somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রবাসে বয়স্ক বাংগালীদের সাথে ১ দিন।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দেশে যাওয়া-আসা, বিবিধ স্হানে চাকুরী করার কারণে, সমবয়স্ক বাংগালীদের সাথে আমার ঘনিষ্টতা তেমন গড়ে উঠেনি, আমি যাদের সাথে চলি ফিরি তাদের গড় বয়স ৬০ বছরের নীচে; সর্ব কনিষ্ঠজনের বয়স ৪৮ বছর। গত আগষ্ট মাসে ১ পার্কে ১৮ জনের একটা বয়স্ক গ্রুপের সাথে ৪/৫ ঘন্টা সময় কাটিয়েছি; ইহা এক ধরণের নতুন অভিজ্ঞতা ছিলো।

আমাদের গ্রুপের ১ জনের ( ব্যবসায়ী ) শ্বশুর শ্বাশুড়ি এসেছেন দেশ থেকে, উনার বাসায় দেখা হয়েছে; ১টি গ্রীক রেষ্টুরেন্টে বেশ লম্বা সময় আড্ডা দেয়া যায়, আমরা সেখানে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করলে মেহমানরা হালালের কথা বলে উহা নাকচ করে দেন; বরং পার্কে পিকনিক করতে চাইলেন। শহরের ১টি পার্কে পিকনিকের ব্যবস্হা করা হলো; বাচ্চারা বাদ; সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা অবধি। শহরের পার্কগুলোতে ভোরে গিয়ে টেবিল দখল করতে হয়, না'হয় ভালো যায়গা পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ী ও গ্রুপের কনিষ্ঠজন গিয়ে সকাল ৮'টায় ৪ টেবিলের একটি স্পট পেয়েছেন।

আমি ৯'টায় গিয়ে উপস্হিত, নাস্তার অনেক আইটেম; কিন্তু এরা ২ জন ব্যতিত কেহ এখনো আসেনি। নাস্তার পর, স্পটের ভার আমাকে দিয়ে ২জনই তাদের স্ত্রীদের ও মেহমানদের আনতে গেলেন। সময় ১০টা, কারো দেখা নেই, আমি বারবার চা খেয়ে, হেঁটে হুঁটে সময় কাটাচ্ছিলাম। একজন তরুণ বাংগালী ছেলে এসে আমার সাথে পরিচয় করে জানালো যে, সে বেশ অসুবিধায় পড়েছে: সে ১৮ জনের একটা বাংগালী 'সিনিয়র সিটিজেন গ্রুপকে' পার্কে এনেছে, কোথায়ও যায়গা পাচ্ছে না। সে বুঝেছে যে, এই ৪টি টেবিল আমি ধরে রেখেছি, তাকে কিছু সময়ের জন্য ২/১ টা টেবিল দেয়া যায় কিনা! আমি ৩টি টেবিল দিয়ে দিলাম; আমাদের লোকজন আসতে দেরী হচ্ছে, এবং আমাদের জন্য ২০টির বেশী চেয়ার আনা হচ্ছে, আমরা ১৪ জনের মতো হবো।

ছেলেটি নিউইয়র্কে জন্ম-নেয়া, খুবই অমায়িক। সে গিয়ে বাস থেকে লোকদের নিয়ে এলো; পরে বুঝলাম ব্যবসাটা ছেলের বাবার, সে বাবাকে সাহায্য করছে। ছেলে সবার সাথে আমাকে পরিচয় করায়ে দিলো; সবাই মোটামুটি আমার কাছাকাছি বয়সের। এখানে যতটুকু চা-কফি, বেগল, খোঁয়াসো, পেষ্ট্রি ছিলো, সেগুলো সবাকে দিলাম। ছেলে ব্রেকফাষ্টের প্যাকেট এনেছিলো, সবাইকে খাবার দিয়ে, সে অন্য যায়গায় খালি টেবিল খুঁজতে গেলো; ২০ মিনিট টেবিল খুঁজে এসে, আমাকে বলে,
-আংকেল, আমি তো মনে করেছিলাম, ১০টার দিকে এলে যায়গা পাবো; এখন দেখছি কোথায়ও খালি টেবিল নেই! বাবা মন খারাপ করবেন।
-এখানেই থেকে যাও, আমাদের লোকজন চেয়ার আনবেন, খাবার রাখার জন্য ১টি টেবিল হলেই আমাদের চলবে।

