somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আপনি কি করেছেন?

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৮:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পৃথিবীতে আপনি জন্মগ্রহন করেছেন। আপনারা বাবা-মা আপনাকে পৃথিবীতে এনেছেন। তারা আপনাকে লালন-পালন করেছেন। লেখা-পড়া শিখিয়েছেন। বড় করেছেন। এখন আপনি বড় হয়েছেন। চাকরি বা ব্যবসা করেন। নিজের পরিবারের দায়িত্ব পালন করেন। ভালো কথা। দেশের জন্য কি আপনার কোনো দায়িত্ব নাই? শুধু নিজের পরিবারের খেয়াল রাখলেই হবে? পরিবারের বাইরেও তো লক্ষ কোটি মানুষ আছে। না, আমি আপানকে লক্ষ কোটি মানুষের দায়িত্ব নিতে বলছি না। আপনি আপনার সাধ্য অনুযায়ী অন্তত দু'জন- তিনজন অসহায় মানূষের পাশে দাঁড়ান। তাদের জন্য কিছু করুন। তাদের জন্য কিছু করলেই আপনার মানব জীবন সার্থক হবে। আপনি মরেও শান্তি পাবেন। মানুষের জন্য কিছু করলে যে শান্তি পাওয়া যায়- তা অন্য কোনো কিছুতেই সে শান্তি লাভ করা যায় না। কাজেই আপনাকে শুধু নিজের পরিবারের কথা ভাবলে চলবে না।

একদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাইরে চলে যাবেন। ভালো করে তাকিয়ে দেখবেন- একদল ছেলে কাঁধে বস্তা নিয়ে বের হয়ে গেছে। তারা রাস্তায়-রাস্তায় কাগজ টোকায়। যে ডাস্টবিনের সামনে দিয়ে আপনি যাওয়ার সময় নাক কুঁচকে দ্রুত চলে যান- সেই ডাস্টবিনে আগ্রহ নিয়ে ছেলে গুলো কাগজ, প্লাস্টিক খুঁজে বেড়ায়। ভোর ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত তারা কাগজ টোকায়। তারপর ভাঙ্গারীর দোকানে বিক্রি করে। এই রকম কাগজ টোকানি ছেলে একজন দুইজন নয়। বহু ছেলে পেলে এই কাজ করে। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। এদের কথা কিন্তু কেউ ভাবে না। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে চলে গেছে, তাদের কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয়নি। সীমাহীন কষ্ট তাদের। আজ পর্যন্ত তাদের কষ্ট লাগবের জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। খেয়ে-না খেয়ে, ফেলে দেওয়া ছেঁড়া জামা, ছেঁড়া প্যান্ট পরে তারা জীবন-যাপন করে। তাদের মাথায় ভালোবেসে কেউ হাত রাখে না।

অনেকে সাফল্য পাওয়া মানূষদের গুনগান করে। কেউ ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। কেউ নাটক-সিনেমা করে অনেক টাকার মালিক হয়েছে। কেউ নাচ- গান করে। কেউ খেলাধূলা করে রাতারাতি স্টার বনে গেছে। টিভিতে পত্রিকায় শুধু তাদের গুনগান। এরকম কাউকে পেলে আমি প্রশ্ন করি। আপনি দেশের জন্য কি করেছেন? দেশের মানূষের জন্য কি করেছেন। মানব জনম তো একবার'ই। তাই কারো জন্য কিছু করা কি উচিত না? অসংখ্য ধনী লোক বিদেশে থাকেন। উন্নত জীবনযাপন করেন। তারা কিন্তু নিজ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠির কথা কখনও ভাবেন না। আমাদের দেশের সমস্ত এলিট শ্রেনী যদি যার-যার অঞ্চলের দরিদ্রলোকদের কথা ভেবে, যদি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন- তাহলে কিন্তু আমাদের দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বিশাল সম্পদ করে রেখেছেন- কিন্তু মানূষের জন্য কিছুই করলেন না। এটা খুব দুঃখজনক।

দরিদ্র মানুষদের কষ্ট আমি সহ্য করতে পারি না। রাস্তায় যখন কোনো দরিদ্র মানূষ দেখি- প্রচন্ড কষ্ট হয়। আমার পকেটে যা থাকে আমি দিয়ে দেই। এমনও হয়েছে- পকেটের শেষ সম্বল কোনো দরিদ্র মানূষকে দিয়ে বাসায় ফিরেছি হেঁটে হেঁটে। বহুবার এই ঘটনা ঘটিয়েছি। আমার ব্যাংকে কোনো জমানো টাকা নেই। যা ইনকাম করি সব শেষ করে ফেলি। ছোট ছোট বাচ্চা গুলো ফাস্টফুডের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। চেংড়া-চেংড়া পুলাপান খায়। ওদের দিকে ফিরেও তাকায় না। আমি একটা বার্গার এক শ' টাকা দিয়ে না খেয়ে, দশটা সমুচা বা সিঙ্গারা কিনে দশজনকে বিলিয়ে দেই। একটা সমুচা হাতে পেয়ে কি যে খুশি হয়। আমি ওদের জাগায় নিজেকে দাঁড় করাই। প্রভুকে বারবার বলি- হে প্রভু ওদের দিকে একটু তাকাও। অথবা আমাকে সম্পদ দাও- আমি ওদের দুহাতে বিলিয়ে দেই। ঘুমন্ত প্রভু আমার কথা শুনেন না। একদিন হয়তো শুনবেন। আমি অপেক্ষা করি।

লোক দেখানো দান খয়রাত না করে। নিজের মন থেকে মানূষকে ভালোবেসে মানূষের জন্য কিছু করুন। আপনিও মানূষ, একজন রিকশাচালকও মানুষ। স্বাস্থ মন্ত্রীও মানুষ। গলির মোড়ে সবজি বিক্রেতাও একজন মানুষ। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখুন। ধর্মের চেয়ে মানুষ বড়। আগে মানুষ তার পর ধর্ম। একটা গান আছে না- ''মানুষ ধরো মানুষ ভজ শোন বলিরে পাগল মন''। তাই কোনো মানুষকে কষ্ট দিবেন না। অপমান করবেন না। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের জন্য কিছু করুন। সবার আগে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই। ধর্ম দিয়ে মানুষ বিবেচনা করবেন না। কেউ হিন্দু, কে মুসলিম বা খ্রিস্টান তা দেখার দরকার নাই। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখুন। মানুষকে ভালোবেসে যান। মানুষের জন্য কিছু করুন। মানুষের জন্য যা করবেন বা করে যাবেন সেটাই আপনার এক জীবনের সঞ্চয় হয়ে থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৮:৪০
২৫টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ন্যায়ের আন্দোলন হোক নিয়মতান্ত্রিক ভাবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের সাথে ভুয়া আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে অরাজকতা প্রিয় অ ছাত্রদের বিরাট একটা অংশ অশ্লীল ভাষায় অশোভন উক্তি করে চলছে। একশ্রেণীর মেয়েরা এহেন অশ্লীল নোংরামির হোতা-... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাজারের আগুন নিভবে পে-স্কেলে, প্রবৃদ্ধি ছুঁয়ে যাবে দশ শতাংশ ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৮


কেরামত মওলা সাহেবকে চেনেন না এমন মানুষ সচিবালয়ে কমই আছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদের একজন সিনিয়র সচিব। আজ নতুন পে স্কেল নিয়ে গঠিত সচিবদের কমিটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×