somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পতিতাবৃত্তি উচ্ছেদ করতেই হবে

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৪:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পেশাগুলির নাম জানতে চাইলে বেশীরভাগ মানুষই বলবেন তেল,অস্ত্র,মাদক বা পর্যটন ব্যবসার নাম।কিন্ত আসলে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা দেশেরই সবচেয়ে বড় ব্যবসা হচ্ছে নারী ব্যবসা।নারীর মেধা বা প্রতিভার পরিবর্তে চলচ্চিত্র,টিভি,সঙ্গীত ও বিজ্ঞাপনচিত্র এবং সুন্দরী প্রতিযোগীতায় তার শরীর ব্যবহার,তাকে বিমানবালা,ব্যক্তিগত সচিব বা অভ্যর্থনাকারী-আপ্যায়নকারী বানিয়ে ব্যবসা বৃদ্ধির চেষ্টা-এসবকিছুকেই নারী ব্যবসা বলা যায়।তবে নারী ব্যবসার সবচেয়ে ভয়ংকর রুপ হচ্ছে পতিতাবৃত্তি-যা পৃথিবীর প্রাচীন পেশাগুলির একটা।

একটা মেয়ের জন্য এর চেয়ে বড় অসন্মানের আর কোন পেশা হতে পারেনা।যুগে যুগে ক্ষমতাবান,ধনী ও অভিজাত ব্যাক্তিরাই এই পেশার সৃষ্টি করেছে।দেবরাজ জিউস,ইন্দ্র,আর সম্রাট,সুলতান,রাজা-মহারাজারা নিজেদের প্রাসাদেই হেরেমের নামে পতিতালয় স্থাপন করেছিলো আর এখন রংমহল নাম দিয়ে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,বাগানবাড়ি,ফ্ল্যাট অথবা টিভি চ্যানেলের ভিতরেই পতিতালয় স্থাপন করছে বড় বড় ব্যবসায়ী,রাজনীতিক নেতা,শীর্ষ সন্ত্রাসী,চলচ্চিত্র ও টিভি প্রযোজক,পরিচালক,অভিনেতা ও টিভি চ্যানেল মালিকরা।

একটা সময় ছিলো যখন মেয়েরা ছিলো অসহায়।তাদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো।কিন্ত এখন অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে।এখনও বেশীরভাগ মেয়ে আর্থিক দুরবস্থার কারণেই এ পেশায় আসে।কিন্ত গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জড়িত শিক্ষিত নামধারী মেয়েদের বড় একটা অংশ অর্থ ও খ্যাতি ও পরিচিতির লোভে এ পেশায় জড়িত হয়।এই শ্রেণীর মেয়েদের মধ্যে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রীপ্রাপ্ত ও অর্থশালী।কিন্ত তারপরও আরো অর্থ-বিত্ত,পরিচিতি বা পদের লোভে তারা এ পেশা গ্রহণ করে।এদের মধ্যে নায়িকা,গায়িকা,উপস্থাপকিা,মডেল,বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী,বিমানবালা,রাজনৈতিক নেত্রীও কর্মী এমনকি শিক্ষা,চিকিৎসা,প্রকৌশল ও আইনপেশায় নিয়োজিত মহিলারাও আছে।

এরা নিজেদের পতিতা বানানেোর পিছনে বিভিন্ন বিচিত্র যুক্তি দেয়।স্বামীর সাথে সু-সম্পর্কের অভাব,স্বামী বহুগামী বা অত্যাচারী-এধরণের মহিলারাই প্রধাণত সম্মানজনক জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থাকার পরও আরো বেশী অর্থ এবং খ্যাতির জন্য পতিতাবৃত্তি গ্রহণ করে।

এ প্রসঙ্গে মিতা নামের আইনের এক ছাত্রীর উদাহরণ দেয়া যায়।উত্তরাধিকার সূত্রে সে পল্টন এলাকায় বাড়ির মালিক।তবে পরিবারে উন্নত রুচি,শিক্ষা বা সাহিত্যচর্চার কোন ঐতিহ্য নাই।সে নামসর্বম্ব একটা আইন ছাত্র সংগঠনের সদস্য হয়।দলে আরো ভালো পদ পাওয়ার লোভে সে সেই সংগঠনের নেতা জগলুর শয্যাসঙ্গীনী হয়।মিতা বিবাহিত এবং এক সন্তানের মা হওয়ার পরও মিতার নিজেকে পতিতা বানানোর কোন দরকার ছিলো না।সে ইচ্ছা করলেই তাকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারতো।কিন্ত জগলুর চেম্বারে (যেটা মূলত ছিলো এক মহিলা মন্ত্রীর চেম্বার)শিক্ষানবীশ আইনজীবি হিসেবে এবং পরে সেখানেই স্থায়ীভাবে কাজ করে প্রচুর অর্থ আয় করার লোভেই সে নিজেকে পতিতায় পরিণত করে।

