somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অনল চৌধুরী
সাহসী সত্য।এই নষ্ট দেশ-জাতি-সমাজ পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকারী একজন যোদ্ধা।বাংলাদেশে পর্বত আরোহণের পথিকৃত।

নব্য রাজাকারদের তালিকা করতে হবে

২২ শে মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে প্রায় কারোই তাদের বাবার পরিচয় নিয়ে সেরকম গর্ব বা অহংকার নাই।

তারা অনেকটাই হতাশ এবং অনেকেই নেশাখোর। তাদের বাবাদের চরম আত্মত্যাগের কারণে দেশ স্বাধীন হলেও তারা সমাজে এবং রাষ্ট্রে উপযুক্ত সন্মান এবং মর্যাদা পায়নি। সেই সঙ্গে তারা দেখছে যে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকাররা প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক এবং সমাজে তাদের চেয়ে অনেক বেশী সন্মানিত ও প্রভাবশালী। এটাও তাদের হতাশার বড় কারণ ।

কিন্ত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তারাই যে দেশের আসল মালিক এবং দুর্নীতি-সন্ত্রাস-মদ-মাদক সহ সব অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে বাংলাদেশকে একটা উন্নত ও সভ্য রাষ্ট্রে পরিণত করে তাদের মুক্তিযোদ্ধা পিতাদের অসমাপ্ত যুদ্ধ শেষ করা যে তাদের দায়িত্ব, সেটা বোঝার মতো বুদ্ধি বা মানসিকতা তাদের নাই।


অন্যদিকে জামাতির সন্তানরা মোটেই লজ্জিত বা হতাশ না। তারা তাদের বাবাদের রাজাকারী ভূমিকার জন্য গর্বিত। সুযোগ পেলেই মুক্তিযুদ্ধকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করে কথা বলে। বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলায় পাকিস্তানকে সমর্থন করে। এইসব জামতি রাজাকার পুত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো সাকার ছেলে হুমাম কাদের এবং বর্তমানের লম্পট-জঙ্গী ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল।এরা হলো নব্য রাজাকার।

এদের চরিত্রে নৈতিকতা, দেশপ্রেম বা ধর্মভয় -কোনোটাই নাই্ এরা প্রত্যেকেই একেকটা জঘণ্য অপরাধী, খুনী, সন্ত্রাসী এবং মিথ্যাবাদী।

স্বাধীনতার পর থেকেই দেশে প্রতিদিন অগণিত নব্য রাজাকারের সৃষ্টি হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। এরা অন্ধভাবে এদের বাবা এবং নেতাদের সব অপরাধকে সমর্থন এবং নতুন করে সেগুলো ঘটাতে আগ্রহী। সিলেট ও ব্রাক্ষণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেসব ঘটিয়েছেও।

জ্ঞান বা মুক্তবুদ্ধি চর্চা-এসবকিছুই এদের কাছে অসহ্য। এরা কেইউ মওদুদী, গোলাম আর জোকার নায়কের বই ছাড়া ভালো কোনো বই পড়ে না।

এরা একদিকে দিনে কয়েকবার ধম্ম-কম্ম করে আবার নিজেদের মোবাইলে সানি লিওনের ভিডিও রাখে আর সারাদিন কাজের ফাকে ফাকে বের করে দেখে।এদের প্রত্যেকের ঘরে ঘরে ডিশ এ্যান্টেনায় ২৪ ঘন্টা অশ্লীল হিন্দি নাচ-গান চলে।

পাকিস্তানের অনেকে বাংলাদেশ হতে চাইলেও এইসব নব্য জামাতি রাজাকাররা বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তান করার জন্য প্রাণান্তানকর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের কোনো এলাকায় জনগণের রাজারকারদের প্রতি ঘৃণা নাই। বরং তারা জেনেশুনেই বারবার সাকা, নিযামী আর সাইদীসহ বড় বড় রাজাকারদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে।

আমাদের এলাকা জামাতিতে ভর্তি। আর এরা প্রত্যেেকেই চুরি-দুর্নীতি করে প্রচুর টাকা করেছে। কারণ এরা জানে বাংলাদেশের মানুষ টাকাওয়ালাদের পা চাটে।

কিন্ত আশ্চর্য্যের ব্যাপার হলো, তারপরও জামাতিরা প্রকাশ্যে নিজেদের জামাতি পরিচয় দেয় না, নিজেদের পরিচয় দেয় বিএনপি বলে !!!
এই আমলে আবার তাদের অনেকে ডিগবাজি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষির শক্তিও সেজেছে।

