somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৌরণিক গল্পঃ লিলিথের জন্য হাহাকার...

১১ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সৃষ্টির প্রারম্ভেঃ
মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর একদম শুরুতে ধীরে ধীরে তার পছন্দ অনুসারে এক এক করে এঞ্জেল, আকাশ, পৃথিবী, সমস্ত প্রাণী এবং সমস্ত উদ্ভিদ সৃষ্টি করলেন। এত কিছু সৃষ্টি করার পরও উনার মনে হলো কী যেন একটা নেই! অবশেষে ঈশ্বর অবহেলায় পরে থাকা কাদামাটি তুলে নিলেন, নিজস্ব প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি করলেন আরেকটা নতুন প্রাণী। অতি তুচ্ছ মাটির একটা টুকরো থেকে সৃষ্টি করলেন মহাবিশ্বের প্রথম পুরুষ’কে। নাম দিলেন তার এডাম। এডামের থাকার এবং বিচরনের জন্য এডেন’কেও তৈরি করে দিলেন।

এডামের দেহে প্রাণ সঞ্চার করতেই মহান প্রভুর আর্শ্চয্য সব মহিমাময় কাজগুলি দেখে এডাম অবাক হয়ে ঈশ্বরের ক্রমাগত প্রশংসায় তাকে মহিমান্বিত করে তুললেন। খুশি হয়ে ঈশ্বর এডাম’কে বললেন
-এই হলো এডেন। শুধু তোমার জন্যই এটা তৈরি করা হয়েছে। যাও, এর ভিতরের তুমি যেখানে ইচ্ছে সেখানে ঘুরে বেড়াও আর নিরন্তর তোমার প্রভুর প্রশংসা করো।

এডাম মনে আনন্দে এডেনের ভিতরে ঘুরে বেড়াতে লাগলো, তার সাথে ঈশ্বরের অলৌকিক ক্ষমতার এতই প্রশংসা করতে লাগলো যে এঞ্জেলরাও লজ্জা পেয়ে গেল এবং তারাও এরপর থেকে বেশি বেশি করে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগলো।

লিলিথের সৃষ্টিঃ
এভাবে দিনের পর দিন এডাম একাকী এডেনের ভিতরে বাস করতে যেয়ে একসময় প্রচন্ড নিঃসঙ্গতা অনুভব করলো। এডামের মনুষ্য চপলতা আর প্রাণ-চাঞ্চল্য যেন সেই একাকীত্বে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে লাগলো, দূর্নিবার নিঃসঙ্গতায় ডুবে যেতে লাগলো। সবকিছু সৃষ্টি করার পরেও ঈশ্বর দেখেন এডামের নিঃসঙ্গতায় এডেন যেন নিঃসীম শূণ্যতায় নিঃস্তব্ধ হয়ে আছে। ঈশ্বর অবশেষে অনুভব করলেন যে, এডামের জন্য একটা সঙ্গী দরকার, এর নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্য একটা বান্ধবী দরকার যেন এডেনের ভিতরে সুখে পরম শান্তিতে এডাম বাকি দিনগুলি কাটাতে পারে।

এডাম সৃষ্টির করার পর যে অবশিষ্ট মাটি ছিল তা দিয়ে মহান ঈশ্বর তৈরি করলেন নারীর কোমল অবয়বে আরেকজন মানুষ। ঈশ্বর তার সৃষ্টির শিখাকে ঊর্ধ্বমুখী করে মাটি থেকে তিনি প্রথম যে নারী তৈরি করলেন তার নাম দিলেন, লিলিথ। লিলিথ’কে এডামের সমানভাবেই তৈরি করা হয়েছিল একই মাটি থেকে। তাদের শক্তি ও বৈশিষ্ট্যগুলিও একই ছিল। জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য তাদের প্রত্যেকের আলাদা নিজস্ব প্রজনন অঙ্গও দেয়া হয়েছিল।

লিলিথের দেহে প্রাণসঞ্চার করে ঈশ্বর একে দেখে নিজেই খুশি হয়ে গেলেন।

এডাম’কে ডেকে এনে লিলিথ’কে দেখিয়ে বললেন-
-এডাম, একে শুধু তোমার জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমার নিঃসঙ্গতা, একাকীত্ব সব দূর করে দেয়ার জন্যই দেখো কী সুন্দর একে বানানো হয়েছে!