এরকম মিতা এদেশের প্রতিটা পেশাতেই অনেক আছে যারা অভাবের বা অন্য কোন পরিস্থিতির কারণে বাধ্য না হলেও আরো বেশী অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা লাভের জন্য নিজেকে পতিতা বানায়।এদের কোন যুক্তি দিয়েই অপকর্ম থেকে নিবৃত্ত করা যাবে না।কারণ শিক্ষিত ও সচেতন হওয়ার পরও যে পুরুষ বা মহিলার মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ জন্মে জন্মে না সে পশুরও অধম।এদের কাছ থেকে বিবেক ,নৈতিকতা-কোন কিছু আশা করাই বোকামী।কিন্ত প্রশ্ন হচ্ছে,অভাবের কারণে যারা নিজেদের পতিতা বানায়,তাদের এ থেকে বিরত করা এবং পতিতা পুনর্বাসন সম্ভব কিনা?

পতিতাবৃত্তির বিষয়ে এদেশে প্রচলিত আছে চরম বৈষম্যমূলক দ্বৈতনীতি।সীমাহীন অভাবের কারণে মগবাজার,কাওরানবাজারসহ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন সাধারণ হোটেলে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত মেয়েরা নিয়মিত পুলিশের গ্রেফতার নির্যাতন ও মাস্তানদের হয়রানির শিকার হয়।অথচ সোনারগা,শেরাটনসহ দেশের তারা মার্কা হোটেল,গুলশান,বনানী,উত্তরার রেষ্টহাউস ও অভিজাত এলাকার বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও রংমহলে পতিতাবৃত্তি চলে পুলিশের প্রহরায়।কারণ এসব জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করা দেশের সংস্কৃতিজগতের নামী-দামী পতিতাদের খদ্দের হচ্ছে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতা,ধনী ব্যবসায়ী,আমলা,শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খ্যাতিমান সংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বরা।তাই এরা কখনোই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় না।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরবর্তী সময়টাই ছিলো এদেশে পতিতাবৃত্তি উচ্ছেদ ও অভাবের কারণে এ পেশা গ্রহণে বাধ্য হওয়া মেয়েদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের সবচেয়ে ভালো সময়।কিন্ত কিন্ত পূর্ববর্তী আমলগুলির মতো স্বাধীন বাংলাদেশেও এ ব্যাপারে কোন প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়নি।বরং এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবি নামধারী ড: কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত সংবিধান প্রণয়ন কমিটি দেশের আইনে অসহায় মেয়েদের জন্য পতিতাবৃত্তি গ্রহণের সুযোগ রেখেছে।এভাবে এ পেশাকে বৈধ করে দেশে যেমন নারীর অসন্মান করা হয়েছে একইভাবে অপরাধ ও অনৈতিকতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

পৃথিবীর কোন দেশেরই ভালো কোন মেয়ে মনের আনন্দে এই পেশায় আসে না।সীমাহীন দারিদ্রই তাদের পতিতাবৃত্তি গ্রহণে বাধ্য করে।গ্যারি মার্শাল পরিচালিত জুলিয়া রবার্টস ও রিচার্ড গিয়ার অভিনীত গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘‘প্রিটি ওম্যান’’(১৯৯০) ছবিটাতে দেখানো হয়েছে এ্যামেরিকার মতো প্রাচুর্যের দেশের মেয়েরাও কেনো পতিতা হয় এবং অনুকূল পরিবেশ পেলে তারাও একটা স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবন যাপন করতে পারে।এ্যামেরিকার সরকারগুলি বছরের পর বছর নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী ও সন্ত্রাসী নীতি রক্ষার জন্য এবং মহাকাশ অভিযানের নামে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যায় করছে।কিন্ত নিজের দেশের মেয়েদের অসন্মানজনক এই পেশা থেকে মুক্ত করতে তাদের কোন আগ্রহ নাই।কারণ ও এ্যামেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলির সমাজ ব্যবস্থায় দেশপ্রেম,আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও কাজের সংস্কৃতির মতো ভালো অনেককিছু থাকলেও নারীর প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গী মোটেও সন্মানজনক না।তাই এসব দেশে প্লে-বয় ও হাসলারের মতো ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়।টপলেস বার,স্ট্রিপটিস ও পতিতাবৃত্তি অবাধে চালু থাকে।অার এসব দেশে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনও থাকে উচ্চমাত্রায়।

