somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নাহোল
মানুষ বড়ই সস্তা, কেটে ছড়িয়ে দিলেই পারত!

ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেয়ে মৃত্যু এবং শিশু অসুস্থ হওয়া বিষয়ক

১২ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাল থেকেই বেশ কজন অনলাইনে একটা খবর শেয়ার করছিলেন। ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল দেশব্যাপী খাওয়ানোর জন্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনবিহীন একটি ভারতীয় কোম্পানি থেকে ক্যাপসুল কিনেছে যেগুলোর মান যথাযথ নয়। সেগুলো যেন বাচ্চাদের খাওয়ানো না হয় এমনি একটা সতর্কবার্তাও ছিলো সেখানটায়। কিন্তু খবরের নিচে কোন সূত্র নেই।

সন্দেহবাতিকগ্রস্ততা থেকে শেয়ার করি নি।

সকালেও তারপরও বলে এলাম পাপাইকে খাওয়ানোর দরকার নেই। সবাই জানেন, এসব ভিটামিন মূলত সংশ্লেষিত বা কৃত্রিম। প্রাকৃতিক ভিটামিন এ-এর উৎস আমাদের দেশে সুলভ এবং সেসব খাওয়ানোই দরকারি শিশুদের। দুপুরে বাসায় ফিরে শুনি তার মামা তাকে এসে খাইয়ে গেছে। আরেকটু পর থেকেই শুরু হলো আর্তনাদের কানকথা।

এক হাসপাতালের সামনে থেকে এক আত্মীয় ফোন দিলেন সেখানটায় প্রচুর শিশু ভর্তি হতে আসছে। রাস্তায় বেরিয়ে শুনি লোকের মুখে সে কী মহামারীর বিবরণ! প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাতে-পায়ে ধরে পুলিশের জিপে করেও বাচ্চা কোলে মানুষ ছুটছে হাসপাতালে ভর্তি করাতে। শুনে একটু ভড়কেই গেলাম মাইরি! যাচ্চলে! বাচ্চা তো আমার ঘরেও আছে আর সে ভিটামিনও খেয়েছে! তার ওপর 'ভারতীয়' কোম্পানি, আওয়ামী লীগ সরকার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, হরতাল, শিশুমৃত্যু, সাম্প্রদায়িক হামলা, হিন্দুদের ঘরবাড়ি পোড়ানো এবং এজাতীয় নানা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস ছাড়াই ঘুরতে লাগলো মাথায়।

ফোন দিলাম তাড়াতাড়ি এক বন্ধুপত্নীকে। সে আছে শহরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিশুরোগ বিভাগে। সে হেসেই জানালো, সব গুজব। প্রচুর শিশু ভর্তি হচ্ছে ঠিক, তবে বেশিরভাগই আতঙ্কের ফলাফল অভিভাবকদের। যেটা হয়েছে, জোর করে খাওয়ালে অনেক সময় শিশুরা বমি করে। সেই লক্ষণই প্রকাশিত। কারোরই মৃত্যুর বিন্দুমাত্র আশঙ্কা নেই, অন্তত ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেয়ে কোন ভাবেই নয়।

জামাতি পেজগুলোয় যথারীতি প্রোপাগান্ডায় ভর্তি। ভাবছি, ওরা আর কত নিচে নামতে পারে! এবং তারপরও মানুষ তাদের ভোট দেবে, চাঁদা দেবে, তাদের 'ইসলাম' নিয়ে গলাবাজি করবে, তাদের প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাস করে জীবন দেবে, তাদের 'আন্দোলন'-এর যৌক্তিকতা নিয়ে রাস্তায় নেমে মানুষ আর মালের ক্ষতি করে যাবে...এবং জাতীয়তাবাদী শক্তি তাদের দেবে নৈতিক ও দৈহিক সমর্থন আর আওয়ামী লীগ তাদের হয়তো দেবে ইশারা...

খুব অসুস্থ বোধ করি এই স্বাস্থ্যকর পরিবেশে। খুব...পালানোর পথ নেই কোনখানে...

