somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জাদিদ
তুমি আমার রাতবন্দিনী। ধূসর স্বপ্নের অমসৃণ সুউচ্চ দেয়াল তুলে তোমাকে আমি বন্দী করেছি আমার প্রিয় কালোর রাজত্বে। ঘুটঘুটে কালোর এই রাজত্বে কোন আলো নেই। তোমার চোখ থেকে বের হওয়া তীব্র আলো, আমার হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব জ্যোৎস্না।

ছবি ব্লগঃ যাপিত জীবনের ক্যানভাস

১৭ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৪:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগে ছবি প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। অনেকেই দ্বিধায় আছেন কেমন ছবি দিবেন, কি ধরনের ছবি দিবেন। আমি এখানে যে ছবি ব্লগটি দিলাম, এটা শুধু ছবি ব্লগের একটা উদহারন মাত্র। একটা জিনিস মনে রাখবেন, ব্লগের একদম শুরুতে ছবি দিবেন না। আরো অনেক ধরনের, ভিন্ন মাত্রার ছবি ব্লগ হতে পারে। আমার এই ছবি ব্লগটি প্রতিযোগিতার অন্তর্ভুক্ত নয়।

১। কল্পলোকে দুয়ারে



এই ছবিটা আমার ভীষন পছন্দের একটা ছবি। আমার এক আত্মীয় হবিগঞ্জে চা বাগানের ম্যানেজার, তাঁর আমন্ত্রনে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সময়টা ছিলো বর্ষার মাঝামাঝি। তাঁর বাংলো থেকে বের হয় চা বাগানের মাঝে আসতেই দেখলাম, দূরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার এই দীর্ঘ পথটির দুই পাশে চা বাগান আর প্রাচীন সব বড় বড় গাছ। বর্ডারের খুব কাছাকাছি হওয়াতে এখানে মাঝে মাঝে হাতি দেখা যায়। দৃশ্যটা ক্যামেরায় যতটা সুন্দর লাগছে, তারচেয়ে বেশি সুন্দর ছিলো বাস্তবে। এই দিন কি আর ফিরে পাওয়া যাবে?

২। শিরোনামবিহীন অনেক সকাল।



এক শীতের সকালে, যখন কুয়াশা পরিষ্কার হয়ে হালকা রোদ উঠছিলো, ঠিক সেই সময়ে এই ছবিটি তুলেন আমার এক সহকর্মী। ছবিটি দিক নির্দেশনা দিয়েছিলাম আমি। পরবর্তীতে আমার সহকর্মীকেও এই ধরনের ছবি তুলে দিই, কিন্তু তিনি বার বার হেসে ফেলায় ছবিটার মজা নষ্ট হয়। এই ছবির শিরোনাম দিয়েছিলাম - এই শহর উপহার দিয়েছে আমায় শিরোনামবিহীন অনেক সকাল।

৩। মেঘফুল



এই ছবিটি অফিসে তোলা। আমাদের অফিসের ছাদে যে বাগান আছে সেখানে ছোট শাপলা ফুল ফুটেছিলো। এক মেঘলা দুপুরে বাগানে ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ দেখি আর প্রচন্ড মুগ্ধ হই। সাথে সাথে ক্যামেরা এনে ছবিটা তুলে ফেলি। শাপলা ফুলের পিছনে জলের উপর মেঘের ছায়া! তাই নাম দিয়েছিলাম মেঘফুল।

৪। অতলান্তিকের ছন্দ



এটা আমার গ্রামের বাড়ির পুকুর। এক বর্ষার সকালে প্রবল বর্ষনে ভেসে গিয়েছিলো। গ্রামের বাড়িতে বৃষ্টি আর পুকুর একসাথে পেলে আমি অসম্ভব ছেলে মানুষ হয়ে যাই। বৃষ্টিতে সারাদিন ভিজি, পুকুরে ডুব সাঁতার কাটি। সে অদ্ভুত অসাধারন অভিজ্ঞতা। এই পুকুরে ঝুম বৃষ্টির মাঝে কিছুক্ষন ডুব দিয়ে বসেছিলাম, একটা অদ্ভুত ছন্দ কানে শুনতে পেলাম। নাম দিলাম অতলান্তিকের ছন্দ।

৫। অপেক্ষা।



এই ছবিটি আমার তোলা প্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে একটি। হাতিয়া থেকে নোয়াখালি ফেরার সময় মোহনার কাছাকাছি এই ছবিটি তোলা হয়। লঞ্চে তেমন একটা যাত্রী ছিলো না। সাগরের মোহনায় এসে কেমন যেন অদ্ভুত বিষন্নতা আমাদেরকে গ্রাস করল। আমার সহববন্ধুকে এইভাবে বসে থাকতে দেখে সাথে সাথে ছবিটা তুলে ফেললাম। ছবির নাম দিলাম, অপেক্ষা!