এডাম অবাক হয়ে সদ্য সৃষ্টি করা অপরূপা এই সুন্দরীর দিকে তাকিয়ে রইলো। দুইচোখ ভরে এর নিখুঁত সৌন্দর্য্যের অপারসুধা পান করতে লাগলো।

ঈশ্বর এডাম’কে কাছে ডেকে এনে এডামের হাতে লিলিথের কোমল মোলায়েম হাতদুটি তুলে দিয়ে বললেন-
-এটা হচ্ছে তোমার বান্ধবী লিলিথ! তোমরা একজন আরেকজনের দিকে তাকাও। একে অপরের হৃদয়’কে অনুধাবণ করো। ভালোবাসো আর ভালোবাসতে দাও। পরিপূর্ণ ভালোবাসায় ভরিয়ে দাও আমার এডেন।

নিস্পলক দৃষ্টিতে হাত হাত ধরে এডাম আর লিলিথ একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলো। এ যেন অপার্থিব স্বপ্নের চেয়েও মধুময় এক অনুভূতি। ভালোলাগার সুতীব্র অবগাহণে মুহূর্তেই ডুবে গেল দুইজন।

ঈশ্বর দুইজন’কে ডেকে ভালো করে বুঝিয়ে দিলেন-
-তোমরা সারাদিন ও সারারাত একে অপর’কে অনুসরণ করবে। একসাথেই থাকবে। গভীর ভালোবাসায় একে অপর’কে জড়িয়ে রাখবে সবসময়। এখন তোমরা একসাথেই এডেনে চলে যাও।

লিলিথের সাথে প্রণয়ঃ
এডাম লিলিথ’কে এডেনের ভিতরে নিজের বানানো কুঁড়েঘরে নিয়ে আসলো। বারবার মহান ঈশ্বরের প্রশংসায় এডাম যেন সারা এডেন আলোরিত করে তুললো। লিলিথের অপার্থিব সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে এডাম প্রথম দেখাতেই লিলিথের গভীর প্রেমে ডুবে গেছে। লিলিথের নরম হাতদুটি দুইহাতে উঁচু করে নিজের ঠোঁটের কাছে এনে ভালোবেসে চুমু খেয়ে এডাম বললো-
-লিলিথ, কেন আমার এইরকম লাগছে? তোমাকে প্রথম দেখার পর থেকেই আমার সমস্ত মানবীয় অনুভূতি নিঃস্তব্ধ হয়ে গেছে। বুকের ভিতরে সুতীব্র তৃষ্ণায় আমি শুধুই ছটফট করছি। তোমাকে কাছে পাবার জন্য আমি বারবার কেন অস্থির হয়ে উঠছি?

নারীর সব কোমলতা নিয়েই লিলিথ একরাশ লজ্জায় লালাভ হয়ে উঠলো। তার সদ্য প্রেমিক প্রবরের ভালোলাগার আর উচ্ছাসের কথা শুনতে ভালোই লাগছে এখন ওর। নিঃশব্দ প্রেমের বাঁধভাঙ্গা হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো লিলিথ। মুখে কিছু না বললেও লিলিথের ঠোঁটের লাজুক হাসি এডামের হৃদয়'কে প্রমত্তা নদীর স্রোতের মতো যেন ভাসিয়ে নিয়ে গেল।

কিছুক্ষণ পরেই যখন এডাম প্রেমের উদ্দাত্ত আহবানে নিজের দুইহাত বাড়িয়ে দিলো, লাজুক লিলিথের সব বাঁধা যেন মুহূর্তেই ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। এডামের প্রশস্ত বুকে লিলিথ ঝাঁপিয়ে পরে খুঁজে পেলো শুধু ওর জন্যই এতদিন ধরে জমে থাকা নিঃস্বার্থ আবেগের সেই বিপুল ঝর্ণাধারা!

