somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইয়িদ রফিকুল হক
আমি মানুষ। আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষ বলে আমার ভুলত্রুটি হতেই পারে। বইপড়তে আমার ভালো লাগে। সাহিত্য ভালোবাসি। লেখালেখি আমার খুব শখের বিষয়। বাংলাদেশরাষ্ট্র ও গণমানুষের জন্য আমি লেখনিশক্তিধারণ করেছি।

আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন
সাইয়িদ রফিকুল হক

দেশে অনেকে রাজনীতির কথা শুনলে খুব নাক সিটকায়! এদের কাছে রাজনীতির চেয়ে খারাপ কিছু আর নাই। এরা বুঝে, না-বুঝে রাজনীতির বিরুদ্ধে বিষোদগার করে থাকে। এদের হাবভাব দেখলে মনে হয়: এটিই যেন এদের একমাত্র কাজ! অথচ, দেশে অনেক ভালো রাজনীতিকও রয়েছেন। আর তাঁরা দেশ ও জাতির জন্য কাজ করছেন। দেশপরিচালনার জন্য অবশ্যই রাজনীতি প্রয়োজন। এখানে, কারও নাক সিটকানোর কোনো আবশ্যকতা নাই। কিন্তু, একশ্রেণীর মানুষ আবার রাজনীতির জন্য একেবারে পাগল। এই শ্রেণীটি খুবই হৃষ্টচিত্তে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছে। রাজনীতি এখন এদের নেশা ও পেশা। এদের মতো অনেকেরই রাজনীতি এখন একমাত্র পেশা ও নেশা। এরা নিজেদের ষোলোআনা লোভ ও লাভের জন্য রাজনীতি করতে-করতে একেবারে উন্মাদ। এদের কাছে আজ দেশ, জাতি, মনু্ষ্যত্ব ও মানবতা বলতে কিছু নাই। এই শ্রেণীটিই আমাদের রাজনীতিকে আজ প্রশ্নবিদ্ধ করেছে ও করছে।

লোভী লোকগুলো নিজেদের ষোলোআনা স্বার্থআদায় ও লোভের ষোলোকলা পূরণের জন্য সদাসর্বদা ভয়ংকরভাবে তৎপর। এদের অপতৎপরতায় আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কলুষিত ও বাধাগ্রস্ত। এই শ্রেণীটি আজকের দিনে মেম্বার, ইউনিয়নপরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলাপরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান, পৌর-মেয়র, জেলাপরিষদের চেয়ারম্যান, সিটি-কর্পোরেশনের মেয়র, এম.পি., মন্ত্রী ইত্যাদি হওয়ার জন্য একেবারে পাগল—বদ্ধউন্মাদ। আর এদের উন্মাদনায় যোগ্যপ্রার্থীরা বর্তমানে রাজনীতিতে সুবিধা করতে পারছে না। কারণ, এদের হাতে আছে বেহিসেবি টাকা। আবার দেখা যায়, একটা মানুষ উপজেলা-চেয়ারম্যান কিংবা পৌর-মেয়র হয়ে আছে—সেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এমপি-প্রার্থী হওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে!
আজকাল দেখা যাচ্ছে, ছেলে ইউনিয়নপরিষদের চেয়ারম্যান; বাবা উপজেলাপরিষদের চেয়ারম্যান; নানা বা দাদা এমপি; চাচা আরেক ইউনিয়নের কিংবা উপজেলার চেয়ারম্যান; আবার কোনো-কোনো এলাকায় বাপ-দাদা, জামাই-শ্বশুর, চাচা-ভাতিজা, মামা-ভাগ্নে, দুলাভাই-শ্যালক-সম্বন্ধী ইত্যাদি মিলেমিশে একেবারে গোষ্ঠীসুদ্ধ এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে এমপি-মন্ত্রী পর্যন্ত পদদখল করে বসে রয়েছে! এখানে, দলীয় সৎ ও ভালোলোকের আর প্রবেশাধিকার নাই!

