somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিভাবে বাইরের পৃথিবীর সাথে মিশবেন ?

১০ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের দুটো লেখাতে Introvert কারা ? তাদের বৈশিষ্ট্য কি ? তাদের সমস্যা গুলো কি ? এবং আমার নিজের ইন্ট্রোভার্ট জীবন সম্পর্কে বলেছিলাম । আজকে ৪টি রুলস যেগুলো আমাকে আমার মানসিকতা পরিবর্তনে সাহায্য করেছিলো সেগুলো নিয়ে কিছু কথা বলবো । তাহলে শুরু করা যাক....
---------
আচ্ছা আপনি একজন Introvert, আপনি কম কথা বলেন, নিজেকে গুটিয়ে রাখেন এবং সামাজিক পরিস্থিতিতে আপনার নিজেকে উপস্থাপন করতে অসুবিধা হয় । তো... এখান থেকে বের হতে কি করবেন ? মাথায় আসতে পারে Extrovert হয়ে যাবো । Extrovert হওয়া বা Extrovert দের মতো আচরণ করা আসলে খুব সোজা Belief me… i know । আমি আমার ইন্ট্রোভার্ট জীবনের একাধিক পর্যায়ে একাধিকবার Extrovert হওয়ার চেষ্টা করেছি । আপনি যখন Extrovert দের মতো আচরণ করেন তখন অন্যেরা বুঝতে পারে না আপনি Extrovert না Introvert । কিন্তু সমস্যা হলো আমি যখন এমনকিছু হওয়ার বা সাজার চেষ্টা করি যা আমি নই তখন নিজের ভিতর সবসময় একটা শূন্যতা কাজ করে । মনেহয় আমি নিজেকে ধোঁকা দিচ্ছি । এটা আমি শুধু আমার নিজের ক্ষেত্রে বলছি । আপনাদের এ ব্যাপারে ধারণা বা পছন্দ আলাদাও হতে পারে । যাইহোক... আমি এমন কিছু হতে চাই না যা আমি নই । আমি আমার সমস্যা গুলো পরিবর্তন করতে চাই নিজের পরিচয় কে নয় । তাই... আমি Extrovert হওয়ার চাইতে আরো উন্নত একজন Introvert হওয়ার চেষ্টা করি । এটাকে আপনি Ambivert হওয়াও বলতে পারেন যাদের ভিতর Introvert এবং Extrovert এর গুনাগুণ সমপরিমাণে থাকে তবে আমার ক্ষেত্রে আমি উন্নত ইন্ট্রোভার্ট বলাটাই প্রিফার করি । তাহলে কিভাবে আরো উন্নত একজন Introvert হবেন তার জন্য আমি ৪ টি রুলস ফলো করেছি । এই চারটি রুলস আসলে নিজের মানসিকতায় নিজের ভিতরে পরিবর্তন আনার জন্য । ইন্ট্রোভার্টদের মূল সমস্যা আসলে বাইরের পৃথিবীর সাথে মেশায় । কিন্তু বাইরের পৃথিবীতে যাওয়ার আগে নিজের ভিতর কিছু প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার আছে । এই চারটি রুলস হলো নিজের ভিতরের সেই প্রস্তুতি ।
(রুল নং-১) নিজেকে ভালবাসুন এবং সম্মান করুন:- এটাই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ রুল একজন উন্নত Introvert হওয়ার জন্য । আপনি যদি বলেন আমি ৪টা পারবোনা একটা রুল ফলো করবো তাহলে বলবো এই একটাই ফলো করুন । কারণ এই একটা রুলই আপনাকে বাকি গুলোর দিকে নিয়ে যাবে । ইন্ট্রোভার্টরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন এবং নিজের প্রতি তাদের মজবুত ধারণা থাকে না । নিজেকে ভালবাসুন, নিজেকে সম্মান করুন এবং নিজের প্রতি পজিটিভ ধারণা রাখুন । হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে যে “আমি তো জীবনে কিছু করতে পারিনি বা আমার বড় কোন অর্জন নেই ইত্যাদি ইত্যাদি তাহলে আমি কিভাবে নিজেকে ভালবাসবো কিসের জন্য নিজেকে সম্মান করবো ?” এই প্রশ্নটা যখন আমার মাথায় ছিলো তখন আমি নিজেকে বলেছিলাম, হ্যাঁ... হয়তো আমি তিস মার খা কেউ নই, হয়তো আমার কোন বড় অর্জন নেই কিন্তু আমি এটুকু বলতে পারি যে আমি একজন ভালো মানুষ । আমি কাউকে কষ্ট দেই না, কারো অধিকার নষ্ট করি না, কোন অন্যায় করি না । আমি একজন ভালো মানুষ এবং আমার ভিতর বিবেক ও মনুষ্যত্ব বোধ আছে । আমার মনেহয় নিজেকে ভালোবাসার জন্য ও নিজেকে সম্মান করারা জন্য এটুকুই যথেষ্ট । আমি যদি এই বিষয় গুলোকে সম্মান করি তাহলে এগুলো ফলো করার জন্য আমার নিজেকেও সম্মান করা ও ভালোবাসা উচিৎ... তাইনা ?

