somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অনল চৌধুরী
সাহসী সত্য।এই নষ্ট দেশ-জাতি-সমাজ পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকারী একজন যোদ্ধা।বাংলাদেশে পর্বত আরোহণের পথিকৃত।

একটা জাতির আচরণই নির্ধারণ করে তারা রাজা হবে না প্রজা

০৬ ই মে, ২০২১ রাত ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্পার্টার যোদ্ধা


অনেকদিন আগে একটা গল্প পড়েছিলাম। ব্রিটিশদের তাড়ানোর জন্য সুভাষচন্দ্র বসু জার্মানীতে গিয়ে হিটলারের সাথে দেখা করেছিলেন। হিটলার তাকে বলেছিলো, তোমরা গোলামের জাতি, তোমাদের আবার কিসের স্বাধীনতা !!!!!

গল্পটা সত্য কিনা জানিনা, কিন্ত হিটলারের যে উগ্র চরিত্র, তাতে তার পক্ষে এধরনের কথা বলা অসম্ভবও না।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও বাংলাদেশ একটা গরীব দেশ। দেশে এতো সম্পদ থাকার পরও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শৃংখলা বা আইনের শাসন বলে কিছু নাই । জনগণের মন-মানসিকতার স্তর নেমে গেছে ৫০-এর দশকের চেয়েও অনেক নীচে। এই অবস্থা একটা স্বাধীন জাতির জন্য কোনোভাবেই প্রত্যাশিত ছিলো না।

কেনো এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, সেটা নিয়ে নিয়মিতই লিখি। কিন্ত দেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সেটা নিয়ে বিস্তারিতভাবে একটা গবেষণা করা দরকার মনে করলাম।

১। একটা জাতির আচরণ তাদের মর্যাদা নির্ধারণ করে: নীতি,আদর্শ, সততা,দেশপ্রেম, সন্মান , শৃংখলা,অন্যায়ের প্রতিবাদ, আইনের শাসন -এসবকিছুই একটা জাতির রাজকীয় আচরণের পরিচয়। এই বৈশিষ্টগুলিই তাদের স্বাধীনতা ও দেশ শাসনের যোগ্য করে।
অন্যভাবে একথাও বলা যায় যে, রাজকীয় গুণাবলী অর্জন না করা পর্যন্ত পৃথিবীর কেনো দেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনা । এবং এসব গুণাবলী অনুসরণ না করলে নামমাত্র স্বাধীন হলেও স্বাধীনতার কয়েক যুগ পরেও তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনা। দেশে আইনের শাসন, শৃংখলা বলেও কিছু থাকেনা।

২। রাজার জাতি: এশিয়ার চীন, জাপান, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভূটান-এসব দেশ হাজার হাজার বছর ধরে নিজেরাই নিজেদের শাসন করেছে। এরা খুব কম সময়ই পরাধীন ছিলো।
আরব, পারস্য, তুরস্ক এবং ইউরোপের গ্রীস, রোম এরাও হাজার হাজার বছর ধরে নিজেরা নিজেদের শাসন করেছে। এরা নিজেদের অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য-জাতীয় বীর ও বীরগাথা নিয়ে গর্ব করে। এজন্য এরা বারবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার পরও আবারও নিজেদের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে পেরেছে।

গ্রিক, রোমান,পারসিক.আরব,তুর্কিদের শত শত বীর আছে। তাদের নিয়ে এরা গর্ব করে। ইরানীরা তাদের বীর রুস্তমকে নিজেদের জাতীয় বীর মনে করে, যে দেশের স্বাধীনতার জন্য আরবদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলো।

কিন্ত প্রাচীন বাঙ্গালীদের ইতিহাসে এক শশাংক এবং পরে পাল বংশের রাজারা ছাড়া আর একটা বীরের নামও নাই্। সিরাজ-উদ-দৌলা বা ঈসা খান কেউই বাঙ্গালী ছিলেন না। আর পাল বংশ বৌদ্ধ ধর্মের হওয়ার কারনে তাদের নিয়ে গর্ব করার মতো মানসিকতা এদেশের প্রায় কারোই নাই। সেজন্য দেশের কোথাও পাল রাজাদের একটা প্রতিকৃতিও দেখা যায় না।
অথচ ঐসব দেশের জাতীয় বীরদের শত শত প্রতিকৃতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় আছে। এমনকি যে রুস্তম আরবদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, ধর্মান্তরিত হওয়ার পরও পারসিকরা তাকে তাদের জাতীয় বীর হিসেবে শ্রদ্ধা করে আসছে। কারণ তার ধর্ম যাই হোক, তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে প্রাণ দিয়েছিলেন। দেশের সাথে বিশ্বাঘাতকতা করেননি।
কিন্ত বাংলাদেশর লোকদের এই জাতীয়তাবাদী চেতনা নাই।

৩। পৃথিবী বিখ্যাত যোদ্ধা জাতি: পৃথিবীর ইতিহাসে স্বাধীন যেকোনো জাতিগুলির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, তাদের স্বাধীন থাকার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে একটা শক্তিশালী যোদ্ধা গোষ্ঠী। অনেক সময় কোনো কোনো দেশের পুরো একটা জাতিই যোদ্ধা জাতি হিসেবে গড়ে উঠেছিলো, যারা নিজের দেশ রক্ষার জন্য খুব ছোটোবলো থেকেই সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যেতে হতো।
পরবর্তীতে তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে সেনাদলে অন্তর্ভূক্ত করা হতো। একারণে স্পার্টার লোকজন গ্রিক অঞ্চলের সবচেয়ে ভয়ংকর যোদ্ধার জাতিতে হিসেবে পরিণত হয়েছিলো। স্পার্টানদের বীরত্ব নিয়ে হলিউডে ৩০০ (২০০৯) ছবিটা বানানো হয়েছে, যেটার বিরুদ্ধে ইরান জাতিসংঘে প্রতিবাদও জানিয়েছিলো।ATHENS vs. SPARTA

স্পার্টার রাজা মেনেলাসের স্ত্রী হেলেনকে অপহরণ বা পরকিয়া করে আনার কারণে্ই ক্ষিপ্ত স্পার্টানরা আশেপাশের নগর রাষ্ট্রগুলির সৈন্য সহায়তায় সমুদ্র পার হয়ে ট্রয় আক্রমণ করে যে যুদ্ধ ১০ বছর ধরে চলেছিলো।

আরব যোদ্ধা

মক্কার নিয়ন্ত্রক কুরাইশ বংশের লোকজনও নিয়মিত সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিলেন না। তাদের মধ্যে বেশীরভাগই ব্যাবসায়ী ও নাবিক ছিলেন। তারপরও হযরত ওমর (রা ),হযরত আলী (রা )খালেদ বিন ওয়ালিদসহ তাদের অনেকেই ছিলেন ভয়ংকর যোদ্ধা, যাদের সাহস, বীরত্ত্ব ও যুদ্ধকৌশলের কাছে পারসিক ও রোমানদের মতো সেই সময়ের পরাশক্তিগুলিও পরাজিত হয়েছিলো।
এই স্বাধীনচেতা স্বভাবের কারণেই ইতিহাসে আরবরা কোনোদিনও পরাধীন ছিলো না।

আফগান যোদ্ধা
আফগানরাও হাজার বছর ধরে একটা যোদ্ধা জাতি হিসেবে পরিচিত। একারণে আালেক্সান্ডার, মঙ্গোল চেঙ্গিস, বৃটিশ বা রাশিয়ান-কেউই তাদের দেশ দখল করতে পারেনি। তারা স্বাধীন বা আগ্রাসনমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে।
নৈতিকতা, সততা আতিথেয়তা,অতিথির সন্মান রক্ষার জন্য প্রয়োজনে প্রাণও দেয়াও আফগানদের সামাজিক রীতি। একারণেই ২০০১ সালে এ্যামেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলার সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করার পর তাদের দাবী অনুযায়ী লাদেনকে এ্যামেরিকার হাতে তুলে দেননি তালেবান নেতা মোল্লা ওমর।

এজন্য তাকে এ্যামেরিকান হামলার শিকার হয়ে ক্ষমতাচ্যুত এমনকি প্রাণও হারাতে হয়েছে। তারপরও নিজেদের স্বাধীনচেতা ও রাজকীয় মর্যাদাপূর্ণ ঐতিহ্য ছেড়ে বিশ্বাসঘাতক বলে প্রমাণ করেননি।

রাজপুত যোদ্ধা

ভারতের সবচেয়ে বড় যোদ্ধা জাতি ছিলো রাজপূতরা । তারা বারবার বিদেশী আক্রমণের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। উমাইয়া আক্রমণ, প্রথম আফগান ঘোরী এবং মোগল বাবরের বিরুদ্ধে তাদের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ইতিহাস আছে।
মধ্যযুগে ইউরোপের নাইট নামে অভিজাত যোদ্ধা সম্প্রদায় ছিলোর যারা রাজার পক্ষে বিভিন্ন লড়াইয়ে অংশ নিতো।

জাপানের সামুরাই যোদ্ধা
জাপানে সামন্ততান্ত্রিক যুগে শোগান ও সামুরাই নামে যোদ্ধা গোষ্ঠী ছিলো যারা ছিলো শাসকদের প্রধান শক্তি।তার উত্তরাধিকারসূত্রে পেশাদার যোদ্ধা হিসেবে দেশের সেবা করতো।
Although samurai no longer exist, the influence of these great warriors still manifests itself deeply in Japanese culture and samurai heritage can be seen all over Japan - be it a great castle, a carefully planned garden, or beautifully preserved samurai residences. (সামুরইরা এখন না থাকলেও এই মহান যোদ্ধাদের প্রভাব জাপানের সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রকাশিত এবং জাপানের সর্বত্রই সামুরাই ঐতিহ্য দেখা যায়, সেটা একটা বড় দূর্গ,পরিকল্পতভাবে তৈরী বাগান বা সুন্দরভাবে সংরক্ষিত সামুরাইদের বাসভবন-যেটাই হোক না কেনো।)

উইকিপিডিয়া লিখেছে , সামুরাইগণ বিশ্বাস করেন যে, তলোয়ারই তার আত্মাকে ধারণ করে আছে। তাই তলোয়ারকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হিসেবে মনে করে তারা। তাদেরকে যথোপযুক্ত সম্মান না করলে তাদেরকে যে-কারোর সাথেই যুদ্ধ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি তলোয়ারই পরীক্ষা করার জন্য তৈরী করা হয়েছে। সেজন্যে তলোয়ার ধারক যে-কোন অপরাধীকে হত্যা করার মাধ্যমে তলোয়ারের ধারালো অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। যোদ্ধার করণীয় বা বুশিদোর ( সামুরাইদের অনুসরণ করা বিধি-বিধানের সমষ্টিকে বলা হতো বুশিদো )নীতি অনুসরণ করে সামুরাই নিজ জীবন সচল রাখেন। প্রভুর প্রতি আনুগত্যবোধ, আত্মনির্ভরশীল, নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিক আচরণ ইত্যাদির কারণে যুদ্ধক্ষেত্রেও সম্মানিত হয়ে থাকেন।