প্রণয়ের শিহরণে এডাম লিলিথ’কে ফুলের বিছানায় শুইয়ে দিলেন। লিলিথের স্ফটিক নগ্নতা এডামের বুকে যেন কামনার ঝড় তুলে দিলো। বিরহের জ্বলন্ত ঠোঁটে এডাম লিলিথের সারাদেহকে চুম্বন করতে লাগলো এবং লিলিথের দেহ থেকে সুগন্ধযুক্ত বাতাস বুক ভরে টেনে নিতে লাগলো। লিলিথ হৃদয়ের উত্তেজনায় অস্থির হয়ে উঠলো। লিলিথ’কে প্রশান্ত করার জন্য এডাম লিলিথের কানে ফিসফিস করে বললোঃ
-অপরূপা তুমি লিলিথ। সৃষ্টির সব সৌন্দর্য দিয়েই যেন তোমাকে আমার জন্য তৈরি করা হয়েছে। নিখুঁত অবয়বে যেন তোমার দেহপল্লবী রূপের মূর্ছনায় ভাসছে। এডেনের কস্তুরী হরিণের চেয়ে বেশি মধুময় সুগন্ধী তোমার দেহে থেকে ভেসে আসছে। এডেনের সব জুঁই, ল্যাভেন্ডার, ড্যাফোডিল এবং হায়াসিন্থের চেয়ে তীব্র সেই ঘ্রাণ, তোমার কুমারী গোলাপের মোলায়েম ত্বকে যেন প্রেমের অতলান্তিক আহবান। আমি তোমার গভীর প্রেমে পড়েছি লিলিথ। আমাকে ভালোবাসতে দেবে?

প্রেমের এই অতলান্তিক আহবানে সাড়া না দিয়ে পারলো না লিলিথ। শিহরণে সমস্ত শরীর থর থর করে কাঁপছে এখন লিলিথের। সুতীব্র আকাংক্ষায় দুইহাত বাড়িয়ে এডামের গলা জড়িয়ে ধরে প্রেমিক’কে বুকে টেনে নিলো লিলিথ।

এই প্রথমবারের মতো ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠলো এডেন!

কলহের শুরুঃ
খুব শিঘ্রই লিলিথ এবং এডামের মাঝে দাম্পত্য কলহ শুরু হলো। এই কলহের বিষয় ছিল আসলে মর্যাদা নিয়ে। এডামের পুরুষতান্ত্রিক স্বৈরাচার’কে লিলিথ কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। নিজেদের মধ্যেকার দাম্পত্য সম্পর্ক’কে লিলিথ কখনই অগ্রাহ্য করতে চায়নি, বরং ভালোবাসাকে আরও পাকাপোক্ত করার জন্য কেবলই এডামের সমকক্ষতা দাবি করেছে লিলিথ। সবকিছুতেই এডাম একতরফা ভাবে নিজের সিদ্ধান্ত লিলিথের উপর চাপিয়ে দেয়াটা কিছুতেই ও মেনে নিতে পারছে না। লিলিথের বক্তব্য খুব পরিষ্কার। যেহেতু আমাদের দুইজন’কেই একই উপাদান থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের আগে বা পরে আর কেউ নেই, সুতরাং আমরা কেউ কারো থেকে শ্রেয় নই বরং আমরা উভয়ে সমান। আমাদের ভালোবাসার সর্ম্পক কেন হবে শুধুই প্রভু আর সামন্তের?

কিন্তু নারীর এই আধিপত্য-স্পৃহা ও সাম্যের অধিকারের দাবী’কে আদি মানব এডাম মেনে নিতে পুরোপুরি অস্বীকার করলো।

দাম্পত্য কলহ চুড়ান্ত খারাপ পর্যায়ে পৌছালো যখন লিলিথকে বিছানায় নীচে শুইয়ে এডাম নিজে উপরে থেকেই সবসময় যৌন-সঙ্গম করতে চাইলো। শুধু তাই নয়, মাঝে মাঝে লিলিথের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও সে সঙ্গম করতে আগ্রাসী হয়ে উঠে। কিন্তু লিলিথ তাতে বাধা দেয়। লিলিথ চায় সেও এডামের মতো একই অবস্থানে থেকে যৌনক্রিয়া করবে। আর দাবী করে যৌন সর্ম্পক হতে হলে দুইজন’কেই আগে রাজী হতে হবে।

লিলিথের এই সম-অধিকারের আবদার আদমের পৌরুষ'কে ভীষনভাবে আহত হয়। এডাম স্পষ্টভাবে বলে দেয় লিলিথ’কে যে এডাম যেহেতু পুরুষ, সে কেন একজন নারী’র নীচে থাকবে? আর সবসময় পুরুষের ইচ্ছা অনুসারেই এই সর্ম্পক হতে হবে। লিলিথ এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে এডাম কঠিন স্বরে বলে দেয়-
-তুমি নারী। একমাত্র নীচেই তোমার জায়গা। আমি তোমার থেকে শ্রেয়, সুতরাং আমি তোমার উপরেই থাকব।

