somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার দেশ

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার ভাবতে ভালো লাগে, একদিন বাংলাদেশ হবে একটি আনন্দময় দেশ। কোনো দুঃখী মানুষ থাকবে না। ফুটপাতে কারো ঘর থাকবে না। প্রতিটা শিশু স্কুলে যাবে। সিগনালে গাড়ি থামলে একজনও ভিক্ষুক খুঁজে পাওয়া যাবে না। পত্রিকা খুললেই সব ভালো ভালো খবর থাকবে। কেউ কাউকে কুঁপিয়ে মারবে না। সবার প্রতি সবার থাকবে এক আকাশ ভালোবাসা। একটুও অবাস্তব কথা বলছি না। এটা সম্ভব। আমাদের দেশে মাহাথিরের মতোন লোকের অভাব নেই।

অনেক ভেবেচিন্তে দেখলাম, বাংলাদেশের বেশির ভাগ লোকই ভালো। তারা দেশকে ভালোবাসে, ভালোবাসে দেশের মানুষকে। পৃথিবীর অনেক দেশেই মেয়েরা বাসে ট্রেনে দাঁড়িয়ে তাদের গন্তব্যে যায় কিন্তু আমাদের দেশে কোনো মেয়ে দাঁড়িয়ে তাদের গন্তব্য যায় না, আমরা সিট ছেড়ে দেই। আমি নিজে দেখেছি- আমাদের দেশের ট্রাফিক পুলিশ- রাস্তার সব গাড়ি থামিয়ে ছোট ছোট বাচ্চা আর বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাকে হাত ধরে রাস্তা পার করে দিচ্ছে। কাজেই মানবতা একদম শেষ হয়ে যায় নাই। সকল মানুষের মধ্যেই মানবতা আছে। সেটাকে জাগিয়ে তুলতে হবে।

আমি নিজে দেখেছি, আকাশ ভরা মেঘ দেখে এক রিকশাওয়ালা রাস্তার পাশে তার রিকশা থামিয়ে চা শেষ করে বেনসন সিগারেট ধরায়। কারো রক্তের প্রয়োজন হলে ছুটে যায় রক্ত দিতে। অচেনা কোথাও গিয়ে কাউকে ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে দেখবেন, সে আপনাকে খুব সুন্দরভাবে চিনিয়ে দেবে। বাসে উঠলে টাকা নেই বললে, কন্ট্যাকটরও হাসি মুখে মেনে নেয়। দেখেছি, সরকারী হাসপাতাল গুলোতে ডাক্তার দরিদ্র লোকদের এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে চিকিৎসা করছেন। কাজেই আমাদের হতাশ হলে চলবে না। আমাদের হাতে সময় আছে।

জানি, ছোট একটা দেশ, মানুষ অনেক। তাই কিছু সমস্যা তো থাকবেই। সমস্যা গুলো আমাদের সবাইকে মিলে সমাধান করতে হবে। আমরা জানি, দেশের প্রতি আমাদের কত ভালোবাসা। রাপা প্লাজা ভেঙ্গে যাওয়ার পর সাধারন মানুষ কি করেছে তা তো নিজের চোখেই দেখেছেন। অন্য কোনো জাতি আমাদের মতো এতো দেশ নিয়ে ভাবে না। রাস্তার পাশে কোনো চায়ের দোকানে দাঁড়ালেই আপনি তা বুঝতে পারবেন। যখন ক্রিকেট খেলা হয়- আমরা চিৎকার করে গলা ভেঙ্গে ফেলি। যদি জিতে যাই- আনন্দে একটু পর-পর চোখ মুছি। পতাকা নিয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ি। আমাদের আছে ৭১ সালের ইতিহাস। মনে হতাশা জন্মালেই ৭১ এর কথা ভাবুন। দেখবেন রক্ত কেমন টগবগ করে ওঠে।

বর্তমান সরকার দেশের জন্য অনেক কাজ করছে। আসলেই করছে। তারা যে বলে, ’এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ’ কথাটা খুব একটা ভুল বলে না। আপনি একটি বার ভেবে দেখুন- ছোটবেলা দেখতাম, ভিক্ষুকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকট সুরে ভিক্ষা করত কিন্তু এখন তারা অনেক স্মার্ট হয়েছে- সিগনাল পড়লে খুব ভদ্রভাবে এসে বলে স্যার পাঁচ টা টাকা দেন। অথবা একটা হকার এসে বলবে, স্যার এডলফ হিটলারের ভালো একটা অনুবাদ বই আছে, ইচ্ছা হলে আপনি সংগ্রহে রাখতে পারেন। একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন, দেশে বেকারের সংখ্যা খুব দ্রুত কমছে। আমরা শুধু বিদেশে চাকরি করতে যাই না। বিদেশের অসংখ্য লোক আমাদের দেশে চাকরি করে। তারা ছেলে-মেয়ে, বউ বাচ্চা নিয়ে চলে এসেছে আমাদের দেশে। আমাদের দেশেই স্কুলে কলেজে লেখা পড়া করছে। এশিয়ার অনেক দেশ থেকে অসংখ্য ছেলে মেয়ে আমাদের দেশে ডাক্তারি পড়তে আসে।

