somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চায়না সিরিজ - ১ঃ সেবার চীনের হেবেই প্রদেশে

২৪ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সেবার বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে বুয়েট থেকে একটা বিশেষ কাজে চীনে যাবার প্রয়োজন পড়ল।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সেই প্রজেক্টটির জন্য বেশ কয়েক কোটি টাকা দামের যন্ত্র কিনতে হবে। সেই যন্ত্র বিশেষভাবে অর্ডার দিয়ে বানানো হচ্ছে চীনের একটা প্রতিষ্ঠানে। সেই যন্ত্র বানানোর কি হাল-হকিকত এবং সেটা আমাদের দেয়া ডিজাইন অনুসারে তৈরি হচ্ছে কিনা সেটা দেখার জন্যই চীনে যাওয়া। আমার সাথে আছে বাংলাদেশের এক স্বনামধন্য ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির কর্ণধার রফিক ভাই। আরো আছে বুয়েটের স্বনামধন্য কিছু শিক্ষক। পরে আমাদের সাথে যোগ দিবেন বাংলাদেশের আরেক স্বনামধন্য ইন্ড্রাস্ট্রির মালিক, যার নাম আমি কখনোই আর কোন অবস্থাতেই বলব না। কারণ তাঁর নাম বললে আমার চাকরি থাকবে না। শুধু এতটুকু বলতে পারি তাঁর ইন্ড্রাস্ট্রির বার্ষিক রেভেনিউ হাজার কোটি টাকার উপরে। উনার ইন্ড্রাস্ট্রি বাংলাদেশে সবাই এক নামে চেনে, উনাকেও সবাই চিনে। আমার মত চুনোপুটির সাথে এত বড় রথি-মহারথি আর রাঘব বোয়ালেরা ভ্রমণ করছেন, সেটা সবাইকে জানানো উনাদের জন্য সুখকর নাও হতে পারে। তাই তাঁদের নাম-পরিচয় গোপন থাকুক।

আমাদের প্রথম গন্তব্য চীনের হেবেই প্রভিন্সের Zhuozhou শহরে। শহরের নাম হিসাবে বেশ কঠিন একটা নাম। Zh এর পরে একবার uo আবার পরেরবার Zh এর পরে ou। যা উচ্চারণ করি তার কোনটাই সঠিক হয় না। আমি আবার কঠিন শব্দ ভালো উচ্চারণ করতে পারি না। আমার মুখে শব্দ জড়িয়ে যায়। একবার বুয়েটে থাকতে সকালে ক্যাফেতে নাস্তা করতে গিয়ে খাবারের অর্ডার দেয়ার সময় তাড়াতাড়ি বলতে গিয়ে “পরোটা”-কে “পারাটা” বলে ফেলেছিলাম। তাতে বন্ধু-বান্ধবীদের সেকি হাসাহাসি। বুয়েটের সনজলা তো সারাজীবন আমাকে দেখে “রুটি-পারাটা” বলেই পার করে দিল। তাই চীনের ব্যাপারে সাবধান থাকি। ভুলেও Zhuozhou শহরের নাম উচ্চারণ করি না। সব কথা “বিশেষ বিশেষ বিশেষণ” দিয়ে এমনাভাবে বলি যাতে Zhuozhou শহরের নামটা উচ্চারণ করতে না হয়। উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিস্কার হবে।

কেউ যদি জিজ্ঞেসে করে, “আরাফাত চীনের কোথায় যাচ্ছ?”

“চীনের হেবেই প্রভিন্সের প্রভিন্সিয়াল রাজধানী থেকে ২৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের এক শহরে। অবশ্য বেইজিং হয়ে পরে আরো অন্য কিছু শহরে যাবো।”

“আচ্ছা, শহরের নাম কি?”

“খুব ছোট শহর তো। নাম বললে চিনবেন না।”

“তাও নামটা বলনা? চিনতেও তো পারি।”

“চীনে শহর আছে হাজারখানেক। আপনি কি চীনের সব শহর চিনেন? চিনেন না। তাহলে এই শহরও আপনার চেনার কথা না। আচ্ছা ভাই, আমার একটু তাড়া আছে। এখন আসি। পরে কথা হবে।” এসব বলে তাড়াতাড়ি সটকে পড়ি।