তবে পতিতাবৃত্তি উচ্ছেদে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছিলো।১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পর সেদেশে সাফলজনকভাবে পতিতাবৃত্তির অবসান ঘটানো হয়েছিলো।কিন্ত এর ফলের সেখানে নারী ধর্ষণের পরিমাণ একবিন্দুও বাড়েনি।বরং সমাজতন্ত্রের যুগে রাশিয়ার নারীদের সন্মান ও মর্যাদা পশ্চিমের পূজিবাদী দেশগুলির চেয়ে অনেক বেশী ছিলো।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর গণতান্ত্রিক শাসনব্যাবস্থার নামে পূজিবাদী ব্যবস্থা প্রচলিত হওয়ার পর থেকে রাশিয়াতেও অবাধে পতিতাবৃত্তি চালু হয়েছে।কারণ পূজিবাদী সমাজব্যাবস্থার অনিবার্য ফল পতিতাবৃত্তি।
এপ্রসঙ্গে ১৯৯৪ সালে বার্তা সংস্থা এপি’র একটা সংবাদের উল্লেখ করা যায়।‘‘রাশিয়ায় পতিতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে আশংকাজনকভাবে।কিন্ত পুলিশ এর বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না।কারণ রাশিয়ায় পতিতাদের বিরুদ্ধে কোন আইন নাই।একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র ইয়েভগেনি রিয়াবতসেভ বলেন,আমাদের হাত-পা বাধা।এপি’কে তিনি জানান,পতিতাদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।আর এর পলে অন্যান্য অপরাধের সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে।কিন্ত পতিতাদের বিরুদ্ধে আমাদের কোন আইন নাই।মস্কোভস্কায়া প্রাভদা পত্রিকার বরাত দিয়ে জানা গেছে,শুধু মস্কোতেই এখন ২০ হাজার পতিতা আছে।সোভিয়েত যুগে পতিতাবৃত্তিকে অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হতো না।কারণ সমাজতান্ত্রিক মতবাদ অনুসারে এ সমাজে পতিতাবৃত্তি টিকে থাকতে পারে না।তখন শুধুমাত্র পতিতার দালালদের অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। (দৈনিক সংবাদ,১০/১২/১৯৯৪)।

একটা মেয়েকে পতিতা বানানো,তাকে যেকোনভাবে এ পেশা গ্রহণে বাধ্য করা নৈতিকতা ও মানবতাবিরোধী চরম ঘৃণ্য একটা কাজ।এটা অত্যন্ত নীম্নরুচি ও সংস্কৃতির পরিচায়ক।নিজেদের শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান বলে দাবীকারী কোন ব্যাক্তিরই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়া উচিত।
১৯৭১ সালে পকিস্তানী সৈন্যরা এদেশের মেয়েদের উপর চরম অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছিলো।স্বাধীন দেশে ‘‘বীরাঙ্গনা’’ নামের নামসর্বস্ব খেতাব পেলেও তাদের অনেকেরই সমাজে আর স্থান হয়নি।তাদের স্থান খূজে নিতে হয়েছিলো পতিতালয়গুলিতে।অথচ স্বাধীন দেশে সংবিধান প্রণেতা নামধারী মহাপন্ডিত ব্যাক্তিরা দেশ থেকে পতিতাবৃত্তি উচ্ছেদ করে নারীকে সন্মান ও মর্যাদা দেয়ার কোন ব্যাবস্থা রাখেননি-যা করেছিলেন রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের নেতারা।বরং তারা চরম চরম নৈতিকতাবিরোধী,প্রচলিত নষ্ট সমাজব্যবস্থার সমর্থক ও অন্ধকারের জীবের মতো তালাক,সম্পত্তি ও সন্তানের উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলির ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী আইন চালু রাখার সাথে সাথে পতিতাবৃত্তিও অব্যাহত রেখেছিলেন।

