somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কল্পদ্রুম
জ্ঞানিরা বলেন মানুষ জন্মমাত্রই মানুষ নয়,তাকে যোগ্যতা অর্জন করে তবেই মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে হয়।যোগ্যতা আছে কি না জানি না,হয়তো নিতান্তই মূর্খ এক বাঙ্গাল বলেই নিজেকে নির্দ্বিধায় মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেলি।

দাবায়ে রাখতে পারবা না

২৯ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমরা কি ভীতু জাতি? হিসেবে সেটা হওয়ার কথা না। সিপাহী বিদ্রোহে বাঙ্গালিদের ভূমিকা ছিলো মারাত্মক। বৃটিশ শাসকরা আজীবন তাই বাঙ্গালিদের সন্দেহের চোখে দেখেছে। তারা মার্শাল রেস বলে এক তত্ত্ব প্রচার করেছিলো। এর উদ্দেশ্য ছিলো বাঙ্গালিদের সামরিক বাহিনী থেকে দূরে রাখা। তাতে কি হয়েছে! সিভিলিয়ান বাঙ্গালি গলাবাজি (রাজনীতি) আর বোমাবাজি করে বৃটিশদের প্যান্ট লুজ করে দিয়েছিলো। সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশে বিদেশে বইতে বিশাল দেহী পাঠান পর্যন্ত বলছে বাঙ্গালি হলো ডেঞ্জারাস। বাঙ্গালি বোমা মারে।

ডেঞ্জারাস বাঙ্গালি অনেক বার তার ফর্ম দেখিয়েছে। ফাইনাল ফর্ম ছিলো একাত্তর। শুকনা পাতলা মানুষ জন। অস্ত্রপাতি তেমন নাই। কিন্তু বুকের পাটা দিয়ে যুদ্ধ করেছে। এই রকম একটা যুদ্ধের ইতিহাস যাদের থাকে। অর্ধ শত বছরে সে জাতি এত বদ হয়ে গেল কি করে!

ইউনাইটেড হাসপাতালে না কি আগুন নিয়ন্ত্রনের জন্য নিজস্ব কর্মী ছিলো। ঘটনার রাতে তারা নিস্ক্রিয় ছিলো। অথবা অনেক দেরীতে উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে। ততক্ষণে উদ্ধারের মত কিছু নেই। ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। ফায়ার ব্রিগেডও চলে আসছে।

হাসপাতালের কর্মীরা কেন দেরী করলো! মাননীয় মেয়রের ইন্টারভিউ দেখলাম। তিনি বললেন এইটা করোনা ইউনিট ছিলো। কর্মীরা তাই ভয় পেয়েছিলো। অদ্ভুত যুক্তি!

করোনা নিয়ে হাজার জন ইতিমধ্যে হাজার কথা লিখেছেন। কত বিশেষজ্ঞ,বিশেষ অজ্ঞ টিভিতে পত্রিকায় ব্লগে(?) লিখে এটাকে একদম ভাজা ভাজা করে ফেলেছেন। এই দেশের প্রতিটা মানুষের হাতে মোবাইল। ঘরে টিভি। অনেকেই পত্রিকা পড়েন। এত দিনে সবার গরুর রচনার মত করোনার আদ্যোপান্ত মুখস্থ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে কি হচ্ছে?

তিস্তা নদীতে একটি মেয়ে দু দিন ধরে ভাসছিলো। পুলিশ পরবর্তীতে উদ্ধার করে। তার পরিচয় পাওয়ার পর তার পরিবারকে ডাকা হয়। তার বাবা তখন ঘটনা খুলে বলে। মেয়েটি অসুস্থ অবস্থায় ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলো। পথে সে মারা যায়। ট্রাক চালক এটা বুঝতে পেরে ট্রাক রেখে পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ মেয়েটাকে উদ্ধার করে তার বাবাকে খবর দেয়। মেয়ের বাবা গ্রামে আসার আগে ইউপি চেয়ারম্যানকে ফোন করে। চেয়ারম্যান বলে তারা গ্রামে আসলে লাশসহ তার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেবে। এই কথা শুনে মেয়ের বাবা মেয়েকে আর গ্রামে না নিয়ে এক এম্বুলেন্স ড্রাইভারের সাথে চুক্তি করেন। মেয়েটাকে সে দাফন করবে। বিনিময়ে তাকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। ড্রাইভার টাকা আর মেয়েটাকে নিয়ে চলে যায়। এরপরের ঘটনা তিস্তা নদী। এই যে এত প্রচারণা। তাহলে এসবে কি লাভ হলো! এমন না যে এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এরকম অনেক ঘটনাই মিডিয়াতে আসছে।