মানুষে ভাবে আমি “ভাব” দেখাচ্ছি। আসলে যে আমি আমার দূর্বলতা ঢাকছি সেটা কেউ বুঝে না। আর আমিও ভুলেও Zhuozhou শহরের নাম উচ্চারণ করি না। পাছে কি বলতে গিয়ে কি বলে ফেলি, আর মানুষের আরো হাসাহাসির শিকার হই।

এভাবে দেশে ভালো চললেও, বেইজিং এয়ারপোর্টে কিভাবে চললাম সেটার গল্পে পরে আসছি। তার আগে থাইল্যান্ডে ট্রানজিটের গল্প একটু করে নেই।

***

আমরা থাই এয়ারওয়েজে করে ঢাকা থেকে রওয়ানা দিলাম। আমার পাশে সিট পড়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের এক অধ্যাপকের। ভদ্রলোক সম্ভবত এর আগে কখনো বিমান-ভ্রমণ করেন নাই। উনি জাপান যাচ্ছেন কোন এক কাজে। যখন শুনলেন আমরা চীনে যাচ্ছি, উনি হৈ হৈ করে উঠে বললেন, “আরে আমি তো তাহলে ভুল প্লেনে উঠেছি। আমি ভাবেছি এই প্লেন জাপান যাচ্ছে। এখন আমার কি হবে?” আমি উনাকে আশ্বস্থ করলাম যে উনি ঠিক প্লেনেই উঠেছেন। থাইল্যান্ডে গিয়ে আমরা চীনের প্লেনে উঠব আর উনি গিয়ে জাপানের প্লেনে উঠবেন। উনার কেন জানি ধারণা হয়েছিল যে এই প্লেনে সবাই উনার মত জাপান যাচ্ছেন। আমি আশ্বস্থ করার পরেও ভদ্রলোকের মুখ থেকে দুশ্চিন্তার ছায়া সরছিল না।

আমাদের ফ্লাইট ছিল রাতের বেলা। আমি কেন জানি রাতের জার্নিতে কখনোই ঘুমাতে পারি না। এই জার্নিও এর ব্যাতিক্রম না। না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিলাম পুরো পথ। অথচ, আমার দলের সবাই খাবার খেয়ে-দেয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। ওদের দেখে আমার হিংসে হয়। সারারাত না ঘুমিয়ে যখন থাইল্যান্ডের Suvarnabhumi এয়ারপোর্টে পৌছালাম তখন সবে ভোর হয়েছে, সূর্যের আলো তখনো চোখ মেলেনি ব্যাংককের আকাশে।

থাইল্যান্ডে আমাদের ছয় ঘন্টা ট্রানজিট। পরের ফ্লাইট সকাল এগারোটার দিকে। এই বাকি সময়টুকুও আর ঘুমাতে পারব না। তাই এয়ারপোর্টের ভিতরেই ঘুরে-ফিরে দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিছুক্ষণ হাঁটাহাটি করে শরীরের জড়তা দূর করে ওয়াশরুমে গেলাম ফ্রেশ হবার জন্য। এখানকার ওয়াশরুমের টয়লেটগুলোতে বিশাল সমস্যা। কোথাও পানি নেয়ার জন্য বদনা বা পুশ শাওয়ার টাইপের কিছুই নাই। সব জায়গাতেই টিস্যু পেপার ভরসা। এই জিনিস দিয়ে কি বাংগালিদের চলে? আমাদের সকালবেলা দরকার “বদনা ভর্তি টলটলে কিঞ্চিত উষ্ণ পানি।” এটা না হলে আমাদের সকালটা আর শুরু হতেই চায় না। কিন্তু বদনা ভর্তি টলটলে কিঞ্চিত উষ্ণ পানি এখানে পাবো কোথায়? কি আর করা। রোমে গেলে রোমের নিয়মেই চলতে হবে।

একটু ফ্রেশ হয়ে Tom Yam আর Nasi Goreng দিয়ে সকালের নাস্তা সেরে ফেললাম। এর পরে গেলাম ট্রান্সফার ডেস্কে যাতে পরের ফ্লাইটের জন্য যাবতীয় চেকিং-এর কাজ আগেই সেরে ফেলা যায়। ওখানেই পরিচয় হল এক ভারতীয় মহিলার সাথে যিনিও আমার মত ট্রানজিটে আছেন। তিনি জাপান থেকে একটা কনফারেন্স শেষে ভারতে ফিরে যাচ্ছেন। উনি অনেক গল্প করলেন উনার দেশ ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে। আমার সাথে কিছুক্ষণ বাংলাতেও কথা বললেন উনার বাংলা জ্ঞান বোঝানোর জন্য। দেখলাম উনার বাংলা জ্ঞান বেশ ভালোই, যদিও আমাদের সব কথা ইংরেজিতেই হয়েছিল। উনি জানালেন যে উনি বাংলাদেশে আসতে চান দেশটাকে দেখার জন্য। আমি সাদর আমন্ত্রণ জানালাম। এরপর, উনার সাথে এয়ারপোর্টের ভিতরের দোকান-পাটগুলো ঘুরে দেখলাম। উনি কিছু গিফট কিনলেন উনার হাজব্যান্ড আর ছেলে-মেয়েদের জন্য।

