somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

বাঙালির যৌন তাড়না পর্ব- চার/শেষ

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্ব পর্বগুলোর পর
প্রথম পর্ব Click This Link
দ্বিতীয় পর্ব Click This Link
তৃতীয় পর্ব Click This Link

১৬
সম্প্রতি ইতালিতে আবারো এক ছাত্রী বাঙালিদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হলেন। সৌদি আরবেও ধর্ষণ করে শিরোচ্ছেদের শিকার হয়েছে বহু বাঙালি। শ্বেতাঙ্গ নারীর নগ্ন পা দেখেই বহু বাঙালির স্খলন ঘটে যায় শুরুতে। এ বছর ঢাকাতেও একটি নামকরা স্কুলের এক ছাত্র, ক্লাসে শিক্ষিকার নগ্ন পেটের ছবি তুলে তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রবাসে গিয়েও কিছু তরুণ বিচে শুয়ে থাকা বিকিনি পরা নারীদের দেখে চোখ ফেরাতে পারে না। দেশে এসে এসব বর্ণনা করে আর তা শুনেই অনেকে শ্বেতাঙ্গীদের নগ্ন পা দেখার স্বপ্ন দেখে স্বপ্নদোষ ঘটায়।
প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির বিপুল অভিযোগ ছিল। লাম্পট্য, খুন, মিথ্যাচার, প্রতারণা, স্বৈরাচারী শাসন, ভোট ডাকাতি কি করেননি ক্ষমতায় থেকে? বহু নারীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলাটাই ছিল তার চরিত্রের বড় দিক। জেনাকে ইসলাম সমর্থন না করলেও বিপুল সংখ্যক মৌলবাদী বাঙালিকেই এরশাদের মৃত্যুর পর তার জন্য দুচোখ ভাসাতে দেখলাম। ডক্টর ইউনুস, এম শাখাওয়াৎ হোসেনসহ সুবিধাভোগীরা তার জন্য গদগদ। মিলিয়ে দেখলাম কারা এই পতিত ও প্রয়াত স্বৈরাচারের পক্ষে। অধিকাংশ ধর্মান্ধ মৌলবাদী তার পক্ষে কথা বলেছেন। এই শ্রেণিটাই লাম্পট্যে অভ্যস্ত। শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকার তারাই বেশি করেন। এরশাদকে পছন্দ করার পেছনে তার লাম্পট্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যারা লাম্পট্য করার স্বপ্ন দেখে তাদেরও একজন নেতা দরকার, কবি দরকার। এতগুলো বদগুণ একসঙ্গে আর কোথায় পাবেন তারা?


১৭
গণ সাহায্য সংস্থা (জিএসএস) এক সময় শীর্ষস্থানীয় এনজিও ছিল। শুধু মোহাম্মদপুরেই তাদের ১৭টি অফিস ভবন ছিল। ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল শুধু নির্বাহী পরিচালক মাহমুদুল হাসানের সীমাহীন লাম্পট্যের কারণে। তিনি সকাল সাড়ে ৭টায় অফিসে এসে যুবতী সুইপারকে দেখে যৌন তাড়না উপভোগ করতেন। একদিন সুইপারকে ধর্ষণ করতে গেলে ঝামেলা বেঁধে যায়। তিনি জনে জনে বলে বেড়ান তাকে ধর্ষণ করতে চাওয়ার কথা। ফাঁস হতে থাকে আরো বহু মেয়েকে ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার কথা। ওখানে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন নারী নেত্রী মালেকা বেগম। তিনিও অনেককাল নারীদের মুখ বন্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। শেষে বিস্ফোরণ ঘটে। সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। জিএসএস বন্ধ হয়ে যায়। বহু সুবিধাভোগী রথী মহারথীও বাঁচাতে পারেননি। প্রশিকা, আর্থ ফাউন্ডেশনসহ আরো কয়েকটি বৃহৎ এনজিওর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সাতে নারী নিপীড়নের অভিযোগ ছিল। এসব এনজিও টিকেনি।
দাতাগোষ্ঠীর চাপে এবং কম বেতনের কারণে এনজিওতে বিপুল সংখ্যক নারীর চাকরির সুযোগ হয়। বাঙালি পুরুষের সামনে এমন ঘটনা বিরল ছিল। তাদের কাছে চোখের সামনে এমন নারী ছিল অসহনীয়। কিছু লম্পট সরকারি কর্মকর্তা মনে করতো এরা বুঝি ভোগ্যপণ্য। কিছু এনজিওর পুরুষ নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধেও এমন মানসিকতার অভিযোগ ছিল।
নারীর ক্ষমতায়নে এনজিওগুলোর বিপুল ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। পাবনার একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ছিলেন মমতা আপা। তিনি প্রকাশ্যে স্বামীর পাশে বসে, পেশোয়ারে নাতনির জানালা দিয়ে হিসি করতে চাওয়ার মতো গল্প শুনিয়েছিলেন। বগুড়ায় টিএমএসএস বহুবার দেখা হয়েছে হোসনে আরা আপার সাথে। তিনি পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হয়েছিলেন হরমোনের কারণে। তাঁর স্বামীর সাথেও দেখা হয়েছে। বনিবনা ছিল না। ভদ্রলোক একদিন আমার সামনেই তাকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করলেও কোন জবাব দেননি আপা। এই এনজিওতে কয়েকজন সাহসী ও সংগ্রামী নারী আমাকে মুগ্ধ করেছিল। বেবী দি ছিলেন খৃস্টান মেয়ে, আশ্রমে মানুষ হয়েছেন। বাবা মা কে? তারা কোন ধর্মের জানতেন না। আলোকিত মেয়ে ছিল শিমুল। যেমন মেধাবী তেমনি ব্যক্তিত্ব। মানবিক সাহায্য সংস্থার সাফিয়া আপা সাঁইত্রিশ বছর বয়সে বিয়ে করেন। শুধু ভাইবোনদের মানুষ করার ব্যয় নির্বাহ করার জন্য আগে বিয়ে করেন নি। বরিশালের পলিদের বাড়ি ছিল চরমোনাই। পীরদের বহু হুমকির মধ্য দিয়ে এগিয়েছে সাহসী মেয়েটি। বরিশাল শহরে ভাই বোনকে নিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকতেন, তবুও হুমকিতে চাকরি ছাড়েন নি। নাসরিনকে দেখেছি ফেমাতে। ওনার জানার পরিধি ছিল বিপুল, ব্যক্তিত্বও ছিল প্রখর। এসব নারীদেরও তৈরি করেছে এনজিও। তারা নিজেদের জীবনকে সাজিয়েছেন ভোগ্যবস্তু না হয়ে।