যখন সামুরাই তার প্রভু বা শিক্ষককে হারান তখন তা দাইমিও নামে আখ্যায়িত করা হয় এবং তিনি রোনিন নামে পরিচিত হন। পরাজয় বা বুশিদো নীতি মেনে না চলার কারণে সামুরাই অসম্মানিত হলে তাকে অবশ্যই সেপ্পুকু নামের আনুষ্ঠানিক আত্মহত্যা করতে হয়। তাদের কাছে অসম্মানের চেয়ে মৃত্যুই অধিকতর শ্রেয়। যুদ্ধক্ষেত্রে সেপ্পুকু নামের আনুষ্ঠানিক আত্মহত্যায় শত্রুর হাতে ধৃত হবার পূর্বে তারা তাদের পেট কেটে ফেলেন।
সামুরাই যোদ্ধাদের বীরত্ব নিয়ে ২০০৪ সালে হলিউডের ছবি দ্য লাষ্ট সামুরাই ছবির শুরুতে বলা হয়েছে, They say Japan was made by a sword. They say the old gods dipped a coral blade into the ocean, and when they pulled it out four perfect drops fell back into the sea, and those drops became the islands of Japan. I say, Japan was made by a handful of brave men. Warriors, willing to give their lives for what seems to have become a forgotten word: honor."."সুতরাং এসব থেকেই বোঝা যায়, কেনো জাপান পৃথিবীর অন্যতম সভ্য এবং উন্নত দেশ।

৪।যোদ্ধাদের ধর্ম: যোদ্ধাদের অবশ্য পালনীয় কিছু রীতি আছে যা তাদের মেনে চলতে হয়। অকারণে শক্তি প্রদর্শণ, হত্যা, নারী শিশু নির্যাতন এসব থেকে তারা সাধারণত বিরত থাকতো।

এসব যোদ্ধাদের আরেকটা অন্যতম বৈশিষ্ট ছিলো বীরত্ব। কাপুরুষের মতো ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচার-এসব ছিরেঅ তাদের আচরণ বহির্ভূত।
কোনো যোদ্ধাকে যদি লড়াইয়ের মাঠে প্রতিপক্ষের যোদ্ধা দ্বন্দযুদ্ধের আহবান জানানো, তাহলে সেনাবাহিনী শক্তিশালী বা দূর্বল যাই হোক না কেনো, আহবানকারী যোদ্ধা নিজেদের সন্মান রক্ষার জন্য সেটা গ্রহণ করতো। কারণ কাপুরুষের মতো পালিয়ে নিজের প্রাণ রক্ষার পরিবর্তে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করে প্রাণ হারানোকেই তারা সন্মানের মনে করতো।

মূলত দ্বন্দযুদ্ধে বীরত্বই একজন যোদ্ধাকে পৃথিবীতে অমর করে রাখে।

ইলিয়াড, অডিসি, শাহনামা, রামায়ণ মহাভারতের মতো মহাকাব্য,ধর্মগ্রন্থ এবং প্রমাণিত ইতিহাসে যোদ্ধাদের বীরত্বের অগণিত উদাহরণ আছে।
বিশাল দানব গোলায়েথের বিরুদ্ধে ইসরাইলের দূর্বল আকৃতির রাজা গোলায়েথকে দ্বন্দযুদ্ধ করে হত্যা করা এখনো ইহুদীদের গর্বের বিষয়।

এ্যাকিলিস ও হেক্টরের দ্বন্দযুদ্ধে হেক্টরের বীরের মতো লড়ে নিহত হওয়ার ঘটরা সারা পৃথিবীর লোক জানে। কিন্ত পরাজিত হওয়ার পরও হেক্টর একজন মহান দেশপ্রেমিক ও বীর হিসেবে সন্মানিত হন।

আরবরা সংখ্যায় অনেক কম হওয়ার পরও যুদ্ধগুলিতে অগণিত আরব প্রতিপক্ষ, পারসিক ও রোমানদের দ্বন্দযুদ্ধে হত্যা করেছিলো।

এমনকি আকবর মানসিংহকে বাংলা দখল করতে পাঠানো পর বারো ভূইয়াদের নেতা ঈসা খান তাকে দ্বন্দযুদ্ধে আহবান করলে মানসিংহও সেই আহবান গ্রহণ করেন। দুইজনই ছিলেন রাজপূত। তাই যোদ্ধাদের রীতি-নীতির প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। কিন্ত ঈসা কালের প্রবল আক্রমণে দুইবার মানসিংহের তলোয়ার ভেঙ্গে গেলেও তিনি তাকে হত্যা করেননি।

দ্বন্দযুদ্ধে কারো পরাজয় নিশ্চিত হলেও সংখ্যায় বেশী হওয়ার কারণে বিজয়ী যোদ্ধাকে দ্বন্দযুদ্ধে চলাকালে ১০ নিয়ে হত্যার মতো কাপুরুষোচিত এবং কলংকজনক ঘটনা কোনো সেনাদল করেছে বলে শোনা যায়নি।

গ্রিক খুনী আলেকসান্ডার ভারত আক্রমণ করে তাকে বাধা দেন রাজা পুরু। প্রচন্ড যুদ্ধের পর পরাজিত ও আহত পুরুকে বন্দী করার পর আলেকসান্ডার তার কাছে জানতে চেয়েছিলো, তিনি তার কাছে কি রকম ব্যাবহার আশা করেন ?
উত্তরে পুরু বলেছিলেন, তিনি রাজার সাথে রাজার মতো আচরণ আশা করেন। তার উত্তর শুনে তাকে মুক্ত করে স্বাধীনভাবে রাজ্য শাসন করতে দিয়েছিলেন।

এই ঘটনাটা গ্রিক ঐতিহাসিকরাই তাদের লেখা বইগুলিতে উল্লেখ করেছে। ঘটনাটা যে সত্য সেটা সহজেই বোঝা যায় কারণ এর মাধ্যমে আলেকসান্ডারের চেয়ে পুরুকেই বেশী সাহসী ও বীর হিসেবে দেখানো হয়েয়ে, যিনি আহত ও বন্দী হওয়ার পরও নিজের মুক্তি বা প্রাণ ভিক্ষা না চেয়ে সন্মান আশা করেছিলেন।

গ্রিক পূরাণের বীর হারকিউলিস। বন্ধু এডমিটাসের বাড়িতে গিয়ে খাওয়ার পর মদ খেয়ে হৈ-হুলোড় শুরু করেছিলো। সে জানতো না সেই দিনই তার বন্ধুর স্ত্রী এলকেসিটিস মারা গিয়েছিলো। বাড়ির সবাইকে নীরব দেখে জিজ্ঞেস করে এর কারণ জেনে খবই লজ্জিত হলো হারকিউলিস।

সে ভাবলো, তার বন্ধু এডমিটাস কতো মহান যে স্ত্রী মারা যাওয়ার পরও তাকে আপ্যায়ণ করেছে! সে পাতাল রাজ্যে গিয়ে মৃত্যুর দেবতা হেডস-এর সাথে লড়াই করে তাকে পরাজিত করে তার বন্ধুর স্ত্রীকে ফেরত এনেছিলো।

ঘটনাটা বাস্তব বা কাল্পনিক যাই গোক, এ থেকে গ্রিকদের একইসাথে অতিথি সেবা এবং উপকারীর প্রতিদান দেয়ার মানসিকতা-দুইয়েই প্রকাশ ঘটেছে।

মোগল সম্রাটরা হিংস্র খুনী , লম্পট, মাতাল ও ধর্ম ব্যবসায়ী হওয়ার পরও শত্র্রুকে তার জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে তাদের অঙ্গীকারের মর্যাদা রক্ষা করতেন। তারা নিজেদের পদ-মর্যাদার সাথে যুক্ত কোনো অঙ্গীকার করলে সেটা ভঙ্গ করতেন না।

আকবরের বাংলা বিজয়ের পথে প্রধান বাধা ছিলেন ঈসা খান এবং আওরঙ্গজেবের দাক্ষিনাত্য বিজয়ের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন শিবাজী। কিন্ত এই দুইজনও মোগল সম্রাটদের কাছ থেকে নিজেদের জীবনে নিরাপত্তার যথাযথ অঙ্গীকার লাভের পর তাদের সাথে দেখা করতে দিল্লি গিয়েছিলেন। আকবর বা আওরঙ্গজেব তাদের হত্যা করেনি।

অঙ্গীকার রক্ষাও রাজকীয় রীতির পরিচায়ক। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দীদের মিথ্যা অশ্বাস দিয়ে দিল্লিতে ডেকে নিয়ে হত্যা বা গুম করে ফেলা হলে সেটা শুধু তাদের ব্যাক্তিগত মর্যাদার প্রতি না, তাদের পুরো বংশের জন্যই একটা কলংকিত অধ্যায়ের সৃষ্টি করতো, যেটা তারা করেননি ।

ক্লাইভের সাথে ফ্রান্সিসের বন্দুকযুদ্ধ

এমনকি ১৭৮০ সালে বাংলার প্রথম বৃটিশ গভর্ণর হেষ্টিংসও কলকাতা শহরে তাকে লড়াইয়ে আহবান করা আরেক ইংরেজ কর্মকর্তা
ফিলিপ ফ্রান্সিসের সাথে বন্দুক নিয়ে দ্বন্দযুদ্ধ ( Duel) )করেছিলো। তবে সৌভাগ্যক্রমে সেই যুদ্ধে সে জিতে গিয়েছিলো।

এ্যামেরিকায় বুনো পশ্চিম ( Wild West)- যুগে দ্বন্দযুদ্ধ ছিলো একটা সাধারণ ঘটনা। পিস্তলধারী দুইজনের মধ্যে বিবাদ হলে তারা নিজেরাই পিস্তলযুদ্ধের মাধ্যমে সেটার সমাধান করতো। কেউ হস্তেক্ষেপ করতো না। কিন্ত পিছন থেকে গুলি করে হত্যা করা ছিলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

৫। যোদ্ধা রীতি-নীতি সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা: সন্মান, শৃংখলা ও পরিশ্রম ছাড়া কোনো ব্যাক্তি বা জাতি নিজেদের উন্নত করতে পারেনা।

আমি নিজে ৩২ বছর আগে থেকে কারাতে, কুংফু, জুডো,আইকিডোসহ বিভিন্ন ধরনের আত্মরক্ষা কৌশল ( Martial Arts গুলি সামরিক প্রশিক্ষণেরই একটা ধরণ ) শেখা,পর্যবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ দেয়ার সময় লক্ষ্য করেছি, এসবগুলিরই মুল ভিত্তি সন্মান। প্রশিক্ষণ শুরু, বিরতি গ্রহণ এবং সমাপ্তি-সবকিছুই শিক্ষককে সন্মান দিয়ে শেষ করতে হয়। সন্মান জানাতে হয় , প্রবীণ এবং সহ-পাঠীদেরও। এমনকি মূল শিক্ষক উপস্থিত না থাকলে বা তিনি প্রয়াত হলেও তিনি অদৃশ্যভাবে উপস্থিত আছেন ভেবে তাকে উদ্দেশ্য করে সন্মান জানাতে হয়।