থাইল্যান্ডে প্রচুর ট্রান্স-জেন্ডার মানুষ, মানে যারা ছেলে হয়ে জন্ম নিলেও পরে অপারেশনের মাধ্যমে মেয়ে মানুষে পরিণত হয়েছে। এদের অনেকেই নজরকাড়া সুন্দরী। আবার অনেকেই বেশ পুরুষালি। এয়ারপোর্টেও এদের বেশ আনাগোণা লক্ষ্য করা গেল।

এয়ারপোর্টে আরো আছে “ফিরিঙ্গি” ট্রাভেলার। এইগুলো হল ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রোলিয়া থেকে আসা সাদা চামড়ার বুড়ো-ভাম যেগুলো থাইল্যান্ডে আসে মেয়ে নিয়ে মজা করার জন্য। এক একটা ফিরিঙ্গির ইয়া মোটা ভুঁড়ি, মাথা ভরা টাক আর গাল ভরা পেকে যাওয়া দাঁড়ি। দেখলেই কেমন জানি নোংরা লাগে। কিন্তু এইগুলোর সবার বগলে একটা করে কম বয়েসী থাই মেয়ে না হয় ট্রান্স-জেন্ডার কেউ। ফিরিঙ্গিগুলো থাইল্যান্ডে এসে একটা কম বয়েসী মেয়ে বাগিয়ে নিয়ে এখন প্রমোদ-ভ্রমণে যাচ্ছে অন্য কোথাও। আর এই ফিরিঙ্গিদের সাথে ঘোরা থাই-মেয়েগুলাও এইসব সাদা চামড়ার বুড়া-ভাম ধরার জন্য একেবারে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে। কোনমতে একটা বুড়োকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে বিয়ে করতে পারলে তো একেবারে কেল্লাফতে। সেই মেয়ে বুড়োর দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে যায় বিয়ের পর। তারপরে সে মেয়ে অপেক্ষা করতে থাকে কবে সেই বুড়ো-ভাম মরে যাবে। কারণ, বুড়ো মরলে সব সম্পত্তি সেই মেয়ের হয়ে যাবে। তাই যেই মেয়ে যত বেশি বুড়ো ধরতে পারে তার জন্য তত সুবিধা। কারণ, বেশি বুড়ো হলে আশা করা যায় যে সে তাড়াতাড়ি দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে। আমার মত সুঠামদেহী যুবক (!) ছেলের দিকে এসব মেয়ে ফিরেও তাকাবে না। কারণ, আমার মরার জন্য অপেক্ষা করতে করতে হয়ত সেই মেয়েই একদিন মরে যাবে। যদিও হায়াত-মউত সবই উপরওয়ালার হাতে। আর তাই সে কারণে যদি আমি আগেই মারা যাই তখন সেই মেয়ে হয়ত দেখবে আমার ব্যাংক একাউন্টে আছে মাত্র একশত তিরাশি রিঙ্গিট পঁচাশি সেন্ট। তখন সেই মেয়ের মনের অবস্থা কি হবে সেটা ভেবেই আমার হাসি পাচ্ছে। আমার মত সুঠামদেহী যুবক (!) ছেলেদের বগলে থাকা ওদের জন্য এক বিশাল লস ছাড়া আর কিছুই নয়। এই রিস্ক ফিরিঙ্গিদের সাথে ঘোরা কোন মেয়ে কখনোই নিবে না। ওদের দরকার প্রায় মৃত্যু-পথযাত্রী, মদখোর, বিয়ে-পাগল বুড়ো দাদু। দুনিয়া বড় কঠিন জায়গারে ভাই। এখানে অনেক হিসাব-নিকাশ করেই প্রেম-ভালোবাসা আর বিয়ে করতে হয়।