লিলিথ কোনভাবেই এডামের এই অনায্য আবদার মেনে নিতে পারলো না। প্রচন্ড গন্ডগোল পাঁকিয়ে লিলিথ এডামের কাছে থেকে চলে এসে এডেনের ভিতরে লুকিয়ে রইলো।

ঈশ্বরের কাছে লিলিথের নামে বিচারঃ
লিলিথের এভাবে পালিয়ে চলে আসা এডাম কোনভাবে মেনে নিতে পারলো না। এডেনের ভিতরে কিছুক্ষণ খুঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পরে এডাম। ধৈর্য হারিয়ে সোজা ঈশ্বরের কাছে যেয়ে পুরো ঘটনার আদ্যপান্ত জানিয়ে বিচার দিলো এডাম!
-আমার ঈশ্বর, আপনি আমাকে কী ধরনের বান্ধবী দিয়েছিলেন?
-কেন লিলিথ কী করেছে?
-সে আমার কোন কথাই যে শোনে না। আমার কোন দাবীই সে পূরন করে না। সে আমার কাছে সম-অধিকারের দাবী তুলেছে। আমি পুরুষ, আমি কেন এটা মানবো?

প্রজ্ঞাময় ঈশ্বর দিব্য চোখে পুরো ঘটনা দেখতে পেলেন। লিলিথের এই অবাধ্যতা ঈশ্বর মেনে নিতে পারলেন না। এঞ্জেলদের পাঠালেন লিলিথ’কে এখনই ধরে নিয়ে আসার জন্য।

ভীত কম্পিত দেহে লিলিথ ঈশ্বরের সামনে নতজানু ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে রইলো। ঈশ্বর ক্রোধান্বিত কন্ঠে লিলিথ'কে এইসব অবাধ্য আচরণ থেকে সাবধাণ হয়ে যেতে বললেন-
-আমি তোমাকে আর এডাম'কে একই মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, যেন তোমরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে থাকতে পারো। তোমাকে আমি এডামের স্ত্রী হিসেবেই তৈরী করেছি। তোমাকে অবশ্যই এডাম’কে নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসতে হবে, তার স্ত্রী হিসেবে তার আজ্ঞাবহ হতে হবে। যদি তুমি এডামের কথা না শোন, তবে জেনে রাখো আমি এই অবাধ্যতার জন্য তোমাকে কঠোরতম শাস্তি দেবো। এখনই এডামের কাছেই ফিরে যাও। এটাই আমার হুকুম……..

এডামের কাছে আবার ফিরে আসাঃ

ঈশ্বরের ভয়ে দুরুদুরু বুকে লিলিথ আবার তখনই এডামের কুঁড়েঘরে ফিরে আসে। লিলিথ এডামের ঈশ্বরের কাছে বিচার দেয়াটা পছন্দ করলো না। এটা তো ওদের মধ্যেকার দাম্পত্য সর্ম্পকের ব্যাপার। এখানে কেন ঈশ্বর শুধু শুধু নাক গলাবেন?
লিলিথ ইচ্ছে করেই তো এডামের কাছ থেকে দূরে চলে গিয়েছিল, যেন এডাম ওর অনুপস্থিতিতে লিলিথের জন্য সুতীব্র অভাব অনুভব করে। এডামের বুকে বিরহের ঝড় উঠে। ভালোবাসার সুতীব্র হাহাকারে ছুটে যেন এডাম আবার ওর কাছে পাগলের মতো ফিরে আসে। প্রণয়ের বিচ্ছুরণে এডাম যেন এসে ওর সব অভিমান ভাঁঙ্গিয়ে আবার ওকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
অথচ এডাম সেটা না করে গেল ঈশ্বরের কাছে। লিলিথের বুকে অভিমানগুলি না ভেঁঙ্গে সেটা জমে এখন পুঞ্জীভূত হতে লাগলো। অভিমানগুলি জমে এখন সেটা ক্ষোভে রূপান্তরিত হলো। লিলিথের অনেক রাগ জমলো, এডাম ভালোবাসার তো কিছুই বুঝে না, কিছুই জানে না। নিতান্তই বাধ্য হয়ে ভীত লিলিথ ফিরে এসেছে, ভালোবেসে ফিরে আসেনি।
এডাম অধীর আগ্রহে লিলিথের ফিরে আসার জন্য অপেক্ষায় বসে ছিল। লিলিথ ফিরে আসতেই লিলিথ'কে জড়িয়ে ধরে আদর করে বিছানায় এডাম নিজের পাশে বসালো। কোমল কন্ঠে বললেন-
-লিলিথ, আমার প্রাণের প্রাণ, আমার সুপ্রিয় সখা, তুমি কেন আমাকে ফেলে চলে গেলে? তুমি তো আমার অন্ধকার জীবনে রৌদ্রস্নাত দুপুর। তুমি কেন মুখ গোমরা করে আছো? চুপ করে আছো? আমি তো শুধু তোমার ভালোবাসা পাবার জন্যই কেবল বেঁচে আছি?