পু. পাপাই শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘুমুচ্ছে।

- হিল্লোল দত্ত।

সংযুক্তি এবং দৃষ্টি আকর্ষণ:




বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পোলিও খাওয়ার পরে শিশুরা অসুস্থ বা মারা যাচ্ছে বলে একটি গুজব রটাচ্ছে বাঁশেরকেল্লা সহ কিছু পেইজ।বাস্তবতা হল এটা আসলেই নিছক গুজব।আমরা কয়েকজন শিশু বিশেষঙের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান এধরনের কিছু ঘটেনি তবে কোন শিশুকে যদি কূমির ওষুধ খাওয়ার সাথে সাথে পোলিও খাওয়ানো হয় তবে অতিরিক্ত গরমের কারনে এধরনে সমস্যা হতে পারে।তবে এতে ভীত না হয়ে শিশুটিকে শুধু মাত্র ওরস্যালাইন অথবা ঠান্ডা জুস খাওয়ান।ভয় পাওয়ার কোন কারন নাই।

অনেকেই মনে করছেন ভারত থেকে কেন ওষুধগুলো ক্রয় করা হলো । তাদের জন্য বলছি সেই সাথে কিছু বিভ্রান্তি দূর করার জন্য , প্রথমত ভিটামিন "এ" ক্যাপসুল এর পুরো প্রোজেক্ট অর্থায়ন করে বিশ্বব্যাংক । এর আগে বেশ কয়েকবার কানাডিয়ান কোম্পানি থেকে ওষুধ কিনলেও এইবার ৩ টি কোম্পানি দরপত্র জমা দেয় যেখান থেকে ভারতীয় ওলিভ কোম্পানি থেকে ওষুধগুলো কিনা হয় । তখন ‘এ’ ক্যাপসুলের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি বলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবংমান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক । যার ফলে বিতরন স্থগিত করে দেয় । পরবর্তীতে সমস্থ রিপোর্ট ও প্রতিবেদন পাঠানো হয় বিশ্ব ব্যাংকের কাছে ।
দ্বিতীয়ত, যেহেতু এই প্রোজেক্ট পুরোটাই অর্থায়ন করে বিশ্ব ব্যাংক তাই বিশ্বব্যাংকের ক্লিয়ারেন্স বা ছাড়পত্র ছাড়া কেউ এই ক্যাম্পেইন শুরু করতে পারবেনা । তাহলে যদি এই ওষুধ গুলো খারাপ হতো বিশ্বব্যাংক কখোনই ছাড়পত্র দিতো না বাংলাদেশকে । বিশ্বব্যাংকের ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই দিন নির্ধারণ হয় এই ক্যাম্পেইনের । সেই সাথে কিছু কারণে বাচ্চাদের সমস্যা হয় । প্রথমত বাচ্চারা খালি পেটে থাকলে সমস্যা হতে পারে , এই জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন খালি পেটে এই ওষুধ না খেতে ।এছাড়া গরমেও সমস্যা হতে পারে। এছাড়া অনেক শিশুকে মা-বাবারা "ওষুধে ভেজাল আছে" শুনে গলায় আঙ্গুল দিয়ে বমি করিয়েছে এতে অনেক শিশু দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সুতরাং জামাতি প্রোপাগান্ডা বা গুযবে কান দিবেন না কেউ ।


সুবিধার্থে কিছু কমেন্ট সংযুক্ত করা হলোঃ

ফেনীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপ্‌স্যুল খেয়ে শিশু অসুস্থ ও মৃত্যুর গুজবের ব্যাপারে ফেনীর সিভিল সার্জন ডাক্তার হরিপদ রায় জানান, ঘটনাটি সম্পূর্ন ভিত্তিহীন। জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করেও জানাযায় ভিটামিন এ ক্যাপ্‌স্যুল খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়ে কোন হাসপাতালে কেউ ভর্তি হয়নি।

সুত্র - জমির উদ্দিন বেগ
ফেনী সংবাদদাতা (মাছরাঙা টিভি)


