somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চুপচাপ মানুষেরা.......

০১ লা এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আপনি কি এমন কাউকে চেনেন যে সবসময় চুপচাপ থাকে, অত্যধিক লাজুক, বেশী কথা বলে না, মানুষের ভিড়ে যেতে চায় না, সবার সাথে কথা বলতে পারে না। চেনেন নাকি এমন কাউকে? আমি চিনি একজন কে। খুব সম্ভবনা আছে এমন কাউকে না কাউকে আপনিও চেনেন, হয়তো সেজন আপনি নিজে।
Introvert এবং Extrovert বর্তমান মনোবিজ্ঞানের জগতে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সবচেয়ে আলোচিত দুটি বিষয়। মনোবিজ্ঞানী Carl Gustav Jung প্রথম এই দুটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কে জনপ্রিয় করে তোলেন। যদিও প্রাচীন ইতিহাসেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই দুই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আলোচনা পাওয়া যায়। গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটলও মানুষের এই দুই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন এমনকি তিনি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই দুই ধরণের চরিত্রের মানুষদের জন্য আলাদা আলাদা চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাবহার করতেন। That makes sense কারণ এখন আমরা জানি যে শুধু মানসিক দিক দিয়ে নয় বরং Introvert এবং Extrovert শারীরিক দিক থেকে কিছুটা আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। যদিও এখন এরিস্টটলের ঐ চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাবহার হয় না। যাইহোক... এই দুই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরেকটু জানা যাক।
Introvert শব্দের বাংলা অর্থ “অন্তর্মুখী” অর্থাৎ এরা সাধারণত ভিড় থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে । এরা সাধারণত বেশীরভাগ নিজস্ব চিন্তা ভাবনায় ডুবে থাকে। অত্যধিক লাজুক হয়। এরা চুপচাপ এবং শান্তশিষ্ট পরিবেশ পছন্দ করে এবং নীরবতা এদের ভালোলাগে। অন্যদিকে Extrovert এর বাংলা “বহির্মুখী”। এরা জোরালো স্বভাবের হয়। এরা উপস্থিতি জানান দিতে পছন্দ করে। এরা জনসমাগম, হৈ হুল্লোড়, বাইরে বেরনো, ঘোরাফেরা পছন্দ করে। Extrovert তাদের বেস্ট ফর্মে থাকে যখন তারা অন্যদের সাথে জনসমাগমে থাকে এবং দেখা যায় একাকীত্ব ও নীরবতা তাদেরকে মানসিক ভাবে দুর্বল করে দেয়। অন্যদিকে Introvert তাদের বেস্ট ফর্মে থাকে যখন তারা একাকী ও নীরবতায় থাকে এবং অধিক লোকজন ও জনসমাগম তাদের কে নার্ভাস এবং দুর্বল করে দেয়।
--------
Introvert হতে কেমন লাগে?
বলেছিলাম না আমি একজন কে চিনি। আসলে আমি নিজেই সেজন। আমি একজন Introvert । শব্দটা না জানলেও আমি অনেক ছোট বেলা থেকেই বুঝতাম আমি অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা । হৈ হুলোর, ধুম ধামাকা করার চাইতে আমি আমার ঘরে আমার কম্ফোর্টে বসে নিজের মতো কোন কাজ করতে পছন্দ করতাম। তবে তারমানে এইনা যে আমি বাইরে যেতে বা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বা আড্ডা দিতে পছন্দ করতাম না। আমি এগুলোও পছন্দ করতাম। তবে আমি এগুলোর প্রতি আসক্ত ছিলাম না। কিন্তু বরাবরই দেখতাম আমার আশেপাশের অধিকাংশ মানুষ গুলো এক্সট্রিমলি Extrovert স্বভাবের। যেহেতু আমি তখন জানতাম না Extrovert কি ফলে আমার পছন্দ, কথাবলা, ভাবভঙ্গী অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা হওয়ার কারণে