী। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ আনুশকাহর বন্ধু দিহানসহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে।
স্বজনদের দাবি, আনুশকাহকে বাসায় ডেকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে দিহান। তার বাবা আল আমিন মেশিনারি ব্যবসায়ী। ধানমন্ডির ১৩/এ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর বাড়িতে আল আমিন সপরিবারে থাকেন। দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে আনুশকাহ বড়।

কলাবাগান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ঠাকুর দাশ জানান, দিহানের সঙ্গে আনুশকাহর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে দিহানের সঙ্গে দেখা করার জন্য কলাবাগানের ডলফিন গলির বাসায় আসেন মেয়েটি। সে সময় দিহানের বাসায় তার পরিবারের কেউ ছিল না। দিহান মদপান করে মাতাল হয়। ঐ সময় দিহানের সঙ্গে তার আরো তিন বন্ধু ছিল। মেয়েটিকে দিহান উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে দিহান চিন্তিত হয়ে পড়ে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুপুরে আনুশকাহকে দিহান ও তার বন্ধুরা আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছেন ফারদিন ইফতেখার দিহান (২০)। শুক্রবার দুপুরে কলাবাগান থানা পুলিশ দিহানকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের আদালতে হাজির করে। আদালতে দিহানকে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য ১ ঘণ্টার বেশি সময় দেয়। পরে দিহান আদালতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।গ্যাং গ্রুপের নেতা দিহান

দেশে গত কয়েকবছর ধরে ধর্ষণ ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিশ এ্যান্টেনা ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণহীণ বিদেশী অশ্লীল সংস্কৃতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি এর জন্য প্রধানত দায়ী।

ধর্ষণকারীদের হাত থেকে যখন শিশু এবং বৃদ্ধাও রক্ষা পাচ্ছে না, তখনই এর বিপরীত চিত্রও দেখা যাচ্ছে কিছু মেয়ের মধ্যে। এরা নিজেদের পড়াশোনা বা জ্ঞান অর্জনে গুরুত্ব না দিয়ে দিনের বেশীরভাগ সময় নষ্ট করছে একাধিক ছেলের সাথে মোবাইল -ফেসবুকে আড্ডবাজি এবং তাদের সাথে খাবার দোকানে দেখা করা এমনকি তাদের নিজেদের বা বন্ধু-বান্ধবীদের বাড়িতে অভিভাবকদের অনুপস্থিতিতে তাদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে। আর এধরণের ঘটনার ফলেই কলাবাগানের এই ছাত্রী নির্যাতিত ও নিহত হয়েছে।

একটা১৭/১৮ বছরের প্রথম বর্ষে পড়া মেয়ের প্রধান দায়িত্ব হবে পড়াশোনার। সে কেনো একটা চিহ্নিত অপরাধী ছেলের ফোন পেয়েই তার বাড়িতে চলে যাবে যে তার সহপাঠীও না? এর ফলে যে ভয়াবহ বিপদ হতে পারে এটা বোঝার মতো বয়স কি তার হয়নি ?
বাসে বা হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গিয়ে কোনো নারী নির্যাতিত হলে সে দায় সম্পূর্ণভাবে অপরাধী শ্রমিক ও চিকিৎসকদের। কিন্ত ছেলে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে কোনো মেয়ে ধর্ষিত হলে সে তার দায় এড়াতে পারে না।

আগের একটা লেখায় বলেছিলাম, ১৯৯৯ সালে ফোনে পরিচিত হওয়া একটা মেয়ে কিভাবে আমার বাসায় চলে এসেছিলো, যে বাসার একটা ফ্ল্যাটে আমি একাই থাকতাম। সেদিন আমার জায়গায় এই দিহান থাকলে তার এই পরিণতিই ঘটতো। তাকে আর কোনো ছেলের বাড়িতে এভাবে না যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছিলাম।

বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে মাঝে-মাঝেই লিখি। কারণ নিজের সময়ের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই প্রজন্মের নৈতিকতার পার্থক্যটা সমসময়ই অবাক করে।

প্রেম সবমসময়ই ছিলো এবং থাকবে ।

কিন্ত পশ্চিমের ভালো কোনো কিছুই গ্রহণ না করে প্রেমের নামে শুধু অবাধ সম্পর্কের বিষয়টাই নোংরা ভাবে অনুকরণ করার ব্যাপারটা জঘণ্য লাগে।