১৮
বাঙালির যৌন তাড়নার বহুমাত্রিক প্রকাশ দেখি মহানগরের পাবলিক বাসে। নারীরা বাসে উঠার সময় পুরুষ যাত্রী ও হেল্পারগণ একটু ছুঁয়ে দেয়ার প্রতিযোগিতায় নামে। হেল্পারগণ এক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে। নারীদের বাসে উঠতে সহযোগিতা করার নামে ওরা যৌন কামনা চরিতার্থ করে। বাস থেকে নামার সময়ও ওরা একই আচরণ করে। ওদের তুলনায় অভিজাত নারীদের প্রতি যৌন তাড়না থেকেই এটা করে। দুএকজন হেল্পারকে এই আচরণ কেন করলেন? জানতে চাইলে এক কথাই বলে, নামতে সহযোগিতা করলাম আর আপনি কি কন? সম্প্রতি ঢাকা-মাওয়া সড়কে আপন পরিবহনে, এক নারী যাত্রীকে নাজেহাল করার প্রতিবাদ করলে, ওরা কয়েকজন আমাকেই নাজেহাল করার করে। বাসের ভিতরে ভীর থাকলে, কিছু পুরুষ যাত্রী মওকা পেয়ে যায়। সম্প্রতি কয়েকটি প্রতিবাদ দেখলাম। লম্পট এক পুরুষ আবার উল্টো ঝাড়ি দিতে চাইলে ধমক দেই। এর একদিন আগেও এক নারীর সাথে খারাপ আচরণ করায় এক বুড়োকে ধমক দিলাম, ‘বুড়ো হচ্ছেন আর আক্কেল জ্ঞান লোপ পাচ্ছে’। বুঝি এসব যৌন তাড়না থেকেই করেন। নারীদের প্রতিবাদে কাজ হচ্ছে। আরেকটু প্রতিবাদ বাড়লে লাম্পট্যের ভক্তরা আরো কোনঠাসা হয়ে পড়বেন। কয়েকবারই নারীকে দেখেছি হেল্পারকে ধমক দিতে। নারীর সাহস দেখলে ভাল লাগে, মনে হয় সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