বাজারে গেলে মনটা খুশিতে ভরে যায়- কোনো কিছুর অভাব নেই। কি সুন্দর করে সবজি গুলো সাজিয়ে রাখে। লাইটের আলোতে মাছ গুলো ঝকমক করে, দেখেই মনটা খুশিতে ভরে যায়। এখন আর এদেশে কেউ না খেয়ে থাকে না। আমি বিভিন্ন বস্তিতে গিয়ে দেখেছি- একদম দরিদ্র লোকেরা ছোট্র মাটির চুলা বা কেরোসিনের চুলায় নানান রকম খাবার রান্না করে পরিবারের সবাই মিলে খাচ্ছে। এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক ইলিশ মাছ হয়েছে। দামও কম। আমি নিজেই সাতটা ইলিশ কিনে ফ্রিজে রেখে দিয়েছি। শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে।

একসময় এদেশের মানুষ খুব দুঃখী ছিল। তারা ভাতে দুঃখী, কাপড়ে দুঃখী, ভালোবাসায় দুঃখী। কিন্তু আজ দেশের প্রতিটা মানুষ তিনবেলা খায়। উলঙ্গ একজন পাগলও চোখে পড়ে না, ঘরে-বাইরে, পার্কে, কলেজে, বড় বড় শপিং মলে এমন কি অফিসে পর্যন্ত মানুষের হাসিমাখা মুখ। হাসিমাখা মুখ দেখে আমার মনটা খুশিতে নেচে ওঠে। একটু আগে চা খেয়েছি, তারপরও আবার রাস্তার পাশের দোকানে দাঁড়িয়ে বলি- মামা এক কাপ চা দেন। দুধ চিনি বেশি। চা বিক্রেতা হাসি মুখে চায়ের কাপ এগিয়ে দেয়। আমিও হাসিমুখে কাপ হাতে নিই। আফ্রিকার দরিদ্র দেশ গুলোতে তাকিয়ে দেখুন। সেদিন এক অনুষ্ঠানে সোমালিয়ার এক লোকের সাথে দেখা। সে বলল তোমাদের দেশটা খুব ভালো। খুশিতে আমার বুকের ছাতি অনেক বড় হয়ে গেল।

অনেককেই দেখি, রাস্তায় যানজটে পড়লে মুখটা কুঁচকে থাকেন। আরে ভাই, একটু ভালো করে দেখুন- একটা ছেলে কি হাসি মুখে আমড়া বিক্রি করছে এক বাস থেকে আরেক বাসে। আমড়া গুলো কি সুন্দর করে সাজিয়ে ধরে রেখেছে। কেউ বাদাম বিক্রি করছে, বাদাম কিনলে সাথে আবার ছোট্র একটা কাগজে এক চিমটি লবনও দিয়ে দেয়। আমড়া, বাদাম ভালো না লাগলে- ভালো করে তাকিয়ে দেখুন- একটা ছোট ছেলে খবরের কাগজ বিক্রি করছে, পাঁচ টাকা দিয়ে কিনে পড়তে শুরু করেন। যদি তাও ভালো না লাগে তাহলে মোবাইলে গেমস খেলুন।

শুধু গ্রামের মানুষ না। ঢাকা শহরের মানুষ গুলোও সহজ সরল। যখন আপনার মন মেজাজ বিক্ষিপ্ত থাকবে তখনই শুধু আপনার মনে হবে এরা বদ। বিরাট বদ। সব কিছু সহজ ভাবে দেখুন। দেশের মানুষকে ভালোবাসুন তাহলেই আপনার দেশকে ভালোবাসা হয়ে যাবে। আর এভাবে একদিন দেখবেন ঠিকই বাংলাদেশ আনন্দময় একটা দেশে পরিনত হবে। এজন্য আমাদের সবার মিলে মিশে থাকতে হবে। রাগ, হিংসা, বিদ্বেষ এবং অলসতা সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। আসুন গান গাই-
''আমরা করব জয়, আমরা করব জয়- একদিন,
ও বুঁকের গভীরে আছে প্রত্যয়, আমরা করব জয় নিশ্চয়।
জয় বাংলা।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৯
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ন্যায়ের আন্দোলন হোক নিয়মতান্ত্রিক ভাবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের সাথে ভুয়া আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে অরাজকতা প্রিয় অ ছাত্রদের বিরাট একটা অংশ অশ্লীল ভাষায় অশোভন উক্তি করে চলছে। একশ্রেণীর মেয়েরা এহেন অশ্লীল নোংরামির হোতা-... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাজারের আগুন নিভবে পে-স্কেলে, প্রবৃদ্ধি ছুঁয়ে যাবে দশ শতাংশ ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৮


কেরামত মওলা সাহেবকে চেনেন না এমন মানুষ সচিবালয়ে কমই আছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদের একজন সিনিয়র সচিব। আজ নতুন পে স্কেল নিয়ে গঠিত সচিবদের কমিটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×