(রুল নং-২) অন্যদের নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা এবং নিজেকে নিয়ে লজ্জিত হওয়া বন্ধ করুন:- সবসময় অন্যরা আপনাকে নিয়ে কি ভাবছে এই চিন্তা বন্ধ করুন । প্রতিটা মানুষের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে । আপনার জীবন আপনাকেই বহন করতে হয়, আপনার কষ্ট গুলো আপনাকেই সয্য করতে হয় । আপনার জীবন, আপনার কষ্ট গুলো অন্য কেউ বহন করে না । তাই অন্যেরা আপনার সম্পর্কে কি ভাবে বা আপনাকে কি নজরে দেখে সেটা আপনি নিজে নিজেকে কিভাবে দেখেন নিজের সম্পর্কে কি ভাবেন তার চাইতে কম গুরুত্বপূর্ণ । আপনি সবার মতো হতে পারবেন না এবং আপনি সবার মন যুগীয়ে বা সবাইকে খুশি করেও সবসময় চলতে পারবেন না । আপনি শুধু আপনার নিজের মন যুগিয়ে চলুন, নিজেকে খুশি রাখুন । যে আপনাকে ভালোবাসে সে আপনার খুশীতে তার খুশি খুঁজে নেবে । মনে রাখবেন... আপনার লড়াই আপনাকেই লড়তে হবে তাই, অন্যেরা কি ভাবছে বা আপনার সম্পর্কে কি চিন্তা করছে এগুলো নিয়ে চিন্তা করা অপচয় ছাড়া কিছুই নয় । Just be your self এবং নিজের দিকে খেয়াল রাখুন ।

(রুল নং-৩) নিজেকে ডিফেন্ড করতে শিখুন:- আপনি যখন বাইরে যাবেন তখন এমন অনেক সময় আসবে যখন পরিস্থিতি আপনার অনুকূলে থাকবে না । অনেক সময়য় আসবে যখন আপনার অধিকার নষ্ট করা হবে, আপনাকে গুটিয়ে যেতে বাধ্য করা হবে, আপনার প্রতি অন্যায় হবে ইত্যাদি ইত্যাদি । এই পরিস্থিতি গুলোতে আপনি যদি নিজেকে নিজে রক্ষা করতে না পারেন তাহলে আপনি কোনদিনো বাইরের পৃথিবীর সাথে সফল ভাবে মিশতে পারবেন না । তাই... বাইরে যাওয়ার আগে নিজেকে রক্ষা করতে শিখুন । নিজের অধিকার এবং ক্ষমতা গুলো সম্পর্কে সজাগ হওন । অন্য কাউকে আপনার সরলতার সুযোগ নিতে বা আপনার অধিকার নষ্ট করতে দেবেন না । আমরা ইন্ট্রোভার্টরা নিজের প্রতি খুব ইনসিকিউর ফিল করি । অনেক সময় আমরা আমাদের গলা উঁচু করতে বা নিজের অধিকার গুলো জাহির করতে ভয় পাই । ফলে আমরা নিজেকে গুটিয়ে নেই এবং আমরা পিছিয়ে যায় । নিজের ছোট থেকে ছোট অধিকার গুলোর প্রতি খেয়াল রাখুন । যেমন ধরুন আপনি কোথাও কথা বলছেন । এর মধ্যে ধরুন কেউ আপনার কথার ভিতর ইন্টারাপ্ট করছে । এমন পরিস্থিতিতে গুটিয়ে না গিয়ে তাকে বলুন “আমি কথা বলছি... আমার কথা শেষ হলে তারপর বলুন” । এভাবে নিজের অধিকার ও ক্ষমতা গুলো প্রয়োগ করুন । আবারো বলছি, বাইরে আপনার লড়াই আপনাকেই লড়তে হবে, অন্য কেউ আপনার লড়াই লড়ে দেবে না ।

