কোনো এক জনসমাগমে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাত ও খোলামেলা কথা বলছিলেন। এক মহিলা তার কাছে আকুতি জানালো, আমার স্বামী অনেকদিন ধরে জেলবন্দী। তার অপরাধ সামান্য এবং শাস্তির মেয়াদ শেষ হতে এখনও দু বছর বাকি। স্বামীবিহীন সংসার চালাতে গিয়ে আমি বিপর্যস্ত ও অসহায় হয়ে পড়ছি। আপনি যদি তার এই দু বছর মাফ করে দেন, আমার জন্য বড় মঙ্গল হবে। শেখ জায়েদ মহিলার কথা শুনলেন এবং কাগজে তার স্বামীর নাম ও জেলখানার নাম লিখে নিলেন। অভয় দিয়ে বললেন, ইনশাল্লাহ আমি ব্যাপারটি দেখব। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।
সারাদিনের কাজকর্ম শেষে রাতে যখন তিনি মজলিসে বসে কথা বলছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে, হঠাৎ তার মহিলার কথা মনে পড়লো। তখনই পকেটে হাত দিয়ে দেখেন, কাগজটি হারিয়ে গেছে। ব্যস্ততার ফাঁকে কোথায় রেখেছেন বা পড়ে গেছে, কোনোভাবেই বের করতে পারছেন না। অথচ তিনি তো ওই মহিলাকে কথা দিয়েছিলেন ব্যাপারটি বিবেচনার। এদিকে ওই মহিলাকেও এখন খুঁজে বের করা অসম্ভব প্রায়। এতো ভিড়ের মধ্যে কে মনে রেখেছে তার অবয়ব আকৃতির কথা। তবে এখন কী করা!
একজন সাধারণ প্রজা মহিলার কাছে প্রদত্ত আশ্বাস তবে কি তিনি এড়িয়ে যাবেন! কিন্তু ওই মহিলা যে স্বামীর পথ চেয়ে বসে আছেন! পরদিনই তিনি রাষ্ট্রীয় ফরমান জারি করলেন, আরবআমিরাতে সবগুলো জেলখানায় যতো বন্দী এমন আছে, যাদের শাস্তির মেয়াদ আরও দু বছর বাকি আছে, তাদের সবাইকে যেন ছেড়ে দেয়া হয়।’ এতে নিশ্চিতভাবেই ওই লোকটিও মুক্তি পাবেন, যার স্ত্রী গতকাল শেখ জায়েদের কাছে স্বামীর জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে আকুতি জানিয়েছিলেন।
দেশের সমৃদ্ধির জন্য সবার আগে নেতাদের মানসিক সমৃদ্ধি প্রয়োজন। পক্ষান্তরে আমাদের দেশে চারিদিকে দলান্ধ ও সংকীর্ণমনা নেতাদের লোকদেখানো আয়োজন। এজন্যই তাদের এবং আমাদের পার্থক্য এত যোজন যোজন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