একে অন্যের সাথে লড়াইও শুরু হয় পরস্পরকে সন্মান জানিয়ে। লড়াইয়ে কিছু নীতি মানতে হয়। কেউ পড়ে গেলে বা কাউকে পিছন থেকে আক্রমণ করা যায় না। শিক্ষক থামতে বলা মাত্র থামতে হয়। জয়-পরাজয় মেনে নিতে হয়। এবং লড়াই শুরু ও শেষও হয় একে অন্যকে এবং শিক্ষক বা বিচারককে সম্মান জানিয়ে।
সুতরাং সন্মান যোদ্ধাদের অনুসরিত অন্যতম ধর্ম।

এর বিপরীতে বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে, চুরি-দুর্নীতি ও মাদকের মতো বেয়াদবীও দেশের জাতীয় নীতি হয়ে উঠেছে।

ছোটরা ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষক বা বড়দের অসন্মান করছে।

এই ব্লগেও এরকম কয়েকটা আছে।

বয়সে বড় কেউ বা কোনো শিক্ষক দুর্নীতি-লাম্পট্য বা অন্য কোনো নীতিহীন কাজে জড়িত হলে সন্মানিত হওয়ার যোগ্যতা হারান। কিন্ত যতোক্ষণ না তিনি এসব করছেন, তাদের সম্মান করতে ছোটোরা নৈতিকভাবে বাধ্য।

যোদ্ধাদের শিষ্টাচারের সংস্কৃতি না থাকাই বাংলাদেশে এই বেয়াদবীর সংস্কৃতি চালু হওয়ার প্রধান কারণ।

৬। বাঙ্গালীদের অতীত আচরণ ও চরিত্র : প্রবাদ আছে, একজন জার্মান মানে একটা সৈন্য, ২ জন মানে সৈন্যদল আর ৩ জন মানে একটা যুদ্ধ। ইংরেজদের সম্পর্কে বলা হয়, ১ জন ইংরেজ মানে একটা নাবিক, ২ জন ইংরেজ মানে একটা নৌবাহিনী আর ৩ জন মানে একটা নৌ-যু্দ্ধ। আর বাঙ্গালীদের অবস্থা হচ্ছে, একজন বাঙ্গালী মানে একটা অকর্মা, ২ জন মানে কূটবুদ্ধি আর ৩ জন বাঙ্গালী মানে ২ টা দল।

এই নোংরা দলাদলি আর পরশ্রীকাতরতাসহ সবরকম নীতিহীন কর্মকান্ডের স্বভাবই প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত এই জাতির সব সমস্যার মূল কারণ।

তাই তাদের সম্পর্কে বলা হয়, এই জাতি ১৯৭১-সালের কখনোই নিজেরা নিজেদের শাসন করতে পারেনি। কথাটা পুরোপুরি না হলেও অনেকটাই সত্য। এজন্যই - মেসোপটেমিয়া-পারস্য-মিসরীয়-তুর্কি ও গ্রিক-রোমানদের ৪০০০-৫০০০ হাজার বছর আগের লিখিত ইতিহাস থাকলেও বাঙ্গালীদের সেটা নাই।

৩২৪-৩২৪ খীষ্টপূর্ব সালে আলেক্সান্ডার ভারত আক্রমণের পর বর্তমান বাংলা এলাকায় অবস্থিত গঙ্গারিডি রাষ্ট্রে হামলা করতে চাইলেও তাদের বিশাল সৈন্যদল ও হাতিবাহিনীর কথা শুনে আর আসেনি। তবে সেই সময়ে কে বাংলার শাসক ছিলেন-সেটা জানা যায় না, যদিও এরও হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়া-পারস্য ও মিসরীয় শাসকদের নাম তাদের ইতিহাসে লেখা আছে।

প্রায় ১ যুগ আগে ঢাকার কাছে উয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে, যেটাকে অনেকে সেই গঙ্গারাষ্ট্রের অংশ বলছেন। কিন্ত সেই সময় রাজা কারা ছিলেন, সেইসব নাম কেউ উদ্ধার করতে পারেননি।

নিজেরা নিজেদের শাসন করলে সেটা অবশ্যই থাকতো।

এর পরিবর্তে বাঙ্গালীদের আছে চর্যাপদের হাহাকার।

শশাংককে বলা হয় বাংলার একজন স্বাধীন রাজা। তার মৃত্যুর পর প্রায় ১০০ বছর পর বাংলার অবস্থা ছিলো শোচনীয়। দেশে কোনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা শৃংখলা বলে কিছু ছিলো।না, যে পরিস্থিতিকে ঐতিহাসিকরা বলেছেন- মাৎসান্যায়। সমুদ্রে বড় মাছ যেমন শক্তির জোরে ছোটো মাছকে খেয়ে ফেলে। বাংলার পরিস্থিতিও ছিলো সেইরকম।

এই অবস্থা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষার করার জন্য বাংলার অভিজাতরা পাল নামে একজন বৌদ্ধকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলার শাসক রাজা নির্বাচিত করেন, যার বংশ পরবর্তী প্রায় ৪০০ বছর বাংলা শাসন করে। এইসময় বাংলা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকসহ সবদিক দিয়েই শক্তিশালী একটা দেশে পরিণত হয়। কিন্ত এই পাল বংশ বাংলার ভূমিপূত্র হলেও ছিলো সংখ্যালঘু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। কিন্ত সেইসময় বাংলা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ছিলো বিভিন্ন শাখার হিন্দু।

পৃথিবীর যেকোনো সংখ্যাগরিষ্ঠদের দেশ সম্পূর্ণভাবে সংখ্যালঘুরা শাসন করবে, এই ব্যাপারটা মোটেও গৌরবের না।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশের যেকোনো নাগরিক যোগ্যতা অনুযায়ী যেকোনো পদের অধিকারী হতে পারে। কিন্ত এখন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পরিবর্তে পুরো রাষ্ট্রই যদি সংখ্যালঘুরা পরিচালনা করে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সেটা সংখ্যাগরিষ্ঠের অযোগ্যতা হিসেবে প্রমাণিত হবে।

আমার নিজেদের ধারণা, হিন্দুদের ভয়ংকর বর্ণবাদী ও পরশ্রীকাতর স্বভাবের কারণেই তারা নিজেরা রাজা হতে পারেনি। বরং এজন্যই একজন বৌদ্ধকে রাজা নির্বাচিত করেছিলো।


মিসরীয়,ব্যাবিলনীয়, পারসিক গ্রিক, রোমান ও তুর্কিদের বহু বীর থাকলে ও বাঙ্গালীদের ইতহাসে বৃটিশ আমলের আগে কোনো বীরের নাম পাওয়া যায় না।

৭।বাঙ্গালীরা বিদেশী শাসন মেনে নিয়েছে: রাজতন্ত্রের যুগে প্রতিটা রাজাই ছিলো একেকজন যোদ্ধা এবং প্রধান সেনাপতি। কোনো জাতির নিজেদের লোক রাজা হলে তাদের নিয়েই রাজা স্বাধীনতা অর্জন, রক্ষা এবং বিদেশীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যে গৌরবের অংশীদার হয় সেই জাতি।

এর ফলে সেই জাতির লোকদের মধ্যেও রাজোচিত গূণাবলীর প্রকাশ ঘটে । যার ফলে তারা যেমন স্বাধীন থাকে, একইভাবে তাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতিসহ সবকছিুর উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটে।

গ্রিক, রোমান,আরব ও চীনা , জাপানী ও আফগানরা এধরনের রাজোচিত গুণাবলীর কারণেই হাজার হাজার বছর ধরে স্বাধীন ছিলো।

এখনো ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, চীন, জাপান ও কোরিয়ার জনগণ তাদের গৌরবজনক অতীত ঐতিহ্য অনুসরণ করে নীতি-আদর্শ-সততা-শ্রম, নিয়মানুবর্তিতা এবং আইনের শাসন নিজেদের দেশগুলিকে সবদিক দিয়ে উন্নত করতে পেরেছে।

জনগণের একটা অংশের মধ্যে এধরণের গুণাবলী থাকার কারণেই প্রায় ৪০০ বছর ধরে বাংলা একটা শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীতে পরিচিত হয়েছিলো। কিন্ত এইসব গূণাবলী হারিয়ে নোংরা নীতহীনতার চর্চা করার ফলে ১০৭০ সাল থেকে কর্ণাটকের বর্ণবাদী সেন বংশের ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে বাঙ্গালীদের যে ক্ষমতা হারানোর সূচনা হয়, ১৯৭১ এর আগে আর তারা এই ক্ষমতা ফিরে পায়নি।

বাংলার ইতিহাসের একটা উল্লেখযোগ্য সময় ছিলো ১৩৩৮-১৫৩৮- পর্যন্ত ২০০ বছরের স্বাধীন সুলতানী আমল। এই সময়ে বাংলার সুলতানরা দিল্লির প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে দেশ শাসন করেছেন। তাদের শাসনকালে বাংলা অর্থনীতি, শিল্প, সাহিত্যে একটা উন্নত দেশে পরিণত হয়েছিলো।

এইসময়ে আরব, মিসর, আফ্রিকা ও চীনসহ পৃথিবীর অনেক দেশের সাথে বাংলার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিলো। সুলতানদের সৈন্যদলে বাঙ্গালী সৈন্যরাই ছিলো সংখ্যায় বেশী। বাবর তার লেখা বাবর নামায় সুলতান নসরৎ শাহের সৈন্যবাহিণীতে বাঙ্গালী সৈন্য থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এদের সাহায্যেই বাংলার সুলতানরা দেশকে স্বাধীন রাখার সাথে সাথে আরাকান, ত্রিপুরা, আসাম, উড়িষ্যা এমনকি নেপালও আক্রমণ করেছিলেন।

কিন্ত তারপরও কোনো বাঙ্গালী সৈন্য ক্ষমতা দখল করে দেশ শাসন করতে পারেনি। তুর্কি,আরব, পারসীক এমনকি আফ্রিকার হাবশী লোকজন বাংলা শাসন করলেও রাজকীয় গুণাবলীর অভাবে কোনো বাঙ্গালী সৈন্য দেশের রাজা হতে পারেনি। এরা দেশ শাসন করা পরিবর্তে বিদেশীদের অধীনে চাকরী করাকে গৌরবের মনে করেছে।

হিংসুটে-পরশ্রীকাতর ও দলাদলি স্বভাবের কারণে তারা কোনোদিন জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হতে পারেনি। তারা যে নিজেরাই যে নিজেদের দেশ স্বাধীন করতে পারে, এই বোধটাই তাদের ছিলো না। এমনও হতে পারে, কেউ রাজা হতে চাইলেও হয়তো পরশ্রীকাতরতার কারণে অন্যরা সেটা হতে দেয়নি।