এখনকার ছেলেদের মতো মেয়েদেরও নৈতিকতার অধ:পতন কতোটা হয়েছে, সেটা প্রতিদিন নিজে চোখেই দেখছি। বাড়ি নির্মাণকাজ উপলক্ষ্যে গত ২.৫ বছর ধরে যে এ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ভাড়া আছি, সেখানকার একটা ফ্ল্যাটে বসবাসকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী , নিজের মুখ ছাড়া সারা শরীর বোরখায় ঢেকে রাখা এক জামাতি মেয়ে অভিভাবকদের অনুপস্থিতিতে এক হিন্দু ছেলের সাথে নিয়মিত অনৈতিক সম্পর্ক করে বলে ভবনের তত্বাবধায়ক অভিযোগ করলো।

এছাড়াও ভিখারুণনিসা ও আইডিয়ালে পড়া আরো দুই মেয়েকে দেখি, মেয়েদের প্রতিষ্ঠানে পড়লেও সারাদিন এলাকা এবং ফেসবুকে পরিচয় হওয়া ছেলেদের সাথে বাড়ির ছাদে, রাস্তায় এবং পড়তে যাওয়ার নাম করে নাটক সরনী এবং খিলগাও-এর বিভিন্ন খাবার দোকানে আড্ডা ও ঘোরাঘুরি করতে । আরেক মেয়েকে তার মা ৫ বছর আগে ভালো পাত্রের সাথে বিয়ে দেয়নি।। এখন মেয়েদের ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়া এই মেয়ে কয়েকমাস পরপর ফেসবুতে পরিচিত হওয়া নতুন নতুন ছেলে-বন্ধুকে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে আসে। বাইকে করে ঘোরাঘুরি করে। তারা আবার এসব ছবি ফেসবুকেও অবাধে দেয়। আর তাদের এরকম উশৃংখল আচরণের ফলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে তখন দোষ দেয়া হয় রাষ্ট্রের উপর।


অতি চালাক কিছু মেয়ে আবার অগণিত ছেলের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করা পর লোভনীয় কেউ বিয়ে করতে অস্বীকার করলে শত বছর আগে বৃটিশ প্রনীত উদ্ভট আইন ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেও ফাদে ফেলে।

অথচ নৈতিকতাহীন আচরণের কারণে নিজের বিপদ ঘটলে সেজন্য কোনো মেয়ে সম্পূর্ণ নিজেই দায়ী। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের করার কিছুই নাই।

২০০৯ সালে একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছিলাম অন্ধকার কক্ষে ছাত্র-ছাত্রী নামধারীদের লেসার লাইটের আলো-আধারীতে উন্মাতাল নাচে মেতে উঠা। বন্ধ বিশাল কক্ষে যেকোনো সময়য়ে একটা দূর্ঘটনা ঘটতে পারে অনমুান করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে একমাত্র আমিই এসব উশৃংখলতার প্রতিবাদ করেছিলাম। খবর নিয়ে জানলাম, হিন্দি সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠা শিক্ষার্থীদের দাবীর কারণেই কর্তৃপক্ষ এসবের অনুমতি দিতে হয়েছে। যাহোক শেষ পর্যন্ত আমার প্রতিবাদেই হয়তো এসব বন্ধ করা হয়েছিলো।

সারা দেশে তসলিমার অনুসারী মেয়েদের সংখ্যা বিপদজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যারা ছেলে খারাপ, পুরুষ খারাপ বলতে বলতে পর্বত ফাটিয়ে ফেলে, কিন্ত বাস্তব জীবনে পুরুষ ছাড়া এক মুহুর্ত থাকতে পারে না। উড়ুক্ক নামে এক উপন্যাসের একটা চরিত্রও এরকমই পড়েছিলাম।

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কিন্ত অনৈতিক সম্পর্ক করে না, এমন কাউকে প্রায় খূজে পাওয়া যাবে না।

