
পৃথিবীতে আপনি জন্মগ্রহন করেছেন। আপনারা বাবা-মা আপনাকে পৃথিবীতে এনেছেন। তারা আপনাকে লালন-পালন করেছেন। লেখা-পড়া শিখিয়েছেন। বড় করেছেন। এখন আপনি বড় হয়েছেন। চাকরি বা ব্যবসা করেন। নিজের পরিবারের দায়িত্ব পালন করেন। ভালো কথা। দেশের জন্য কি আপনার কোনো দায়িত্ব নাই? শুধু নিজের পরিবারের খেয়াল রাখলেই হবে? পরিবারের বাইরেও তো লক্ষ কোটি মানুষ আছে। না, আমি আপানকে লক্ষ কোটি মানুষের দায়িত্ব নিতে বলছি না। আপনি আপনার সাধ্য অনুযায়ী অন্তত দু'জন- তিনজন অসহায় মানূষের পাশে দাঁড়ান। তাদের জন্য কিছু করুন। তাদের জন্য কিছু করলেই আপনার মানব জীবন সার্থক হবে। আপনি মরেও শান্তি পাবেন। মানুষের জন্য কিছু করলে যে শান্তি পাওয়া যায়- তা অন্য কোনো কিছুতেই সে শান্তি লাভ করা যায় না। কাজেই আপনাকে শুধু নিজের পরিবারের কথা ভাবলে চলবে না।
একদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাইরে চলে যাবেন। ভালো করে তাকিয়ে দেখবেন- একদল ছেলে কাঁধে বস্তা নিয়ে বের হয়ে গেছে। তারা রাস্তায়-রাস্তায় কাগজ টোকায়। যে ডাস্টবিনের সামনে দিয়ে আপনি যাওয়ার সময় নাক কুঁচকে দ্রুত চলে যান- সেই ডাস্টবিনে আগ্রহ নিয়ে ছেলে গুলো কাগজ, প্লাস্টিক খুঁজে বেড়ায়। ভোর ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত তারা কাগজ টোকায়। তারপর ভাঙ্গারীর দোকানে বিক্রি করে। এই রকম কাগজ টোকানি ছেলে একজন দুইজন নয়। বহু ছেলে পেলে এই কাজ করে। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। এদের কথা কিন্তু কেউ ভাবে না। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে চলে গেছে, তাদের কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয়নি। সীমাহীন কষ্ট তাদের। আজ পর্যন্ত তাদের কষ্ট লাগবের জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। খেয়ে-না খেয়ে, ফেলে দেওয়া ছেঁড়া জামা, ছেঁড়া প্যান্ট পরে তারা জীবন-যাপন করে। তাদের মাথায় ভালোবেসে কেউ হাত রাখে না।
অনেকে সাফল্য পাওয়া মানূষদের গুনগান করে। কেউ ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। কেউ নাটক-সিনেমা করে অনেক টাকার মালিক হয়েছে। কেউ নাচ- গান করে। কেউ খেলাধূলা করে রাতারাতি স্টার বনে গেছে। টিভিতে পত্রিকায় শুধু তাদের গুনগান। এরকম কাউকে পেলে আমি প্রশ্ন করি। আপনি দেশের জন্য কি করেছেন? দেশের মানূষের জন্য কি করেছেন। মানব জনম তো একবার'ই। তাই কারো জন্য কিছু করা কি উচিত না? অসংখ্য ধনী লোক বিদেশে থাকেন। উন্নত জীবনযাপন করেন। তারা কিন্তু নিজ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠির কথা কখনও ভাবেন না। আমাদের দেশের সমস্ত এলিট শ্রেনী যদি যার-যার অঞ্চলের দরিদ্রলোকদের কথা ভেবে, যদি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন- তাহলে কিন্তু আমাদের দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বিশাল সম্পদ করে রেখেছেন- কিন্তু মানূষের জন্য কিছুই করলেন না। এটা খুব দুঃখজনক।
দরিদ্র মানুষদের কষ্ট আমি সহ্য করতে পারি না। রাস্তায় যখন কোনো দরিদ্র মানূষ দেখি- প্রচন্ড কষ্ট হয়। আমার পকেটে যা থাকে আমি দিয়ে দেই। এমনও হয়েছে- পকেটের শেষ সম্বল কোনো দরিদ্র মানূষকে দিয়ে বাসায় ফিরেছি হেঁটে হেঁটে। বহুবার এই ঘটনা ঘটিয়েছি। আমার ব্যাংকে কোনো জমানো টাকা নেই। যা ইনকাম করি সব শেষ করে ফেলি। ছোট ছোট বাচ্চা গুলো ফাস্টফুডের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। চেংড়া-চেংড়া পুলাপান খায়। ওদের দিকে ফিরেও তাকায় না। আমি একটা বার্গার এক শ' টাকা দিয়ে না খেয়ে, দশটা সমুচা বা সিঙ্গারা কিনে দশজনকে বিলিয়ে দেই। একটা সমুচা হাতে পেয়ে কি যে খুশি হয়। আমি ওদের জাগায় নিজেকে দাঁড় করাই। প্রভুকে বারবার বলি- হে প্রভু ওদের দিকে একটু তাকাও। অথবা আমাকে সম্পদ দাও- আমি ওদের দুহাতে বিলিয়ে দেই। ঘুমন্ত প্রভু আমার কথা শুনেন না। একদিন হয়তো শুনবেন। আমি অপেক্ষা করি।
লোক দেখানো দান খয়রাত না করে। নিজের মন থেকে মানূষকে ভালোবেসে মানূষের জন্য কিছু করুন। আপনিও মানূষ, একজন রিকশাচালকও মানুষ। স্বাস্থ মন্ত্রীও মানুষ। গলির মোড়ে সবজি বিক্রেতাও একজন মানুষ। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখুন। ধর্মের চেয়ে মানুষ বড়। আগে মানুষ তার পর ধর্ম। একটা গান আছে না- ''মানুষ ধরো মানুষ ভজ শোন বলিরে পাগল মন''। তাই কোনো মানুষকে কষ্ট দিবেন না। অপমান করবেন না। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের জন্য কিছু করুন। সবার আগে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই। ধর্ম দিয়ে মানুষ বিবেচনা করবেন না। কেউ হিন্দু, কে মুসলিম বা খ্রিস্টান তা দেখার দরকার নাই। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখুন। মানুষকে ভালোবেসে যান। মানুষের জন্য কিছু করুন। মানুষের জন্য যা করবেন বা করে যাবেন সেটাই আপনার এক জীবনের সঞ্চয় হয়ে থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৮:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