লিলিথ এডামের একান্ত এই ভালোবাসার কথাগুলি শুনে কিছুটা শান্ত হলো। উদাসীন চোখে এডামের দিকে লিলিথ ফিরে তাকালো।
এডাম যখন লিলিথের ঠোঁটে চুমু খেলো, লিলিথ কোন আপত্তি করলো না। একবুক ভরা আশা নিয়ে লিলিথ আবার এডামের সাথে সংসারজীবন শুরু করলো।

কিন্তু অল্প কিছুদিন পরেই লিলিথ বুঝতে পারলো এডাম ওর চাহিদা আর আবেগের কোন মূল্যই দিচ্ছে না। লিলিথ আবারও সংসারের প্রতি বীতিশ্রদ্ধ হয়ে উঠলো। যে প্রকৃত ভালোবাসা'কে না বুঝে শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়'কে বেশি মূল্য দেয় তার প্রতি ওর আবেগ দ্রুতই কমতে শুরু করলো।

এরপর একরাতে, গভীর অন্তরঙ্গ মুহুর্তে লিলিথ আবারও এডামের মতো করে প্রেমিক'কে ভালোবাসতে চাইলো। কিন্তু এডাম ওকে কোনভাবেই এই সুযোগ দিলো না, বারবার লিলিথের আনুগত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো।
লিলিথ চরম হতাশায় এবং বিরক্ত হয়ে এডামের বাহুডোর থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেয়। ক্লান্ত এডাম বিছানায় যখন ঘুমিয়ে ছিল যখন লিলিথ সেই কূঁড়েঘর বের হয়ে আসে। তারপর এডেনের রাতের গোলকধাঁধায় পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়।
ভোরে এডাম ঘুম থেকে জেগে ওঠে দেখে লিলিথ পাশে নেই। ভাঙ্গা হৃদয় নিয়ে লিলিথ’কে সারা এডেন তছনছ করে খুঁজে বেড়ালেন এডাম।

বিদ্রোহী লিলিথ এডামের যৌন অজ্ঞতা এবং তাঁর প্রেমের বিরক্তকর একঘেয়েমিকে তিরস্কার করে এডেনের শেষ প্রান্তে চলে আসলেন। এডাম'কে তার কাছে এখন মনে হচ্ছে শুধুই স্বার্থপর একজন প্রেমিক যে শুধু নিজের প্রাপ্য ভাগ সবসময় নিজের মতো করে আদায় করে নিতো। সুতীব্র ক্ষোভে এবং ব্যথিত হৃদয়ে পাগলের মতো লিলিথ এডেন থেকে পালাতে চাইলেন। কিন্তু এডেনের দ্বার-রক্ষী এঞ্জেলরা তাকে বাঁধা দিলো। ঈশ্বরের গোপন একটা নাম লিলিথ এডামের কাছ থেকে আগেই জেনেছিল। সেটা (শেম গেমফোরাস) উচ্চারণ করতেই এঞ্জেলরা স্বর্গের দুয়ার খুলে দিলে লিলিথ এডেন থেকে পালিয়ে জনশূন্য, নির্বাসিত, নিঃস্তব্ধ মর্ত্যে চলে আসলেন।
লিলিথের কাছে অন্ধকার এবং আলোর যেকোন এক জায়গায় থাকার সুযোগ ছিল। কিন্তু লিলিথ বেছে নিলো নিস্প্রভ ধুলোমাটির এই পৃথিবী। এখানে এসে লোহিত সাগরের কাছের মরুভূমিতে নিজের আনন্দ আশ্রম 'জেমারগড ল্যান্ড' প্রতিষ্ঠা করেন। এডেন তার কাছে মনে হতো শুধুই এক বন্দীশালা।

ঈশ্বরের আদেশ প্রত্যাখ্যান করে অপ্রত্যাশিত যবনিকা ঘটলো মানবীয় প্রথম দাম্পত্য সর্ম্পকের।