মূলত বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের একটা আধুনিক,বৈপ্লবিক ও কল্যাণমূলক সংবিধান প্রণয়ন সংক্রান্ত কোন ধারণাই ছিলো না।তাই এই সংবিধানে একদিকে নারী-পুরুষসমান অধিকারেরর কথা বলা হয়েছে,আবার অন্যদিকে দেশে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা প্রচলিত না থাকার পরও পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় আইন চালু করা হয়েছে।সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের দরীয় লেজুড়ে পরিণত করা হয়েছে।এমন গোজামিলের সংবধান প্রণেতাদের কারণেই দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দেশ থেকে পতিতাবৃত্তি উচ্ছেদ বা তাদের নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।

অথচ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করার পরই দেশ থেকে পতিতাবৃত্তি উচ্ছেদ করা গেলে নারীর সন্মান ও মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো বাংলাদেশের মর্যাদাও সারা পৃথিবীতে বৃদ্ধি পেতো।পতিতাবৃত্তি উচ্ছেদের জন্য কোন রাষ্ট্রকে সমাজতান্ত্রিক হতে হবে এমন কোন কথা নাই।বাংলাদেশের বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠীর মধ্যেও পতিতাবৃত্তির কোন অস্তিত্ব নাই।সুতরাং কোন জাতি চাইলে অবশ্যই এর অবসান ঘটাতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধচলাকালে এদেশে বহু তরুণ তাদের পরিবারের মহিলাদের উপর পাকিস্তানী সৈন্যদের বর্বরতা দেখে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো।অনেক মুক্তিযোদ্ধা তাদের সাথে রক্তের সম্পর্কহীন মেয়েদের সন্মান রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তানীদের হাতে ধরা পড়ে চরমভাবে নির্যাতিত হয়েছিলো অথবা প্রাণ হারিয়েছিলো। নৈতিকতার এই চরম দৃষ্টান্ত এদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিলো।কিন্ত দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেখা যাচ্ছে এদেশের রাজনীতিবিদ,ব্যাবসায়ী থেকে শুরু করে সংস্কৃতিবান নামধারী বড় বড় কবি,সাহিত্যিক,চিত্র পরিচালক,অভিনেতা,গায়ক,সুরকার,নাটক নির্মাতা,প্রযোজক ও টিভি চ্যানেল মালিকদের অনেকেই নিজেদের বিভিন্নরকম স্বার্থে সংস্কৃতিজগতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে আগ্রহী মেয়েদের পতিতায় পরিণত করছে।

দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,পতিতালয়গুলিতে অবস্থানকারী মেয়েদের প্রত্যেকেই অভাব অথবা দারিদ্রের কারণে এই পেশায় আসে।এখানে মেয়েদের পশুর মতোই বিক্রি করা হয়।অনেক মেয়ে অর্থনৈতিক কারণে সরাসরি এই পেশায় জড়িত হয়।আবার অনেকে প্রেমের নামে প্রতারিত হয়ে,বিদেশে ভালো চাকরী প্রলোভনে অথবা আত্মীয়দের অর্থলোভের কারণে বিক্রি হয়ে পতিতালয় বা বিভিন্ন বাড়ি হোটেলে আটক হয়ে এই পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।

পতিতালয়গুলিতে বন্দী ও অনৈতিক কাজে অনিচ্ছুক মেয়েদের উপর দিনের পর দিন চলে চরম বর্বর নির্যাতন।এ নির্যাতন শিকার হয়ে তাদের মৃত্যুরণ করতে বা এই পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়। ১৯৮৫ সালে ঢাকার কান্দুপট্টিতে পতিতালয়ে বন্দী কিশোরী শবমেহের পতিতাবৃত্তিতে রাজী না হওয়ায় তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেই হত্যা করা হয়।এ নিয়ে সেই সময় পত্রিকাগুলিতে অনেক লেখালেখি হয়েছিলো।তার কবিতা নিয়ে আবার ‘‘শবযাত্রায় শবমেহের’’ নামে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছিলো।কিন্ত তার এই বর্বর হত্যাকান্ডের এতো বছর পরও পতিতাবৃত্তির উচ্ছেদ হয়নি বা তাদের পুনর্বাসনের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।দেশের রাজনৈতিক নেতা,সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কোন সাহিত্যিক সাহিত্য-সংস্কৃতি ব্যাক্তিত্ব বা বুদ্ধিজীবি এই চরম বর্বর পেশা উচ্ছেদ করে মেয়েদের রক্ষার ব্যাপারে একটা কথাও বলে না।তাই পতিতালয়গুলিতে মেয়েদের কেনা-বেচা,চরম নির্যাতন চালিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা অব্যাহত আছে।