তরুণ প্রজন্মের পশ্চিমের নীতি-নৈতিকতা, সততা দেশপ্রেম , শ্রমের মর্যাদা, আইন মেনে চলা বা বই পড়ার সংস্কৃতি অনুসরণ না করে শুধু সম্পর্কের ক্ষেত্রেই পশ্চিমকে অনুসরণ করার কারণ খূজতে গেলে দেখা যাবে , এর জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী এদের নষ্ট অভিবাবকরা। এদের নিজেদের মধ্যেই নীতি-আদর্শ বলে কিছু নাই। এরা নিজেরা এই বয়সে অভিভাবকদের বাধার কারণে রুম ডেটিং-এর মতো যেসব অসভ্যতা করতে পারেনি, এখন সন্তানদের অবাধে সেসব করতে দিয়ে নিজেদের ব্যার্থতার জ্বালা জুড়াচ্ছে। ১০/১২ বছরের সন্তানদের হাতে স্মার্ট ফোনে কিনে দিয়ে অবাধে ফেসবুক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।

কলাবাগানের মতো ছেলে-বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনা দেশের প্রতিটা এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে। কিন্ত মৃত্যৃ না হওয়ায় বা লোকলজ্জার ভয়ে এসব বাইরে প্রকাশিত হচ্ছে না।

এধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে অভিভাবকদেরই ভূমিকা নিতে হবে। অবশ্যই সন্তানদের নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। ১৮ বছর বয়সের আগে কোনোভাবেই তাদের স্মার্টফোন কিনে দেয়া যাবে না। তাদের বন্ধু-বান্ধব কারা সে সম্পর্কে খোজ-খবর নিতে হবে।

পিতামাতার প্রকৃত শাসন ও নিয়ন্ত্রণ থাকলে একটা সন্তান যেমন সৎ ও নীতিবান হয়ে বেড়ে উঠতে পারবে, একইভাবে এধরণের দু:খজনক ঘটনা থেকেও রক্ষা পাবে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ২:৩০
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুমি আমার দুঃখ বিলাসের একমাত্র কারণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ৯:০৬



কংক্রিটের রাত্রিতে, আঁধারের ওপার হতে দাও হাতছানি।
তুমি কি আলোর পাখি?

আগুন রঙা তোমার দু পাখায় আলোর ঝলকানি,
আমি বিহ্বল হয়ে চেয়ে থাকি,
তোমার বৈচিত্রময়তায়।

আঁধার হতে আলোয় উত্তরনের চেষ্টায় আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গনেশ মূর্তি-এক্সপেরিমেন্ট আর অন্ধ বিশ্বাস

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:০৩

Repost


ল্যাবে কলকাতার হিন্দু মেয়ে গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ড হিসাবে জয়েন করল। খুবই করিৎকর্মা ছাত্রী, প্রথম কয়েকমাস ছোট খাটো এক্সপেরিমেন্ট খুব সহজেই করা হত...আসল সমস্য শুরু হয় যখন স্যাম্পল থেকে প্রোটিন বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে থাকা মানেই কি দেশের সেবা করা???

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:০২



ব্লগে আসি কিছু আনন্দময় সময় কাটাতে। লিখতে ভালো লাগে, তাই লেখি। পড়তে ভালো লাগে, তাই যখনই সময় পাই, ব্লগে বিভিন্ন ধরনের লেখা পড়ি। ব্লগে সময় কাটানো মানেই একধরনের কোয়ালিটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রেডিয়াম গার্লদের বেদনাদায়ক ইতিবৃত্ত

লিখেছেন  ব্লগার_প্রান্ত, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:১১



শখের তোলা আশি টাকা। সেই শখ মেটাতে অনেকেই অনেক কিছু কিনে থাকেন। সৌখিন এই সকল মানুষদের তালিকার মধ্যে একসময় ছিলো একটি রেডিয়ামের হাত ঘড়ি অথবা দেয়াল ঘড়ি। এখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের জীবনচক্র

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:১৬



মানুষের জীবনচক্র নিয়ে আদি মানুষ থেকে শুরু করে, আজকের সায়েন্টিষ্টদের ধারণা, পর্যবেক্ষণ, ব্যাখ্যা ইত্যাদি আপনারা জানার সুযোগ পেয়েছেন; বিশ্বের শিক্ষিত অংশ বাইওলোজী, মেডিসিন, ফিজিওলোজির সাহায্যে মানুষ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×