ঈসা খান বা সিরাজ বিদেশি হলেও এই দেশে বাস করে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন কিন্ত ঈসা খানের মৃত্যুর পর বাঙ্গালীরা বিনা প্রতিবাদের মোগলদের শাসন মেনে নিয়েছে। আর সিরাজের সাথে করেছে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

বাঙ্গালী চরিত্রে লোভ, হিংসা , স্বার্থপরতা,পরশ্রীকাতরতা. পরচর্চা, অকৃতজ্ঞতা, উপকারীর ক্ষতি করা-এসব নোংরা স্বভাবের মুল কারণ হলো নিজেদের মেরুদন্ডহীনতার কারণে শত শত বছর ধরে নিজেরা নিজেদের দেশ কে শাসন করতে না পারা এবং স্বেচ্ছায় পরাধীন থাকা।
বাঙ্গালীরা অন্যের অধীনে যুদ্ধ করে নিজেদের বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে। কিন্ত পুরো জাতি কখনোইই জাতীতাবাদী চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে একটা যোদ্ধা জাতিতে পরিণত হতে পারেনি। যে কারণে তাদের প্রায় হাজার বছর পরাধীন থাকতে হয়েছে।

৮। ২১ শতকে এসেও বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র ও মানসিকতা: এখনও বাঙ্গালীদের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং সবদিক দিয়ে অধ:পতন হয়েছে। লোভ-হিংসা-স্বার্থপরতা-পরশ্রীকাতরতা-পরচর্চা-পরনিন্দা-অকৃতজ্ঞতা, উপকারীর ক্ষতি করা,সবসময় ব্যাক্তিগত স্বার্থ দেখা এবং নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির পরিবর্তে বিদেশীদেরগুলি উৎকৃষ্ট মনে করা -এসব তাদের চরিত্রের বৈশিষ্ট। কারণ তারা জাতীয়ভাবে কোনো কিছু চিন্তা করে অভ্যস্ত না।

একারণেই দেশের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নাই যেখানে জনগণ একজন সৎ বা নীতিবান ব্যাক্তিকে নিজেদের নেতা নির্বাচন করতে পেরেছে। কারণ নীতিবান ব্যাক্তিদের নেতা বানালে ব্যাক্তিগত লাভের চেয়ে সমগ্র জাতির ভালো হবে, যেটা তারা চায় না। তাদের ক্ষুদ্র হীনমন্য মানসিকতা ব্যাক্তিগত, পারিবারিক, গোষ্ঠীগত বা খুব বেশী হলে দলীয় স্বার্থের উর্দ্ধে উঠতে পারেনা।


এজন্যই দেশের কোনো উন্নয়ন বা পরিবর্তন ঘটছে না।

বাংলাদেশের লোকজন সৎ-নীতিবান-দেশপ্রেমিক লোকদের প্রচন্ড ঘৃণা করে।

এজন্য দেশের প্রতিটা এলাকা এবং প্রতিষ্ঠানে সৎ ব্যাক্তিরা অসন্মানিত এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট, অসৎর এবং নীতিহীনরা সন্মানিত ও নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত।

যেহেতু প্রায় প্রতিটা ব্যাক্তিই কোনো না কোনো অপরাধের সাধে জড়িত, তাই তারা নিজেদের অপরাধ প্রকাশ হয়ে যেতে পারে ভেবে সবসময়ই সৎ এবং নীতিবান ব্যাক্তিদের ভয় পায়। তাদের বিরুদ্ধে সবরকম ষড়যন্ত্র ও ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এমনকি স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে তাদের হত্যা করা মতো ঘৃণ্য অপরাধ করতেও তাদের বাধে না।

দুইটা বিশ্বদ্যিালয়ে পড়ার সময় নকলের বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনো সন্মান লাভ করা দূরে থাক,বরং বিশ্বদ্যিালয়েয়ের মালিক,বেশীরভাগ শিক্ষক ও কর্মচারী এবং সহপাঠী-সবার শত্রুতে পরিণত হয়েছিলাম। কারণ বিশ্বদ্যিালয়ের মলিকরা অবাধে নকল করতে দেয়ার মাধ্যমে শতকোটি টাকা ব্যাবসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছে। ছাত্ররাও পড়াশোনা না করে খাতা খুলে নকল করে সনদ পাচ্ছে। শিক্ষক ও কর্মচারীরাও অবাধে নকল করতে দেয়ার বিনিময়ে বেতন পাচ্ছে। সুতরাং এক আমি ছাড়া আর কে এসবের প্রতিবাদ করবে?

এজন্য আমাকে বহু সমস্যায় পড়তে হয়েছিলো।

শুধু তাইনা , শিক্ষকদের দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র আমাকেই ইতিহাসে এমএ"তে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও মৌখিকে ফেল করিয়ে দিয়েছিলো। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বড় বড় অপরাধীদের নামসহ তাদের কুকর্মের কথা প্রকাশ করায় বইমেলায় আমার অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি সৎ-নীতিবান থাকতে গিয়ে আমার বাড়ির একক মালিকানাও চলে গেছে।

দুর্নীতি-অনিয়মের প্রতিবাদ করায় রাজনীতি, ব্যাবসা-সংস্কৃতি জগত, ক্রীড়া-সবজায়গায় সবার অপ্রিয় হতে হয়েছে । অথচ অন্যদের মতো দুর্নীতি-অনিয়ম বিনা প্রতিবাদে মেনে নিলে কারো সাথে দ্বন্দ হতো না। প্রতিটা ক্ষেত্রে সাফ্যল্যের শীর্ষে থাকতাম।

দুর্নীতিতে সহায়তা না করে এর প্রতিবাদ করায় গতবছর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তার সহকর্মী এবং অন্যান্যরা। - যেটা নিয়ে প্রবাসী একজন ব্লগার লিখেছিলেন। পুরনো ফাইল খূজতে গিয়ে দেখলাম, বিগত ২০০২ সালেও একধরণের ঘটনায় শফিউল মওলা টিপু নামে আরেক প্রকৌশলীকেও ৪০০ কোটি টাকার দুর্নীতিতে বাধা হত্যা করা হয়েছিলো। এই খুনের প্রধান মদদদাতা হিসেবে নাম এসেছিলো চুন্নি ও খুনী খালেদাপুত্র তারেকের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন মামুনের, যে বিভিন্ন অভিযোগে এখনো কারাগারে আটক আছে।

এভাবে দেশেরই আরো কতো সৎ-নীতিবান ব্যাক্তি দেশের ভালো করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেই হিসাব কি কারো কাছে আছে ?

তারাও তো পারতেন, সব বড় বড় চুরি-দু্নীতিতে সহায়তা করে শতকোটি টাকার মালিক হতে। কিন্ত দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে মারা যাওয়ার পরও তাদের পরিবারের খোজ কি কেউ নিয়েছে?

অথচ এরা প্রত্যেকেই ছিলেন একেকজন মুক্তিযোদ্ধা, যারা দেশের মানুষের কল্যাণ করতে গিয়ে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন।


বাংলাদেশের সংবিধানে দেশের নাম গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এবং জনগণ সব ক্ষমতার উৎস হবে বলে লেখা থাকলেও তাদের কোন রাষ্টচিন্তা নাই বা তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও কিছু জানে না। লোকজনরা ক্ষমতাবানদের জমিদার এবং নিজেদের দেশের প্রজা মনে করে কিন্ত নিজেরা কোনোভাবে নেতা বা সরকারী কর্মচারী হতে পারলে আবার নিজেদের জমিদার ভেবে জনগণকে শোষণ শুরু করে।

দেশে ১০০-এর উপরে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরও পড়াশোনা এবং জ্ঞান চর্চার অভাবের কারণে তাদের মধ্যে দাস মানসিকতার পরিবর্তে প্রজাতান্ত্রিক চেতনা গড়ে উঠেনি।

মালয়শিয়া সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ডের মতো বহুজাতিক দেশগুলিও বিভিন্ন জাতি ও ভাষার মানুষদের নিয়ে উন্নত রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে। কিন্ত বাংলাদেশের প্রায় ১০০% লোকই একই ভাষা ও জাতির হওয়ার পরও তাদের দলাদলি ও পরশ্রীকাতরতাসহ অন্যান্য নোংরা স্বভাবের কারণে নিজেদের কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারছে না।


বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা

৯। উন্নত জাতি নিজেদের পরিবর্তন করে: পৃথিবীর প্রতিটা উন্নত জাতিই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের নতুনভাবে গঠন করে। তাদের চিন্তা-ভাবনা ও মানসিকতা পরিবেশ-পরিস্থিতি ও সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া আগে পর্যন্ত হিটলার ও মুসোলিনী জনপ্রিয় নেতা ছিলো।

কিন্ত তাদের নীতির কারণে কারণে দেশগুলি ধ্বংস হওয়ার কারণে তারা এদের ঘৃণা করতে শুরু করে। জার্মানীতে হিটলার এতোটাই ঘৃণিত যে সেখানে ঠাট্টা করেও হাইল হিটলার সম্বোধন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জাপানও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ের অন্যান্য দেশ দখল ছেড়ে নীতি , আদর্শ ওপরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের দেশকে উন্নত করেছে।

এসব দেশের ধ্বংসস্তুপ থেকে উন্নত দেশ হতে সময় লেগেছে মাত্র ১০-১২ বছর।

৫০ থেকে ৬০-এর দশকে বাঙ্গালীর জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটেলো। তারা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে পেরেছিলো। সেইসময়ে তাদের নীতি-নৈতিকতার মানও এখনকার চেয়ে অনেক উন্নত ছিলো। এজন্য পাকিস্তানী শোষকদের বিরুদ্ধে ৫২,৬২,৬৬ ও ৬৯-এর গণ-আন্দোলন সম্ভব হয়েছিলো।

দেশপ্রেম ও নৈতিকতার চূড়ান্ত প্রকাশের কারণেই ১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ রাতে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ও অপ্রস্তত অবস্থায় আক্রান্ত হওয়ার পরও বীরের মতো যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছে। কিন্ত স্বাধীনতার পর থেকেই শুরু হয়ে সবরকম নোংরামী ও নীতিহীনতার প্রতিযোগিতা।

মনে হলো, হাজার বছর নিজেদের দেশ শাসন করতে না পারা এবং দূর থেকে শাসকদের বিলাসবহুল জীবন দেখা বাঙ্গালীরা বিলাসিতার জন্যেই মরিয়া হয়ে উঠলো চুরি-দুর্নীতির উৎসবে।

স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের রাজোচিত গুণাবলী প্রায় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে।এর পরিবরর্তে স্থান করে নিয়েছে, নীচতা-হীনমন্যতা আর পরশ্রীকাতর মানসিকতা।

