somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৈষম্যমূলক সকল কোটা বাতিল হোক

১০ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭২ সালে সরকারী চাকুরিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে কোটা সিস্টেম করা হয়েছিল , সেটা ছিল দেশের স্বার্থে। বঙ্গবন্ধু সরকারের উদ্দেশ্য ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন এবং প্রশাসনকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ধারায় প্রতিষ্ঠা করা। । আমার জানা নেই সেই সময়ে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা সেই সুযোগ পেয়েছিল কিনা। ইতিহাস পর্যোলোচনা করলে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশের যে অবস্থার বর্ননা পাওয়া যায়, তা একেবারেই ইতিবাচক নয়। সত্যি্কারের মুক্তিযোদ্ধারা সরকারী চাকুরি পেলেতো দেশটার চেহারা এরকম হবার কথা ছিল না।

১৯৭২ সালে একটি অর্ডারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু নিজেই মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞায়ন করেছেন। ১৯৭২ সালের অর্ডারের যে ব্যাখ্যা তাতে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা মানে এমন একজন ব্যক্তি যিনি মুক্তিযুদ্ধে নিয়োজিত যেকোনো সংগঠিত দলের (ফোর্স) সদস্য হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা সম্পর্কে ১৯৭২ সালের অর্ডারের ইংরেজি ভাষায় যা বলা আছে তা হচ্ছে : 'ফ্রিডম ফাইটারস (এফএফ) মিনস অ্যানি পারসন হু হ্যাড সারভড অ্যাজ মেম্বার অব অ্যানি ফোর্স এনগেজড ইন দ্য ওয়ার অফ লিবারেশন।' এই সংজ্ঞানুসারে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ১১টি সেক্টরে যারা যুদ্ধ করেছে কেবল তারাই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সঙ্গায়িত হবেন। এই সেক্টরগুলোতে যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিশ্চই সে সময়ের সেনাবাহিনীর কাছে ছিল। তবে সেই তালিকা নিয়ে সেই সময়ে কি ধরনের বিশৃংখলা বা অপরাজনীতি হয়েছিল সেটা সেই সময়ের মানুষেরাই ভাল বলতে পারবে। ১৯৭২ এ যদি তালিকা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ প্রদান করা হত , তাহলে আর পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা তৈরীর কারখানা পয়দা হবার সুযোগ হত না। মুক্তিযূদ্ধের তালিকা তৈরীর উদ্যোগ প্রথম নেয়া হয় ১৯৮৪ সালে, এরশাদ সরকারের সময়। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ছয়বার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হয়েছে । সব সরকারের আমলেই মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে প্রচুর ব্যবসা হয়েছে। লাখ লাখ টাকায় সার্টিফিকেট কিনে মুক্তিযোদ্ধা সেজেছে বহু মানুষ।

সত্যি্কারের মুক্তিযোদ্ধারা কোন কিছু লাভের আশায় মুক্তিযুদ্ধে যায়নি। পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরন থেকে দেশকে মুক্ত করতে যে বীর সেনারা যুদ্ধে গিয়েছিল , তাদের সন্তান ও বংশধরেরা কখনই বৈষম্যমুলক কোটা ব্যবস্থা চাইতে পারে না। কোটা দরকার ভুয়া মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেটধারীদের সন্তান ও নাতি পুতিদের । আর সরকারের দরকার প্রসাষনের সব সেক্টরে নিজস্ব লোকবল যারা অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে সকল প্রকার সহায়তা দেবে। বর্তমানে ছাত্রদের তুমুল আন্দোলনের মুখে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ে স্থিতাবস্থা দিয়েছে আপিল বিভাগ। ৪ সপ্তাহ পর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে। তবে এটা আপাতত আন্দোলন দমানোর কৌশল বলে মনে হচ্ছে। পুর্নাঙ্গ রায় না আসা পর্যন্ত ছাত্রদের আন্দোলন থামিয়ে দেয়া ঠিক হবে না।

তথ্যসুত্র ঃ উইকিপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:৪৬
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিরোধী আন্দোলন” । কারো বিশেষ অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়াকে বৈষম্য বলে না।

লিখেছেন বাউন্ডেলে, ১১ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ১০:০২


বৈষম্য কাহাকে বলে ? এটা আগে ভালো করে জানুন, তারপর গায়ের জোর দেখান। কারো অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়াকে বৈষম্য বলে না। প্রশ্নফাঁস জেনারেশন চিলের পিছনে ঘুরছে।
সবাই সমান নয়। সবার অবদানও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেখে এলুম অষ্ট্রেলিয়া…… পর্ব - ২ [ ছবি ব্লগ ]

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১১ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ১০:৫২


এসেছি অষ্ট্রেলিয়া দেশটি দেখতে। ভাই-বোনেরাও দেশটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখানোর জন্যে পাগল। তাই এখান থেকে ওখানে এতো এতো ঘুরতে হয়েছে যে খেই হারিয়ে ফেলতে হচ্ছে এখন লিখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~কোটা তুমি মহান~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১২ ই জুলাই, ২০২৪ সকাল ৮:৫০

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিজাইনার চিঠি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুলাই, ২০২৪ সকাল ১১:৪৫

সাস্কাচুয়ানের গরম

আমি এখন আছি কানাডার সাচকাচুয়ান প্রভিন্সের প্রাদেশিক রাজধানী রিজাইনা শহরে। সাস্কাচুয়ানের নাম শুনলেই সবার মুখে এক কথাঃ উহ, কি ঠাণ্ডারে বাবা! সবার খালি মেঘে ঢাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্রুকলীনের চিঠি

লিখেছেন সোনাগাজী, ১২ ই জুলাই, ২০২৪ বিকাল ৫:০৩



ব্রুকলীনের বাংগালী পাড়ার রাজধানী হচ্ছে ২টি রাস্তার ক্রসিং এলাকার মাঝে অবস্হিত শপিং এলাকা ( ১ বর্গ কিলোমিটার ), ইহার নাম চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড; ইহা বাংগালীদের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×