
বিরাপ্পান একজন দস্যু।
টানা ৩৬ বছর তিনি নানান অপকর্ম করেছেন। এমনকি মুক্তিপণের জন্য তিনি অভিনেতা এবং প্রধান রাজনীতিবিদদের অপহরণ করেছিলেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন এবং পুলিশকে এড়িয়ে যাওয়ার দক্ষতা মানুষকে অবাক করেছে, বিস্মিত করেছে। তার জন্ম ১৯৫২ সালে কর্ণাটকের গোপিনাথমে। তার স্ত্রী মুথুলক্ষ্মী। তিনি বিরাপ্পানের কুখ্যাতি এবং গোঁফ এর কারণে বিয়ে করেছিলেন। তাদের দুই মেয়ে বিদ্যা রানী ও প্রভা। অবশ্য তার আরেকটি মেয়ে হয়েছিলো। কথিত আছে সেই মেয়েটিকে বিরাপ্পান নিজে হত্যা করে। যদিও তার স্ত্রী একথা মানতে রাজী নন। দুই মেয়ে প্রভা এবং বিদ্যারাণী আইনের ছাত্রী। প্রভার জন্ম ১৯৯০ তে। আর রানীর জন্য ১৯৯৩ তে। তামিলনাড়ু-কর্নাটক সরকার বিরাপ্পানের মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ৪০ কোটি টাকা।

বীরাপ্পনের জীবন চমকে দেওয়ার মতো।
বিরাপ্পান এর কর্মজীবন শুরু হয় ছোটবেলায় (১৯৬৯সালে) তার আত্মীয় কুখ্যাত শিকারী এবং চন্দন কাঠ পাচারকারীকে কাজে সহযোগিতা মধ্য দিয়ে। তিনি ১৯৭২ সালে প্রথম গ্রেপ্তার হন। প্রমান না থাকায় এবং বয়সে ছোট বলে বিরাপ্পান ছাড়া পেয়ে যায়। এরপর বিরাপ্পান নিজে চন্দন এবং হাতীর দাঁত পাচার শুরু করেন। হাতীদের তিনি গুলি করে হত্যা করতেন এবং কোদাল দিয়ে হাতির দাঁত তুলে নিতেন। কমপক্ষে সে এক হাজার হাতী হত্যা করেছিলো। এবং ১০ হাজার টনেরও বেশি চন্দনকাঠ পাচার করেছিল বিদেশে। যার মূল্য সেই সময় দু’কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। ১৭ বছর বয়স থেকেই বিরাপ্পান পুলিশ অফিসার, বন কর্মকর্তাদের হত্যা করতে শুরু করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের কোনও ক্ষতি করেননি তিনি।

বিরাপ্পান বহু বেকারকে নিয়োগ করেছিল নিজের জনসংযোগ রক্ষা করতে। সাংবাদিক থেকে শুরু করে সাহিত্যিক, সকলের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। বিদেশেও জনসংযোগের জন্য লোক নিযুক্ত করেছিল বীরাপ্পন। লন্ডন এবং নিউ ইয়র্কেও তার লোক ছিল। বীরাপ্পনকে হত্যা করতে শুরু করা হয়েছিল ‘অপারেশন কোকুন’। বছরের পর বছর ধরে চলে এই অপারেশন। ‘অপারেশন কোকুন’ ভারতের ইতিহাসে অন্যতম খরচাসাপেক্ষ অভিযান। এই অভিযানে ১০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছিল সেই সময়েই। ভারতের সবচেয়ে বড় অপরাধীর নাম বীরাপ্পন। কর্ণাটক, কেরল ও তামিলনাড়ুর প্রায় ৬০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ছিল এই বীরাপ্পনের রাজত্ব। জঙ্গলের ভেতর থেকে বের হতেন না বিরাপ্পান। তিনি তার স্ত্রীকে ভালোবাসতেন।

বীরাপ্পনের কন্যা বিদ্যা বিজেপির রাজনীতিতে নেমেছেন।
বাবা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি বাবাকে দস্যু হওয়ার দিকে ঠেলে দিয়েছে। কিন্তু ওঁর এমন অনেক কাজ আমাকে সমাজের হয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। ‘আমি সমাজের গরীব এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। জাতি–ধর্ম নির্বিশেষ আমি কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক পরিষেবা চালু করেছেন। আমি সেই পরিষেবা এবং প্রকল্প গুলিকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। আমাকে সহযোগিতা করুন। আমার নাম দেখে নয় আমার কাজ দেখে আমাকে বিচার করুন। আমি আমার দেশ এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসি।
বাবা বীরাপ্পনের মৃত্যুর সময়ে বিদ্যা রানীর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। সেই বিদ্যা এখন পেশায় উকিল। তামিলনাড়ুতেই লেখাপড়া করেছেন তিনি।

বীরাপ্পন এর কন্যা বিদ্যা বীরাপ্পন।
আইপিএস বিজয় কুমারের নেতৃত্বে অপারেশন কোকুন পরিচালনা করা হয়। আর তাতেই ২০০৪ সালের ১৮ অক্টোবর খতম হয় বীরাপ্পন। এবং আইপিএস অফিসার বিরাপ্পানের ওপর একটি বইও লিখেছিলেন। পুলিশ বহু লোকোকে এনকাউন্টারে হত্যা করে বিরাপ্পানের নামে চালিয়ে দিয়েছেন। মানুষ হিসেবে বিরাপ্পান মন্দ লোক ছিলেন না। তিনি গরীব গ্রামবাসীদের বিভিন্ন সময় সাহায্য সহযোগিতা করতেন। বিরাপ্পান তার মোচের খুব যত্ন নিতেন। এরকম মোচ সাধারনত দেখা যায় না। বিরাপ্পানের দলে লোকজন ছিলো মাত্র কুড়িজনের মতোন। তার কোনো আধুনিক পিস্তল ছিলো না। ছিলো না এঁকে ফোরটি সেভেন। সাধারণ রাইফেল দিয়েই তিনি পুলিশের সাথে লড়তেন। ২০১৬ সালে পরিচালক রাম গোপাল ভার্মা বিরাপ্পানকে একটা সিনেমা বানিয়েছেন। আগ্রহীরা মুভিটা দেখতে পারেন। ভালোই লাগবে। রাম গোপাল ভার্মা সম্পর্কে যাদের ধারনা আছে, তারা জানেন তিনি কেমন মুভি বানান।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