আমার একমাত্র মেয়েকে সকালে খাইয়েছি। এখন পর্যন্ত সুস্থ্য আছে। কোন সমস্যা নাই। আশে পাশের সব বাচ্চার খোঁজ নিয়েছি, কারো কোন অভিযোগ নাই। (মাগুর)

সিলেটের ডাক্তারের কথা :



"আমাদের মেডিকেলের আউটডোরে পেশেন্টের ঢল নেমেছে,এই খবর শুনে কয়েকজন মিলে হোস্টেল থেকে দৌড়ে গেলাম ঘটনা বোঝার জন্য।গিয়ে তো পুরাই তব্দা খেলাম।আউটডোরে পা ফেলার জায়গা নেই।বাচ্ছা কোলে নিয়ে মা-বাবারা দৌড়াদৌড়ি করতেসে।ইমারজেন্সিতে গেলাম,সেখানেও একই অবস্থা!কিন্তু যাদেরকে নিয়ে হসপিটালে এত মানুষ আসছে সেই বাচ্ছাদের মুখের দিকে তাকিয়ে কাউকেই অসুস্থ মনে হয় নি।নিশ্চিত হবার জন্য ইন্টার্নির বড় ভাইদের জিজ্ঞেস করলাম,তারা বললেন,আরে নাহ কিচ্ছু হয় নাই।ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেয়ে বাচ্ছারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে এই কথা শুনে সুস্থ বাচ্ছাদের নিয়ে মা বাবারা কাদতে কাদতে হাসপাতালে এসেছেন।ডাক্তাররা বুঝাচ্ছেন,কিছু হবে না কিন্তু বেশিরভাগই বুঝতে চাচ্ছেন না।
এর মধ্যে কয়েকজন কান্নাকাটি করে পরিস্থিতি আর কঠিন করে তুলেছেন।এক মা ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানোর পর যখন শুনেছেন এটা খেয়ে বাচ্ছারা অসুস্থ হচ্ছে তখন নাকি তিনি তাকে তেতুল খাইয়ে বমি করিয়েছেন!এক বছরের একটা বাচ্ছাকে যদি এভাবে বমি করানো হয় তাহলে তাদের অবস্থা এমনিতেই খারাপ হয়ে যায়।অনেকেই এসে ফিরে যাচ্ছেন যারা এই কথা ছড়াইসে তাদের গালি দিতে দিতে।আবার অনেকে বাচ্ছার পা ঘামল কেন,বাচ্ছা হাসে না কেন এইসব নিয়েও ডাক্তারদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে।আমরা যতক্ষন ছিলাম ততক্ষন একজনকেও হসপিটালে ভর্তি করার মত অবস্থায় পাওয়া যায় নি।বাচ্ছারা বরং এত মানুষ,কান্না দেখে আতঙ্কিত হচ্ছে।
সবাই দয়া করে একটু সচেতন হোন।হস্পিটালে এলে মানুষের অবস্থা দেখলে আপনারও খারাপ লাগবে।মা বাবারা কি পরিমাণ আতঙ্কে আছে।দয়া করে নিজে না দেখে কেউ গুজব ছড়াবেন না।আপনার পরিচিত কোন বাচ্ছা অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান কিন্তু সুস্থ বাচ্ছাকে নেয়ার দরকার নাই।অসুস্থ বাচ্ছা অনেক কারনেই হতে পারে।দয়া করে আতঙ্কিত করবেন না প্লিজ।একহাজারের মধ্যে এক দুইটা বাচ্ছা বিভিন্ন কারনে অসুস্থ হতেই পারে,এটা নিয়ে রাজনীতি করবেন না।
সবাই দায়িত্বশীল হোন।মানুষকে আতঙ্কিত করবেন না।যারা এই কাজ করেছে তারা এটার জন্য দায়ী থাকবে।
"

