somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কী অভ্যন্তরীণ র‍্যাঙ্কিং জরুরী হয়ে পড়েছে?

২৮ শে মে, ২০১৭ রাত ১০:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলাদেশে এইচএসসি পাশের পর ছেলেমেয়েদের একটি মারাত্নক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তা হচ্ছে তারা কী বিষয়ে পড়বে, কোথায় পড়বে ঠিক করতে না পারা? আবার বেশিরভাগই জানে না তারা কোন বিষয়কে পছন্দ করে? তাই অনেকে ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় বাবা-মায়ের চেপে দেওয়া মতের সাথে একাত্ন ঘোষণা করে সারাজীবন অপছন্দের বিষয়ে বা অপছন্দের ইউনিতে মুখ বুঝে পড়াশুনা শেষ করে।

এতে দেখা যায় তাঁর থেকে জাতি বেশি কিছু পায় না। গড়পড়তা একজন ছাত্র হিসেবে সারাজীবন পার করে দিতে হয়। অথচ সেই একই ছাত্র তাঁর পছন্দের বিষয়ে পড়ে হয়তবা জাতির জন্য বিস্ময়কর কিছু দিতে পারত। সিস্টেমের মারপ্যাঁচ আর তথ্যের ঘাটতির কারণে এভাবে বহু ছাত্র তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে কোনদিন পৌঁছুতে পারে না। আর এভাবে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা গানিতিক হারে বেড়ে চলেছে। এর থেকে পরিত্রাণ হিসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্নয় একটি উপায় হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং-এর মাধ্যমে ছাত্র ও অভিভাবকদের সহজেই জানানো যেতে পারে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা কেমন?
পৃথিবী বিখ্যাত র‍্যাঙ্কিংগুলো করে থাকে যেমন কিউএস; টাইমস (মিডিয়া হাউস); হুরুন ইত্যাদি। ভারতে যেমন করে সরকার নিজে; ইন্ডিয়া টুডে ইত্যাদি।

বৈশ্বিক অবস্থান বিবেচনায় বর্তমানে চার-পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং চালু আছে। এগুলো হচ্ছে QS “World University Ranking”; Times Higher Education World University Ranking; Academic Ranking of World Universities (ARWU); the CWTS Leiden Ranking and the Webometrics Ranking.

এগুলো আবার বিভিন্ন মাপকাঠিতে র‍্যাঙ্কিংগুলো করে থাকে। যেমন, ARWU’ র অন্যতম মাপকাঠি হল তাদের একাডেমিক কোয়ালিটি মানে তাদের কতসংখ্যাক অ্যালামনাই ও ফ্যাকাল্টি নোবেল প্রাইস পেয়েছে; ভালো মানের জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশ ইত্যাদি। অন্যপক্ষে, কিউএস ও টাইমস দেখে ছাত্র-শিক্ষক সংখ্যা; ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিংক, গবেষণা ইত্যাদি। লেইডেন বিজ্ঞানকে প্রাধান্য দেয়।

ওয়েবোমেট্রিক্স ওয়েবভিত্তিক র‍্যাঙ্কিং। এখানে দেখা হয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর কতগুলো প্রতিষ্ঠানের সাথে লিংক রয়েছে। তাদের ওয়েভপেইজ এ কি পরিমাণ তথ্য রয়েছে ইত্যাদি। এটা তেমন কার্যকরী র‍্যাঙ্কিং নয়। কারণ এতে অনেক ভুঁইফোঁড় বিশ্ববিদ্যালয়ও ওয়েবপেজ জাঁকজমকপূর্ণ করে র‍্যাঙ্কিং বাড়িয়ে নিতে পারে।

কথা হচ্ছে এইসব র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় নিয়ে সাধারণত ছাত্ররা বিদেশে ইউনিগুলো সিলেক্ট করে। তাই র‍্যাঙ্কিং এর গুরুত্ব সেই বিবেচনায় অপরিসীম।

কয়দিন আগে ভারতেও তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে সরকারীভাবে। এতে দেশী-বিদেশি ছাত্ররা সহজেই জানতে পারছে ভারতের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান কিরকম? যখন একজন বাংলাদেশী ছাত্র দেখবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সর্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং এ টপ টেন-এ আছে, তখন সহজেই তিনি বাড়ির পাশে হওয়াতে ভালো মানের শিক্ষা পেতে আগহী বোধ করবেন।