প্রচার মাধ্যম হিসেবে বিটিভির ইতিহাস গৌরবের। শিশুদের জন্য ডায়রিয়া এদেশে একসময় মহামারি ছিলো। তিন আঙ্গুলের এক চিমটি লবণ, এক মুঠ গুড় আধা সের পানিতে গুলে ঘরে বসে স্যালাইন তৈরি করা যায়। এত সাধারণ একটা আইডিয়া দিয়ে সেই মহামারীর চিত্র বদলে গিয়েছিলো। এই বৈপ্লবিক জিনিস সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে বিটিভির ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। অথচ তখন একটা মাত্র চ্যানেল ছিলো। সারা এলাকায় হাতে গোনা কয়েকটা টেলিভিশন সেট।

আমাদের সময়ে এত সোস্যাল,টেলিভিশন,প্রিন্ট মিডিয়া। সবখানে এত প্রচারণা। আলোচনা। টকশো। অথচ ইনফরমেশন গ্যাপটা আমরা কিছুতেই কাটাতে পারছি না। এর পিছনে কারণ কি? অধিক সন্ন্যাসীতে কি গাজন নষ্ট হচ্ছে?

বাজারে,শপিং মলে লোকজনকে ধরে জিজ্ঞেস করা হয় 'ভাইয়া/আপু মাস্ক নাই কেন?শপিং এ কেন আসছেন?' তারা তখন সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া শুরু করেন।আমরা যে ভীতু জাতি না। তার শত বৎসরের পুরাতন উদাহরণে যদি আপত্তি থাকে। সেক্ষেত্রে এই হাটে ঘাটে মাঠে পথে প্রান্তরে হেঁটে বেড়ানো বাঙ্গালিদেরকে দেখানো যেতে পারে। এরাই হলেন সাহসী বাঙ্গালি। বাঙ্গালি ঐতিহ্যের ধারক। করোনার ভয়কে তারা তুচ্ছ করেছেন। বঙ্গবন্ধু এদের মত মানুষের প্রতি বিশ্বাস রেখেই বলেছিলেন— 'দাবায়ে রাখতে পারবা না।'
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০২০ বিকাল ৩:৪৬
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খেলারাম খেলে যাও দেখারাম দেখে যাও...

লিখেছেন সাইন বোর্ড, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৬


বলছি না যে সোনার বাংলার সব সোনা হঠাৎ করে শিশ্নতে এসে জমা হয়েছে আর মাঝে মাঝে তা ফাল দিয়ে উঠছে ।

তবে এর ব্যাবহার যাচ্ছেতাইভাবে বেড়ে গেছে । আসলে উন্নয়ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল (ষোল)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৬



অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গেছে!
শাহেদ জামাল চাকরি পেয়ে গেছে। তার ধারনা তার মতো এত এত সিভি আর কেউ জমা দেয় নি। বিডি জবস এ তার চোখ সব সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে পর্ণগ্রাফি, অশ্লীল ও অরুচিকর ছবি প্রদানকারীর পরিচয় সম্পর্কে।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০১

প্রিয় সহব্লগারবৃন্দ,
আপনাদের জানার সুবিধার্থে বলছি, সামহোয়্যারইন ব্লগ এক ব্যক্তির একাধিক নিক রেজিষ্ট্রেশন সাপোর্ট করে। কারন অনেক লেখকই ছদ্ম নামে লেখালেখি পছন্দ করেন। কিন্তু যদি এটা প্রমানিত হয় যে, এই এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ছবি দেখে মনের ছবি ভেসে ওঠে....

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪০


(সেদিনের আসন্ন সন্ধ্যায়, অস্তগামী সূর্যের ম্লান আলোতে আমাদের স্টীমারের সমান্তরালে সেই লোকগুলোর ক্লান্ত পায়ে হেঁটে চলার দৃশ্যটি আমার মনে আজও গেঁথে আছে)

‘পাগলা জগাই’ ওরফে ‘মরুভূমির জলদস্যু’ এ ব্লগের একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাসমতি চাল নিয়ে লড়াই

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:০৭




এবার কাশ্মীর নিয়ে নয় বা লাদাখের অংশ বিশেষ নিয়েও না , লড়াই চাল নিয়ে । সেকি চাল তো কর্কট রেখা বরাবর সবখানেই হয় , তাহলে ? ভারত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×