তবে এইসব থাই মেয়েদেরও খুব একটা দোষ দেয়া যায় না। হয়ত, সেই মেয়ের পরিবারে আছে নেশাগ্রস্থ বাবা, অসুস্থ মা, ছোট ভাই-বোন যাদের লেখাপড়ার খরচ তাকে চালাতে হয় বা রয়েছে নিজের বাপ-ছেড়ে যাওয়া ছোট বাচ্চা। ওদের মুখের দিকে তাকিয়েই হয়ত মেয়েটা এই পথে পা বাড়িয়েছে। ওদিকে ফিরিঙ্গি বুড়ো-ভামেরও হয়ত দুই-কূলে কেউ নেই। সেও সারাজীবন অর্থ আর ক্যারিয়ারের পিছনে ছুটে শেষ বয়সে নিঃসঙ্গ হয়ে গেছে। শেষ বয়সে ফিরিঙ্গি বুড়োর দরকার একটা সঙ্গী, অন্যদিকে থাই মেয়েটার দরকার অর্থ ও নিশ্চিত জীবন। তাই এমন বিবাহ দুইজনকেই একটা উইন-উইন সিচুয়েশন তৈরি করে দেয়। দুনিয়াটা আসলেই বড় কঠিন জায়গা।

Suvarnabhumi এয়ারপোর্টে বিশাল, এলাহি কারবার। এসব বিচিত্র জিনিস দেখতে দেখতে এয়ারপোর্টে সময়টা কেটে গেল।

***

চায়নার উদ্দেশ্য পরের ফ্লাইটে আমরা সময়মত চেপে বসলাম। চাইনিজ দিয়ে ভরে গেল প্লেনটা তখন। থাইল্যান্ড থেকে বেইজিং প্রায় ছয় ঘন্টার জার্নি। যদিও সারারাত না ঘুমিয়ে অনেক টায়ার্ড, তাও এই ফ্লাইটে ঘুমাতে পারলাম না। খাবার খেয়ে আর মুভি দেখেই সময়টা পার করে দিলাম।

প্লেনটা যখন বেইজিং-এর কাছাকাছি পৌছালো তখন বিমানবালারা কাস্টমস ডিকলারেশন ফর্ম পূরণ করতে দিল। সেই ফর্মে একটা প্রশ্ন ছিল “চীনে গিয়ে কোথায় থাকা হবে?”

বেশ জটিল প্রশ্ন। একে তো আমি Zhuozhou শহরের নাম উচ্চারণ করতে পারি না, তার উপর আমরা যেই হোটেলে থাকব সেটার নাম আরেক কাঠি সরেস। সেই হোটেলের এমন বিদঘুটে নাম যে আমি সেটা লিখতে পর্যন্ত পারি না। ওটা লেখতে গেলে আমার মাথা ঘুরায়, বমি বমি লাগে, ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়। তাই আমি কাস্টমসের ফর্মে লেখলাম, “Zhuozhou শহরের কোন এক হোটেলে থাকব।”

বেইজিং এয়ারপোর্টে যখন পৌছালাম তখন শেষ বিকেল। বিশাল এয়ারপোর্ট, লোকে লোকারণ্য। ইমিগ্রেশনের জন্য বিশাল লাইন। তবে দেখলাম, লাইনগুলো বেশ তাড়াতাড়ি আগাচ্ছে আর ইমিগ্রেশন অফিসারেরাও তেমন কোন প্রশ্ন না করে সবাইকে ছেড়ে দিচ্ছে। আমি ভয়ে ছিলাম যে আমার কাস্টমস ফর্মে লেখা “Zhuozhou শহরের কোন এক হোটেলে থাকব” এটা আবার কোনভাবে ইমিগ্রেশন অফিসারকে আহত করে ফেলে নাকি? পরে যদি আমাকে বাধ্য করে আসল হোটেলের নাম লিখতে তখন তো বিপদ। আমার হাত ভেঙ্গে যাবে, তাও ওই নাম আমার কলম দিয়ে বের হবে না।

ইমিগ্রেশন অফিসার আমার কাস্টমসের কাগজ হাতে নিয়ে মুচকি হেসে বললেন, “ছেলে Zhuozhou শহরের কোন এক হোটেলে থাকবে, হা হা” এই বলে পাসপোর্টে সিল মেরে দিলেন। ব্যাস, চীনে চলে এলাম।