জাকারিয়া হাবিব নামে ছবির এই জামাতি ছিলো একটা শিবির কর্মী এবং ফাসীতে ঝোলা রাজাকার কাসেম আলীর পা চাটা ভৃত্য এবং দিগন্ত টিভির এক কর্মচারী। ২০০৬ সালে একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সে পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লেখক-সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সব রকম ষড়যন্ত্র করতো এবং বাক্য সন্ত্রাস চলাতো। শিক্ষক-ছাত্রদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জ্ঞান-চর্চা ও আলোচনা চলার সময় রাস্তার টোকাইয়ের মতো হুই-হাই করে শব্দ করতো।

পুরো ১ বছর সে একটা বিশ্বদ্যিালয়ের একটা বিভাগকে পুরো নষ্ট করে রেখেছিলো। কিন্ত পড়াশোনা না করে এসব নোংরা কাজের ফলে ১৫ বছরেও আর ডিগ্রি নিতে পারেনি।

দেশের জাতীয় পুরস্কাপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালকসহ প্রতিটা শিক্ষক তার এইসব নোংরা কর্মকান্ডের সাক্ষী।

এখন সে বিরাট মুক্তিযুদ্ধেরর পক্ষের শক্তি সেজে স্বাধীনতা আর বিজয় দিবসে সে জাতীয় পতাকা নিয়ে ফেসবুকে ছবি দেয় !!!

উদ্দেশ্য যে কোনো ভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নামধারী কোনো একটা দলে ঢুকে ভিতর থেকে ক্ষতি করা। একটা স্বাধীনতাবিরোধী হয়েও এরকম জামাতিরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আর জাতীয় পতাকা নিয়ে ফাজলামি করা সাহস দেখায় কিন্ত এসব জঘন্য ধাপ্পাবাজি দেখা ছাড়া প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের আর কিছু করা থাকে না।

জনাব চাদগাজী ব্লগে এরকম অগণিত নব্য রাজাকারদের নিয়ে কথা বলেছেন।

দেশের প্রতিটা এলাকায় সব নব্য জামাতি জঙ্গী-রাজারদের তালিকা করা দরকার।

সেটা করা না হলে এরা সময়মতো ঠিকই ছোবল দেবে, যেমন জামাতি-শিবির হেফাজতিরা স্বাধীনতার পর থেকেই বারবার দিচ্ছে।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০২১ রাত ৩:২৫
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে AM ও PM ব্যবহার করার রহস্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৪২

ছবি, Click This Link হতে সংগৃহীত।

সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে AM ও PM ব্যবহার করার রহস্য

সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে AM ও PM কেন ব্যবহার করা হয়, এর কারণটা জেনে রাখা ভালো। আমমরা অনেকেই বিষয়টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্নের যাত্রা শুরু হলো :: পাঠাগারে বই দিয়ে সহযোগিতা করুন

লিখেছেন হাসান ইকবাল, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৪২

নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া উপজেলাধীন শুনই গ্রামে আমাদের স্বপ্নযাত্রা শুরু হলো। ২৬ শে সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হলো ভবনের নির্মাণ কাজ। আশা করছি ডিসেম্বরর ২০২১ এর মধ্যে শেষ হবে আমাদের গ্রাম পাঠাগারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাছ-গাছালি; লতা-পাতা - ০৭

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫০

প্রকৃতির প্রতি আলাদা একটা টান রয়েছে আমার। ভিন্ন সময় বিভিন্ন যায়গায় বেড়াতে গিয়ে নানান হাবিজাবি ছবি আমি তুলি। তাদের মধ্যে থেকে ৫টি গাছ-গাছালি লতা-পাতার ছবি রইলো এখানে।


পানের বরজ


অন্যান্য ও আঞ্চলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জার্মান নির্বাচন: মার্কলের দল জয়ী হয়নি।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১০



গতকাল (৯/২৬/২১ ) জার্মানীর ফেডারেল সরকারের পার্লামেন্ট, 'বুন্ডেসটাগ'এর নির্বাচন হয়ে গেছে; ইহাতে বর্তমান চ্যান্সেলর মার্কেলের দল ২য় স্হান পেয়েছে। বুন্ডেসটাগ'এর সদস্য সংখ্যা ৫৯৮ জন; কিন্তু এবারের নির্বাচনের ফলাফলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরুষ মানুষ সহজে কাঁদে না.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:০২

"পুরুষ মানুষ সহজে কাঁদে না"... কারণ পুরুষের চোখে জল মানায় না... জন্মের পর তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয় যতো কষ্টই হোক তোমার চোখে জল আনা যাবে না!

নারীরা হুটহাট কেঁদে উঠতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×