- Kamrul Islam Shipo(North East Medical College & Hospital,Sylhet


মানুষ বাচ্চাদের নিয়ে হাসপাতালে দৌড়াচ্ছে। হাসপাতালে পা ফেলারও যায়গা নেই। মা বাবা কান্নাকাটি করছেন। - ঘটনা এ পর্যন্ত সত্য। যা শুনেছেন ভুল না। এবার পরের কাহিনীটাও শুনুন প্লিজ।
মা বাবা বাচ্চাদের হাসপাতালে নিয়ে আসছেন ঠিকই। তবে তাদের বাচ্চাগুলো একদম সুস্থ। তাহলে আসার কারণ? আর কিচ্ছু না। জাস্ট আতংক। তাঁরা কোত্থেকে শুনেছেন যে যারা আজকে ভিটামিন খেয়েছে তাঁরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।
বেশিরভাগ বাবা-মার কমপ্লেনই এরকম - 'ফোনে শুনেছি আমার ভায়রার বোনের ছোট মেয়ের আপন নাতি বিকেলে ভিটামিন এ খেয়ে অসুস্থ হয়ে গেছে। তাছাড়া লোকজনও বলাবলি করছে কীসব জানি। তাই রিস্ক না নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।'
ইন্টার্ণির ভাইয়াদের সাথে কথা বলেছি। জানালেন যে বাচ্চাদের একজনেরও ভর্তি করার মতো অবস্থা নেই। আর ১০০ টা প্যাশেন্ট আসলে এর মধ্যে তিনজনের ডায়রিয়া কিংবা জ্বর থাকাটা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু না। এর সাথে ভিটামিন এ-এর কোনোই সম্পর্ক নেই।
অন্যান্য মেডিকেলের কয়েকজন বড় ভাইয়ের সাথেও কথা হয়েছে। তাঁরাও জানালেন যে ভয়ের কিচ্ছু নেই। বাবা মা শুধু আতংকিত হয়ে বাচ্চাদের হাসপাতালে নিয়ে আসছেন। এখন পর্যন্ত সিরিয়াস অবস্থায় একটা বাচ্চাকেও পাওয়া যায়নি। একটু দেখে টেখে তাঁরা রিলিজ দিয়ে দিচ্ছেন সবাইকে।
সুতরাং, কোনোরকম গুজবে কান দিবেন না প্লিজ।


ব্লগার এবং মেডিকেল স্টুডেন্ট আলিম আল রাজি'র স্ট্যাটাস থেকে

যারা পোষ্টে বলছেন ট্যাবলেট এর মান সম্পর্কে তারা পড়ুন ..