১৯
‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ ঝড় তখনও শুরু হয়নি। আমার এক নারী সহকর্মীর সাথে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার সময় শুনেছিলাম তাকে যৌন হয়রাণী করার ঘটনা। তাঁরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন তিনি। এরশাদের নামের সাথে মিল থাকা ওই স্বাধীনতা বিরোধী ও প্রতারকের বিরুদ্ধে আরো বহু অভিযোগ উঠেছিল। সহকর্মী মেয়েটি ছিল খুবই সুন্দরী, দীর্ঘাঙ্গী কিন্তু হতাশায় ভরপুর। ওই মানসিক সংকট থেকে বহু বছর পরেও তিনি বের হতে পারেননি।
মুশফিকা লাইজু আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড। তাঁর সাহসিকতাকে শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর অভিযোগ ছিল প্রয়াত শিক্ষক, নাট্যকার সেলিম আল দীনের বিরুদ্ধে। ওনার প্রথম ব্যাচের ছাত্রী মুশফিকা লাইজু। লাইজু ফেসবুকে লিখেছিলেন, “এই মহান শিক্ষক এক বিকালে দুটো বই আনতে তার বাসায় যেতে বলেন। সেখানেই একা পেয়ে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন এবং চুমু খান। বড় ওভারকোট থাকায় সম্মান নিয়ে কোনোমতে দৌড়ে পালিয়ে রক্ষা পাই আমি। লাইজু আপাকে ধন্যবাদ, মৃত্যুর পরও অভিযোগ উত্থাপন করার সাহস দেখানোর জন্য। তসলিমা নাসরিনও তার আত্মজৈবনিক গ্রন'গুলোতে কয়েকজন মহৎ বাঙালির যৌন বিকৃতির অভিযোগ উঠিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফেসবুকে #মি-টুতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে হইচই ফেলেন মডেল অভিনেত্রী মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। তিনি অভিযোগ করেন, বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে কাজ করার পেমেন্ট আনতে রফিকুলের অফিসে গিয়েছিলেন তিনি। রফিকুল ইসলাম হঠাৎ করে টেবিল থেকে উঠে এসে তার জামার ভিতর হাত ঢুকিয়ে দেন। প্রিয়তি তাঃক্ষণিকভাবে সেখান থেকে বের হন। তিনি জানান, সেদিন রুম থেকে বের হয়ে একজনকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কেঁদেছেন। এরপর তিনি অপেক্ষা করছিলেন কতদিনে দেশ ছাড়বেন। অভিযোগ উঠেছিল ডিবিসি টেলিভিশনের সাংবাদিক প্রণব সাহার বিরুদ্ধেও। অভিযোগকারী তারই এক সময়ের সহকর্মী ও প্রেমিকা সুপ্রীতি ধরের মেয়ে শুচিস্মিতা সীমন্তি। বর্তমানে নেদারল্যান্ডে বসবাসরত সীমন্তি অভিযোগ তুলেছিলেন, ১১ বছর আগে, যখন তাঁর বয়স ১৬ বছর, তখন তার শরীরে অভিযুক্ত ব্যক্তি বহুবার আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছেন। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর ফেসবুকে #মি-টু নিয়ে অভিযোগ করে সীমন্তি লিখেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সবার অগোচরে এই বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছিলাম। আমার হৃদয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল’।
সিপিডির পাবলিকেশন্স অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করেছেন আসমাউল হোসনা। এর আগে কিছুদিন সংবাদপত্রেও কাজ করেছেন। তিনি সংবাদ পাঠক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জামিল আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লিখেছেন, ‘শিল্পকলার ক্যান্টিন থেকে মৎস্য ভবনের গেইটের দিকে হেঁটে যাচ্ছেলেন তিনি। জামিল আহমেদ হোসনার বাম কাঁধে হাত রেখে দুদকের অফিসের পাশ দিয়ে একটু হাঁটার অনুরোধ করেন। তখন অন্ধকার নেমেছে। রাস্তায় কোনো লোক ছিল না। কিছু বুঝে উঠার আগেই লোকটি আমাকে জোর করে ধরে চুমু খেলো আর আমার শরীরে বাজেভাবে হাত দেওয়া শুরু করল। আমি প্রচণ্ড ভয় পেলাম। তাড়াতাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে মৎস্য ভবনের দিকে দৌড়াতে লাগলাম। রাস্তা পার হয়ে একটি রিক্সায় উঠে পড়লাম। ওই দিন সারারাত আমি ঘুমোতে পারিনি’।
ডেইলি স্টারের কূটনৈতিক প্রতিবেদক রেজাউল করিম লোটাসের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তারই সাবে সহকর্মী আলফা আরজু। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ওই নারী সাংবাদিক দাবি করেছেন, ‘একদিন অফিস শেষে লোটাসের গাড়িতে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। পথে লোটাস তাঁর গায়ে আপত্তিকরভাবে হাত দেন’।
তাসনুভা আনান নামে এক অভিনেত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান ‘পাঠক সমাবেশ’ এর কর্ণধার শহীদুল ইসলাম বিজুর বিরুদ্ধে। তাসনুভা তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘পাঠক সমাবেশের গুলশান ব্রাঞ্চে চাকরি দেওয়ার কথা বলে একদিন শহীদুল ইসলাম বিজু তার অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে জোর করে চুমু খান এবং নিজের গোপনাঙ্গ প্রদর্শন করেন। চিকৎকার করতে চাইলে বিজু দরজা খুলে দেন এবং তাসনুভা সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
জাকিয়া সুলতানা মুক্তা নামের এক তরুণী ফেসবুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন আবৃত্তিকার মাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মাহিদুল ইসলামের আবৃত্তি সংগঠন সংবৃতায় যুক্ত হওয়ার পর একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে কবিতা আবৃত্তি অনুশীলনের সময় মাহিদুল ইসলাম জোর করে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছেন।
অধস্তন সহকর্মীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এ দেশে বিপুল। তবে খুব কমই প্রকাশিত হয়েছে। একুশে টিভির চিফ রিপোর্টার এমএম সেকান্দার, সহকর্মীকে যৌন নিপীড়ন করলে সাংবাদিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। তারা আন্দোলন করেন। অভিযোগ দেয়ার পরও মনজুরুল আহসান বুলবুল কোন ব্যবস্থা না নিলে এবং নিপীড়কের সমর্থন করলে, মদতদাতা হিসেবে বুলবুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন চ্যানেলটির সংবাদকর্মীরা।
‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ আন্দোলন নারীদের উপর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যৌন হয়রাণী কমাতে সহযোগিতা করেছে। তবে এটা বন্ধ হয়েছে মনে করলেই লম্পট বসরা আবারো চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