এই র‍্যাঙ্কিং করার আর একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে বিদেশী ছাত্র টানা। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ১০ লাখ শিক্ষার্থীর মুষ্ঠিমেয় থেকে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করে টিউশিনফি বাবদ। আরো অন্যানা খরচ তো আছেই। যুক্তরাজ্যও ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি উপার্জন করে। সম্প্রীতি মালয়েশিয়াও ২ লাখ শিক্ষার্থী থেকে শত শত কোটি টাকা কামায় করছে।

এতে দুইটি উপকার হচ্ছে দেশগুলোর তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান বাড়িয়ে নিতে পারছে; ভাল শিক্ষার্থীকে ভাল অফারের মাধ্যমে নিজ দেশ চাকরি দিয়ে ব্রেন গেইন করছে। আর আমাদের মতো দেশ যাদের এই বিষয়ে কোনো নীতিমালা বা দূরদর্শীতা নেই তারা প্রতিনিয়ত হারাচ্ছি জাতির কিছু মেধাবী সন্তানদের।

ধরুন, বাংলাদেশে যদি ওভারঅল একটি র‍্যাঙ্কিং থাকত (পাবলিক-প্রাইভেট বিবেচনায় না নিয়ে); সাথে পাবলিকের জন্য একটি ও প্রাইভেটের জন্য একটি। আবার ফ্যাকাল্টি ও সাবজেক্টের জন্যও র‍্যাঙ্কিং থাকলে ছাত্রদের মধ্যে না জানার দরূন হতাশা কাজ করত না।
যেমন, ওভারওল র‍্যাঙ্কিং যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমও হয়, এর মানে এই নয় ঢাবির সব বিষয়ই সেরা। এক্ষেত্রে বুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে সেরার আসন দখল করবে। আবার যদি সাবজেক্ট বিবেচনায় নেওয়া হয় তাহলে হয়তবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় শাহাজালাল বিশ্ববিদ্যালয় সেরা হবে তাদের আলামনাই ও ঐতিহ্যগত কারণে। কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয় বুয়েটের পরেই অনেকে শাহাজালালকে বেছে নিবে। আবার আইন বিষয়ে অনেকে চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেবে। এগ্রি বিষয়ে বাংলাদেশ এগ্রি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিষয় টপে থাকবে। আবার বিদেশী ছাত্র আধিক্য ও সেশনজট সমস্যা না থাকার কারণে অনেকে হাজি দানেশ কিংবা নতুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নিবে।

এতে দেখা যাবে কোন ছাত্র আগে থেকেই পছন্দ করে রাখতে পারবে সে কি বিষয়ে পড়তে চায়, কোথায় পড়তে চায়? এতে বিশ্ববিদ্যালয় সাথে সাবজেক্টও ভূমিকা পালন করছে। আবার চাকরীদাতারাও সচেতন থাকবে কোন ছাত্র কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয়ে পড়াশুনা করেছে। সেই অনুযায়ী তারা ছাত্রকে চাকরীর বাজারে মূল্যায়ন করতে পারবে।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাবজেক্টভিত্তিক একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে যা উন্নত বিশ্বে ঘটছে। এভাবে প্রতিনিয়ত উন্নতি করার মানসিকতায় হয়তবা একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো শক্ত অবস্থান নিতে সাহায্য করবে।



এরজন্য করণীয় কী? প্রথমেই সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশে কিছু রিসার্স ইনস্টিটিউট আছে যারা এখানে পাইওনিয়ারের ভূমিকা পালন করতে পারে। কিংবা প্রথম সারির মিডিয়া হাউসগুলোও এগিয়ে আসতে পারে।

কী কী বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এই র‍্যাঙ্কিং হতে পারে? সেটা আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংগুলো যেভাবে হয় সেই বিবেচনার সাথে দেশী কোনো কোনো জিনিস যোগ করা যেতে পারে।

যেমন, গবেষণা খাতে কি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয়; শিক্ষকদের কতজনের আন্তর্জাতিকমানের জার্নালে কতটি পাবলিকেশন আছে; এবং তাঁদের এখনকার গবেষণার অবস্থা কেমন; ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত; বিদেশী ছাত্রের সংখ্যা; সেশনজট; অবকাঠামো; শিল্পকারখানার সাথে সংযোগ; কারিকুলামের হালনাগাদ; শিক্ষাবৃত্তি; ডোনেশন; অ্যালামনাইদের অবস্থা; ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতির ফলে কিংবা ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির মানসিকতার কারণে পড়াশুনার ক্ষতির পরিমাণ; এভাবে আরো বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