আমি ভাবতাম আমার ভিতরে হয়তো কোন সমস্যা আছে। নিজেকে কিছুটা ভিনগ্রহী এলিয়েন মতো মনে হতো। ভাবতাম আমিই কি একমাত্র এরকম? কিন্তু না... আমি একা নই। আমার মতো আরো বহু Introvert আছে। কিন্তু তারা কোথায়? Introvert দের খুঁজে পাওয়া যায়না কারণ তার নিজেদের খোলস ছেড়ে খুব একটা বাইরে আসে না। পৃথিবীটা আসলে ডমিনেট করে এক্সট্রোভার্টরা এবং একজন আইডিয়াল মানুষ হিসেবে সকলে Extrovert কেই মনে করে। এর অবশ্য কারণও আছে, যেটা নিয়ে আশাকরি পরে অন্য কোন লেখায় আলোচনা করবো। একটি সমীক্ষা বলে যে পৃথিবীর জনসংখ্যার ৩ ভাগের ১ ভোগেরও বেশী Introvert। পরিমাণটা অনেক বেশী মনে হতে পারে কারণ আমরা আমাদের আশেপাশে Introvert দের খুব একটা দেখিনা। তার কারণ তারা বেশীরভাগ লুকিয়ে থাকে। এমনকি তারা নিজেদের থেকেও লুকিয়ে থাকে। ইন্ট্রোভার্টরা অধিকাংশই তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন ফলে তারা তাদের স্বভাব গুলো কে অন্যদের থেকে এমনকি নিজের থেকেও লুকিয়ে রাখেন। অনেকেই আবার পৃথিবীর সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য এক্সট্রোভার্টদের মতো আচরণ করেন। ইন্ট্রোভার্টরা আসলে একটু জটিল প্রকৃতির মানুষ এবং তাদেরকে সকলে বুঝতে পারে না ফলে বাইরের পৃথিবীর সাথে মিশতে হলে এক্সট্রোভার্টদের মতো আচরণ করাই লাগে। ইন্ট্রোভার্টদের অনেক ক্ষেত্রে এক্সট্রোভার্টদের ভিতর পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের মতো করে দেখা হয়।
--------
Introvert হওয়া কি খারাপ কিছু ?
অধিকাংশ মানুষ মনে করে Introvert হওয়া ভালো না। এমনকি ইন্ট্রোভার্টরা নিজেরাও এটাকে খারাপ মনে করে। ইন্ট্রোভার্টদের অধিকাংশ মানুষ ডিফেক্টিভ পিস হিসেবে মনে করে । আমি নিজেও আমার ইন্ট্রোভার্ট হওয়া নিয়ে লজ্জিত ছিলাম। ভাবতাম আমার ভিতরে কোন সমস্যা আছে। মনের ভিতর নানা রকম প্রশ্ন ও চিন্তা ঘুরতো। কিন্তু সময়ের সাথে আমি ধীরে ধীরে নিজেকে বুঝতে শুরু করি। নিজের বৈশিষ্ট্য গুলো বুঝতে শুরু করি। অবশ্য আমার সমপ্রতিক সাইকোলজি স্টাডি আমার নিজেকে বুঝতে সবচেয়ে বেশী সাহায্য করেছে।
Introvert হওয়া খারাপ কিছু নয় বরং ইন্ট্রোভার্টরা অনেক ক্ষেত্রে অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বদের একটি বড় অংশ ছিলেন Introvert এবং তারা শান্ত-শিষ্ট, নীরবতা ও একাকীত্ব প্রেমী ছিলেন। মার্ক জাকাবার্গ, বিল গেটস, স্টিভ জবস এর মতো ক্রিয়েটিভ ও উদ্ভাবনী ব্যক্তিদের অধিকাংশই নিজেদের শান্ত স্বভাবের ও Introvert চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বলেছেন। সাহিত্যিক ও শিল্পীদের অধিকাংশই Introvert স্বভাবের। মহাত্মা গান্ধী, আব্রাহাম লিংকন এর মতো ইতিহাসের অনেক শ্রেষ্ঠ নেতারাই ছিলেন Introvert স্বভাবের। শুধু তাইনয় আমাদের ধর্মীয় নেতাদের স্বভাবেও Introvert বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। তারা একাকীত্বে এবং নীরবতায় থাকতে ভালোবাসতেন এবং পৃথিবীর কোলাহল থেকে দূরে কোন গুহায় বা জঙ্গলে চিন্তা ভাবনায় ডুবে থাকতেন। এই সকল মানুষদের জীবনী ঘাঁটলে দেখা যায় তারা তাদের জীবনের একটি বড় অংশ একাকী, নিরজনে এবং নীরবতায় কাটিয়েছেন এবং সেখানেই তারা তাদের জ্ঞান ও সক্ষমতা অর্জন করেছেন। একটি সমীক্ষা বলে যে ইন্ট্রোভার্টদের ভিতর ক্রিয়েটিভটি বেশী দেখা যায় তার করণ ক্রিয়েটিভটি ও উদ্ভাবনী চিন্তা ভাবনার জন্য নীরবতা ও একাকীত্ব প্রয়োজন হয়। একাকী গভীর চিন্তাভাবনা, আত্মজ্ঞান ও সময় ব্যয়ের