স্বাধীনতার মতো এতোবড় অর্জনের পরও বাংলাদেশের জনগণ রাজোচিত গুণাবলীর অভাবে চুরি-ঘুষ-দুর্নীতি, পরশ্রীকাতরতা, দলাদলি, ষড়যন্ত্রসহ সবরকম নোংরা আচরণ ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ দলীয় ও ছাত্র রাজনীতি, সংস্কৃতি, সমাজ-ব্যবস্থা , চলচ্চিত্র সবকিছুই ধ্বংস করেছে।

বৃটিশ বা পাকিস্তান আমলেও দেশে ভোট চুরি বলে কোনো শব্দ ছিলোনা যেটা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর শুরু করা হয়েছে। ইয়াহিয়ার মতো ঘৃণ্য খুণীর আমলেও পাকিরা ভোট চুরি করেনি। করলে ১৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লিগ ১৬৯ টা আসনের মধ্যে ১৬০ টা পেতো না। কিন্ত এদেশে মোশতাকের মতো ঘৃন্য লোককেও ভোট চুরির মাধ্যমে বিজয়ী করা হয়েছিলো। জিয়া-এরশাদ ক্ষমতায় এসে ভোট পদ্ধতিকেই হাস্যকর করে তুলেছিলো।

১০।শিক্ষিত নামধারীদের নীচ আচরণ: একটা দেশের শিক্ষিত শ্রেণী সেই জাতির উন্নয়ন ও কল্যাণে প্রধান ভূমিকা পালন করবে, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।পৃথিবীর সব উন্নত দেশে এটাই হয়েছে। কিন্ত বাংলাদেশের শিক্ষিত নামধারী শ্রেণী হচ্ছে সবচেয়ে বড় চোর.নোংরা ও নীচ। শিক্ষক,চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবি, সরকারী কর্মচারীদের প্রায় প্রত্যেকেই চুরি-ঘুষ-দুর্নীতি-লুটপাট-বিদেশে টাকা পাচার-মদ-মাদক-নারী আর জুয়ার ব্যবসা সহ দেশে সব অপরাধ ও অপকর্মে প্রধান ভূমিকা পালন করছে ।

৬০-৭০ এর দশকে যেসব নেতা নামধারী জনগণের জন্য রাজনীতি করেছিলো, পরে তারাই পরিণত হয়েছে মওদুদ, কাজী জাফর, রব, শাজাহান সিরাজ, ও বিভিন্ন মার্কাধারী সমাজতন্ত্রীদের মতো স্বৈরাচারী জিয়া-এরশাদের সহযোগী, ১৯৮৮ সালের সংসদে এরশাদের গৃহপালিত বিরোধী দলের নেতা, দুর্নীতি, সন্ত্রাসের গডফাদার এবং জুয়ার আড্ডা থেকে টাকা উঠানো নোংরা জীবে।

একটা অশিক্ষিত চোর জীবনের ঝুকি নিয়ে জীবিকার জন্য চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লে এদেশের লোকজন তাকে গণপিটানি দিয়ে আধমরা করে। কিন্ত এইসব শিক্ষিত নামধারী চোর স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি -লুটপাট করলেও কেউ তাদের পিটানো তো দূরে থাক, তাদের পূজা করে। এদেরই দেশের নেতা বানায়। ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে।

আর সংস্কৃতি জগতের বিরাট সচেতন নামধারী শ্রেণী মঞ্চ ও টিভি নাটক এবং বিজ্ঞাপন চিত্র নির্মাণে আড়ালে অভিজাত নারী ব্যবসা চালিয়ে যায়। দেশের প্রতিটা স্তরের শিক্ষিত নামধারীদের চরিত্রই এক। এরাই সারা দেশে দুর্নীতিসহ সব অপরাধ-অপকর্ম ছড়িয়ে দিয়ে নষ্ট জাতি গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। শ্রেণী সুতরাং স্বাধীনতার পর্রায় ৫০ বছর পরও কেনো দেশের এই অবস্থা সেটা বুঝতে কষ্ট করতে হয় না।

বাংলাদেশের শিক্ষিত নামধারী একটা শ্রেণীর নৈতিকতাও যে কতোটা নীচে, এই ব্লগে মাঝেমাঝে তাদের অনেকের বিভিন্ন আচরণ ও মন্তব্য থেকেও সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়। ময়ুরপুরপুচ্ছ ধারণ করলেই কাক ময়ূর হয়না, এটা রাজনীতি, সংস্কৃতি, ধর্মীয় ব্যাক্তি এমনকি ব্লগার নামধারী অনেকের আচরণ দেখলেও প্রমাণ পাওয়া যাবে।

এরা লন্ডন, টোকিও বা নিউইয়র্ক যেখানেই যাক, নোংরা আর নষ্ট বাঙ্গালীই থাকে।

এরকম এক ব্লগার নামধারী কাক দেশের সব আইন , শিষ্টতা, সভ্যতা ও ভদ্রতা ও ব্লগের নীতিমালা ভেঙ্গে আমার নাম উল্রেখ করে নোংরা লেখা দিলো। যেটার প্রতিবাদে আমি ব্লগ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম। অনেকেই প্রতিবাদ করলেও সেই নোংরা প্রাণীকে অন্ধভাবে সমর্থন করলো ব্লগার নামধারী তিনজন।

এদের একজন থাকে আরবদের দেশে আর অন্য ২ জন লন্ডনে। এক লন্ডনী আমাকে মানহানির পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বললো, আমারও দোষ আছে। আমি নিজেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে শুদ্ধ ব্যাক্তি মনে করি। পত্রিকায় প্রকাশিত ধর্ষক দিহানের মুখোশ পরা ছবি আমি কেনো ব্লগে দিলাম- সেটা নিয়েই বুদ্ধিহীন শিশুর মতো তর্ক করলো। অথচ আমি পত্রিকায় প্রকাশিত তার মুখোশ পরা ছবি দিলেও পত্রিকা আর টিভিতে প্রকাশিত হওয়ার কারণে তার আসল চেহারা দেশ-বিদেশের কোটি কোটি মানুষ দেখেছে। এধরণের যুক্তি শুনে হাসবো, কাদবো না তার বুদ্ধিহীনতা, পরশ্রীকাতরতা আর অপরাধীকে সমর্থন দেখে রাগ করবো, বুঝতে পারিনি।

সে যদি প্রকৃত নিরপেক্ষ ও ভদ্রতাজ্ঞানসম্পন্ন হতো , তাহলে সবার আগে সে দেশের একজন প্রবীণ লেখক ও সাংবাদিককে মানহানির প্রতিবাদ করে ওই নীচের শাস্তি দাবী করতো, যেটা সে করেনি।

এছাড়া আমাকে বিজ্ঞানী নিউটনের সাথে তুলনা করেও হেয় করা চেষ্টা করলো, যেনো পৃথিবীর সবাইকেই নিউটন হতে হবে !!!

তার নিজের অর্জন যে কতোটা অন্তসারশূণ্য এবং শুন্য সেটা সে নিজেও খুব ভালো করে জানে,যে কারণে তার এতো যন্ত্রণা।

আরেকজনকে জনাব চাদগাজী বলেন শিবির। গোলাম, নিযামী, সাঈদীর মতোই সত্যকে মিথ্যা বানানো আর জেনে-শুনে অপরাধীকে সাধু এবং নির্দোষকে অপরাধী বানানোর মতো জঘন্য মিথ্যাচারে সে বিশেষ পারদর্শী। এখন সে সবাইকে নির্দেশ দিচ্ছে, ব্লগে কি লিখতে হবে আর কি লেখা যাবে না!!!!

এখনো মাঝে-মাঝে সে সেই অপরাধীকে সমর্থন করে আমাকেই দোষারোপ করে, এতোটাই নীচ সে। তাকেও ব্লক করে দিয়েছি।

আর যেটা আরবে থাকে, সেটার কথা আর কি বলবো!!

দূর্বল চরিত্রের মেরুদন্ডহীন পরগাছা শ্রেণীর মানুষের স্বভাব হচ্ছে ঝোপ বুঝে কোপ মারা। সে সেটা্ই করেছে।
নিজে কোনো লেখক না হলেও একজন প্রবীণ লেখকের সব লেখায় এসে সবসময় অযাচিত উপদেশ দিতো। তাই সেটাকেও ব্লগ করে দিয়েছি।

আমি কি লিখবো না লিখবো, সেটা ঠিক করে দেয়ার মতো অভদ্রতাও সে দেখিয়েছে ।

এদের ব্লগে আসার মূল কারণ নোংরামী করা। উন্নত দেশে থেকেও শুধু নোংরা পরশ্রীকাতরতা, পরনিন্দা, দলাদলি আর ষড়যন্ত্র ছাড়া ভদ্রতা, সভ্যতা, শিষ্টাচার , আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ-এসবের কিছুই এরা শিখতে পারেনি।

এদের সমর্থনকারী চতুর্থ একজন জঙ্গী-বজরঙ্গীদের বেতনভোগী । যেহেতু আমি ভারতে মুসলমানসহ সব সংখ্যালঘুদের উপর হিন্দু জঙ্গীদের অত্যাচার এবং তাদের মসজিদে আগুন দেয়ার বিরুদ্ধে লিখি, তাই তার আমার লেখা ভালো না লাগারই কথা।

১১। ধর্মের নামে ভন্ডামি: প্রকৃত ধর্ম না মেনে ধর্মের নামে ভন্ডামি, মোনাফেকি এবং বক-ধর্ম পালন বাংলাদেশের অনেক সমস্যার সৃষ্টি করেছে । এই নষ্ট জাতির বেশীরভাগ লোকই চুরি-ঘুষ, দুর্নীতি, মদ, মাদক ব্যাভিচার ও জুয়া থেকে বিরত থাকার মতো ধর্মের প্রকৃত নির্দেশ না মেনে নিজেরাই এমন একেকটা বিকৃত ধারণা সৃষ্টি করেছে শুধূ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করলে সবকিছু করা জায়েজ !!!