২০
যৌন তাড়নার প্রথম প্রকাশে, বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রতি আকর্ষণ জন্মে। অনভিজ্ঞ তরুণ বা তরুণী প্রেমে পড়ে। অধিকাংশ সময় এ দুধভাত প্রেম বা বাছুরে প্রেম টিকে না। সমবয়সীদের প্রেমও সাধারণত পরিণতির দিকে যায় না। প্রেম যেহেতু যৌন তাড়না ছাড়া কিছুই নয়, তাই প্রেমের সফল পরিণতি, সুখী সংসারের নিশ্চয়তা দেয় না। সমমানের সঙ্গি খুঁজতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এটা হয়। কোনরূপ প্রতিষ্ঠা ছাড়া বিয়ে করলেও আর্থিক সংকট সুখ দূর করে দেয়।
আমাদের সমাজে প্রেম করে বিয়ে করার ঘটনা খুবই কম। প্রেমের ঘটনাও খুব কম। আবার প্রেমিক যুগলের সাক্ষাৎ কমই হয়। অনেকের সম্পর্ক শুরু ও শেষ ভার্চুয়াল জগতে। শুধু একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কিছুটা সহজ। আমাদের প্রেমিক যুগলের একত্রবাস সমাজ ও আইন গ্রহণ করে না। রাশিয়ায় যারা পড়েছেন, তাঁরা বলেন, ওখানে প্রেমিক যুগল এক কক্ষে যাকতো ছাত্রজীবনেই। আমাদের প্রেমিক যুগল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কেউ আর স্বীকার করেন না, তারা প্রেমে পড়েছিলেন। ব্যতিক্রমি ঘটনা ছাড়া কেউ স্বীকার করেন না সামাজিক নিন্দার ভয়েই।
আমাদের সিনেমা প্রেম নির্ভর ছিল, তখন তা চলেছেও। এখনকার সিনেমার কমই আধুনিক তরুণ তরুণীর প্রেম ধারন করে। খুবই নিম্নমানের সিনেমা ‘ঢাকা এটাক’ তবুও ওই প্রেমের কারণেই সফল হয়েছে। সফল ছিল বেদের মেয়ে জোছনাও। তবে এখনকার প্রেমিক প্রেমিকাদের যে চাওয়া পাওয়া বদলে গেছে, মন মানসিকতা বদলে গেছে সেটাই ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন আমাদের পরিচালকগণ। সমাজ পরিবর্তনের ধারা ধরতে পারেননি আমাদের বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদগণও। ফলে তারাও তরুণদের আগ্রহের তালিকায় নেই।
যৌন আবেগ মানুষের থাকবেই, থাকবে যৌন তাড়নাও। মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন করে, কাউকে অসম্মান করে যেমন যৌন কামনা নিবৃত্ত করা যায় না আবার পারস্পারিক ভাল লাগা থেকে, ভালবাসা থেকে সৃষ্টি যৌন কামনাই প্রকৃত যৌন সুখ দিতে পারে। ভালবাসাহীন, প্রেমহীন যৌন কামনা প্রত্যাশিত নয়।

সমাপ্ত
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৪৮ ঘণ্টায় সামু'র সর্বোচ্চ পঠিত ২ ব্লগার হচ্ছেন - অপলক এবং সৈয়দ কুতুব

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১৭

গতকাল রাত ৮টা ১২ মিনিট থেকে এখন রাত ৯ টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত সামুতে পোস্ট এসেছে মোট ১৬টি, আমার এই পোস্টটি ছাড়া।
এই পোস্টগুলোতে উত্তর ও প্রতিউত্তর মিলিয়ে কমেন্টেসের সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×