এডামের হৃদয় ভেঙ্গে গেলঃ
লিলিথ'কে হারিয়ে ভগ্নহৃদয় নিয়ে এডাম স্বর্গের ভিতরে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। হঠাৎ স্বর্গের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে নীচে তাকাতেই দেখতে পেলেন সেই রহস্যখচিত চিরচেনা হাসির নহর। প্রকম্পিত হৃদয়ে এডাম যা দেখলেন সেটা কালো নিষ্ঠুর বজ্রের মতো এডামের আত্মাকে ছিন্নভিন্ন করে ফেললো।

নীচে, মর্ত্যের লোহিত সাগরের কাছে লিলিথ শামায়েল নামক এক দৈত্যের প্রেমের বাহুডোরে আবদ্ধ হয়ে সদ্য প্রেমিকের বুকে শুয়ে আছে। হিংসায় এডাম পাগল হয়ে ছুটে গেলেন সদা দয়াময় তার প্রভু ঈশ্বরের কাছে পালানো স্ত্রী সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গতার অভিযোগ নিয়ে।

মর্ত্যে লিলিথ দৈত্যদের সঙ্গে স্বাধীন যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে স্বশাসিত জীবন-যাপনে নিজের মুক্তি অবশেষে খুঁজে পায়। ফিরে পায় তার স্বাধীনতা।

ঈশ্বর অভিযোগ পেয়ে তখনই সাইন, সানসেনা এবং সামঞ্জেলোফ (সেমেনগলফ) নামে তিনজন এঞ্জেল'কে পাঠালেন লিলিথ'কে নিয়ে আসার জন্য। তিনজন এঞ্জেল মর্ত্যে নেমে এসে লিলিথ'কে লোহিত সাগরে কাছেই আটক করলেও এবার লিলিথ তার আগের স্বামীর কাছে ফিরে আসতে পুরোপুরি অস্বীকার করলো।
লিলিথ সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিলো-
-এডাম'কে ভালোবাসার নামে এই নিরন্তর আনুগত্য ও বশ্যতা করা আমার পক্ষে সম্ভব না।
এঞ্জেলরা কারণ জানতে চাইলে লিলিথ বললো-
-এডামের কাছে ভালোবাসার কোন মূল্য নেই। কারণ তার কাছে ভালোবাসার চাইতে যৌন-আকাঙ্ক্ষাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এঞ্জেলরা অবশেষে লিলিথ'কে ঈশ্বরের দেয়া ভয় ভীতি প্রদর্শন করলো ফিরে যাবার জন্য। যদি এখনই ফিরে না যায় তাহলে প্রতিদিন লিলিথ আর শামায়েলের ১০০টা সন্তান মেরে ফেলা হবে। লিলিথ তবুও ফিরে যেতে রাজি হলো না। তবে লিলিথ নিজেও হুমকি দিলো যে, সেও মানব সন্তানদের সুযোগ পেলে মেরে ফেলবে।


ঐশ্বরিক ক্ষমতায় সেই তিন এঞ্জেল তখন লিলিথ'কে প্রতিজ্ঞা করায় তাদের নাম নিয়ে লেখা মাদুলি যখন কোন বাসায় দেখবে তখন সে আর এমন নিষ্ঠুরতম কাজ করবে না। লিলিথ এঞ্জেলদের এইকথা মেনে নিলে সেই তিন এঞ্জেল স্বর্গে ফিরে এসে ঈশ্বর'কে সব জানিয়ে দিলো। ঈশ্বরের আদেশের বিপরীতে এইরূপ উদ্ধত আচরণ করার শাস্তিস্বরূপ লিলিথ'কে মানুষ থেকে সুক্কুবাসে পরিবর্তন করে দেয়া হলো। শামায়েল'কে তো আগেই ঈশ্বর এডাম'কে শ্রেষ্ঠ না মেনে নেয়ার জন্য শাস্তিস্বরূপ শয়তানে পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন।

ইভের সৃষ্টিঃ
ঈশ্বর এবার আর মাটি থেকে এডামের নতুন সঙ্গী বানালেন না। বরং এডামের বাম পাঁজর থেকে একটা হাড় নিয়ে এবার সৃষ্টি করলেন ইভ'কে। এডামের দেহের অংশ বলেই ইভ সবসময় এডামের বাধ্য থাকবে।
এডামের সামনেই ইভের দেহে প্রাণ সঞ্চার করা হলো। ইভ চোখ খুলে এডাম'কে দেখেই লজ্জায় অবনত হলো। ইভ লিলিথের মতো নিখুঁত এবং আগুনে-সুন্দরী নয়। বরং ইভের সৌন্দর্য স্নিগ্ধ আর মায়াময়। ঈশ্বর ইভ'কে এডামের হাতে তুলে দিলে এডাম ইভ'কে নিয়ে তার কূঁড়েঘরে ফিরে আসলো।