এ বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরের অনুসন্ধানী সাংবাদিক রাজু আহমেদ বিগত ৯/৭/২০০১১ তারিখে একটা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখেছিলেন।“অন্ধকার জগতের বর্বর কাহিনী ’’ শিরোনামে প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল,‘‘ দুইদিন ধরে খাবার না দিয়ে পেটানো হচ্ছিলো সীমাকে।বয়স ১৮‘এর বেশী হবেনা।জোর করে বদ্ধ ঘরে দুইজন মধ্যবয়স্ক পুরুষের কাছে তাকে পাঠানো হয় এ পেশায় বাধ্য করতে।কিন্ত সীমা রাজী না হওয়ায় তাকে শুরু হলো নির্মম নির্যাতন।প্রথমে তাকে মদ খেতে বাধ্য করা হলো।এরপর দেয়া হলো পেথেড্রিন ইন্জেকশন।তাতেও কাজ না হওয়ায় সেবন করানো হলো ইয়াবা,উত্তেজক ওষুধ ও ইন্জেকশন।একসময় সীমা পরাজিত হলো।”
সিনেমার কাহিনীর মতো মনে হলেও এটা সত্য ঘটনা।এমন ঘটনা সীমার মতো শত শত মেয়ের জীবনে ঘটে চলেছে রাজবাড়ি গোয়ালন্দ থানার দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে।
সেখান থেকে নারায়ণগন্জ র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার হওয়া দুই তরুণীর মুখে এমন ভয়ংকর বর্ণণা শুনে অনেকেই ভাবতে বাধ্য হবেন,স্বাধীন দেশের মাটিতে এমন বর্বর ঘটনা ঘটছে কিভাবে?

র‌্যাব-১১ ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশাল কোম্পানী অধিনায়ক লে:কমান্ডার মাহবুব আলম জানান,‘‘নারায়ণগঞ্জের পাটুয়াটুলি এলাকার একটা মেয়ে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে পাচার হয়ে যায়।৬ জুলাই সে পালিয়ে আসে এবং তার দেয়া তথ্যমতে শুক্রবার ভোর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পতিতাপল্লী থেকে নারায়ণগঞ্জের আরেক তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।গতকাল র‌্যাব কার্যালয়ে পলিয়ে আসা মেয়েটা জানায়,সে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাটুয়াটুলি এলাকার এক শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো।তা সাথে ১ মাস আগে পরিচয় হয় এই এলাকার আখি আক্তারের।৩ জুলাই আখি তার দেবরের জন্মদিনে দাওয়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সরাসরি দৌলতদিয়ায় নিয়ে যায় মেয়েটাকে।পথিমধ্যে তার সাথে তার সন্দেহ হলেও আখির কথিত স্বামী রাজু ও অন্য সহযোগী থাকায় কিছু বলতে সাহস পায়নি।পতিতাপল্লীতে নিয়ে যাওয়ার পর মেয়েটা জানতে পারে তাকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
সেদিন রাতে তাকে দুই যৌনকর্মীর সাথে সাথে থাকতে দেয়া হয়।রাতভর তাকে বোঝানো হয়,এখানে তাকে কি করতে হবে এবং না করলে কি হবে।পরদিন সকাল থেকেই তাকে খদ্দেরদের কাছে পাঠানো হয়।কিন্ত সে রাজী না হওয়ায় শুরু হয় নির্যাতন।তাকে খাবার না দিয়ে মারধর করা হয়।একপর্যায়ে মদ খেতে বাধ্য করা হয়।কিন্ত ওই খদ্দেরের মনে মায়া জন্মে।সে পতিতাপল্লীর এক মাসলম্যানের সহায়তায় মেয়েটাকে বাইরে নিয়ে যেতে সাহায্যে করে।

মেয়েটা জানায়,‘‘আমার নাম বদলে নতুন নাম দেয়া হয় যূথী।সেখানে আমি আমারই প্রতিষ্ঠানের এবং এলাকার আরেকটা মেয়েকে দেখতে পাই।অনেক কষ্টে আমি ঢাকা পৌছে সেখান থেকে বাড়ি ফিরে আসি।বিষয়টা বাবা মা’কে জানাই এবং সেই পাচাকারী আখিকে খূজে বের করি।তাকে ৭ জুলাই আটক করে ব্যাবের কাছে সোপর্দ করা হয়”।