মাধ্যমে মানুষের ভিতরে জ্ঞানের আলো ফুটে ওঠে। আর একাকীত্ব, নীরবতা, গভীর চিন্তা এই কাজ গুলো ইন্ট্রোভার্টরাই সবচেয়ে ভালো করতে পারে। এক্সট্রোভার্টরা একাকী নিরজনে এক জায়গায় বন্ধী হয়ে থাকার কথা শুনেও ভয় পাই। কিন্তু ইন্ট্রোভার্টদের জন্য এটাই কমফোর্টেবল জোন। By the way এই রিপোর্ট গুলোর অধিকাংশ রেফারেন্স Susan Cain এর Quiet: The power of Introvert in a World That Can’t Stop Talking বইটি থেকে নেওয়া। অসাধারণ একটি বই। বইটি আমার নিজের সম্পর্কে এবং অন্য ইন্ট্রোভার্টদের সম্পর্কে ধারণাই পাল্টে দিয়েছে। আমি মনে করি প্রত্যেক ইন্ট্রোভার্টেরই বইটি পড়া উচিৎ। বইটি সম্ভবত টোরেন্ট ছাড়া পাবেন না। লিংক দরকার হলে আমাকে জানাতে পারেন।
আমি এখানে আরো কিছু অসাধারণ Introvert ব্যক্তিদের তালিকা দিচ্ছি ।
এলবার্ট আইনস্টাইন, বিল গেটস, স্যার আইজ্যাক নিউটন, মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যরি পেজ, আব্রাহাম লিংকন, বিশ্বের ৩য় ধনী ব্যক্তি ওয়ারেন বাফেট, মহাত্মা গান্ধী, হিলারি ক্লিনটন, চার্লস ডারউইন, Apple এর সহ প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ ওজনিয়াক, বারাক ওবামা, পপ তারকা শিল্পী ক্রিস্টিনা আগুইলারা, হ্যারি পটার খ্যাত অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘের নারী শুভেচ্ছা দূত এমা ওয়াটসন, টাইটানিক খ্যাত অভিনেতা লিওনার্দো ডিকাপ্রিয় যাইহোক... এভাবে লিখে তালিকা শেষ করা সম্ভব নয় তবে এনারা সকলেই Introvert স্বভাবের।
--------
তাহলে সমস্যা কোথায় ?
সমস্যা হলো ইন্ট্রোভার্টরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্তর্মুখী হতে হতে বাইরের পৃথিবীর সাথে সংযোগ হারিয়ে ফেলে। অন্যদের মনোভাব তাদের উপর অনেক ক্ষেত্রে নেগেটিভ হয়ে যায়। ইন্ট্রোভার্টদের কে প্রায়ই এন্টি-সোশাল বা সমাজ বিচ্ছিন্ন বলে মনে করা হয়। কিন্তু ইন্ট্রোভার্টরাও অন্যদের মতোই মানুষের সাথে মিশতে কথা বলতে ভালোবাসে কিন্তু একই সাথে তারা নীরবতা ও একাকীত্বও পছন্দ করে। একজন ইন্ট্রোভার্টও এক্সট্রোভার্ট দের মতোই মানুষের সাথে কথা বলে আনন্দ পাই তবে তারা ঘর ভর্তি মানুষের মাঝে চিৎকার চেঁচামেচি করার চাইতে শান্ত ভাবে বসে একে অন্যের সাথে কথা বলতে পছন্দ করে। তারাও বাইরে ঘুরতে পছন্দ করে তবে শান্ত ও সৌন্দর্য পূর্ণ পরিবেশ প্রিফার করে।
এক্সট্রোভার্টরা ইন্ট্রোভার্টদের চাইতে মানুষের সাথে ভালো মিশতে পারে কারণ তারা মানুষের সাথে মিশতে ইন্ট্রোভার্টদের চাইতে কয়েকগুণ বেশী ভালোবাসে এবং মানুষদের সাথে না মিশলে তারা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের অসম্পূর্ণ মনে করে। এক্সট্রোভার্টরা তাদের ব্যাটারি রিচার্জ অনুভব করে যখন তারা অন্যদের সাথে থাকে। ফলে তারা এই কাজটি বারবার করে ফলে, তারা সময়ের সাথে সাথে মানুষের সাথে মেশার এবং ভিড়ের ভিতর মিশে যাওয়ার এক অসাধারণ যোগ্যতা অর্জন করে। আমার এখন পর্যন্ত কথায় হয়তো মনে হতে পারে যে আমি হয়তো এক্সট্রোভার্টদের ছোট করছি, কিন্তু না আমি তাদের ছোট করছি না। এক্সট্রোভার্টরা আসলে অসাধারণ মানুষ । তারা মজাদার হয়, তাদের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে, এক্সট্রোভার্টরা মানুষদের দারুণ আকর্ষণ করতে পারে। আমার বাবা একজন এক্সট্রিমলি এক্সট্রোভার্ট মানুষ । তিনি সবসময় লোকজন নিয়ে হৈ হুল্লোড় ও আড্ডাবাজি করতে পছন্দ করেন। যাইহোক... ইন্ট্রোভার্টরা বেশী বাইরে না আসার কারণে তারা অনেক