বেইজিং এয়ারপোর্ট এত বিশাল যে লাগেজ সংগ্রহ করার জন্য এয়ারপোর্ট ট্রেনে করে সেই পর্যন্ত যাওয়া লাগল। তাড়াতাড়ি লাগেজগুলো সংগ্রহ করে রফিক ভাই ড্রাইভারকে ফোন দিলেন। গাড়ি আগে থেকে ঠিক করা ছিল। যখন গাড়িতে বসলাম তখন প্রায় শেষ বিকেল।

***

এবার গন্তব্য Zhuozhou শহর।

Zhuozhou হল হেবেই প্রভিন্সের একটি ছোট্ট শহর। এটি প্রভিন্সিয়াল রাজধানী নয়। এটি হেবেই প্রভিন্সের রাজধানী Shijiazhuang থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। যদিও শহরটি প্রভিন্সিয়াল রাজধানী থেকে অনেক দূরে কিন্তু শহরটি বেইজিং-এর দক্ষিণ দিকের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থান করছে। তাই এক হিসাবে শহরটি Shijiazhuang এর চেয়ে বেইজিং থেকে বেশি কাছে। উদাহরণ হিসাবে যদি বলি আমাদের দেশের সাতক্ষীরা জেলা ঢাকা শহরের চেয়ে ভারতের কলকাতার বেশি কাছাকাছি অবস্থান করছে। Zhuozhou শহরের ব্যাপারটাও এমন।

হেবেই প্রভিন্সটি বলতে গেলে প্রায় সাড়ে তিন দিক থেকেই চীনের রাজধানী বেইজিং শহরকে ঘিরে রেখেছে। বেইজিং-এর যে অংশটির অর্ধেক অংশ বাকি রয়েছে সেটার দক্ষিণ-পূর্ব কোল ঘেঁষে খুব অল্প সীমান্ত জুড়ে তিয়ানজিং প্রভিন্সের অবস্থান। মজার ব্যাপার, বেইজিং ও তিয়ানজিং প্রভিন্সের মাঝখানেও হেবেই প্রভিন্সের একটা অংশ এনক্লেভড হয়ে আছে। হয়ত এর পিছনে কোন ইতিহাস আছে। কিন্তু সেটা আমার জানা নেই।

বেইজিং এয়ারপোর্ট থেকে Zhuozhou শহরে গাড়িতে যেতে প্রায় দুই ঘন্টা লাগে। বেইজিং-এর বিশাল রাস্তাগুলো দেখতে দেখতে সময় চলে গেল। খেয়াল করে দেখলাম বেইজিং-এর অনেক বিল্ডিং-এর মাঝখানে বড় বড় চারকোণা গর্ত। বিল্ডিংগুলোতে এই রকম বড় বড় গর্ত রাখা হয় এক লোকজ বিশ্বাস থেকে। চাইনিজদের বিশ্বাস এই শহরে যদি আবার কোনদিন ড্রাগণ ফিরে আসে তাহলে ড্রাগণগুলো যেন বিল্ডিংগুলোকে কোন আঘাত না করে এই বড় বড় গর্তগুলো দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে।

Zhuozhou শহরে যখন পৌছালাম তখন রাত নয়টা। চীনের বেশিরভাগ শহরে রাত আটটার ভিতরেই সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। এর পরের সময়টা সবাই নিজের পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে কাটায়। Zhuozhou শহরও এর ব্যাতিক্রম না। শহরের বেশিরভাগ খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। চারিদিকে সুনশান নীরবতা। শহরের প্রায় ফাঁকা বিশাল রাজপথগুলোতে লাল রঙের নিয়ত বাতি দিয়ে তৈরি করা বিশাল বিশাল সাইনবোর্ড। চারিদিকে লাল রঙের বাতি দিয়ে ডেকোরেশন করা। এমনকি বেশিরভাগ দোকানের সাইনবোর্ডগুলোও লাল রঙের চাইনিজ হরফে লেখা। কেন যেন রাতের চীনে লাল রঙের আধিক্য অনেক বেশি। এমনকি ওদের পতাকাটাও টকটকে লাল যার ভিতর হলুদ রঙের কয়েকটি তারা।

আমাদের চাইনিজ হোস্টেরা এক বিশাল রেস্টুরেন্ট বুকিং দিয়ে রেখেছিল বলে রক্ষা। তা না হলে চীনে সারারাত না খেয়ে থাকতে হত। তারাও আমাদের সাথে ডিনার করার জন্য সেই রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করছিল।