ভিটামিন এ ক্যাপসুল নিয়ে যে গুজব ছড়ান হল আমি তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
কেউ কেউ বলছে এই ক্যাপসুল ইন্ডিয়ান ওলিভ হেলথ কেয়ার এর, এই কোম্পানি WHO এর অনুমোদিত নয়, এই ক্যাপসুল খেয়ে কোন বাচ্চা নাকি অসুস্থও হয়ে গিয়েছে।
বিভিন্ন পেজ আর বিভিন্নও লোক ও এই খবর স্ট্যাটাস আপডেট শেয়ার করে আজ সারা দিন ব্যস্ত ছিল, এদের বলব, ভাই অনলাইনে গুজব না ছড়িয়ে দুই বেলা ইসপ গুলের ভুষি খান, পেটে যা আবর্জনা ছিল বেরিয়ে যাবে।
আমি বরাবর এই ধরনের অপপ্রচার ঘৃণা করে এসেছি।
ডাক্তার হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল এই বিষয় খতিয়ে দেখা, আমি আর আমার বউ যেখানে কর্মরত আছি, সেই সূর্যের হাসি তে আজ ক্যাম্পেইন চলছিল ভিটামিন এ আর কৃমিনাশক অ্যাল্বেন্ডাজল বিতরণের, তাই আমার পক্ষে খুব একটা কঠিন ছিল না ব্যাপারটা খতিয়ে দেখা, ভিটামিন এ ক্যাপসুল আমাদের দেশে যেটা খাওয়ান হইসে সেটা কোন ভারতীয় কোম্পানির না, এটা ক্যানাডিয়ান কোম্পানি ব্যানার এর তৈরি, পুরো নাম ব্যানার ফার্মাক্যাপস(Banner Pharmacaps, http://www.banpharm.com ), এই ওষুধের বোতলের গায়ে ক্লিয়ার করে লেখা আছে এটা ক্যানাডার তৈরি, এবং এটা বাংলাদেশ সরকার আমদানি করেছে।
এখন এই কোম্পানি সারা পৃথিবীতে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি, এ ব্যাপারে সন্দেহ নাই, এই ওষুধ খেয়ে কেও অসুস্থ হয়েছে এরকম প্রমান কথায় পেলেন? ভিটামিন এ ক্যাপসুল এর সাথে যে কৃমিনাশক ওষুধটি খাওয়ানো হয়েছে সেটি ভরা পেটে তা না খাওয়ালে শিশুদের বমি বা ঘুমের ভাব আসতে পারে। যেসব শিশুর পূর্ব থেকে পেট খারাপ থাকে বা খালি পেটে যেসব শিশুদের কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে তাদের একটু বমি বা পাতলা পায়খানার সমস্যা হতে পারে।
কিছুদিন আগে পাকিস্তানে পোলিও টিকা কর্মসূচি চলাকালে দেশটির উগ্রপন্থী বন্দুকধারীদের গুলিতে প্রাণ হারায় ৬ মহিলা টিকাদানকর্মী। ফলশ্রুতিতে দেশটিতে টিকাদান কর্মসূচী বন্ধ করে দেয় জাতিসংঘ। ডব্লিওএইচও-র রিপোর্টে প্রকাশ পাকিস্তানে ৩৫ লাখ শিশু এখন পোলিও ঝুঁকিতে।
ঠিক একই কায়দায় বাংলাদেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল কর্মসূচি বন্ধ করতে ছড়ানো হচ্ছে গুজব। বাস্তবে এ ধরনের কিছুই ঘটেনি।
আন্দাজে গুজব ছড়ান মুসলিম হিসেবে আমি মহাপাপ মনে করি। আল্লাহ তায়ালা সূরা নূরের ১৪ নং আয়াতে বলেছেন, 'যখন তোমরা একে মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং মুখে এমন বিষয় উচ্চারণ করছিলে, যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না। তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ এটা আল্লাহর কাছে গুরুতর ব্যাপার ছিল।"

আল হুজুরাতের ৬ নং আয়াতে আছে, " মুমিনগণ! যদি কোন ফাসিক(মিথ্যাবাদী) ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও।"

সুতরাং, সাবধান হয়ে যান, খুব সাবধান।


আশফাক আহমেদ সুইট (রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ)




যারা গুজবে কান দিয়েছেন এবং বাচ্চাদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান নাই, তারা ঔষধের দোকান থেকে কিনে খাইয়ে দিন, দয়াকরে।

ভিটামিন এ ক্যাপসুল ৫০,০০০ ইউনিট

বললেই দোকানীরা দিতে পারবেন আশাকরি, কারন খুবই কমন ঔষধ এটি। আর যদি তারা না চিনেন, তাহলে "রেটিনল ফর্ট" নামেও পাওয়া যাবে আশা করি।

শীতের শুরুতে(নভেম্বরের শুরুতে) আর গরমের শুরুতে(ফেব্রুয়ারীর শেষে) বাচ্চাদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাইয়ে দেয়াই ভালো, এতে আমাদের অন্ত্রের(পেটের), শ্বাসতন্ত্রের(ফুসফুসের) কিছু সাধারন কিন্তু খুবই ভোগান্তির অসুখ কম হবার সম্ভাবনা থাকে।

আর ভালো কথা বাচ্চার বয়স ২ বছরের এর বেশীহলে ১০০,০০০ ইউনিট দিবেন বা ৫০,০০০ এর দুইটা।

few trade name

Cap. A-Forte 50000 iu
Cap. Ovit-A 50000 iu
Cap. Ratinol forte 50000 iu


ব্লগার মুদ্‌দাকি

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল নিয়ে গুজব, তদন্ত কমিটি গঠন
:

