somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

নিয়মের বলি -দুই

১৯ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছুদিন ধরে আমি বেশ কিছু নারী সমাবেশে যোগ দেয়ার সুযোগ পেয়েছি। শুনছি বিভিন্ন দেশের নারীদের কথা। তাদের সুখ, দুঃখ অনুভুতি। নিয়ম আর সংস্কৃতি আচার আচরণ।
যে সব নারীরা কথা বলছেন, তারা বিভিন্ন ভৌগলিক অবস্থান থেকে আসা। বিভিন্ন বয়সের নারী। তাদের প্রত্যেকের গল্পগুলো ভিন্ন। অভিজ্ঞতা আর সঞ্চয় আলাদা।
প্রত্যেকের জীবনের কথা লিখে আলাদা ভাবে বাস্তবভিত্তিক উপন্যাস বা গল্পের এক একটা বই হয়ে যেতে পারে। প্রত্যেকের কাহিনী জায়গা সময় আলাদা।
সবার কাহিনী তাদের কষ্ট এবং তাদের যন্ত্রনা তাদের চাওয়া পাওয়া এবং সুখ মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। যখন তারা সুখের কথা বলছে তাদের হাসি এবং তাদের ভালোলাগার অনুভব ঠিক একই ভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে উপস্থিত প্রতিটি মানুষের মাঝে। সবাই হেসে ফেলছে, প্রত্যেকে এক ধরনের স্বস্থি এবং হালকা অনুভুতিতে জড়িয়ে যাচ্ছেন এবং সুখের শ্বাস ফেলছেন।
আবার যখন তারা তাদের কষ্টের কথা ব্যক্ত করছেন। তাদের যন্ত্রনা তাদের চেপে রাখা কষ্টের ভার অন্য সবার উপর আরোপিত হচ্ছে। তাদের অশ্রুর সাথে উপস্থিত সব শ্রোতা একাত্মা হয়ে যাচ্ছেন। সজল হয়ে উঠছে চোখ বক্তার দুঃখ অনুভব করে। বুকের মধ্যে যন্ত্রনা ছড়াচ্ছে, ভারী হয়ে উঠছে পরিবেশ দীর্ঘশ্বাসে।
কিন্তু সব শেষে আমার মনে হচ্ছে প্রত্যেকের গল্প এক। একটা সীমারেখায় বাঁধা। উত্তর, পশ্চিম, পূর্ব দক্ষিণ, শিক্ষা, নিরক্ষরতা বা উন্নত বিশ্ব বা অনুন্নত বিশ্বের প্রভাব নেই। শুধু আছে নিয়ম।
পারিবারিক নিয়ম, ধর্মিয় নিয়ম, সামাজিক নিয়ম । অসংখ্য নিয়মের অনুশাসনে জর্জরিত চারপাশের নারীরা। জন্মের পর থেকে তারা শুনে এসেছে নানা রকম বাঁধা নিষেধের বানী। প্রতিদিন, প্রতি মূহুর্তে এক কথা শুনতে শুনতে মনো জগতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেন জড়িয়ে গেছে সে অনুশাষন, বাধা নিষেধ।
নিজের জ্ঞান ঝিলিক দিয়ে নতুন কথা বলতে চাইলেও কিছুতেই তারা সে নিয়মের বেড়া জাল ভেঙ্গে বেরুতে পারে না। তাদের জীবন কুড়ে কুড়ে খায় সে নিয়মের বেড়াজাল। আর এক সময় তাদের সে নিয়মের শিকল তারা পরাতে শুরু করে তাদের অধিন তাদের চারপাশের কাছের বিশেষ করে মেয়েদেরকে। যে নিয়মের মধ্যে নিজেরা বেড়ে উঠেছে সে সংস্কার তারা মুছে ফেলতে চাইলেও নিজের অজান্তে প্রয়োগ করতে থাকে নিজের মেয়ের উপর।

কথা হচ্ছিল এ্যাবরিজিনাল মহিলা সেপ্টেম্বরের সাথে। প্রচণ্ড হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত মহিলা। কেউ দেখলে বুঝবে না, বুকের ভিতর কী মরণ যন্ত্রনা কামড় দিয়ে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে তাকে। যে কোন কাজে অসম্ভব শক্তি ও সাহসে ভর দিয়ে এগিয়ে যায়। কিন্তু মাঝপথে থেমে যায়, থমকে ভাবে আমি কী যাবো নাকি ফিরব? ঘামতে থাকে, বুক ধরফর করে অস্থিরতা নিয়ে বসে পরে। কোন কাজ সঠিক ভাবে শেষ করতে পারে না। কী যেন তাড়িয়ে বেড়ায়। কানে বাজে মা ও নানীর কণ্ঠস্বর। কিছুতেই বেড়িয়ে আসতে পারে না তাদের অনুশাসনের ভয়াবহ কণ্ঠ ভেদ করে।
সেপ্টেম্বর এভাবে বর্নণা করে আমাদের অনেক রকম পালাপর্বণ। সব কিছুতেই ছোটবেলা থেকে অংশ গ্রহণ করতে হয়েছে হাসিমুখে। শরীর ভালো কী মন ভালো নেই তার তোয়াক্কা কেউ করবে না। সেই ছোটবেলা থেকে হয়ত প্রচ- পেট ব্যাথা নিয়ে অনুষ্ঠানে নেচে যেতে হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। চোখের পানি মুছে হাসি মুখে। কারণ পুরুষরা হয়ত যুদ্ধে যাবে, হয়ত শিকারে যাবে। অথবা বিয়ে করতে যাবে। তার সমস্ত আয়জনে মেয়েদের হাসিমুখ উপস্থিতি চাই। সাহস এবং সুন্দরের প্রতিক হয়ে। কিন্তু মেয়েটির মনে কতটা সুখ কতটা কষ্ট সে হিসাব কেউ করবে না। তার এই উপস্থিতি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় কারো কাছে। কিন্তু অসুস্থতার জন্যও ঘরের কোনে বসে থাকা চলবে না। তাকে অংশ নিতে হবে প্রতিটি কাজে।
মা এবং নানী দাদীরা এই ভাবে জীবন যাপনে অভ্যস্থ সেটা পুরোপুরি সঠিক ভাবে মেয়ে যেন পালন করে সেজন্য তারা খরগ হস্ত হতে মোটেও দ্বিধা বোধ করেন না। মেয়েদের নিজস্ব কোন ইচ্ছা অনিচ্ছা নেই।
সেপ্টেম্বর বলে চোখের জল ফেলতে ফেলতে শুভ কাজে জড়িয়ে যাই হাসি মুখে। যেন অনুভূতিহীন রোবট। অভ্যস্থ্ হয়ে গেছি এইভাবে নিজের অনুভব ঢেকে রেখে চলতে। যদিও এইসব কাজ অর্থহীন মনে হয়। তাই চেষ্টা করছি এসব থেকে বেড়িয়ে পরতে কিন্তু সংস্কার ভাঙ্গতে অনেক কষ্ট হয়। নিজে এক স্বাধীন স্বত্তা না হয়ে নিয়মের রোবট হয়ে চলা থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে সেপ্টেম্বর এখন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ৯:৫৩
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×