প্রায় হাজার বছরে ধরেই দেশে এই বিকৃত আচরণ প্রচলিত থাকায় সেটা সমাজের সর্বস্তরে এমনকি মনে হয় জাতির জিনের(Gene) স্থায়ী রুপ পেয়েছে। দেশের প্রতিটা শিশু ছোটোবেলা থেকেই পরিবার থেকে এসব ভন্ডামি শিখে বড় হয় এবং বড় হয়েও এই ধান্ধাবাজি চালিয়ে যায়।

প্রকৃত ধর্ম পালন না করে ভন্ড-মোনাফেক ও বক-ধর্ম পালন করতে করতে ভন্ডামি ও প্রতারণা বাংলাদেশের মানুষের মজ্জাগত বৈশিষ্টে পরিণত হয়েছে। একটা শিশু যখন ছোটোবেলা থেকেই তার অভিভাবক এবং বড়দের লোক দেখানো ধর্মচর্চা এবং একইসাথে ধর্মবিরোধী সব কাজ করতে দেখে, তখন ছোটোবেলা থেকেই সে এবকটা ভন্ড হিসেবে বেড়ে উঠে।
তার এই বিকৃত শিক্ষার প্রভাব জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই পড়ে।

সব ক্ষেত্রেই এর প্রতিফলন দেখা যায়। এজন্যই এজন্যই বাংলাদেশে টাউট-বাটপারের সংখ্যা এতো বেশী।

তাইতো ধর্মস্থানে উপাসনার সময় জায়গা পাওয়া যায় না কিন্ত ধর্মগ্রন্থ বিরোধী এইসব কর্মকান্ডকে প্রায় কেউই অপরাধ মনে করে না।
এজন্যই দেশে অবাধে এসব চলছে এবং ধার্মিক নামধারী কোনো ভন্ড এসব বাধা দেয় নাম বরং নতুন নতুন পদ্ধতিতে এসবে অংশগ্রহণ করে।

বাংলাদেশে প্রকৃত ধার্মিক এবং নীতিবান নাস্তিক হওয়া অপরাধ বলে বিবেচিত। কিন্ত ভন্ড-মোনাফেক, আর বক-ধার্মিক হওয়া সন্মানের ব্যাপার। কারণ দেশের বেশীরভাগ লোকই তাই।

১৯৮৪ সালে এরশাদ রবিবারের পরিবর্তে শুক্রবারকে ছুটির দিন ঘোষণা করা করেছিলো। এমনকি ১৯৮৮ সালে এই এরশাদ দেশে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা এবং ধর্মশিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছিলো। কিন্ত এর ফলে দেশে একটা প্রকৃত ধার্মিকেরও সৃষ্টি হয়নি, বরং এরশাদের মতো অগণিত ভন্ড-মোনাফেক, আর বক-ধার্মিকের সৃষ্টি হয়েছে।

যার নিজের মধ্যেই ধর্মের কোনো প্রভাব ছিলো না, যে হত্যা, চুরি, , লাম্পট্য, মদ, জোচ্চুরী,এমনকি ধর্মস্থানে দাড়িয়ে মিথ্যা বলা সহ সব ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত ছিলো, সেই জনগণকে ধোকা দেয়ার জন্য ধর্মকে ব্যববহার করেছিলো। কিন্ত দেশের কোনো লোক ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এরশাদের শাস্তি চায়নি।

কিন্ত অনেক নাস্তিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং দেশ ছাড়তে হয়েছে। কিন্ত এরশাদ এবং তার মতো আরো অগণিত মোনাফেক এভাবে ধর্মব্যবসা করলেও তাদের কোনো শাস্তি হয়নি বরং তারা মহা-আনন্দে দিন কাটিয়েছে এবং কাটচ্ছে।
এদেশের মানুষ নিজেরা যেমন ভন্ড, তেমনভাবেই তারা রাজাকার গোলাম, নিযামী ,সাইদী এবং এরশাদ তারেক ও মামুনুলের মতো ভন্ডদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত ও সন্মানিত করে।

কোনো সৎ-নীতিবান ব্যাক্তিকে তারা নেতা নির্বাচন করে না আর কোনোদিন করতে পারবে বলেও মনে হয় না।
রাজার জাতি বিলাসিতা আর দেশের উন্নয়ন দুই করে আর বাংলাদেশে হীনমন্যরাগুলি গাছেরটা খায়, তলারটাও কুড়ায়: বাংলাদেশে এরশাদ-খালেদা-তারেক চক্র এবং তাদের চামচারা রাষ্ট্রে লক্ষ-কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে ভোগ বিলাসে দিন কাটিয়েছে । ব্যাংক, টিভি চ্যানেল, বিদেশে বাড়ি করেছে। বাথরুমেও এসি লাগিয়েছে। কিন্ত দেশের উন্নয়নের জন্য কিছুই করেনি।

অথচ শুধু এরশাদই পারতো বাংদেশকে মালয়শিয়ার চেয়ে উন্নত দেশে পরিণত করতে। কিন্ত সৌদি আরবের শাসকরা, ইরাকের সাদ্দাম এবং লিবিয়ার গাদ্দাফিসহ বিভি্ন্ন আর রাষ্ট্রের নেতারা দেশের সম্পদ দিয়ে নিজেরা বিলাসবহুল জীবন- যাপন করলেও তারা জনগণকে শোষণ করে না , তাদের জন্য ব্যাপক উন্নয়নও করে। ধ্বংস হওয়ার আগে পর্যন্ত ইরাক একটা উন্নত দেশ ছিলো। আর গাদ্দাফি লিবিয়াকে স্বর্গ বানিয়েছিলেন। নাগরিকদের জন্য এমনকিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন, যা উন্নত দেশের জনগণরাও পায়না।
আর বাংলাদেশেরগুলি গাছেরটা খায়, তলারটাও কুড়ায় । ত্রাণের চাল, ডাল, তেল, লবণ, বিস্কুট, টিন এমনকি খালেদার মতো এতিমখানার শিশুদের টাকা মেরে খেতেও এদের বাধে না।

এটাই রাজার জাতির সাথে বাংলাদেশের মতো পরাধীন ও পরশ্রীকাতর জাতির শাসকদের একটা বড় পার্থক্য।

১২। বেশীরভাগ লোক নিজেদের দেশের মালিকের পরিবর্তে প্রজা ভাবে: বাংলাদেশের সংবিধানে দেশের নাম গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এবং জনগণ সব ক্ষমতার উৎস হবে বলে লেখা থাকলেও তাদের কোন রাষ্টচিন্তা নাই বা তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও কিছু জানে না।
তারা ক্ষমতাবানদের জমিদার এবং নিজেদের দেশের প্রজা মনে করে ।কিন্ত কোনো ভাবে নেতা বা সরকারী কর্মচারী হতে পাররে আবার নিজেদের জমিদার ভেবে জনগণকে শোষণ শুরু করে।
দেশের প্রতিটা সিদ্ধান্ত এবং কর্মকান্ডের প্রধান উদ্দেশ্য যে জনকল্যাণ এবং তাদের দেয়া করে প্রতিটা টাকার হিসাব নেয়ার অধিকারী-এই চিন্তাই তাদের নাই।
বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত কোনো বড় দুর্নীতিবাজ নেতার চুরির দায়ে কারাদন্ডের পুরো মেয়াদ ভোগ করেনি। মওদুদ, মতিন,কাজী জাফর. এরশাদ,খালেদা,আব্বাস, তারেক, আমান, মোশাররফ,- প্রত্যেকেরই দুর্নীতির অভিযোগ কারাদন্ড হলেও রাজনৈতিক আপোষের মাধ্যেমে তারা কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে জীবিতরা এখনো রাজনীতি করে বেড়াচ্ছে।
দেশে ১০০-এর উপরে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরও নৈতিকতা, এবং জ্ঞান- চর্চার অভাবের কারণে তাদের মধ্যে দাস মানসিকতার পরিবর্তে প্রজাতান্ত্রিক চেতনা গড়ে উঠেনি।

১৩। দেশ পরিবর্তনের নতুন চিন্তা-ভাবনা গ্রহণে প্রবল আপত্তি: বাংলাদেশে মুখে যে যতোই দুর্নীতিমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠার কথা বলুক, বাস্তবে প্রায় কেউই সেটা চায় না। চাইলে অবশ্যই তাতের আচরণ ও কর্মকান্ডে এর প্রতিফলন দেখা যেতো। ধীরে ধীরে দেশও পাল্টাতো। কিন্ত এরা নিজেরা যেমন প্রচলিত নষ্ট সমাজ ব্যবস্থার আংশ হয়ে থাকতে পছন্দ করে, একইভাবে দেশ-জাতি-সমাজ পরিবর্তনের জন্য কোনো তত্ত্ব বা দর্শণ গ্রহণেও এদের প্রায় কারোই কোনো। আগ্রহ দেখা যায় না।

এর প্রধান কারণ হলো, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটা লোকই কোনো না কোনো দুর্নীতির সাথে জড়িত। সুতরাং দুর্নীতিবাজদের বিচার হলে তারা প্রত্যেকেই ফাদে পড়বে। তাই শুধু মুখে বিরোধী কথা বলে দায়িত্ব এড়াতে চায়।

আমি নিজে বহুবছর ধরে দুর্নীতিমুক্ত উন্নত দেশ গঠনের সংগ্রামে নিয়োজিত।এজন্য দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লেখালেখি, বিভাগীয় অভিযোগ প্রদান এবং আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্ত এর ফলে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া দূরে থাক, নিজেই বিভিন্নভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি, যার বিবরণ উপরে দিয়েছি।

২০০২ সালে বই মেলায় দুর্নীতির পরিসংখ্যান না, সমাধান প্রয়োজন নামে প্রকাশিত একটা প্রচারপত্রে দেশে দুর্নীতি দমনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলাম। কিন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিগত তারিখে দুর্নীতিমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অনেক বছরের গবেষণা থেকে ২১ দফা নির্দেশনা ফেসবুক, ইন্টারনেট ও ব্লগে দিলাম। বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য ২১টা নির্দেশনা সবার মতামত চাইলাম। এমনক দুদকের ফেববুক পেজ এও দিলাম। কিন্ত সত্য – হাতে গোণা কয়েকজন ছাড়া কেউই সমর্থন করলো না।
ব্লগে ৩০০ জনও লেখাটা পড়লেন না। মন্তব্য দিলেন মাত্র ১১ জন ব্লগার। এর মধ্যে বিজ্ঞ ১ জন বললেন, এই নির্দেশনা গুলি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে দুর্নীতি ৭০% কমবে।

তার এই মতামত আমার জন্য বিশাল অনুপ্রেরণা। কারণ তিনি আমার নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে দেশ ৫০% বা ১০০% দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার কথা বলেননি। তার কাছে যা মনে হয়েছে, সেটাই বলেছেন।

প্রায় ১৮ কোটি জনগণের একটা দেশকে ৭০% দুর্নীতিমুক্ত করার নির্দেশনা প্রদান কি কম গৌরবের? বাকী যে ৩০% বাকী থাকে, সেটা সব ব্লগার এবং অন্যান্য সব পেশার নীতিবান ও বিজ্ঞ ব্যাক্তিরা মিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে বের করা যায়।
কিন্ত এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা লেখা সম্পর্কে বেশীসংখ্যক মানুষ যদি কোনো মতামতই না দেয়, তাহলে সেটা কিভাবে সম্ভব?
অথচ উন্নত মানসিকতার জনগণের দেশ হলে দেশ থেকে দুর্নীতি মুক্ত করে উন্নত দেশ গঠনের এই নির্দেশনা দিলে সারা দেশে হৈচৈ শুরু হতো। দ্রুত এসব বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হতো।