চাইনিজ খাবার আমার খারাপ লাগে না, বরং বেশ ভালোই লাগে। তবে এই খাবারের সাথে বাংলাদেশের চাইনিজ রেস্টুরেন্টের খাবারের কোন মিল নেই। চীন থেকে আসা কোন চাইনিজ যদি বাংলাদেশের চাইনিজ রেস্টুরেন্টের খাবার খায় তাহলে সে নির্ঘাৎ ভিমরি খেয়ে বলবে “এগুলো আবার কোন জনমে চীনের খাবার ছিল?” তবে আসল চীনের খাবার বাংলাদেশের চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মত না হলেও বেশ স্বাস্থ্যপ্রদ ও সুস্বাদু। যদিও বেশিরভাগ বাংলাদেশি মানুষের মুখের স্বাদের সাথে চাইনিজ খাবার ঠিক যায় না। তবে আমার চীনের চাইনিজ খাবার সবসময়ই ভালো লাগে। তাই ভালোমত ডিনার করে হোটেলের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলাম। সাথে অবশ্য চাইনিজ হোস্টেরা ছিল। কারণ, চীনের বেশিরভাগ শহরের লোকেরা ইংরেজি বলতে পারে না, এমনকি Yes-No এর মানেও বেশিরভাগই বুঝে না। তাই চাইনিজ ভাষা জানা কেউ সাথে না থাকলে আর রক্ষা নেই।

হোটেলে পৌছাতে পৌছাতে আর রুম বুঝে পেতে পেতে প্রায় রাত এগারোটা বেজে গেল। হোটেলের রুম বুঝে পাওয়ার পর আর সহ্য হচ্ছিল না। কারণ পুরো এক রাত না ঘুমানো। আর জার্নির ধকল তো আছেই। তাই কোনমতে গোসল করে বিছানাতে গা এলিয়ে দিলাম। হোটেলের রুমের কয়েকটা জিনিস বেশ মজা লাগল।

১/ আমার রুমটা নন-স্মোকিং, মানে রুমের ভিতর সিগারেট খাওয়া বারণ। কিন্তু, রুমে সুন্দর করে কনডম সাজানো। এতে কোন বারণ নেই।
২/ ওয়াশরুমের দরজাতে সিটকিনি লাগানোর কোন ব্যবস্থা নাই। পুরো দরজাই স্লাইডিং। আর ওয়াশরুমটা কাঁচের তৈরি। এরমানে, সকালবেলা কেউ প্রাতঃক্রিয়া করার সময় রুমে অন্য কেউ থাকলে সেও পুরো দৃশ্যটি দেখতে পাবে।
৩/ এখানেও টয়লেটে কোন বদনা বা “পুশ শাওয়ার” নাই। তাই এখানেও টিস্যু পেপার ভরসা।

***

সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে হোটেলেই নাস্তা সেরে ফেললাম।

গত রাতের রেস্টুরেন্ট আর হোটেলের রেস্টুরেন্ট দুই জায়গাতেই চপ-স্টিক ভরসা। এত বড় বড় হোটেলেও কোন চামচ বা কাঁটা-চামচ নেই। পরে চায়নার আরো অনেক জায়গাতেই দেখেছি যে এরা চপ-স্টিকে এতই অভ্যস্ত যে সাধারণত কোথাও চামচ বা কাঁটা-চামচ পাওয়াই যায় না। শুধুমাত্র, অসম্ভব বড় বড় আর দামী রেস্টুরেন্টেই চামচ আর কাঁটা-চামচ মেলে।

আরো একটা জিনিস হল এখানে হালাল খাবার বেশ দুস্প্রাপ্য। সবকিছুতেই কোন না কোনভাবে পর্ক আছে। যেমন, ভাতের ভিতর হালকা করে পর্কের মাংসের কুচি কিংবা সবজি রান্না করছে পর্কের তেল দিয়ে। তাই চীনের ছোট ছোট শহরগুলোতে কেউ যদি খাবার নিয়ে বেশি বাছাবাছি করে তাহলে তাকে না খেয়ে থাকতে হবে। চাইলেই তো সবখানে সবসময় ফলমূল পাওয়া যায় না।

***

নাস্তা শেষ হতে না হতেই আমাদের চাইনিজ হোস্টেরা হোটেলে এসে হাজির।

ওদের গাড়িতেই ফ্যাক্টরির উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলাম। আগামী কয়েকদিন ওদের ফ্যাক্টরিতে আমাদের সেই বিশেষ যন্ত্রটার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করতে হবে। সেই যন্ত্রটার ওজন প্রায় পঞ্চাশ হাজার কেজি। প্রায় হাজারখানেক মডিউল রয়েছে যন্ত্রটাতে। সবকিছু পরীক্ষা করতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবেই।

