
খেলা শুরু। গ্রামেগঞ্জে বিদ্যুৎ নেই। বিদুৎ যায় না বিদ্যুৎ আসে পরিস্থিতি আবার দেশে। বিশ বছর আগে যেমন ছিলো। আবার সারাদেশে হারিকেন, কুপি, মোমবাতি, হ্যাজাকের যুগ ফিরে আসছে। অপরাধ, দূর্নীতি, দুনম্বরি ধুমসে শুরু হয়ে গেছে চারপাশে। মোরে মোরে সরকারি দলের লোকজন প্রকাশ্যে অবাধ জবরদখল, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধে লিপ্ত। কদিন আগের ঘটনা, ঢাকার কোথাও কয়েকজন চাঁদাবাজ মিলে একজন ভ্রাম্যমান কুশারের শরবত বিক্রেতাকে জোরপূর্বক লাঞ্ছিত করে সড়ক থেকে উঠিয়ে দিলো। আশেপাশের উৎসুক জনতার দুয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম মৃদুস্বরে, ‘ভাই, এরা কি আইনের লোক? এরা এই মাঝবয়েসী দরিদ্র ভ্রাম্যমাণ শরবত বিক্রেতাকে সড়ক থেকে তুলে দিচ্ছে কেন? এরা সিদ্ধান্ত নেবার কে, যে এখানে এই শরবত বিক্রেতা থাকবে কি না?’ সবাই চুপ। সবার চোখেমুখে চাপা আতঙ্ক। অল্প দূরে গিয়ে দুয়েকজনের কাছে জানলাম যে, ওরা বিএনপির লোক। দাবি করা চাঁদা না দেয়ায় অত্যাচার নির্যাতন নেমে এসেছে কুশারের শরবত বিক্রেতার ওপরে। সবমিলিয়ে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়। সামনে আরও বহু খারাপ হতে চলেছে নিঃসন্দেহে। চারিদিকে ভয়, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। ২০০১ পরবর্তী সে ভয়ঙ্কর অন্ধকার সময় মনে পড়ে যাচ্ছে বারবার। সে দিন আবার ফিরে আসতে চলেছে নিঃসন্দেহে। এবার খাম্বা বোধহয় ইদি আমিনের স্ট্যাইলে দেশ চালাবে। দেশে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা সবই থাকবে। কিন্তু ঘরে ফিরে গেলে কি হবে তার দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিজের। ব্লগে লেখাও আজ আর নিরাপদ না। আমার কথা লিখে রাখেন যে, পরিস্থিতি আগামীতে ভয়াবহরকম খারাপ হতে চলেছে। খাম্বা খুব সম্ভবত এবার কিলিং মিশনের প্লান নিয়ে আসছে। প্রথম ভাষণে ওরকম কিছু বলেছেও। গুমফুম নয়, সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললেই এখন ডাইরেক্ট কিল। দেশের চল্লিশ থেকে পয়তাল্লিশ শতাংশ মানুষের সমর্থিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ব্যাপারটা ভয়াবহ। ভোট দিতে গিয়ে পছন্দের মার্কা ব্যালটে নেই দেখে মন ছোটো হয়ে এসেছিলো! এ কেমন গণতন্ত্র ভাই! এ কেমন বাকস্বাধীনতা! এক বা একাধিক ব্যক্তির অপরাধের জন্য দল বা সংগঠন নিষিদ্ধ করা সত্যি ভয়ঙ্কর ব্যাপার! দুই কোটি মানুষ সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত। ছয় কোটি ভোটার। তারা সবাই কি অপরাধী! গুজব হুজুগে সয়লাব বাঙ্গুল্যান্ড। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন আব্দুল মান্নান, যিনি নিজের সমস্ত সম্পত্তি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় দান করে অতি সাধারণ জীবনযাপন করে আসছেন। তাঁর নামেও ১০১টা দূর্নীতির গুজব! বাঙ্গুরা অত্যন্ত গুজবে, হুজুগে জাতি। সবমিলিয়ে দেশ নিয়ে ভীষণ হতাশ ও আতঙ্কিত। জয় বাবা ফেলুনাথ সিনেমার সেই বডি বিল্ডার ভাড়াটিয়া মলয় রায়ের মতো অবস্থা আমার। যারা সিনেমাটি দেখেছে, তারা বুঝবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