ছেলে ধন্যবাদের পর ধন্যবাদ দিচ্ছে; লোকজনও খুব খুশী, আমি যায়গা ছেড়ে দিয়েছি। গ্রুপে ১ দম্পতি চট্টগ্রামের, তাঁরা ২ জন আমার সাথে আলাপ জুড়ে দিলেন; বাড়বকুন্ডে বড় ব্যবসা ছিলো; সব ফেলে একমাত্র মেয়ের এখানে চলে এসেছেন। মেয়ে ডাক্তার, উনাদের কিছু করতে হয় না, ১টা স্পেনিশ মেয়ে বাসার কাজকর্ম করে দেয়; দিনের বড় অংশ কাটে জ্যামাইকার ১ মসজিদে। মসজিদ ও ১জন ডাক্তার ( এদেশে এখনো প্রেকটিসের লাইসেন্স পাননি ) মিলে সিনিয়য়র সিটিজেন ডে-কেয়ার চলাচ্ছেন। প্রায় সবাই আমাকে উনাদের গ্রুপে জয়েন করার জন্য অনুরোধ করতে লাগলেন।

এদের সবাই ছেলেমেয়েদের কাছে এসেছেন, বিবিধ পেশার লোকজন; প্রায় সবাই গত ৫/৬ বছরের ভেতরে এই দেশে এসেছেন; দেশে ছেলেমেয়ে আছে, পরিবার আছে।

আমাদের লোকজন আসতে আসতে ১২ টা বাজলো; বসার যায়গা নিয়ে কোন অসুবিধা হয়নি, খাবারও ছিলো প্রচুর। উনাদের জন্যও বিরাণী এনেছিলো ছেলেটি, সাথে কিছু কুকি, কেইক ও ফলমুল। বয়স্কদের সবারই খুব ইচ্ছা, আমি যেন মসজিদের সিনিয়র সিটিজেন গ্রুপে যোগদান করি; আমি আগামী কোন এক সময়ের কথা বলে, কোনভাবে এড়িয়ে যাচ্ছিলাম।

আমি উনাদের সাথে আলাপ করে বুঝলাম যে, উনারা প্রতিদিন মসজিদে কম্পাউন্ডে ৬/৭ ঘন্টার বেশী সময় থাকেন; মসজিদের বেইসমেন্টে রেস্ট নেয়ার যায়গা আছে, ধর্মীয় আলোচনা, ইবাদত ইত্যাদি করে সময় কাটান; সামাজিক কোন কিছুতে নেই, পারিবারিক দায়িত্বও তেমন নেই, মনে হচ্ছে। সবই ভালো, তবে আমি এভাবে সময় কাটাতে পারবো বলে মনে হলো না।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৩ রাত ৩:৪০
২৯টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খুলনায় বসবাসরত কোন ব্লগার আছেন?

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৪ ভোর ৪:৩২

খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তথা কুয়েট-এ অধ্যয়নরত কিংবা ঐ এলাকায় বসবাসরত কোন ব্লগার কি সামুতে আছেন? একটি দরিদ্র পরিবারকে সহযোগীতার জন্য মূলত কিছু তথ্য প্রয়োজন।

পরিবারটির কর্তা ব্যক্তি পেশায় একজন ভ্যান চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একমাত্র আল্লাহর ইবাদত হবে আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও আমিরের ইতায়াতে ওলামা তরিকায়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৪ ভোর ৬:১০



সূরাঃ ১ ফাতিহা, ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪। আমরা আপনার ইবাদত করি এবং আপনার কাছে সাহায্য চাই।

সূরাঃ ৪ নিসার ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:২১



মুক্তিযুদ্ধের সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি রয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে যাচাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় রাজাকাররা বাংলাদেশর উৎসব গুলোকে সনাতানাইজেশনের চেষ্টা করছে কেন?

লিখেছেন প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ২:৪৯



সম্প্রতি প্রতিবছর ঈদ, ১লা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, শহীদ দিবস এলে জঙ্গি রাজাকাররা হাউকাউ করে কেন? শিরোনামে মোহাম্মদ গোফরানের একটি লেখা চোখে পড়েছে, যে পোস্টে তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান-ইজরায়েল দ্বৈরথঃ পানি কতোদূর গড়াবে??

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১১:২৬



সারা বিশ্বের খবরাখবর যারা রাখে, তাদের সবাই মোটামুটি জানে যে গত পহেলা এপ্রিল ইজরায়েল ইরানকে ''এপ্রিল ফুল'' দিবসের উপহার দেয়ার নিমিত্তে সিরিয়ায় অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট ভবনে বিমান হামলা চালায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×