দ্বিতীয় পর্ব: Click This Link
৪.
খাগড়াছড়ি ঢুকলাম ১১টার দিকে। ভালো লাগলো খাগড়াছড়ি গেটটা। শহরের ভেতরে জিয়ার প্রতিকৃতিটা দৃষ্টিনন্দন। ঘন্টা খানেকের মধ্যেই শহরের অনেকগুলো জায়গা ঘুরে দেখলাম। এজন্য অবশ্য ধন্যবাদ দিয়ে অবশ্যই ছোট করতে হয় এক রিকশাচালককে। সেই মূলত গাইডের কাজটা করেছিল। সে তার রিকশায় নানা জায়গা দেখালো। অনেক কিছুই ভালো লাগলো। এর মধ্যে একটি বৌদ্ধ মন্দির, মন্দিরের পুরোহিত, শহরের কেন্দ্রস্থলে জিয়ার প্রতিকৃতি সবই। পুরোহিত সাহেব বেশ মাই ডিয়ার টাইপের লোক। ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ছবি তোলা যাবে?
তিনি হাসি মুখে জবাব দিলেন, অবশ্যই। তিনি নিজেও ফ্রেমের ভেতর চলে এলেন হাসিমুখে।
ভালো লাগলো আরেকটা জিনিস দেখে, সে রিকশা রাস্তায় ফেলে রেখেই আমাদের সাথে সব জায়গায় ঢুকে গেল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কি মিয়া রিকশা নিয়া যাইবোনা?
সে না সূচক মাথা নাড়লো।
অথচ ঢাকায় রিকশা রেখে ভাঙতির জন্যও রিকশাওয়ালারা নড়ে না।
দেখাদেখির শেষ পর্যায়ে এক জায়গায় গেলাম সেখানে গুহা আছে। অন্ধকারে ছোট ছোট মশাল টাইপের একটা জিনিস নিয়ে ঢুকতে হয়। স্পটেই বিক্রি করে। প্রচুর মানুষ। প্রচুর টুরিষ্ট। পাহাড়ী আর বাঙালী মেয়েদের জয়জয়কার। আমি একটা সময় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, অন্য কিছু না দেখে তাদেরকেই দেখবো। তবে জয়ে বাধার মুখে সেটা স্থায়িত্ব পেলনা। আমরা অনেকটুকু হেটে মশাল কিনে গুহার কাছে গেলাম। সেখানে যাওয়ার আগেই দুর থেকে নানা ধরনের চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেলাম। বুঝলাম গুহার অন্ধকার থেকে এই আওয়াজ।
ভাগ্যিস এখানে টারজান ছিলনা। না হয়, এই চিৎকার শুনে ব্যাটা এসে নির্ঘাত কোনো 'সিনক্রিয়েট' করত।
আমি আর জয়ও গুহাতে নামলাম। গুহাতে পানি প্রবাহ চলছে তুমুল বেগে। মাঝে মাঝে গর্ত আছে। সব কিছু পাড়ি দিয়েই এই এ্যাডভেঞ্চার চালাতে হয়। আমরা নামতেই আমাদরি দুজন অগ্রপথিক লঙ্কাকান্ড বাধিয়ে দিলেন। চিৎকার দিয়ে দৌড়ে আসছেন। তাদের চিৎকার শুনে আমরা দ্রুত গতিতে ওঠে দাঁড়ালাম।
জানলাম, তাদের মশাল নিভে গেছে বলে আর সামনে যাননি। কতটুকু গিয়েছিলেন? জানতে চাইলো এক স্থানীয় যুবক। তারা জানালো। শুনে যুবকটি হেসে দিল। যুবকটি বলল, উল্টো যতটুকু দৌড়ে এসেছেন তার চার ভাগের একভাগ গেলেই ওদিকের মুখ। এবার আমরাও না হেসে পারলাম না। দেখা শেষে চাঁদের গাড়ী নামক বিশেষ গাড়ী যোগে আবার খাগড়াছড়ি ফিরলাম। চাঁদের গাড়ীতে একটা মজার জিনিস দেখলাম। চাঁদের গাড়ী ভরে ছাদেও স্থান সাংকুলান হয়না। যে যেভাবে পারে ওঠে বসে। সে বসার একটি দেখলাম, আমরা ড্রাইভারের সাথে বসেছি। হঠাৎ করে দুটি পা ড্রাইভারের সামনে এসে ঝুলে রইল। ছাদে বসা কেউ পা ঝুলিয়ে বসেছেন। আমি বিরক্ত হলাম। ড্রাইভারকে বললাম, পা সরাতে বলবেন না? ডিষ্ট্রার্ব হচ্ছে না?
ড্রাইভার সাহেব আমার দিকে তাকিয়ে হাসি দিলেন। না ভাই। বলেই ডানদিকে বেশ কিছুটা বাকা হয়ে গাড়ী চালাতে শুরু করলেন। মাঝে মাঝে পা নড়লে তিনিও তার সুবিধা মতো নড়ে দেখার জায়গা বের করে গাড়ী চালাতে লাগলেন। দেখে প্রায় নিশ্চিত ছিলাম একসিডেন্ট হবেই। কারন ড্রাইভার মোটামুটি অনুমান নির্ভর গাড়ী চালনা করছেন।
মনে মনে বললাম, আল্লাহ বাঁচাও।
(চলবে)
ছবি: ১. জিয়ার প্রতিকৃতির নীচে আমি।
২. খাগড়াছড়ি শহর
৩. প্ররোহিতের সাথে জয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