র‌্যাব-১১ নারায়ণঞ্জের অধিনায়ক জানান,মূলত যূথীর অনুরোধে অামরা আটক মেয়েটাকে উদ্ধারের অভিযান শুরু করি।বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় আমরা দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে গভীর রাতে সেখানে পৌছাই।ওই পতিতাপল্লীর অবস্থা এতোটাই ভয়াবহ ছিলো যে,সেখান থেকে কোন মেয়েকে বের করে আনা প্রায় অসম্ভব।অামরা বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে সেখানে প্রবেশ করি।সেখানকার পরিবেশ এতোটাই ঘিঞ্জি যে,বাইরের কারো পক্ষে কাউকে খূজে বের করা অসম্ভব।তারপরও আমরা প্রায় দুই ঘন্টা সর্দারনী সাথীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মেয়েটাকে উদ্ধার করি।উদ্ধারের পর সে জানায় যে,সে ময়মনসিংহ থেকে প্রায় তিন মাস আগে নারায়ণগঞ্জে আসে।সেও একটা গার্মেন্টস-এ এ চাকরী করতো।সেখানে তার সাথে আখির পরিচয় হয়।সেও একটা গার্মেন্টস-এ চাকরী করতো।একইভাবে তার সঙ্গে আখির পরিচয় ঘটে এবং সে তাকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে যায় এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাকে দৌলতদিয়ায় বিক্রি করে দেয়।

ওই মেয়েটার ছদ্মনাম ছিলো সীমা।সে জানায়,যৌনকাজে বাধ্য করতে তার উপর চরম বর্বর অত্যাচার করা হয়েছে।মাত্র ১০ বছরের মেয়েদের দিয়েও সেখানে দেহব্যবসা করানো হয়।শারীরিক গঠন বৃদ্ধির জন্য তাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়।কেউ দেহব্যবসায় রাজী না হলে নির্মম নির্যাতনের পাশাপাশি পতিতাপল্লীর ক্যাডারদের দিয়ে গণধর্ষণ করানো হয়।অত্যাচারের বর্ণনা দিতে গিয়ে অঝোরে কেদে ফেলে মেয়েটা।পাচারকারী আখি সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছে,সেও একসময় পাচারের শিকার হয়ে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে যায়।সেখানে প্রায় দুই বছর সে পতিতা হিসাবে কাজ করে।একসময় এই কাজ ছেড়ে সেখানে মেয়ে বিক্রির কাজ শুরু করে। র‌্যাব জানায়,আখি আখতারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


এই হচ্ছে পতিতালয়গুলিতে মেয়েদের উপর অত্যাচার চালিয়ে তাদের পতিতা বানানোর একটা খন্ডচিত্র।দেশের পতিতালয়গুলিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মেয়েকে এভাবে প্রতারণা ও নির্যাতনে মাধ্যমে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হচ্ছে।দেশে যতোদিন পতিতাবৃত্তি চালু থাকবে ,ততোদিন এ অভিশপ্ত জগতের স্বীকার হওয়া থেকে মেয়েদের রক্ষা করা যাবে না।

সুতরাং চরম ঘৃণ্য ও বর্বর এই পেশা থেকে অসহায় মেয়েদের রক্ষা করার একমাত্র উপায় দেশের সমস্ত পতিতালয় ভেঙ্গে ফেলা।তাদের জন্য সম্ভব হলে সরকারী নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেখানে মার্কেট বা যেকোন ধরণের বাণিজ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা।পতিতালয়গুলিতে বসবাসকারী মেয়েদের যদি এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক বা শেয়ার হোল্ডার করা হয়,তাহলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে।ফলে তাদের বেচে থাকার জন্য নিজেদের বিক্রি করার কোন প্রয়োজন হবেনা।

এছাড়াও দেশের প্রতিটা জেলায় কর্মসংস্থান ব্যাংকের মতো পতিতালয় পূনর্বাসনে ব্যাংক স্থাপন করতে হবে যেনো দেশের যেকোন স্থানের যেকোন মেয়ের পতিতাবৃত্তি গ্রহণের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এই ব্যাংক ধেকে তারা প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্য পেতে পারে।গ্রাম পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় থেকেও এধরণের অর্থ সাহায্য দেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।দেশের প্রতিটা এলাকায় অতি দরিদ্র মেয়েদের পরিকল্পিতভাবে কারিগরি বা কর্মমূখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যায়।এর ফলে তারা সন্মানজনকভাবে আয়ের ব্যবস্থা করতে পারবে।

দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ১০ কোটি মানুষও প্রতিদিন মাত্র ১ টাকা করে অর্থ সাহায্য দিলেও মাত্র ৩ মাসের মধ্যে ৯০০ কোটি টাকার বিশাল একটা তহবিল গঠিত হবে,যা পতিতা পূনর্বাসনের কাজে লাগানো যাবে।এছাড়া বিদ্যুৎ,পানি,গ্যাস ও টেলিফোন বিল ও অন্যান্য সেবাখাতেও পতিতা পূনর্বাসনের জন্য ন্যুনতম ১% হারে কর বসানো যায়।যমুনা সেতু তৈরীর সময়ও জনগণের কাছ থেকে এভাবে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিলো।পদ্মা সেতু তৈরীর জন্যও সরকারী ব্যাংকের সামনে জনগণের কাছে থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য ব্যানার টাঙ্গানো হয়েছে।সরকার অথবা ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যাক্তিরা চাইলে মাত্র ১ বছরের মধ্যে অভাবের কারণে পতিতাবৃত্তি গ্রহণকারী সকল মেয়ের সন্মানজনক পূনর্বাসন সম্ভব।কিন্ত এজন্য প্রয়োজন মানবাতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গী।

এছাড়াও মেয়েদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা,নারী বেচা-কেনা,ও পতিতার দালালদের মৃত্যুদন্ডে বিধান রেখে আইন প্রনয়ণ করা প্রয়োজন।ক্ষমতাসীন ও বিবেকবানদের যৌথ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা থাকলে সমাজ থেকে পতিতা উচ্ছেদ করা কঠিন কোন ব্যাপার না।১৯৮৮ সালে নারায়ণগঞ্জের টানবাজার পতিতালয় উচ্ছেদ করা হয়েছিলো পতিতাদের পুনর্বাসনের কোন ব্যবস্থা না করেই।ফলে এই দুই শহর থেকে পতিতাবৃত্তি ছড়িয়ে পড়েছিলো বিভিন্ন হোটেল এবং আবাসিক এলাকার ভাড়া করা বাড়িতে।কারণ প্রয়োজন কোন আইন মানে না।পতিতাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি এরকমই দাড়াবে।

বাংলাদেশে শিক্ষিত নামধারী ব্যাক্তিদের একটা বড় অংশ পতিতালয় উচ্ছেদের তীব্রবিরোধী।তাদের যুক্তি,দেশে পতিতালয় না থাকলে নাকি দেশের কোন মেয়ে বাইরে বের হতে পারবে না ! তাই দেশে পতিতালয় রাখতে হবে।কিন্ত এরা নিজেদের মা ,বোন,স্ত্রী বা পরিবারের অন্যান্য মহিলাদের পতিতালয়ে পাঠানোর ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় না।নিজের পরিবারের মেয়েদের ক্ষেত্রে যদি না হয়,তাহলে অন্য মেয়েদের কেনো তারা পতিতা বানাতে চায়,সে প্রশ্নের উত্তরও তারা দেয়না।

কোন দেশে পতিতালয় রাখা সম্পর্কে তাদের যুক্তি যে কতোটা অর্থহীন,সেটা এ্যামেরিকা ও ইউরোপের উন্নত দেশগুলির দিকে তাকালেই বোঝা যায়।এ্যামেরিকা যুগের পর যুগ ধরে নারী ধর্ষণে বিশ্বে প্রথম স্থানের অধিকারী।ইংল্যান্ড ও ওয়েলস-এ প্রতি ২০ জন নারীর ১ জন ১৮ বছর হওয়ার আগেই ধর্ষিত হয়। ক্যানাডা,ফ্রান্স,জার্মানী ও সুইডেন সবচেয়ে বেশী নারী ধর্ষণ হওয়া দেশগুলির মধ্যে আছে। অথচ এই প্রতিটা দেশে পতিতাবৃত্তি অবাধ ও উন্মুক্ত। হাসলার ও প্লেবয়-এর মতো ম্যাগাজিনে পতিতারা গ্রাহক সংগ্রহের জন্য নিজেদের নাম-ঠিকানা,ফোন নম্বরসহ বিজ্ঞাপন দেয়। কিন্ত তারপরও নারী ধর্ষণ থেমে নাই। কারণ ধর্ষণ হচ্ছে একটা ভয়ংকর বিকৃত মানসিক রোগ,যার একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে কঠোর শাস্তি প্রদান।মূলত একটা দেশ ও সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গীও হচ্ছে সেই দেশে পতিতাবৃত্তি প্রচলিত থাকার মূল কারণ।