শুধু দুর্নীতির ক্ষেত্রে না, শিক্ষা থেকে শুরু করে প্রতিটা ক্ষেত্রেই এদেশের বেশীরভাগ লোকজন তাদের জন্য ক্ষতিকর পুরানো ধ্যানধারণা নিয়ে পড়ে থা্কতে চায়।
এখনো প্রায় প্রতিটা অভিভাবক চায়, তার সন্তান অবশ্যই এমএ পাস করবে, ভালো বেতনের সরকারী চাকরী করবে, তাদের কথা মতো চলবে-এইসব। অথচ পরকিয়া, অবাধ সম্পর্ক, মাদক-জুয়া-র মতো জাতি ধ্বংসকারী নতুন নতুন ধারণা গ্রহণে তাদের কোনো আপত্তি দেখা যায়নি।
বাংলাদেশের জনগণ এমনই একটা নষ্ট সংস্কৃতির সৃষ্টি করেছে, যেখানে চুরি-দুর্নীতি করে শত-হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে বিলাসবহুল জীবন-যাপন করা গৌরবের আর সৎ-নীতিবান হওয়া অপরাধ করে বিবেচিত হয়। এদেশে এমন ব্যাক্তি কমই আছে, যে সৎ ব্যাক্তিদের সন্মান এবং অসৎদের ঘৃণা করে।
মানসিকতার এই বিকৃতি এদেশের উন্নয়ন না হওয়ার অন্যতম কারণ।
পরশ্রীকারতার কিছু দৃষ্টান্ত: উন্নত দেশে সৎ-নীতিবান, জ্ঞানীদের দেশের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর বাংলাদেশে যেকোনোভাবে তার ক্ষতি করা চেষ্টা করে।

১৪। পরশ্রীকাতরতায় বাংলাদেশের লোকজন বিশ্ব সেরা: পরশ্রীকাতরতায় পৃথিবীতে বাংলাদেশের লোকদের প্রথম স্থান দেয়া যায়। অন্যের ভালো দেখলে এরা সহ্য করতে পারেনা এবং যেকোনো ভাবে সফল ব্যাক্তিদের যে কোনো রকম ক্ষতি করতে চায়। আর কিছূ না পারলে অন্তত তার নামে কুৎসা রটিয়ে বা মিথ্যাচারের মাধ্যমেহেয় করা চেষ্টা করে, এমনই নোংরা এ্‌দেশের বেশীরভাগ লোক।
এমন সফল ব্যাক্তি পাওয়া যাবে না, যারা বার্থ লোকদের পরশ্রীকাতর আচরণের শিকার হয়নি।

তবে অবাক হয়ে এটাও লক্ষ্য করেছি যে, কিছু লোক নিজেদেরে ক্ষেত্রে সফল হওয়া হওয়ার পরও নোংরা স্বভাবের কারণে অন্য ক্ষেত্রে সফল ব্যাক্তিদের প্রতিও ঈূর্ষাপারায়ণ হয়, যেসব ক্ষেত্রে তারা কোনোদিনও সাফল্য অর্জন করতে পারবে না। তারা নিজেদের ক্ষেত্রে সফল হওয়ার পরও কেনো অন্যদেদের প্রতি হীনমণ্যতায় ভোগে , তার উত্তর তারাই দিতে পারবে।

প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয়,আমি কেনো এতোকিছুর সাথে জড়িত,সেটা নিয়ে অনেকের প্রবল আপত্তি। এলাকা, বিশ্বদ্যিালয়, পরিচিত-অপরিচিত শ্রেনী এমনকি এই ব্লগেও কয়েকজনকে দেখি,আমি যে এতোকিছুর সাথে জড়িত এবং সেটা সবার কাছে প্রকাশ করছি,সেটা নিয়ে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করতে। তারা যদি জীবনে প্লেটো, সক্রেটিস, এরিষ্টোটল, ইবনে সিনা,আল-রাযী, আল বেরুনী,লিওনার্দো দা ভিঞ্চি জুল ভার্ণ, রবীন্দ্র বা নজরুলের মতো কোনো প্রতিভাধর ব্যাক্তির জীবনী বই্ বা উইকিপিডিয়াতে পড়তো, তাহলে জানতো, কোনো ব্যাক্তির পরিচয় দেয়ার সময় সে যতোগুলি বিষয়ের সাথে কার্যকরভাবে জড়িত থাকে, সেসবের সবগুলির কথা উল্লেখ করতে হয়।

প্রত্যেকটা মানুষই তার মেধা ও প্রতিভা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দেয়। বাকা পথে এসব অর্জন করা যায় না। তাহলে দেশে প্রতিদিনই একেকজন রবীন্দ্র, নজরুলের জন্ম হতো।

আমার যোগ্যতাগুলি আমাকে বছরের পর বছর কঠোর সাধনা করে অর্জন করতে হয়েছে । এগুলি চুরি-দুর্নীতি-বা দানসূত্রে অর্জিত হয়নি। এসব যোগ্যতা আমি দেশের কল্যাণে ব্যবহার করেছি। সুতরাং ঈর্ষাপরায়ণ না হয়ে সবার এতে গর্ববোধ করা উচিত ছিলো, যেটা করতে তারা ব্যার্থ।

আমি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে যা সত্য তাই লিখেছি। কোনো কিছু বাড়িয়ে বলা হয়নি, বরং জায়গার অভাবে আমার আরো অনেক যোগ্যতা ও কর্মকান্ডের কথা লেখা যায়নি।

বাংলাদেশে ব্লগ চালু হওয়ার অনেক আগে, আরো প্রায় ২ যুগ আগে আমার লেখা বইগুলিতেও লেখক পরিচিতি অংশে এসবের উল্লেখ আছে।

একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র নিয়ে এমএ পড়ার সময় বিভাগের পরিচালক ৭ বারের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্প নির্দেশক মহিউদ্দিন ফারুক দুর্নীতিবাজ, লম্পট এরশাদের বিরুদ্ধে বই লেখা, বিশ্ববিদ্যালয়ে নকলের প্রতিবাদ এবং লেখালেখিসহ বিভিন্ন কর্মাকান্ডের মাধ্যমে দেশ-জাতি পরিবর্তনের চেষ্টা করা কারণে আমার সাথে সর্বরকম শত্রুতা করেছিলো, যেনো এসব আমার অপরাধ !!!! আমার দেখা সবচেয়ে নিকৃষ্ট শিক্ষক
বিভাগের সব শিক্ষক, কর্মচারী এখনো তার এসব অপকর্মের ঘটনার সাক্ষী।

তার নিজের নিজের জীবনে নীতি-আদর্শ বলে কিছু ছিলো না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও নীতিহীন ছাত্র ও শিক্ষকদের সাথে ছিলো তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মতোই কিছু নীতিহীন শিক্ষক এবং কর্মচারী নিয়ে চুরির একটা সিন্ডিকেট তৈরী করেছিলো। তাই সে আমার নৈতিকতার কারণে আমার প্রতি প্রচন্ড পরশ্রীকাতর ছিলো এবং প্রচন্ড হীনমণ্যতায় ভুগতো। বিভিন্নভাবে আমাকে হেয় করা চেষ্টা করতো।

এমনকি সে একথাও বলেছিলো যে তুমি আবার কিসের গবেষক? তোমার কটা বই বের হয়েচে, আলী ইমামের ৪০০ বই বের হয়েচে !!! এসএসসি উত্তীর্ণ এই লোকের ধারণাই ছিলো, বই চাল-ডালের মতোই একটা জিনিস যেনো এসবের মতোই পরিমাণ দিয়ে বইয়ের মান বিচার করা যায় !!!

অথচ তাকে তাকে নীতিবান হতে কেউ নিষেধ করেনি। কিন্ত তার এমনই মানসিক বিকৃতি ছিলো যে সে নিজেও সৎ-নীতিবান হবে না, কেউ হলেও সহ্য করতে পারবে না।

অন্যের সাফল্যে ঈর্ষাণ্বিত হয়ে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে এধরণের ব্যাক্তিদের উচিত, পারলে আরো বড় কিছু করে দেখানো।
সুতরাং নিজের যোগ্যতার কথা জেনে তাকে হেয় করার চেষ্টা নিকৃষ্ট পরশ্রীকাতরতা ও হীনমন্যতা ছাড়া আর কিছু না।


১৫। দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব: এরশাদ-জিয়া-মওদুদ-মিজান-মতিন-কাজী জাফর -খালেদা দেশে যে দুর্নীতি, লুটপাট, মিথ্যাচার, ধর্ম ব্যবসার সংস্কৃতি চালু করেছে, দেশের কোটি কোটি লোক তাদের অনুসরণ করেছে।
এদেরই পথ ধরে দেশে রাজনীতিতে এসেছে চোর-দুর্নীতিবাজ খালেদা-বদরু-নাজিউর ও সাদেক চোরার ছেলে তারেক, মাহী এবং আন্দালিব । এরা এখন মাঠে-সংসদে-ইন্টারনেটে বড় বড় বক্ততা দেয় এবং সেটা শুনে দেশের লাখ লাখ মানুষ এদের বাহবা দেয়।
তারেক দেশে ফিরে আসলে কয়েক লাখ লোক তাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে যাবে সবাই যে দলীয় কর্মী সেটা না, যারা যাবে তাদের বেশীরভাগই দুইবেলা খাবারও জোগাড় করতে পারেনা্ তারপরও রাজতন্ত্রের প্রতি অন্ধ ভক্তির কারণে তাদের তারেক প্রীতি ।

এমাজউদ্দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-জ্ঞানী ব্যাক্তিও বলেন যে, তারেক তার পিতার যোগ্য উত্তরসূরী!!!!
এমনকি এই ব্লগেও তারেকের অনেক অনুসারী আছে। এদের কারণেই দেশে কোনো সৎ ব্যাক্তি নেতা হতে পারেন না, হয় দুর্বত্তরা ।

এই প্রত্যেকটাই খুনী, লম্পট, মাতাল এবং দুর্নীতিবাজ অপরাধী । এরা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এসে দুর্নীতির নতুন কি কি পদ্ধতি বের করে দেশেরে বাকী ধ্বংস করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এদেশের নষ্ট জনগণের জন্য উপযুক্ত নেতা তারেক, মাহী, আন্দালিব-ইশরাক এবং মামুনুল।

১৬। যেভাবে নষ্ট জাতি গঠিত হচ্ছে: বাংলাদেশের বেশীরভাগ শিশু জন্ম নেয়র পর প্রথমেই সর্বপ্রকার নীতিহীনতা ও অপরাধ শেখে নিজের পরিবার থেকেক।

শিশু যখন দেখে বার বাবা-মা, দাদা-দাদী-নানা-নানী চাচা-মামা সবাই সারাদিন ধর্মচর্চা করছে আার একইসাথে চুরি-ঘুষ-দু্নীতির মতো ধর্মবিরোধী সব অপরাধ করছে, তখন শিশুকাল থেকেই সে একটা ভন্ড হিসেবে বড় হয়, যেখানে একটা জাপানী শিশু বড় হয় সামুরাইদের নীতি-নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শে।

এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষকদের মারধর, পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে ব্যাক্তিভাবে বা কোচিং এ পড়তে বাধ্য করা, সবসময় দুর্ব্যাহার, অশোভন আর বিভিন্ন সন্ত্রাসী সন্ত্রাসী আচরণ থেকে সন্ত্রাস ও চাদাবাজির প্রথমিক শিক্ষা লাভ করে। অভিবাবক ও শিক্ষকদের উৎসাহে সরকারী চাকরী লাভের জন্য মাধ্যমিকে রেজিষ্ট্রেশন করার সময় বয়স ২/৩ বছর কমিয়ে দেখানোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্নীতির সাথে পরিচিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে রাজনীতি করার নামে ছাত্র সংগঠনের সদস্য হয়ে দলীয় লেজুরড়বৃত্তি করে শেখে সন্ত্রাস, চাদাবাজি, প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা আর নারী নির্যাতন।

এরপর শ্রেনীকক্ষে অনুপস্থিত থেকে সব পরীক্ষায় অবাধে নকল করে সনদ নেয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা-পড়াশোনা সবকিছু ফাজলামি ভাবতে শেখে। নকল বা মুখস্থবিদ্যার মাধ্যমে ডিগ্রি লাভের পর ঘুষ. চাচা-মামার সুপারিশ বা রাজনৈতিক প্রভাবে চাকরী লাভের পর শুরু করে দুর্নীতি-লুটপাটের উৎসব।

দলীয় প্রভাবে অনেকে ব্যাবসা-টেন্ডারবাজি শুরু করে। সরকারী বা বেসরকারী চাকরী, ব্যাবসা, সাহিত্য-সংস্কৃতি-যে মাধ্যমেই জড়িত হোক না কেনো, প্রতিটা জায়গা থেকে শেখে দলাদলি, নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার, নিজে পেশার অপরাধীদের রক্ষা আর দুর্নীতি-প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল।

সরকারী চাকরী করলে নিজেদের দেশের জমিদার আর জনগণকে প্রজা ভেবে দেশের সম্পদের উচ্ছামতো ব্যবহার আর জনগণের উপর অত্যাচার।

দেশ জাতি সমাজের প্রতি যে কারো কোনো দায়িত্ব আছে, দেশের একটা প্রতিষ্ঠানও সেই শিক্ষা দেয় না। সুতরাং নষ্ট জাতি গঠিত না হয়ে উপায় কি?

বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল, বার কাউন্সিল, প্রেস কাউন্সিল-প্রতিটা প্রতিষ্ঠান পরিণত হয়েছে সংশ্লিষ্ট পেশার সাথে জড়িত অপরাধীদের রক্ষার জন্য গঠিত সংস্থায়। ঠিক অন্ধকারযুগে আরব এবং পাকিস্তানের উপজাতীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গোত্র এভাবেই ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা না করে নিজেদের গোত্রে অপরাধীদের রক্ষার জন্য যেভাবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অংশ নিতো এবং এখনো নিচ্ছে, বাংলাদেশের এই প্রতিষ্ঠানগুলিও সেই ভূমিকা পালন করছে।

সুতরাং এসব দেখে একটা শিশু , কিশোর, তরুণ বা যুবক নীতিহীন-দুর্নীতিবাজ-দুর্বৃত্ত অপরাধী হিসেবে বেড়ে উঠবে না তো কি সৎ-নীতিবান দেশপ্রেমিক হবে ?

১৭। বাংলাদেশে কি কখনো পাল্টাবে ? : ২০০৭ সাল। সারাদেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে। ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। বাংলাদেশে শুধু চিকিৎসকদেরই কোন শাস্তি হয়না আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিলেন।
যে থানায় মামলা গেলো, সেই রমনা থানার ওসি দৌলত আকবর হোসেন এই সময়েও অবাধে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছিলো।

কলেজ ছাত্রী বুশরা হত্যা মামলার ফাসীর মামলার আসামীকে বিচারিক আদালতে না পাঠিয়ে মূখ্য মহানগর আদালতে পাঠিয়ে তার জামিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলো। কিন্ত সে এতোটাই প্রভাবশালী যে উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। তাই সে হয়ে উঠেছিলো আরো বেপরোয়া্ । তার বিরুদ্ধে দৈনিক পত্রিকাগুলিতে অনেক প্রতিবেদন লেখা হয়েছিলো।

আমার মামলা তদন্তের নির্দেশ হাতে পেয়ে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জন্য ক্লিনিকে গেলো। তাকে দেখেই আতংকিত চিকিৎসক ভয়ে তার ডিআইজি আত্মীয়কে ফোন করে কথা বলতে বললো।

এসআই তাকে কড়া ধমক লাগালো। বললো, সে তদন্তের জন্য এসেছে । ফোনে কথা বলার জন্য না। ধমকে চুপ হয়ে গেলো চিকিৎসক।
তারপর তাকে থানায় ডেকে এনে থানার ওসি আর এসি মিলে মোটা টাকায় ঘটনা ধামা-চাপা দিয়ে আদালতে তার পক্ষে প্রতিবেদন দিলো। খারিজ হয়ে গেলো আমার করা মামলা, যে মামলাটা দেশে ভুল চিকিৎসার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে একটা দৃষ্টান্ত হতে পারতো।। রক্ষা পেলো অপরাধী চিকিৎসক।

তবে আমিও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এ গিয়ে তৎকালীন আইজি'র সাথে দেখা করে সেই ওসি আর এসআই এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলাম। এই অভিযোগের কারণেই হোক বা অন্য কোনো কারণে, পরবর্তীতে তাদের দুইজনকেই থানা থেকে বদলী করা হয়েছিলো।

এটা ছিলো এমন সময়ের ঘটনা , যখন দেশের বড় বড় প্রায় সব দুর্নীতিবাজ কারাগারে। তারপরও কিছু লোক এভাবে প্রকাশ্যে দুর্নীতি করে যাচ্ছিলো।

যারা প্রতিজ্ঞা করে চুরি-দুর্নীতি করবেই এক হাত কেটে ফেলা কা ক্রস ফায়ার ছাড়া তাদের নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।

বাংলাদেশে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বিচিত্র ধরণের সরকার দেখা গেছে। গণতন্ত্র, একদলীয়,সামরিক-স্বৈরাচারী শাসন, তত্বাবধায়ক সরকার -অনেক কিছু। পৃথিবীর আর কোনো দেশের জনগণ এতো বিচিত্র পদ্ধতির সরকার ব্যাবস্থা দেখেনি। কিন্ত তারপরও কোনো সরকারই দুর্নীতি-লুটপাটে অন্য সরকারকে ছাড়িয়ে যাওয়া ছাড়া দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে বা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও দেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অগণিত মানুষ মারা গেছে। সমাজতন্ত্র করার নামে দেশের বহু মেধাবী ছাত্র -জনতা নিজেদের জীবন-যৌবন সব শেষ করেছে। কিন্ত তাদের মৃত্যর মুখে ঠেলে দেয়া নেতা নামধারী নষ্টরা ধনী আর ক্ষমতাশালী হয়ে মহা আনন্দে দিন কাটাচ্ছে।

আমি নিজে গত ২৮ বছর ধরে লেখালেখি এবং আরো বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশ-জাতি-সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। নীতি-আদর্শের অভাবই যে বাংলাদেশের সব সমস্যার প্রধান কারণ , এই তত্ত্ব আমি প্রথম ব্যাপকভাবে প্রচার করেছি, যেটা এখন প্রায় সবাই জানে। কিন্ত তারপরও দেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি। কারণ প্রায় কারো মধ্যেই নিজেকে পাল্টানোর কোনো ইচ্ছা বা চেষ্টা নাই। আর কোনোদিন হবেও না।

কারণ জনগণ সবকিছু জেনেশুনে নিজেরাই সব জাতি ধ্বংসমূলক কর্মকান্ড করছে এবং তারা নেতা হিসেবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটা ক্ষেত্রে এধরণের লোকদেরই সমর্থন করছে।

একটা জাতির মাত্র ৩০% লোক সৎ-নীতিবান হলেও তারা সংগঠিত হয়ে বাকী ৭০% অপরাধীকে লড়াইয়ে পরাজিত করতে পারে। কিন্ত বাস্তবে হচ্ছে বাংলাদেশে খুব বেশী হলে লাখে ২/১ জন ব্যাক্তি সত্যিকারের সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত।

তাদের পক্ষে দেশ-জাতি পরিবর্তন করা অসম্ভব।

সুতরাং কোনোদিন যদি জনগণের নৈতিকতাবোধের সৃষ্টি হয়, সেদিন বাংলাদেশ দুর্নীতি-লুটপাট-সন্ত্রাস-মদ-মাদকমুক্ত হবে।
আর সেটা না হওয়া পর্যন্ত সবকিছু অপরিবর্তিত থাকবে।

‘‘শেষ’’
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০২১ বিকাল ৩:২৩
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে AM ও PM ব্যবহার করার রহস্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৪২

ছবি, Click This Link হতে সংগৃহীত।

সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে AM ও PM ব্যবহার করার রহস্য

সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে AM ও PM কেন ব্যবহার করা হয়, এর কারণটা জেনে রাখা ভালো। আমমরা অনেকেই বিষয়টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্নের যাত্রা শুরু হলো :: পাঠাগারে বই দিয়ে সহযোগিতা করুন

লিখেছেন হাসান ইকবাল, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৪২

নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া উপজেলাধীন শুনই গ্রামে আমাদের স্বপ্নযাত্রা শুরু হলো। ২৬ শে সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হলো ভবনের নির্মাণ কাজ। আশা করছি ডিসেম্বরর ২০২১ এর মধ্যে শেষ হবে আমাদের গ্রাম পাঠাগারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাছ-গাছালি; লতা-পাতা - ০৭

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫০

প্রকৃতির প্রতি আলাদা একটা টান রয়েছে আমার। ভিন্ন সময় বিভিন্ন যায়গায় বেড়াতে গিয়ে নানান হাবিজাবি ছবি আমি তুলি। তাদের মধ্যে থেকে ৫টি গাছ-গাছালি লতা-পাতার ছবি রইলো এখানে।


পানের বরজ


অন্যান্য ও আঞ্চলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জার্মান নির্বাচন: মার্কলের দল জয়ী হয়নি।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১০



গতকাল (৯/২৬/২১ ) জার্মানীর ফেডারেল সরকারের পার্লামেন্ট, 'বুন্ডেসটাগ'এর নির্বাচন হয়ে গেছে; ইহাতে বর্তমান চ্যান্সেলর মার্কেলের দল ২য় স্হান পেয়েছে। বুন্ডেসটাগ'এর সদস্য সংখ্যা ৫৯৮ জন; কিন্তু এবারের নির্বাচনের ফলাফলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরুষ মানুষ সহজে কাঁদে না.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:০২

"পুরুষ মানুষ সহজে কাঁদে না"... কারণ পুরুষের চোখে জল মানায় না... জন্মের পর তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয় যতো কষ্টই হোক তোমার চোখে জল আনা যাবে না!

নারীরা হুটহাট কেঁদে উঠতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×