যাইহোক, সকালবেলা শহরটা একটু ভালোমত দেখার সময় হল। Zhuozhou শহরটা খুবই পরিস্কার, সুন্দর আর ছিমছাম। শহরে মানুষের আধিক্য নেই, নেই যানবাহনের কান ঝালাপালা করা শব্দ। সারা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিশাল বিশাল দোকানপাট আর শপিং-মল।

আমরা প্রতিদিন ফ্যাক্টরিতে গিয়ে যন্ত্রটা পরীক্ষা করি। দুপুরবেলা চাইনিজরা আমাদের নিয়ে খেতে বের হয়। চাইনিজদের শরীরের মেটাবলিজম অনেক ভালো। এরা বেশ চিকন-চাকন হলেও খেতে পারে ভালো। দুপুর বারোটার দিকে দল বেঁধে কোন রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে খাবার শেষ করতে করতে দুপুর দুইটা-আড়াইটা বেজে যায়। কথায় বলে সরু পেটে গরু আঁটে।

এছাড়া ওরা খুবই মিশুক আর আমুদে। আর যেহেতু ওদের সাথে আমাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক তাই আমাদের আদর-আপ্যায়ণের কোন কমতি করছে না তারা। চীনে প্রচলিত প্রবাদ যে যেই ব্যাবসায়ী তার কাস্টমারকে ভালোমত খাওয়ায় না সেই কাস্টমার তার জিনিস কখনো কিনে না। কাস্টমার ওদের কাছে প্রায় ঈশ্বরের মত। আমাদের হোস্টেরাও নিয়ম মেনে আমাদের ভালো-মন্দ খাওয়াচ্ছে।

বিভিন্ন মিটিং-এ লক্ষ্য করলাম চাইনিজরা প্রচুর চা পান করে। তবে সেই চা আমাদের দেশের মত দুধ-চিনি দেয়া চা না। সেটা বলতে গেলে খুব হালকা করে বানানো চিনি ছাড়া রঙ চা যাতে হয়ত ছোট ছোট গোলাপের বা বিভিন্ন ফুলের কুঁড়ি অথবা বিভিন্ন হারবাল দেয়া। এক কাপ চা শেষ হতে না হতেই কেউ একজন কাপ আবার চা দিয়ে ভরে দিচ্ছে। কাপ নাকি কখনো খালি থাকা যাবে না। সেটা এখানে ভালো দেখায় না। অক্টোবর মাসের হিমেল হাওয়াতে চা খেতে যদিও অতটা খারাপ লাগছে না কিন্তু এত বেশি চা খেতে খেতে পেট পুরো ঢোল হয়ে গেল।

বিকেলের দিকে আমরা শহরটা ঘুরে ঘুরে দেখতাম। এদের শপিং মল, বাজার, রাস্তা-ঘাট এসব দেখতে ভালোই লাগত। এখানকাল বাচ্চাদের একটা জিনিস দেখে খুব হাসি পেল। অনেক বাচ্চাকেই দেখলাম রাস্তা-ঘাট বা শপিং-মলগুলোতে বাবা-মায়ের সাথে ঘুরছে। সব বাচ্চার পরণে সুন্দর পোশাক কিন্তু পাছার জায়গাটা বিশাল এক গোল করে কাটা। শপিং-মলগুলোতেও দেখলাম বাচ্চাদের এমন কাপড় বিক্রি হচ্ছে। পরে দেখলাম, বাচ্চাদের প্রস্রাব চাপলে রাস্তা-ঘাটেই কাটা জায়গাটা জায়গামত সেট করে বসে পড়ে, এতে কেউ কিছু মনে করে না। প্রথমবার, একটা ছোট বাচ্চা মেয়েকে রাস্তাতে এই কাজ করতে দেখে খুব অবাক হলেও আমাদের চাইনিজ হোস্টদের সেটা বুঝতে দেইনি। আমাদের দেশে তো বুড়ো ধামড়া ছেলেরাও রাস্তাতে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে।