এখন বয়স যাই হোক না কেন, চেয়ারম্যান-মেয়র বা এমপি-মিনিস্টার হওয়া চাই। তাই, বয়সের ভারে একেবারে অশীতিপর বৃদ্ধ, ন্যূব্জ ও বিকলাঙ্গও রাজনীতি থেকে কোনোভাবেই অবসরগ্রহণ করছে না। নিজে কোনোরকম চলাফেরা করতে পারে না, হুইল-চেয়ারে আসীন, অন্যের দ্বারা চালিত—এইজাতীয় ব্যক্তিবর্গও রাজনীতির মাঠে অহেতুক ঘোরাফেরা করছে। অধিক বয়স্ক-ব্যক্তিদের রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণ করে তাদের নিজ-নিজ-দলীয় উপদেষ্টাপদগ্রহণপূর্বক জনসেবায় নিয়োজিত হওয়া উচিত। আর দেশের সৎ, যোগ্য ও বিচক্ষণ তরুণদের ইউপি-চেয়ারম্যান, উপজেলা-চেয়ারম্যান, পৌর-মেয়র ও এমপি হওয়ার সুযোগসৃষ্টি করে দিতে হবে।

আমাদের দেশে কেন পৃথিবীর কোনো দেশেই রাজনীতির কোনো নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করা হয়নি। এই সুযোগে আমাদের দেশের অতিউৎসাহী-রাজনীতিবিদগণ মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত রাজনীতির মাঠে লড়াইসংগ্রামে ব্যস্ত। আধুনিক ইউরোপে মানুষের উন্নতদৃষ্টিভঙ্গির কারণে সেখানে কোনো অচল, অর্থব, চলাফেরায় অযোগ্য ও অর্কমণ্য ব্যক্তিবর্গ রাজনীতির মাঠে সরব ও সক্রিয় হন না। আমাদের দেশেও এধরনের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা প্রয়োজন। অবশ্য এক্ষেত্রে আমাদের বর্তমান মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত একটি বিরল দৃষ্টান্তস্থাপন করেছেন। তিনি সম্প্রতি দশম জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশনে সর্বসম্মুখে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি আর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। তিনি রাজনীতি থেকে অবসরগ্রহণ করবেন। তিনি বই পড়ে, বই লিখে, স্মৃতিচারণ করে অবসর-সময় কাটাবেন। একথাগুলো তিনি বিগত প্রায় একবছর আগে থেকে ঘোষণা দিচ্ছিলেন। সদ্যোসমাপ্ত জাতীয় সংসদে তাঁর রাজনীতি থেকে অবসরগ্রহণের কথাপ্রকাশের মধ্য দিয়ে তা সত্যে ও বাস্তবে পরিণত হলো। তিনি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে রাজনীতিকে বিদায় জানিয়েছেন, এবং এজন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। শ্রদ্ধা তাঁকে। ধন্যবাদ তাঁকে। হ্যাঁ, এজন্য তিনি একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন।

রাষ্ট্রের একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে আমার দাবি: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে শ্রদ্ধেয় আবুল মাল আব্দুল মুহিতের এই আদর্শিক পথ অনেকেরই অনুসরণ করা উচিত। যারা দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ-অবস্থায়ও এমপি-মিনিস্টারের পদদখল করে রয়েছেন, তাদের অবসরে যাওয়া উচিত। এখানে, নতুনদের, তরুণদের আরও যোগ্যদের সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি মনে করি: আমাদের দেশের অশীতিদের (বয়স ৮০ পেরুনোদের) এখনই রাজনীতি থেকে অবসরগ্রহণ করা উচিত।

লোভ-লালসা, পদমর্যাদা, ক্ষমতা, জৌলুস ও সরকারি যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার প্রতি লালায়িত না হয়ে আমাদের দেশের একজন মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত যে সততার বিরল দৃষ্টান্তস্থাপন করেছেন তাতে তাঁকে আমরা একটা ধন্যবাদ দিতেই পারি। ধন্যবাদ আবুল মাল আব্দুল মুহিত মন্ত্রী-মহোদয়কে। পরিশেষে আবারও বলছি: এই মহৎ ও সৎ দৃষ্টান্ত দেশের আরও অনেকেরই গ্রহণ করা উচিত।


সাইয়িদ রফিকুল হক
৩০/১০/২০১৮
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১০:০৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ন্যায়ের আন্দোলন হোক নিয়মতান্ত্রিক ভাবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের সাথে ভুয়া আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে অরাজকতা প্রিয় অ ছাত্রদের বিরাট একটা অংশ অশ্লীল ভাষায় অশোভন উক্তি করে চলছে। একশ্রেণীর মেয়েরা এহেন অশ্লীল নোংরামির হোতা-... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাজারের আগুন নিভবে পে-স্কেলে, প্রবৃদ্ধি ছুঁয়ে যাবে দশ শতাংশ ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৮


কেরামত মওলা সাহেবকে চেনেন না এমন মানুষ সচিবালয়ে কমই আছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদের একজন সিনিয়র সচিব। আজ নতুন পে স্কেল নিয়ে গঠিত সচিবদের কমিটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×