somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১৫ বাঙ্গালী আর ৩০ পাহাড়ীর প্রেমাক্রান্ত খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারে -২

০৩ রা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব: Click This Link
৩.
বাস চলতে শুরু করলো। বসেই ভ্রমণ আলোচনা রেখে দেশের ট্রান্সপোর্ট সেক্টরের উন্নতি অবনতি নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিলাম এবং আমাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হলাম গ্রীণ লাইন স্ক্যানিয়াই দেশের সবচেয়ে ভালো বাস। ভাগ্যিস মালিক সামনে ছিলেন না। থাকলে নিশ্চিত আমাদের ফেরার টিকেটটা ফ্রি করে দিতেন।
আলোচনার মনযোগী আমাদের মাঝে হঠাৎ হাসি মুখে আবির্ভূত হলেন একজন। আমরা চমকে ওঠলাম, মালিক নাকি?
না মালিকের কর্মচারী।
স্যার, টিকেটটা। প্রথিবীর সবচেয়ে বিরক্তিকর শব্দ শুনেও তার দিকে হাসি মুখে তাকালাম। টিকেটটা দিলাম।
সে হাসির মূল্য দিলনা। অন্য অর্থ বের করার চেষ্টা করলো। টিকেটা ফেরত দিয়ে আবার সামনে এসে জিজ্ঞসা করলো, স্যার আপনারা ভলবোর যাত্রী না? নাকি, নন এসি??
মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। ডাক দিলাম, এই এদিকে আসেন। টিকেটে দেখেন নাই? আবার জিজ্ঞসা করেন ক্যান? এই বিষয়ে মানহানির মামলার বিধান নেই বলে বেঁচে গেলেন। না হলে কঠিন প্যাঁচে পড়তেন। সুপারভাইজার সাহেব বিষয়টাকে রসিকতা ধরে একটা খুচরা হাসি দিয়ে চলে গেলেন।
আমি আরো হতাশ হলাম, আমার মানহানির বিষয়টারও মানহানি হওয়ায়।
বাস চলছে। হালকা হালকা শীতশীত ভাব। ছোট ছোট কম্বল দেয়া হলো। আমরা সেটাকে জড়িয়ে ঘুমের ডানায় ভর করে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত এলাম। খাওয়া দাওয়া করতে হবে। ক্ষিধা তেমন না থাকলেও বাসে চড়ার নিয়ম হিসেবে এসব জায়গাগুলোতে কেন যে আসোলেই ক্ষিধা লেগে যায়। জোড় করে কিছু একটা খেলাম। মূলত খাওয়াটা ছিল চা।
আবার চৌদ্দগ্রাম ত্যাগ। আবার ঘুম। খুব ভোরে, অনেকটা ভোর হবার আগেই চিটাগাং। মাত্র সাড়ে তিন ঘন্টা বড় জোড় চার ঘন্টায় চলে এলাম।
আমি আর জয় কোনো কূল কিনারা পাচ্ছিনা। জয় বলল, চলেন এক কাজ করি। নাস্তা টাস্তা করি। চিটাগাং থাকার দরকার নেই। বাসে ওঠে খাগড়াছড়ি চলে যাই।
যেই কথা সেই কাজ।
নাস্তাটাস্তা শেষে অক্সিজেন নামক এলাকায় গেলাম। সেখান থেকেই খাগড়াছড়ির বাস ছাড়ে। গিয়েই অক্সিজেন শূন্যতা টের পেলাম। দম বন্ধ হবার যোগাড়। আবারও সেই শান্তি পরিবহন! জটিল সিটিং ব্যবস্থা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে সিটিং ব্যবস্থা সমস্যাসংকুল, যাত্রীদের দাড়িয়ে থাকাই সুবিধাজনক। টিকেট কেটে ঘন্টাখানেক সময় পেলাম। কিছু করার না পেয়ে সেখানেই ফটোগ্রাফী শুরু করলাম। সাবজেক্ট জয় এবং কাউন্টারের বিরল প্রজাতির লোকজন।
একটা সময় গাড়ী চলতে শুরু করল। যেভাবে বসলাম, পা দুটো মোটামুটি হাতে রেখে বললে ভুল বলা হবেনা। সুপারভাইজারকে জিজ্ঞাসা করলাম, ভাই কতক্ষণ লাগবে। সে জানালো বেশিক্ষণ না। এই ধরেন তিন ঘন্টা। দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাবে। তারপর শুরু হলো আমাদের দেখা। এই দেখার অনুভুতি আসলে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। চট্রগ্রামের সমতলতা পেরুনোর পর থেকে যে মুগ্ধতা শুরু হয় তার আর থামার কোন সুযোগ ছিলনা। কখনো বিশাল উচুতে, কখনো নিচুতে এভাবেই চলছিল আমাদের যাত্রা। সবুজ আর দুর্গম প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে আমরা নিমিষেই ভুলে স্বস্তিদায়ক সিট না পাওয়ার কষ্ট। গাড়ী চলছে, ফুরিয়ে আসে পথ। আমাদের মুগ্ধতা ফুরায় না। যা দেখি তাতেই মুগ্ধ। আমাদের পাশের দুই ভদ্রলোক এই মুগ্ধতার রোগে আক্রান্ত হলেন বেশি বোঝো গেল। যা দেখেন তাতেই হই হই করে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর পর মুগ্ধতার ধ্বনী প্রতিফলিত হয় পাহাড়ে পাহাড়ে। পাহাড় দেখেন চিৎকার দেন আহ! পাহাড়।
বড় বড় গাছ দেখেন আহ! কি বিশাল গাছ।
হঠাৎ শোনলাম, চিৎকার দিলেন আহ! গরু।
অবাক হলাম। ঘটনা কি?
ভাইজান কি ফরেন মাল নাকি? তাকালাম। না ফরেনের আশেপাশেরও ছিটে ফোটাও নাই।
একদম দেশী। হঠাৎ গাড়ী থামানো হলো। চারদিকে তাকালাম। খাবরের বিরতী নাকি? কিন্তু আশেপাশে হোটেল নেই। তাহলে?
সুপারভাইজার জানালেন ঘটনা। আমরাও নামলাম। এটা 'টি' ব্রেক। তবে কেউ আবার চা বিরতী ভেবে ভুল করবেননা। ওটা ছিল টি মানে 'টয়লেট' ব্রেক। সুপারভাইজার বললেন, যার যা প্রয়োজন সেরে নেন। সুপারভাইজারের আদেশে আমরা সবাই লাইন ধরে এক সরু গলির ভেতর দিয়ে গেলাম। অনেককে দেখে বোঝা গেল কোন প্রকার চাপ অনুভব না হওয়ার পরও বোধ হয় গিয়ে ঘুরে আসলেন।
ভয়টা এমন, বলা তো যায়না যদি ধরে!
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৫৩
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×