somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মানুষ কেন বিয়ে করে

৩১ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ৮:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ কেন বিয়ে করে? আমি জানি, এই প্রশ্নের উত্তরে হাজার রকমের উত্তর পাওয়া যাবে। কেউ বলবে- সংসার করার জন্য, কেউ বলবে সেক্স করার জন্য এবং কেউ বলবে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করার জন্য। সে যাই হোক, তবে এই আধুনিক যুগেও বিয়েটা অনেকের কাছে এক ধরনের ব্যবসা। বিয়ের সময় ছেলে পক্ষ অনেক কিছু দাবী করে। নগদ টাকা, অলংকার, ফ্লাট, টিভি-ফ্রীজ, খাট আলমারি ইত্যাদি। ছেলে পক্ষ এই সমস্ত জিনিস এক আকাশ আগ্রহ নিয়ে গ্রহন করে। তখন তাদের চোখ মুখ আনন্দে ঝলমল করে। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত বা ধনী পরিবারেও যৌতুকের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

বর্তমান যুগে মানুষ এই যৌতুককে বলে পাত্রীপক্ষ খুশী হয়ে দিয়েছে। সত্যি কথা হলো- কেউই এই সব জিনিস খুশী হয়ে দেয় না। তারা দিতে বাধ্য হয়- মেয়ের খুশির জন্য। পরবর্তী সময়ে এই মেয়ে সংসার জীবনে সুখে থাকে না। বাবা-মা'র প্রথমেই বুঝা উচিত ছিল যে ছেলে খাট, টিভি, ফ্রীজ, নগদ টাকা গ্রহন করে- সে মানুষ হিসেবে খুব উন্নত নয়। তার মনুষত্যে ঘাপলা আছে। আজকাল শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব পরিবারেই এই রকম দেনা পাওনা চলে। এই দেনা-পাওনা টা কি কোনো দিনও বন্ধ হবে না? বিয়েটা কি ব্যবসা? আধুনিক যুগের শুরুতেই বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায় প্রমুখ নারী মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন।

অনেকে গর্ব করে বলে- আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে এটা দিয়েছে, ওইটা দিয়েছে। আমি আশ্চর্য হয়ে যাই- তাদের একটি লজ্জাও করে না। ছেলে পক্ষকে খুশি করতে গিয়ে হয়তো মেয়ের বাবার জমি বিক্রি করতে হয়েছে অথবা কারো কাছে হাত পাততে হয়েছে। এযুগের ছেলেরা জানে বিয়ে করলেই সব পাওয়া যায়। না চাইলেও দেয়। কাজেই বিয়ে মানে অনেক কিছু পাওয়া। মেয়ের বাবা নিজের স্ট্যাটাস বজায় রাখতে গিয়েও অনেক কিছু দিতে হয়। কিন্তু যারা নেয় তাদের কোনো লজ্জা বোধ নেই। আমরা গ্রামে শহরে প্রতিটা মানুষ জানি- যৌতুক দেয়া বা নেয়া দু'টাই সমান অপরাধ। আমাদের প্রচলিত আইন যৌতুক প্রথা সমর্থন করে না।

তাহলে শিক্ষিত হয়ে লাভ কি? কি নির্লজ্জের মতন ছেলেপক্ষ খাট টিভি ফ্রীজ নেয়। অবশ্য এই সমস্ত জিনিস মেয়েপক্ষ না দিলে তারা মেয়েটাকে বিয়েও করতো না। তার মানে আমাদের সমাজ এখনও অন্ধকারে পড়ে আছে। মুখে মুখে মন মনসিকতা আধুনিকের ভাব দেখায়। আড়ালে তাদের চোখ এক আকাশ লোভে চকচক করে। হুম, তবে বিয়েতে অনেকে, যেমন- চাচা মামা খালু মামী শখ করে ভালোবেসে উপহার দিতে পারে সেটা গ্রহন করা অন্যায় কিছু নয়। কেউ ভালোবেসে কিছু দিলে সেটা আগ্রহ নিয়েই গ্রহন করাই উচিত। সেটার মধ্যে লজ্জার কিছু নেই। কিন্তু আঁকার ইঙ্গিতে অনেক কিছু চাওয়া বা সেরকম পরিবেশ তৈরি করাটা অমানুষের কাজ। যৌতুকের লোভে অনেক শিক্ষিত ছেলে অথবা শিক্ষার সুযোগ লাভের আশায় অনেক সময় অশিক্ষিত ও অসুন্দরী মেয়ে বিয়ে করে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৮) অন্যায়ভাবে বা যা ন্যায্যপ্রাপ্য নয়, তা কোনোভাবেই গ্রহণ বা দাবি করা যাবে না। যদি তা জোরপূর্বক আদায় করা হয় তবে তা কত বড় অন্যায় এবং তার শাস্তি যে কী ভয়াবহ হতে পারে এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা করবে তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করা হবে, এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।’ (সূরা আল-নিসা, আয়াত-৩০)

মেয়েরা পণ্য নয়, বিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যম নয় এবং মেয়েরাও মানুষ। সমাজে তাদের সমমর্যাদা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নারীদের মৌলিক অধিকারবিহীন বৈষম্যতাড়িত সমাজে যৌতুক প্রথা দূর করা সম্ভব নয়। আমি মনে করি দেশের সবাই যৌতুক প্রথা বিরুদ্ধে দাঁড়ালে যৌতুক প্রথা শীঘ্রই শেষ হবে।যৌতুক নামক সামাজিক ব্যাধি সমাজ থেকে দূর করতে না পারলে কখনো নারীরা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারবে না।


৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×