ভারতের প্রতিটা রাজ্য ও শহরে পতিতালয় আছে।কিন্ত তারপরও ধর্ষণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।সেখানে চলন্ত বাসে-ট্রেনে নারী ধর্ষণ হচ্ছে।টিভি নাটক,সঙ্গীতভিত্তিক হিন্দি চ্যানেল,জিসম,মার্ডার ও ডার্টি পিকচার জাতীয় অশ্লীল ছবিতে এবং কারিনা-ক্যাটরিনা,সালমান,শাহরুখদের আইটেম সং-এর নামে চলচ্চিত্রে মেয়েদের শরীর প্রদর্শনের অনিবার্য পরিণতিতে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশের অনেক জেলাতেই পতিতালয় আছে।এছাড়াও হোটেলসহ বিভিন্ন বাড়িতেও অবাধে এই ব্যবসা চলছে।কিন্ত তারপরও এদেশে নারী ধর্ষণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।পরিমল ও মতিউরের মতো শিক্ষকরা পতিতালয় থাকার পরও তাদের ছাত্রীদের ধর্ষণ করে।বখাটেদের অত্যাচারের কারণে মেয়েরা আত্মহত্যা করে।আর শত শত পতিতালয় থাকার পরও রাজনীতিবিদ,ব্যবাসায়ী,ছাত্রনেতা নামধারী সন্ত্রাসী এবং টিভি চ্যানেল মালিক ও সংস্কৃতিজগতের লম্পটরা বিভিন্ন কৌশলে এদেশের মেয়েদের পতিতায় পরিণত করছে।

সুতরাং দেশে পতিতালয় রাখার পিছনে কোন যুক্তিই ধোপে টেকে না।


*** প্রাসঙ্গিক হওয়ায় লেখাটা আবার দেয়া হলো।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০২০ রাত ৩:৪১
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

করোনা ভাইরাস নিয়ে মানুষের মনে ইসলামি দৃষ্টিতে যে ভাবনা

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:২০


সার্বিয়ার সেনা ক্যাম্পে ধর্ষিতা মুসলিম বোন সামিরা তার বড় আপুর কাছে চিঠিতে লিখেছিল,আপু আমি আর পারছিনা।ওরা আমার গর্ভে কাফের সন্তান জন্ম দিতে চায়,কিন্তু আমি কোন খ্রিষ্টান সন্তান ভুমিষ্ঠ হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলো দাদু আরেকবার সমুদ্দুরে যাই

লিখেছেন জুন, ০১ লা এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৪



এলাকাটি মধ্যবিত্তদের পাড়া বলে চিন্হিত হলেও বিশাল চারতলা বাড়ীটি অত্যাধুনিক ডিজাইনেই তৈরী।তারই এক ঘরে বিধবা আমিনা বেগম শুয়ে আছেন একাকী। সাদা সফেদ শাড়ী পড়া উনাকে দেখলে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনায় তিন টোকা !! (রম্য্)

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০১ লা এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:১৯

করোনায় তিন টোকা !! (রম্য্)
নূর মোহাম্মদ নূরু



পূজ্যপাদ বা্বাইদা, সৎসঙ্গের শিরোমনি
করোনাতে টোটকা একখান ঘোষণা দেন যিনি।
তিন টোকা দিলে নাকি নিজের টেস্টিক্যালে
করোনা ভাইরাস ধরবেনা তাকে কোন কালে।

হাজার হাজার ডাক্তার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী - ৫০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:২৫



আজ বাইরে গিয়েছিলাম।
অদরকারে না। দরকারেই বাইরে গিয়েছিলাম। যদিও সারাদিন বাসায় শুয়ে বসে থাকা আমার জন্য মোটেও আনন্দময় কিছু না। ঘরে বাজার সদাই কিছুই নেই। অল্প কিছু বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এসব প্রশ্নের উত্তর কি হতে পারে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০১ লা এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:৩২



১) আমেরিকা সবচেয়ে ধনী দেশ হওয়ার পরও, তাদের কাছে দরকারী পরিমাণ 'ভেনটিলেটর'এর (শ্বাসযন্ত্র) ৩৩% মতো আছে মাত্র; বেশীরভাগ হাসপাতালে ১ সপ্তাহের কম পিপিই ছিলো, যার বেশীরভাগই করোনার মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×