৬। নিঃসঙ্গতার জলজ প্রতীক্ষাঃ



বৃষ্টিভেজা সকাল দেখার জন্য বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। প্রতিটি গ্রিলে এক সাথে কয়েক ফোঁটা পানি দেখলেও, একটা গ্রিলে দেখলাম শুধু একটা পানির ফোঁটা। মনে হলো বেচারা খুবই নিঃসঙ্গ। ছবিটার নাম দিলাম - নিঃসঙ্গতার জলজ প্রতীক্ষা।

৭। প্রতীক্ষাঃ


এই ছবিটার বিষয় বস্তুও অপেক্ষা বা প্রতীক্ষা। ইহা একটি ফরমায়েসি ছবি। এই ছবিটির মডেল হয়েছেন আমার স্ত্রী!

৮। করোনাক্রান্ত শহরঃ



এই ছবিটা গতবছর করোনা শুরু হবার প্রাক্কালে তোলা। তখনও লকডাউন শুরু হয় নি। মানুষ ভয়ে রাস্তায় বের হচ্ছে না। সাধারন দিনে অফিস ছুটির এই সময়টায় বনানী ১১ নাম্বার রোডে জ্যামের যন্ত্রনায় নিঃশ্বাস ফেলারও সুযোগ থাকে না।

৯। একটি আদর্শ ভেলপুরিঃ



ঢাকার চকবাজারে এখনও আসল ভেলপুরি পাওয়া যায়। এই পুরিগুলো আকারে বড়, কিছুটা শক্ত আর মুচমুচে থাকে। এটা খাওয়া উপযুক্ত সময় হচ্ছে গরম গরম খাওয়া। অথচ সবাই ঠাণ্ডা খায়! ঢাকার অনেক জায়গায় ভেলপুরিকে পানি পুরির আদলে বিক্রি করে।
ইহা অতি হাইস্যকর!!!

১০। ধন্যবাদ মানুষঃ



প্রচন্ড শীত পড়েছিলো, এলাকায় একটা ছেলে কুকুরটাকে একটা জ্যাকেট পড়িয়ে দিয়েছিলো। আর কুকুরটা প্রচন্ড কৃতজ্ঞতা ছেলেটার সাথে সাথেই ঘুরছিলো। আমি ছবি তুলতে চাইলে, আমাকে এইভাবে পোজ দিলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৪:২৯
১৯টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিষাদের উত্তরাধিকার....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৯:৫৬

বিষাদের উত্তরাধিকার....

আমি হাজার হাজার বছর ধরে পিঠে বিষাদ বেঁধে হেঁটে চলেছি। আমার বাবা, আমার মা তার মা তার বাবা…
একইভাবে এগিয়ে গেছে আমার মতই।
পিঠ থেকে নামিয়ে চোখের কোলে বসিয়ে তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুমিল্লায় ঘটনা তিনটা: আমি যেভাবে দেখি

লিখেছেন সরোজ মেহেদী, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:৪৬

১. মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরানের অবমাননা করা হয়েছে। ‘কে করেছে?’ হিন্দু ভাইরা সবার আগে এই প্রশ্নটা করবেন। উত্তর: আমি জানি না। কোনোদিন জানা যাবে বলেও বিশ্বাস করি না। কথা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোদন ভরা আমাদের শিক্ষা জীবন শুরু

লিখেছেন জুন, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:৫৯

আমাদের শিক্ষা জীবনে প্রথম বাংলা সাহিত্যের সাথে পরিচয় ঘটে সবুজ সাথী বই এর মাধ্যমে। সেই বইতে ছিল নানা রকম শিক্ষা মুলক গল্প, কবিতা,প্রবন্ধ । কিন্ত আজ চিন্তা করলে দেখি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাইওয়ান দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩২



চীনের ভাবসাব দেখে ও শি জিনপিং'এর কথা থেকে মনে হচ্ছে, চীন তাইওয়ান দখল করার ব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছে; এবং চীন ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে।

তাইওয়ান হচ্ছে আরেকটি চীনদেশ, ইহা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবনিক~১ম পর্ব (তৃতীয় খন্ড)

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ৮:৫৩


আগের পর্বের জন্যঃ Click This Link
দুই বছর পর...
নেক্ষন ধরে টু টুটুট টুটুট করে টেলিফোন বাজছে।
সৌম্য গভীর ঘুমে তখন।মনে হচ্ছিল বহু দুরের কোন শব্দ। ঘুমটা হালকা হতেই সে ভীষণ আলস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×