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে এ অপপ্রচার শুরু করা হয়েছে। এছাড়া সেখানকার একটি মসজিদ থেকে মাইকিং করে ভিটামিন ক্যপসুল না খাওয়ানোর জন্য প্রচার চালানো হয়েছে। অপপ্রচারের ঘটনায় মসজিদের একজন ইমামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসব ঘটনার জন্য অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চার সদস্যদের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নিরাপদ
:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(ডাব্লিওএইচও) স্বীকৃত আন্তর্জাতিক গবেষণাগারে পরীক্ষিত মানসম্পন্ন, জীবাণুমুক্ত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ব্যবহার করে দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।

শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ব্রেস্ট-ফিডিং ফাউন্ডেশনের (বিবিএফ) চেয়ারপার্সন ডা. এস কে রায় বাংলানিউজকে বলেন, দেশব্যাপী যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ভিটামিনে শিশু মৃত্যুর কোন কারন নেই। (সূত্রঃ বাংলানিউজ )



সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ ভোর ৫:৪৭
২০৭টি মন্তব্য ৭৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত সপ্তাহে যে ৫টি মুভি দেখলাম

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই মে, ২০২১ রাত ১২:২৯



১। রেয়ার উইন্ডো (Rear Window)
মুভিটি ১৯৫৪ সালে মুক্তি পায়। কাহিনী ১৯৪২ সালের শর্ট স্টোরি 'ইট হ্যাড টু বি এ মার্ডার' থেকে নেয়া হয়েছে। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার জেফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুতুম প্যাঁচা

লিখেছেন এ কাদের, ০৭ ই মে, ২০২১ ভোর ৪:৩৩

=
উতুম প্যাঁচা
হুতুম প্যাঁচা
ঠোটটা চিপা
মূখটা ভোচা,
ওরে উতুম
হুতুম প্যাঁচা
করিস কিরে
জোপের মাচা
ও উতুম তুই
এদিক তাকা
ডান চোখটা
একটু দেখা।
ও উতুম তুই
ওদিক তাকা
বাও চোখটা
আবার দেখা।

...বাকিটুকু পড়ুন

মহামারীতে মানুষের প্রাণ ভারত, ফাইজার, মডর্নার হাতে ছেড়ে দেয়া ঠিক নয়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৭ ই মে, ২০২১ সকাল ৭:৪০



টিকা ম্যানুফেকচারিং'এ ভারতের অসফলতা ও বড় বড় দেশের সাথে ফাইজার ও মডের্নার কনট্রাক্ট বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে; জীবন রক্ষাকারী টিকা লাইসেন্সের মাধ্যমে উৎপাদন করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাঠ ফাটা রোদ্দুর, ঠোঁট ফাটা শহর

লিখেছেন মাহাদী হাসান প্রেত, ০৭ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:৪৫

হাওড়া স্টেশন থেকে তামিলনাড়ুর কাটপাডি স্টেশনের দূরত্ব ১৭০০+ কিঃমিঃ। প্রথম শ্রেণীর যাত্রী হিসেবে ৩০ ঘন্টার এই জার্নিটা বেশ উপভোগ্য। মাঝখানে উড়িষ্যা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে নেমে একটু হাঁটাহাটি করেছি, স্টেশন থেকে স্থানীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাগল-৩ (রম্য কবিতা)

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০৭ ই মে, ২০২১ বিকাল ৪:২৩


পাগলের সিক্যুয়ালঃ
১। পাগল-১ (ছড়া)
২। পাগল ভরা বঙ্গ দেশ
৩। পাগল-২ (ছড়া)

পাগল-৩ (কবিতা)
নূর মোহাম্মদ নূরু
আজিকার এ কাব্যে, পাগলেরা ভাববে!
কিসে কি যে হয়ে গেলো গুরু নাম জপবে !
পাগল খেদাও অভিযান চলিতেছে চলবে
জানি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×