(রুল নং-৪) সব সময়য় চ্যালেঞ্জিং মানসিকতা রাখুন:- আপনার জন্য কষ্টসাধ্য কাজ গুলোকে সব সময়য় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন । আসলে আপনি Introvert না Extrovert সেটা কোন সমস্যা না, কিন্তু নিজেকে একটা সীমানায় আটকে ফেলা এটাই হচ্ছে সমস্যা । যেমন ধরুন কেউ বললো আমি Introvert তাই এই কাজটা করতে পারি না বা আমি Extrovert তাই ঐ কাজটা করতে পারি না, এটা ভুল কথা । নিজেকে এরকম একটা গণ্ডির ভিতর আবদ্ধ করাতে আমি বিশ্বাস করি না । হ্যাঁ... আমি একজন Introvert এবং আমার কিছু বৈশিষ্ট্য আছে । তারমানে এই না যে আমি অন্য কাজ করতে অক্ষম । আর আমি যে অক্ষম না সেটা প্রমাণ করতে আমি কাজ গুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেই । এই চ্যালেঞ্জ অন্য কারো সাথে না, এই চ্যালেঞ্জ আমার নিজের সাথে । আমি এতো সহজে কোনরকম চেষ্টা ছাড়া হাল ছেড়ে দিতে রাজি নই । চ্যালেঞ্জে আপনাকে জিততেই হবে এমন কোন কথা নেই বা আপনি কোন কাজ করবেন কি করবেন না সেই সিদ্ধান্তও আপনার তবে আপনি যে লড়াই করতে ভয় পান না, নিজেকে এটুকু প্রমাণ করলেই যথেষ্ট ।

এই চারটি রুলস নিজের ভিতর ফলো করার চেষ্টা করুন । এগুলো আপনার ভিতর কনফিডেন্স জাগাবে এবং বাইরের পৃথিবীর সাথে মেশার শক্তি যোগাবে । এগুলো আপনার বাইরে যাওয়ার আগাম প্রস্তুতি । নেক্সটে... বাইরের পৃথিবীর সাথে মেশার দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো । ধন্যবাদ...

এই বিষয়ে আমার আগের দুটি লেখা
--------------------------------------
১। চুপচাপ মানুষেরা.......
২। কেনো ইন্ট্রোভার্টদের জন্য বাইরের পৃথিবীর সাথে মেশা কষ্টকর ?

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৩:২৫
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গরমে নিউইয়র্কের লোকজন ক্রেংককি হয়ে যায়।

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৮:৩৯



ঐতিহাসিক ঘটনা, আমি তখনো চাকুরীতে ছিলাম; আগষ্ট মাসের সন্ধ্যায় ঘরে ফিরছি সাবওয়ে ট্রেনে; এই সময় সাবওয়ের ষ্টেশনগুলো দোযখের মত গরম, ডিজাইনে সমস্যা থাকার সম্ভাবনা; ব্লগার হাসান কালবৈশাখী... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। কবিতা-স্পর্ধিত মিলন

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:১৭



কখনো সখনো নকল মলিন
হয় মনে এই জীবনবেলা
ধুসর বিকেলবেলা
শুধাই অস্ফুট স্বরে ‘হ্যাগা’
বাটপাড়ি অথবা জোচ্চুরি
কিছুইকি হয়নি শেখা লেকাজোকা
জীবন নামক অন্ধকুঠরিতে
গামছা দিয়ে চোখ দুটো বাঁধা
অথবা
তমসা ঘেরা চাঁদহীন নধর রাতে
প্রহরী ঘোরে নিঃশব্দে... ...বাকিটুকু পড়ুন

টেলস ফ্রম দ্য ক্যাফেঃ যে ক্যাফে আপনাকে নিয়ে যাবে অতীত ভ্রমনে

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:৩১

যদি আপনি জানতে পারেন যে আপনার শহরেই এমন এমন একটা ক্যাফে আছে যেখানে গিয়ে আমি অতীতে গিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন তাহলে আপনার মনভাব কেমন হবে? এমন যদি কিছু সম্ভব হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেয়েরা বেবি বাম্পের ছবি দিলে তোমাদের জ্বলবে কেন???

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৪৬



- ছবিতে - আরমিনা।

আমরা যখন কোন স্পেশাল মুহূর্ত সেলিব্রেট করি তখন ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করি। এটা এখন একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেউ প্রিয় মানুষের সাথে রেস্টুরেন্টে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখ মুরালি

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:৫৬


ফুলটি দেখতে যে,ন সুন্দর তার নামটিওচমৎকার "সুখ মুরালি"।
২০১৮ সালের কথা, বৃক্ষকথা গ্রুপের বেশ কয়েকজন বৃক্ষপ্রেমির সাথে আমি গিয়েছিলাম মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে। হাঁটতে হাঁটতে দেখতে দেখতে একসময় গার্ডেনের পশ্চিম-উত্তর কোনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×