কেন করবে?
এক, অভিভাবক ও ভবিষ্যৎ ছাত্রদের জানানো যে তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কোন ইউনি বা সাবজেক্টের চাহিদা কেমন?
দুই, অভিভাবকদের মধ্যেও জানা থাকবে ইউনি বা সাবজেক্টের সর্বশেষ অবস্থা। এতে তারা নিশ্চিত হতে পারবেন যে তাদের সন্তানেরা সঠিক জায়গাতে গিয়েছেন।
তিন, ভার্সিটিগুলোর মধ্যেও একটি প্রতিযোগিতার মনোভাব জাগ্রত হবে নিজের ভার্সিটি বা বিষয়কে পরবর্তি বছরে আরো ভালো অবস্থানে তুলে আনার জন্য।
চার, খারাপ র‍্যাঙ্কিং এর কারণে শিক্ষকদের উপরও উপরমহলের চাপ অব্যহত থাকবে। ফলে শিক্ষকরাও ছাত্রকে পাঠদানে অবহেলা করতে দশবার ভাববে।
পাঁচ, খারাপ র‍্যাঙ্কিং এর কারণে খারাপ ইউনিগুলোর বা ভালো ইউনির দুর্বল র‍্যাঙ্কিং এর বিষয়গুলোর উপর ভীষণ চাপ বাড়বে। এতে তাদের ভালো করার ক্রমবর্ধমান তাগিদ অনুভূত হবে। এছাড়া প্রাইভেট ভার্সিটিগুলোও খারাপ অবস্থার কারণে সরকারের নজরদারীতে আসবে। ছাত্র না পেলে মালিকপক্ষেরও ভাবতে হবে ভার্সিটি টাকা কামানোর মেশিন নয়।
ছয়, গবেষণার বরাদ্দের পরিমাণ বা গবেষণার অবস্থা দেখে সহজেই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে একটি কংক্রিট ধারণা তৈরি হবে। সরকারি ইউনিগুলো এতে সরকারের তদারকিতে আরো ভালোভাব আসবে।

এছাড়াও আরো উপকারিতা আছে। তাই শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতিকল্পে কিংবা আধুনিকায়নে এই র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা বাংলাদেশে আমার মতে জরুরী হয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৩:১৮
১৯টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চুপ থাকি আমি চুপ থাকি... হই না প্রতিবাদী

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৩



©কাজী ফাতেমা ছবি
--------------------------
অবাক চোখে দেখে গেলাম
এই দুনিয়ার রঙ্গ
ন্যায়ের প্রতীক মানুষগুলো
নীতি করে ভঙ্গ।

বুকের বামে ন্যায়ের তিলক
মনে পোষে অন্যায়
ভাসে মানুষ ভাসে শুধু
নিজ স্বার্থেরই বন্যায়।

কোথায় আছে ন্যায় আর নীতি
কোথায় শুদ্ধ মানুষ
উড়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর আবদুস সালাম [২৯ জানুয়ারি ১৯২৬ -২১ নভেম্বর ১৯৯৬]

লিখেছেন ইসিয়াক, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৫


নিয়ম করে প্রতিবছর ডিসেম্বরের ১০ তারিখ আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয় নোবেল পুরষ্কার প্রদানের মহা উৎসব। সুইডেনের রাজার কাছ থেকে নোবেল পদক ও সনদ গ্রহণ করেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভোলায় ৪ জনের মৃত্যু, ৬ দফা দাবী নিয়ে ভাবুন

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩০



ভোলায়, ফেইসবুকে নবী (স: )'কে গালি দেয়া হয়েছে; এই কাজ কি ফেইবুকের আইডির মালিক নিজে করেছে, নাকি হ্যাকার করেছে, সেটা আগামী ২/৪ দিনের মাঝে পুলিশের বিশেষজ্ঞ টিম ফেইসবুকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চির যৌবন ধরিয়া রাখিবার রহস্য

লিখেছেন মা.হাসান, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:৫২



সতর্কিকরণঃ এই পোস্টর শুরুতে ১০ লাইনের একটি পদ্য আছে (তবে ইহা কবিতা পোস্ট নহে) ।



কোন বৃক্ষের খাইলে রস
বিবি থাকেন চির বশ ।।
কোন গাছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাঙের বিয়ে [শিশুতোষ ছড়া]

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:৫৬


কোলা ব্যাঙের বিয়ে হবে
চলছে আয়োজন ।
শত শত ব্যাঙ ব্যাঙাচি
পেলো নিমন্ত্রণ ।।

ব্যাঙ বাবাজী খুব তো রাজী ,
বসলো বিয়ের পিড়িতে
ব্যাঙের ভাইটি হোঁচট খেলো,
নামতে গিয়ে সিড়িতে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×