সময় সমাজ থেকে দূরে সরে যায়। মেন্টাল ডিপ্রেশনের বড় কাস্টমার আবার এই ইনট্রোভার্টরাই। ইন্ট্রোভার্টদের ভিতরেই মানসিক অবসাদ বিষণ্ণতা বেশী পাওয়া যায়। একজন এক্সট্রোভার্টের ক্যারেক্টার ডমিনেট করে তার শরীর অন্যদিকে একজন ইন্ট্রোভার্টের ক্যারেক্টার ডমিনেট করে তার মস্তিষ্ক এবং চিন্তাভাবনা। একজন ইন্ট্রোভার্ট এর চালিকা শক্তি হলো তার মস্তিষ্ক এবং চিন্তাভাবনা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা এটার দ্বারাই বেশী আক্রান্ত হয়।
--------
তাহলে কি করা উচিৎ ?
আমার জীবনের একটি বড় অংশে এই প্রশ্নের উত্তর জানা ছিলো না। আমি কখনো বুঝে উঠতে পারিনি আমার কি করা উচিৎ। নিজেকে পরিবর্তনের চেষ্টাও করেছি কিন্তু সেটা করেও খুব একটা ভালো অনুভব করিনি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আমার চিন্তাভাবনার সীমানা বৃদ্ধি পায়। আমি বুঝতে পারি ইন্ট্রোভার্ট হওয়াটা কোন অপরাধ নয় বরং ধরতে গেলে একটা উপহার, যদি আপনি এটার সঠিক ব্যাবহার করতে পারেন। সুতরাং আমি নিজেকে নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করি। আমি কি? আমি কিরকম? আমার পছন্দ কি? আমার অপছন্দ কি? আমি কি পারি? আমি কি পারিনা? আমার যোগ্যতা কি? আমার দুর্বলতা কি? সময় আমাকে আমার নিজের সম্পর্কে অনেককিছু শিক্ষা দেয়। আমি ধীরে ধীরে নিজেকে বুঝতে পারি এবং আমার সারা জীবনের নিজের প্রতি ঘৃণা ও লজ্জা আস্তে আস্তে এক সময় নিজের প্রতি ভালোবাসায় পরিণত হয়। আমি যেরকম নিজেকে সেভাবেই ভালবাসতে শিখি। এরপর আমি আমার আশেপাশের মানুষদের এবং পরিবেশটাকে বুঝতে চেষ্টা করি।
দেখুন উপরে আমি যেসকল সফল ইন্ট্রোভার্টদের কথা বলেছি তাদের ইন্ট্রোভার্ট স্বভাব তাদের সফলতার পথে বাধা হতে পারেনি। তারা Introvert হওয়ার সুফল ভোগ করেছেন আবার একই সাথে এক্সট্রোভার্টদের মতো এই পৃথিবীর সাথে মিশেছেন। ধর্মীয় নেতারা ও অন্যান্য জ্ঞানী গুনি ব্যক্তিরা একটি সময় একাকী নীরবতা নিরজনে কাটিয়েছেন ঠিকই কিন্তু তারা সেখানেই আটকে থাকেননি। তারা সেখান থেকে আবার পৃথিবীতে মানুষের মাঝে ফিরে এসেছেন এবং পৃথিবীকে আলোকিত করেছেন। আমি কোন ইন্ট্রোভার্ট কে বলবো না সব নীরবতা ভেঙ্গে বাইরে এসে সবসময় হৈ হুল্লোড় করে সময় কাটান তবে আমি এটুকু বলবো আমাদের জীবনের একটি অংশ পৃথিবীকে দিতে হয়। সবসময় না হোক কিছু সময় বাইরে আসুন এবং আমি একই সাথে এক্সট্রোভার্টদেরো বলবো কিছুটা সময় বাইরের পৃথিবীর কোলাহল ছেড়ে নীরবতায় সময় কাটান, একাকীত্ব কে উপভোগ করতে শিখুন এবং নীরবতা ভালবাসুন কারণ গভীর চিন্তাভাবনা, ক্রিয়েটিভ থিংকিং, সৃষ্টিশীলতা এগুলো থেকেই আসে। ইন্ট্রোভার্ট, এক্সট্রোভার্ট কারোরই নিজের বৈশিষ্ট্য ছেড়ে অন্যকিছুতে পরিবর্তন হওয়ার দরকার নেই। কিন্তু আমাদের একে অন্যকে বোঝার এবং একে অন্যকে সাহায্য করার অবশ্যই দরকার আছে।
যাইহোক, শেষকথা হলো আমি একজন ইন্ট্রোভার্ট হিসেবে জীবনের সফর কাটিয়েছি এবং একটি বড় মানসিক প্রসেসের ভিতর দিয়ে গিয়েছি। এই সফরে আমি অনেককিছু শিখেছি বুঝেছি, অনেক ভুল ধারণা শুধরেছি আবার নতুন শিক্ষা পেয়েছি। আমার সফর এবং মানসিক প্রসেস এখনো চলছে। কিন্তু আমি আমার এই অভিজ্ঞতার কিছু অংশ আমার মত অন্য ইন্ট্রোভার্টদের সাথে শেয়ার করতে চাই যাতে তাদের সফর কিছুটা হলেও হয়তো সহজ হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৪:৩১
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গরমে নিউইয়র্কের লোকজন ক্রেংককি হয়ে যায়।

