আবেগের নাম লোকালিজম (Localism).....
লোকালিজম (Localism) রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়! যা স্থানীয় ব্যক্তি, অর্থনীতি এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সুরক্ষার উপর জোর দেয়। আবার কোনো স্থানীয় মানুষ যদি হয় পাবলিক ফিগার, জাতীয় পর্যায়ের বিখ্যাত কেউ তখন তিনি শুধু সসম্মানেরই থাকেন না, আবেগ এবং অস্তিত্বের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। যেমন ধরা যাক-
★ হিন্দুত্ববাদের মডেল দামোদর মোদির জন্মস্থান গুজরাটে যেয়ে কেউ যদি "মোদি মুর্দাবাদ" স্লোগান দেয় তাহলে তাকে স্থানীয় লোকজন মুহুর্তেই ছাতু বানিয়ে ফেলবে। নো আর্গুমেন্ট, নো কম্পলেন, নো আইন-কানুন, নো বিচার আচার!
★ বগুড়ায় গিয়ে কোন গোষ্ঠী যদি '‘জিয়া মুর্দাবাদ’' স্লোগান দেয়, দলমতের উর্ধ্বে উঠে জনগণ স্লোগানদাতাকে পিটিয়ে মারবে। কেননা, জিয়া তাদের মাটির সন্তান, বিএনপির নয়- "বোগরার ছাওয়াল জিয়া"।
★ রংপুরের মাটির সন্তান এরশাদ। সেখানে যেকোনো যুক্তিতর্কের উর্ধে 'হামাক অংপুরের ছাওয়াল' এরশাদ।
★ গোপালগঞ্জও ব্যাতিক্রম নয়!
দেশের চৌষট্টি জেলার তেষট্টি জেলায় মুজিব কিম্বা হাসিনা সবার চোখে অপদার্থ, স্বৈর শাসক হলেও, তারা গোপালগঞ্জের সন্তান। ওই মাটিতেই ঘুমিয়ে আছে মুজিব। সেখানে গিয়ে শুধু জুলাই যোদ্ধাদেরই নয়, যেকোনো যোদ্ধারাই হ্যাডম দেখাতে পারবে না।
হ্যাডাম দেখানোর রাজনীতি সব যায়গায় চলে না।
আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের নতুনের দিশারীরা, শান্তি-সহনশীলতা-এমপ্যাথি বা দরদের স্বপ্ন দেখিয়ে, সেই একই হাসিনার রাজনীতি ফিরায়ে এনেছে ‘ধর্মের মোড়কে হ্যাডমের রাজনীতি’।
এই হেডাম দেখানোর পরিনতি এপিসি করে পলায়ন আর হেলিকপ্টারে পলায়ন একই রকম। কেবল ক্ষমতায় বলে, প্রচার ভিন্ন হচ্ছে। এটা থেকে রেকনিং বা আত্বশুদ্ধিবোধ দরকার ছিল, প্রানহানীর জন্যে অনুশোচনা দরকার ছিল। আমরা দেখিনি, দেখেছি হাসিনার স্টাইলে র্যাব পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনীর ছায়াতলে, জনসমর্থনহীন পাল্টা হুঙ্কার।
বাংলাদেশে ৯০ ভাগ মানুষ রাজনীতির সংস্কার চায়। শান্তিপুর্ন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দেখতে চায়। খারাপের বিপরিতে ভালোর জয় দেখতে চায়। এই চাওয়াট দোষের না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমজনতার চাওয়া উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাহিদ ইসলাম গংদের ক্ষমতার খায়েশ পূরণ করতে জাতীয় নাগরিক পার্টি বানিয়েছে। আমজনতার প্রত্যাশার বিপরীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দেশজুড়ে নিধিরাম সর্দারদের দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে অরাজকতা সৃষ্টি করতে মাঠে নামিয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের ন্যায্য চাওয়ার বিপরীতে যারা হ্যাডমের রাজনীতি ফিরায়ে আনছে- তারা জুলাই শহীদদের প্রতি কমপ্লিট অবিচার করছে।
আমাদের ইতিহাস হলো, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ার ইতিহাস। হেডাম দেখাতে গিয়ে পালিয়ে বাঁচার ইতিহাস। কাজেই হ্যাডম দেখানো বন্ধ করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০২৫ বিকাল ৩:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