আমাদের ঢাকার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বড় এই শহরটির লোকসংখ্যা সাত লক্ষেরও কম। মানুষজন শান্তিপরায়ণ, বন্ধুত্বভাবাপন্ন ও মিষ্টভাষী। রাত আটটার পরে রাস্তা-ঘাটে মানুষজন পাওয়া যায় না, দোকান-পাট, শপিং-মল সবকিছুই বন্ধ হয়ে যায়। তাই রাত আটটার আগে ডিনার সারতে না পারলে না খেয়ে থাকার মতই অবস্থা হবে এই শহরে। তবে আমি দুনিয়ার যেখানেই থাকি না কেন সন্ধ্যা সাতটার দিকেই ডিনার সেরে ফেলি। তাই রাত আটটায় খাবারের দোকান বন্ধ হওয়া তেমন কোন বড় সমস্যা না আমার জন্য।

তেমন কোন কারণ ছাড়াই ভালো লেগে গেল শহরটি।

***
সমাপ্ত

***
আমার অন্যান্য লেখাঃ
ইন্দোনেশিয়া সিরিজ - ১ঃ মেদানের পথে পথে
সোনার মেডেল

***
ঘুরাঘুরি যারা পছন্দ করেন ও নতুন জিনিস জানতে চান তারা আমার ফেসবুক ও ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করতে পারে ন। আমার পেইজগুলো শুধু ছবি বা ভিডিও আপলোডের জন্য নয় বরং যারা ঘুরাঘুরি সংক্রান্ত কোন জায়গার ব্যাখ্যা অথবা সামাজিক আচার-আচরণের ব্যাখ্যা জানতে চান তারা পেইজ ও চ্যানেলটার সাথে থাকতে পারেন।

ফেসবুকঃ দেশে-বিদেশে Travelling
ইউটিউবঃ Little Travel

***

- বেইজিং-এর বড় বড় গর্তওয়ালা বিল্ডিং। যদি এই শহরে আবার কোনদিন ড্রাগণেরা ফিরে আসে তাহলে এরা যেন এই গর্তগুলো দিয়ে বিন্ডিংকে আঘাত না করেই বের হয়ে যেতে পারে সেই বিশ্বাস থেকেই এমন বিল্ডিং বানানো হয়।

- Zhuozhou শহরের প্রায় খালি পড়ে থাকা রাজপথ।

- রাতের চীনে লাল রঙের অনেক আধিক্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:০১
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিবিধ

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৫ ই মার্চ, ২০২১ সকাল ১১:৪১

১- অনেকে এর ই মোজা পরার পর মোজার ইলাস্টিক থেকে চোখে পড়ার মত পায়ে দাগ দেখা যায়।


এটা যদি অনেকদিন ধরেই চলতে থাকে, তা হলে কিন্তু আপনার উচিত হবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি অশালীন কবিতা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই মার্চ, ২০২১ দুপুর ১:০২




শাহেদ জামাল আজ খুব মদ খাবে
একদম ভরপুর দুষ্ট মাতাল হয়ে যাবে
তার ভদ্র লিমিট যদিও তিন পেগ
সে খাবে তেরো পেগ, তাতে কার কি?
নিজের পয়সায় খরিদ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন বাংলাদেশের বিমানবাহী রণতরী এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রয়োজন?

লিখেছেন নাহিদ ২০১৯, ০৫ ই মার্চ, ২০২১ বিকাল ৪:৫৫

একটা দেশের গুরুত্ব অনেকটা বিবেচিত হয় তার অর্থনৈতিক অবস্থা কতটা শক্তিশালী। কিন্তু আমি এখানে দ্বিমত পোষণ করে বলছি বিশ্বে একটা দেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তা নির্ভর করে তার সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাদের আলির ভাংগা স্বপন !

লিখেছেন স্প্যানকড, ০৫ ই মার্চ, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪৩

তৈল চিত্র আর্টিস্ট নাস্তিয়া ফরচুন

ছুটছে পিঁপড়ের দল
দেয়াল জুড়ে সারি
নাদের আলি
মনে করে সে
রাজা সোলেমন!

জিগাই ফেলে,
কি হে পিঁপড়ের দল
আছিস কেমন?

কেউ শোনে না
সোজা যাচ্ছে চলে
কেউ তাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ শেষ যাত্রার শুরু....

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৫ ই মার্চ, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৯

ছবিঃ ইন্টারনেট


কত সময় ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছি তা আমার নিজেরই মনে নেই । লক্ষ কোটি তারার দিকে তাকিয়ে থাকতে ভাল লাগছে । মনে হচ্ছে যেন আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×