নিজের ঘরে পাশে বসিয়ে ইভের নরম হাত দুটি এডাম নিজের হাতে নিয়ে সামান্য আদর করে ভালোবাসার কথা বলতেই ইভ এডামের কাঁধে গভীর আবেগে মাথা রাখলো। মধুর মিষ্টি কন্ঠে নম্রতার স্বরে এডামের প্রণয়ের আহবানে সাড়া দিলো। নিঃসঙ্গ এডাম খুব খুশি হয়ে সাথে সাথেই ইভ'কে বুকে টেনে নিলেন।

লিলিথের প্রতিশোধঃ
মর্ত্যের বিভিন্ন দৈত্য আগে থেকেই শামায়েলের অধীনে ছিল যারা এখন লিলিথের অধীনে চলে আসলো। এদের কাছেই প্রথম এডামের নতুন বান্ধবী ইভের কথা জানতে পারে লিলিথ। ইভের প্রতি হিংসায় জ্বলেপূড়ে ছাড়খাড় হয়ে যায় লিলিথের হৃদয়। সুতীব্র ক্রোধে তখনই সিদ্ধান্ত নেয় লিলিথ যে, এডাম আর ইভ'কে কোনভাবেই আর স্বর্গের উদ্যানে থাকতে দেবে না। ওর প্রেমিক'কে নিয়ে আরেকজন এডেনে সুখের সংসার করবে আর ও এই মর্ত্যে সুক্কুবাস হয়ে জীবন কাটাবে এটা মেনে নেয়া যায় না

শামায়েলের সাথে আলাপ করে ঠিকই একটা কুবুদ্ধি বের করে ফেললো লিলিথ। শামায়েল লিলিথ'কে নিয়ে লুকিয়ে এডেনে প্রবেশ করেন। কিছুদিন পরেই লিলিথ একটা সাপের রূপ ধরে ইভের সাথে বন্ধুত্ব বানিয়ে গন্ধম ফল খাবার জন্য প্ররোচিত করে। নিষ্পাপ ইভ লিলিথের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। শামায়েল আর লিলিথের কুট বুদ্ধিতে সেই চির নিষিদ্ধ ফল নিজেও খেলেন আর এডাম বাসায় ফিরলে তাকেও খাওয়ান।

ঈশ্বর ইভ এবং এডামের এই ভয়ংকর অবাধ্যতা কোনভাবেই মেনে নিলেন না। সোজা দুইজন'কেউ এই মর্ত্যের পৃথিবীতে আলাদা করে শাস্তিস্বরূপ নামিয়ে দিলেন।

পৃথিবীতে মানব বসতিঃ
পৃথিবীতে নেমে এসেও এডাম ইভের প্রতি আগের মতোই অনুগত থাকলো। ইভ'কে আবার খুঁজে নিয়ে এখানেই সংসার ধর্ম পালন করা শুরু করলো।

লিলিথের মনে একটা ক্ষীণ আশা ছিল যে পৃথিবীতে আসার পর হয়তো আবার এডাম লিলিথের সাথে দেখা করবে। কিন্তু এডাম লিলিথের হদিস জানার পরেও কখনই লিলিথের কোন খোঁজ নিলো না।
কালের পরিক্রমায় ইভ আর এডামের সন্তান জন্ম নেয়া শুরু করলো। ঈশ্বরের নিয়ম মেনে সন্তানরা এক অপরের জন্য ঠিক করা প্রেয়সীদের সাথে ঘর বাঁধা শুরু করলো।

ইভ আর এডামের সুখের সংসার আর এত এত সন্তান সন্ততি দেখে হিংসায় লিলিথ জ্বলে পূড়ে যেতে লাগলো। যেখানে ওর প্রতিদিন ১০০টা করে গর্ভের সন্তান ঈশ্বরের নির্দেশে হত্যা করা হয়, সেখানে ইভের সব সন্তানরা দিব্যি সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকছে।
যথারীতি সুযোগ বুঝে লিলিথ শামায়েল'কে নিয়ে ইভের সন্তান ক্যাবিল'কে প্ররোচিত করলো ঈশ্বরের আদেশের বিরুদ্ধে যেয়ে এ্যাকলিমা পাবার জন্য।