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৮:৩৯



ঐতিহাসিক ঘটনা, আমি তখনো চাকুরীতে ছিলাম; আগষ্ট মাসের সন্ধ্যায় ঘরে ফিরছি সাবওয়ে ট্রেনে; এই সময় সাবওয়ের ষ্টেশনগুলো দোযখের মত গরম, ডিজাইনে সমস্যা থাকার সম্ভাবনা; ব্লগার হাসান কালবৈশাখী... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। কবিতা-স্পর্ধিত মিলন

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:১৭



কখনো সখনো নকল মলিন
হয় মনে এই জীবনবেলা
ধুসর বিকেলবেলা
শুধাই অস্ফুট স্বরে ‘হ্যাগা’
বাটপাড়ি অথবা জোচ্চুরি
কিছুইকি হয়নি শেখা লেকাজোকা
জীবন নামক অন্ধকুঠরিতে
গামছা দিয়ে চোখ দুটো বাঁধা
অথবা
তমসা ঘেরা চাঁদহীন নধর রাতে
প্রহরী ঘোরে নিঃশব্দে... ...বাকিটুকু পড়ুন

টেলস ফ্রম দ্য ক্যাফেঃ যে ক্যাফে আপনাকে নিয়ে যাবে অতীত ভ্রমনে

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:৩১

যদি আপনি জানতে পারেন যে আপনার শহরেই এমন এমন একটা ক্যাফে আছে যেখানে গিয়ে আমি অতীতে গিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন তাহলে আপনার মনভাব কেমন হবে? এমন যদি কিছু সম্ভব হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেয়েরা বেবি বাম্পের ছবি দিলে তোমাদের জ্বলবে কেন???

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৪৬



- ছবিতে - আরমিনা।

আমরা যখন কোন স্পেশাল মুহূর্ত সেলিব্রেট করি তখন ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করি। এটা এখন একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেউ প্রিয় মানুষের সাথে রেস্টুরেন্টে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখ মুরালি

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:৫৬


ফুলটি দেখতে যে,ন সুন্দর তার নামটিওচমৎকার "সুখ মুরালি"।
২০১৮ সালের কথা, বৃক্ষকথা গ্রুপের বেশ কয়েকজন বৃক্ষপ্রেমির সাথে আমি গিয়েছিলাম মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে। হাঁটতে হাঁটতে দেখতে দেখতে একসময় গার্ডেনের পশ্চিম-উত্তর কোনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×