লিলিথ এবং শামায়েলের কুবুদ্ধিতে ক্যাবিল গোপনে হ্যাবিল'কে হত্যা করে ফেললো। এটাই ছিল প্রথম মানুষ হত্যা যেটা আজও পৃথিবীতে প্রচলিত।

এডামের হাহাকারঃ
এডাম তার প্রথম প্রেম'কে কখনই ভুলে যেতে পারে নি। যতবারই একা আকাশের দিকে তাকাতো, সেখানেই দেখতে পেতো লিলিথের অসীম অনিন্দ্য সুন্দর সেই মুখশ্রী, প্রথম দুইজনের কাছে আসার, প্রথম লিলিথকে চুম্বনের মধুময় সেইসব স্মৃতি। বুকের ভিতর সুতীব্র হাহাকার নিয়েও এডাম ইভের সাথে কখনই বিশ্বাসঘাতকতা করেন নি। কারণ বিশ্বাসঘাতকতা কাউকে কতটা ভয়ংকর কষ্ট দিতে পারে, সেটা স্বর্গ আর মর্ত্যে তার চেয়ে বেশি কেউ কখনই অনুভব করেনি।

শুধু আরেকবার ভালোবেসে প্রথম প্রিয়তমা লিলিথ'কে কাছে পাবার আকাঙ্ক্ষাই বুকে পাথর চাপা দিয়েই এডাম মৃত্যুবরণ করলেন।


পুনশ্চঃ এটা কোন ধর্মীয় লেখা নয়। প্রাচীন ব্যাবলনীয় এবং সুমেরীয় সাহিত্য পড়তে যেয়েই লিলিথের কথা প্রথম জানতে পারি। আশ্চর্যজনক হলো লিলিথের কথা ইয়াহূদীদের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে এবং খ্রিস্টানদের এপোক্রাইফাগুলিতেও বর্ননা করা আছে। সব লেখাগুলি একজায়গায় এনে এই গল্পটা লেখা হয়েছে


সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত @ নীল আকাশ, মার্চ ২০২০

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৫২
৩১টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

করোনার মাঝে ভয়ংকর প্রতিবাদে জ্বলছে আমেরিকার অনেক শহর

লিখেছেন চাঁদগাজী, ৩০ শে মে, ২০২০ সকাল ৯:৪১



*** হোয়াইট হাউজের ২০০ গজের মধ্যে পুলিশ ও প্রতিবাদকারীদের মাঝে ধাক্কাধাক্কি চলছে , মানুষ হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করছে, অনেকেই আহত হয়েছে; এখনো গ্রেফতার করা হচ্ছে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেভাবে হত্যা করা হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াকে-

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ৩০ শে মে, ২০২০ বিকাল ৩:৫৪

১/



রাতের শেষ প্রহরে তিনটি সামরিক পিকআপ জিপ এসে দাঁড়ালো চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের গেটের সামনের রাস্তায়। একটি পিকআপ থেকে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের কাঁধে র রকেট লঞ্চার থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ২৯তম মৃত্যু বার্ষিকী

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে মে, ২০২০ বিকাল ৫:৫৬



আমি জিয়াকে পছন্দ করি।
কারন উনি একজন সৎ লোক ছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে উনি কোনো দূর্নীতি করেন নি। কিন্তু অনেক ভুল কাজ করেছেন। রাজাকার গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অশিক্ষা, কুশিক্ষায় নিমজ্জিত, রাজনৈতিক জ্জানহীনরা সামরিক শাসনকে মিস করে।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ৩০ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৮



১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা পরাজিত হলে, ২ কোটী বাংগালীর ঘরে জেনারেল ইয়াহিয়ার ছবি ঝুলতো সেদিন; কিছু বাংগালী আছে, মুরগীর মতো, চিলে বাচ্চা নিলে টের পায় না। নাকি আসলে মুসরগী টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবী বিখ্যাত ব্যক্তিদের মা'য়েরা .............. এট্টুসখানি রম্য :D

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ৩০ শে মে, ২০২০ রাত ৮:০৫



পৃথিবীর সব মা’য়েরাই একদম মা’য়ের মতো ।
সন্তান বিখ্যাত কি অবিখ্যাত, সে জিনিষ তার কাছে কোনও ব্যাপার নয়। তার কাছে সে কোলের শিশুটির মতোই এই টুকুন । যাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×